📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 আকাবিরের অভিজ্ঞতার বাস্তবায়ন

📄 আকাবিরের অভিজ্ঞতার বাস্তবায়ন


দুই. আকাবিরের অভিজ্ঞতা বাস্তবতায় প্রমাণিত হয়েছে। আমরা দেখেছি তুরস্ক, ইয়ামেন, তিউনিসিয়া এবং সর্বশেষ মিসরে ইসলামি শিরোনাম ব্যবহারকারী গণতান্ত্রিক দলগুলো বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করে ক্ষমতা গ্রহণ করা সত্ত্বেও ইসলামি আইন বাস্তবায়ন করা তো দূরের কথা, এক মিনিটের জন্যও গণতন্ত্রের একটি মৌলিক ধারাও পরিবর্তন করতে পারেনি বা পরিবর্তনের কোনো ফিকির তাদের মনের ধারে-কাছে এসেছে বলেও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

অথচ এর বিপরীতে আফগানিস্তানে তালেবান মুজাহিদরা জিহাদের মাধ্যমে বিজয় লাভ করার পরপরই খিলাফতের ঘোষণা দিয়ে পর্যায়ক্রমে ইসলামি আইনের বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছিলো। এখনও বিশ্বের যে সকল অঞ্চল সহিহ মানহাজের মুজাহিদদের দখলে রয়েছে, সেখানে তারা পর্যায়ক্রমে ইসলামি আইন বাস্তবায়ন করে চলছে। পার্থক্যটা কোথায়? পার্থক্যটা আমরা আরবের একটি প্রবাদ বাক্যের আলোকে বুঝতে পারি। আরবের একটি প্রসিদ্ধ প্রবাদ হচ্ছে- “الغالب بسيفه هو الغالب برأيه" !

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 শত্রুর পাতানো ফাঁদে পা

📄 শত্রুর পাতানো ফাঁদে পা


তিন. শত্রুর পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে আমরা কীভাবে ধারণা করলাম যে, শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে আমরা আমাদের উদ্দেশ্যে সফল হতে পারবো! শত্রুর বিছানো জালের ফাঁক-ফোকর সম্পর্কে শত্রু অধিক অবগত হওয়াটাই স্বাভাবিক। এছাড়াও খিলাফত পুনরুদ্ধারের জন্য যুগ যুগ ধরে চলে আসা নববি তরিকা গ্রহণ না করে যে পদ্ধতিতে ইসলামি খিলাফতের পতন ঘটানো হলো, সে পদ্ধতিতেই খিলাফত পুনরুদ্ধারের ব্যর্থ চেষ্টা করতে থাকা কতোটুকু যুক্তিযুক্ত!

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 কিছু ভয়ঙ্কর বাস্তবতা

📄 কিছু ভয়ঙ্কর বাস্তবতা


চার. ইসলামি শিরোনাম ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় যে সকল ভয়ঙ্কর বাস্তবতার সম্মুখীন আমরা হচ্ছি, তার মধ্যে একটি মৌলিক বাস্তবতা হচ্ছে, জনসাধারণকে এখন আর বুঝানো যাচ্ছে না যে, গণতন্ত্র একটি কুফরি বা অসার মতবাদ। কারণ 'নির্বাচনই যে শুধু গণতন্ত্র নয়' এটা বুঝার মতো অবস্থা সাধারণ জনগণের নেই। সাধারণ মানুষ যুগ যুগ ধরে দেখে চলছে যে, হুযুররাও গণতন্ত্রকে মেনে নিয়েছে।

এর চেয়েও ভয়ঙ্কর বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের বুযুর্গরা যাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন তাঁরা গণতন্ত্রকে কুফরি মনে করেই বিভিন্ন ব্যাখ্যাসাপেক্ষ (চাই সে ব্যাখ্যা সমাদৃত হোক বা না হোক) তাতে অংশগ্রহণ করেছেন। কিন্তু তাঁদের প্রতিষ্ঠিত দলের অনেক কর্মী গণতন্ত্রকে এখন আর কুফরি মতবাদ মানতে প্রস্তুত নয়। কোনো কোনো মুলহিদ তো ইতোমধ্যে উমর রাযি.কে গণতন্ত্রের প্রবর্তক বানিয়ে দিয়েছে। إنا لله وإنا إليه راجعون।

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 জিহাদি চেতনা উজ্জীবনের পথে প্রতিবন্ধক

📄 জিহাদি চেতনা উজ্জীবনের পথে প্রতিবন্ধক


পাঁচ. খিলাফত পুনরুদ্ধারের এ পদ্ধতি সাধারণ মুসলমান তো বটেই উলামা-তলাবাদের অন্তর থেকে জিহাদি চেতনা নির্মূল করার ক্ষেত্রে বড়ো ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বলতে গেলে জিহাদি কর্মকাণ্ড এবং জিহাদি চেতনা উজ্জীবনের পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষকরে যখন কোনো কোনো মুলহিদ এ ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে, 'বর্তমানে সশস্ত্র জিহাদ মানে আত্মহত্যা করা এবং নির্বাচনই হচ্ছে জিহাদ', তখন নির্বোধ ভক্ত-মুরিদরা এই ঝুঁকিমুক্ত অস্ত্রবিহীন জিহাদ (?) করেই তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে লাগলো। প্রজন্ম বুঝে নিয়েছে, খিলাফত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করাই যেহেতু মূল উদ্দেশ্য, তাহলে বুযুর্গদের সমর্থিত এ পদ্ধতিতে চেষ্টা করলে দায়িত্বও আদায় হয়ে যাবে এবং নির্ঝঞ্ঝাট জীবন-যাপন করা যাবে। সুতরাং অপাত্রে (?) জীবন বিলিয়ে দেয়ার মতো বোকামো আর হতে পারে না।

কিন্তু প্রজন্ম ভুলেই গেছে যে, জিহাদ একটি স্বতন্ত্র ইবাদত, একটি ফরয দায়িত্ব। খিলাফত পুনরুদ্ধারই শুধু জিহাদের উদ্দেশ্য নয়। প্রজন্ম জিহাদের সংজ্ঞা, উদ্দেশ্য, উপকারিতা ও ফযিলত সবই ভুলে গেছে। প্রজন্ম আর ভাবতে পারছে না যে, ইমানের পর সর্বোত্তম ইবাদত জিহাদ কখনই শত্রুদের আঁকা ছকে আদায় হতে পারে না।

জিহাদের শাব্দিক অর্থের ব্যাপকতাকে পুঁজি করে যদিও বুযুর্গদের কেউ কেউ তাদের খিলাফত পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে জিহাদ শব্দ ব্যবহার করেছেন, কিন্তু আমাদের জানা মতে তাঁদের কেউই সশস্ত্র জিহাদকে অস্বীকার করেননি এবং এর মাধ্যমে জিহাদের ফরয দায়িত্ব আদায় হয়ে যাচ্ছে; এমনটি মনে করেননি। কেউ করে থাকলে সেটিও শরিআতের দলিলের আলোকেই বিবেচ্য হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px