📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 কিছু ভয়ঙ্কর বাস্তবতা

📄 কিছু ভয়ঙ্কর বাস্তবতা


চার. ইসলামি শিরোনাম ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় যে সকল ভয়ঙ্কর বাস্তবতার সম্মুখীন আমরা হচ্ছি, তার মধ্যে একটি মৌলিক বাস্তবতা হচ্ছে, জনসাধারণকে এখন আর বুঝানো যাচ্ছে না যে, গণতন্ত্র একটি কুফরি বা অসার মতবাদ। কারণ 'নির্বাচনই যে শুধু গণতন্ত্র নয়' এটা বুঝার মতো অবস্থা সাধারণ জনগণের নেই। সাধারণ মানুষ যুগ যুগ ধরে দেখে চলছে যে, হুযুররাও গণতন্ত্রকে মেনে নিয়েছে।

এর চেয়েও ভয়ঙ্কর বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের বুযুর্গরা যাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন তাঁরা গণতন্ত্রকে কুফরি মনে করেই বিভিন্ন ব্যাখ্যাসাপেক্ষ (চাই সে ব্যাখ্যা সমাদৃত হোক বা না হোক) তাতে অংশগ্রহণ করেছেন। কিন্তু তাঁদের প্রতিষ্ঠিত দলের অনেক কর্মী গণতন্ত্রকে এখন আর কুফরি মতবাদ মানতে প্রস্তুত নয়। কোনো কোনো মুলহিদ তো ইতোমধ্যে উমর রাযি.কে গণতন্ত্রের প্রবর্তক বানিয়ে দিয়েছে। إنا لله وإنا إليه راجعون।

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 জিহাদি চেতনা উজ্জীবনের পথে প্রতিবন্ধক

📄 জিহাদি চেতনা উজ্জীবনের পথে প্রতিবন্ধক


পাঁচ. খিলাফত পুনরুদ্ধারের এ পদ্ধতি সাধারণ মুসলমান তো বটেই উলামা-তলাবাদের অন্তর থেকে জিহাদি চেতনা নির্মূল করার ক্ষেত্রে বড়ো ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বলতে গেলে জিহাদি কর্মকাণ্ড এবং জিহাদি চেতনা উজ্জীবনের পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষকরে যখন কোনো কোনো মুলহিদ এ ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে, 'বর্তমানে সশস্ত্র জিহাদ মানে আত্মহত্যা করা এবং নির্বাচনই হচ্ছে জিহাদ', তখন নির্বোধ ভক্ত-মুরিদরা এই ঝুঁকিমুক্ত অস্ত্রবিহীন জিহাদ (?) করেই তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে লাগলো। প্রজন্ম বুঝে নিয়েছে, খিলাফত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করাই যেহেতু মূল উদ্দেশ্য, তাহলে বুযুর্গদের সমর্থিত এ পদ্ধতিতে চেষ্টা করলে দায়িত্বও আদায় হয়ে যাবে এবং নির্ঝঞ্ঝাট জীবন-যাপন করা যাবে। সুতরাং অপাত্রে (?) জীবন বিলিয়ে দেয়ার মতো বোকামো আর হতে পারে না।

কিন্তু প্রজন্ম ভুলেই গেছে যে, জিহাদ একটি স্বতন্ত্র ইবাদত, একটি ফরয দায়িত্ব। খিলাফত পুনরুদ্ধারই শুধু জিহাদের উদ্দেশ্য নয়। প্রজন্ম জিহাদের সংজ্ঞা, উদ্দেশ্য, উপকারিতা ও ফযিলত সবই ভুলে গেছে। প্রজন্ম আর ভাবতে পারছে না যে, ইমানের পর সর্বোত্তম ইবাদত জিহাদ কখনই শত্রুদের আঁকা ছকে আদায় হতে পারে না।

জিহাদের শাব্দিক অর্থের ব্যাপকতাকে পুঁজি করে যদিও বুযুর্গদের কেউ কেউ তাদের খিলাফত পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে জিহাদ শব্দ ব্যবহার করেছেন, কিন্তু আমাদের জানা মতে তাঁদের কেউই সশস্ত্র জিহাদকে অস্বীকার করেননি এবং এর মাধ্যমে জিহাদের ফরয দায়িত্ব আদায় হয়ে যাচ্ছে; এমনটি মনে করেননি। কেউ করে থাকলে সেটিও শরিআতের দলিলের আলোকেই বিবেচ্য হবে।

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 আমাদের হৃদয়ের আকুতি

📄 আমাদের হৃদয়ের আকুতি


এ সকল অপ্রীতিকর বাস্তবতার সাক্ষী হয়ে আমাদের হৃদয়ের আকুতি কী হতে পারে? ছোটোকাল থেকে মওদুদিবাদবিরোধী সেমিনার-আলোচনা সভায় বড়োদের মুখে মওদুদিবাদের ভ্রান্তি শুনে এসেছি। তাদের ভ্রান্তির তালিকায় ছিলো 'গণতন্ত্রের সঙ্গে ইসলাম যুক্ত করে ইসলামি গণতন্ত্র বলা'। বড়োদেরকে এভাবে বলতে শুনেছি, 'তারা আজ ইসলামি গণতন্ত্র আবিষ্কার করেছে, আগামীকাল ইসলামি মদ তৈরি করবে'। তাদেরকে জিহাদের অপব্যাখ্যার দোষে দুষ্ট সাব্যস্ত করতে শুনেছি। আজ যখন অপব্যাখ্যার ময়দানে হকের দাবিদার কেউ কেউ তাদেরকে অতিক্রম করে চলছে, তখন কোনো এক অদৃশ্য শক্তির অশুভ হাত আমাদের বাকশক্তি রুদ্ধ করে দিয়েছে, নিশ্চল করে দিয়েছে তাঁদের ক্ষুরধার কলমকে।

আমরা কি একটু ভেবে দেখবো, এ সকল বাস্তবতা কিসের প্রতিফলন! এটি কি মুফতি হামিদুল্লাহ জান রহ. এর কথার বাস্তবতা নয়? কূপে মরা কুকুর রেখেই আমরা পানি পরিষ্কার করতে চাচ্ছি। যারফলে পানি তো পরিষ্কার হচ্ছেই না, বরং দুর্গন্ধ কূপকে অতিক্রম করে আশেপাশের আবহাওয়াকে বিষাক্ত করে তুলছে। কিন্তু দিনে দিনে সে দুর্গন্ধ আমাদের নিকট সহনীয় হয়ে গেছে আর আমরা মনে করেছি দুর্গন্ধ কমে গেছে। যে দুর্গন্ধের কারণে আমরা একসময় নাকে রুমাল দিয়েছি, সে দুর্গন্ধে আমরা এখন নির্দ্বিধায় বসবাস করছি।

إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّه

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 একটি চুটকি

📄 একটি চুটকি


একটি চুটকি মনে পড়লো। মা তার ছোটো ছেলেকে নিয়ে এক বস্তিতে ভাড়া বাসায় উঠেছে। ছেলে প্রথমদিন এসেই বললো, মা! এখানে তো অনেক দুর্গন্ধ; এখানে থাকবো কীভাবে? মা বললো, আস্তে আস্তে কমে যাবে। একমাস পর ছেলে নিজ থেকেই বলে ফেললো, হাঁ, মা! দুর্গন্ধ দেখি কমে গেছে। মা বললো, বলছি না দুর্গন্ধ কমে যাবে!

দুর্গন্ধ কি আসলে কমে গেছে নাকি সয়ে গেছে? এভাবেই মূলত সমস্ত কুফরি মতবাদ, সমস্ত 'মুনকারাত' আমাদের কাছে সহনীয় হয়ে উঠছে। সহনীয় হওয়াতে কি তার বিষক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে নাকি আমাদের উদাসীনতায় আরো কঠিনভাবে আঘাত করবে! বরং কঠিনভাবে আঘাত করে চলছে, যার বাস্তবতা প্রতিনিয়ত আমাদের সামনে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px