📄 গুণ দু’টির সমন্বয় অসম্ভব
দ্বিতীয়ত: উপর্যুক্ত ফাতওয়ায় ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচনের ব্যাপারে দু'টি গুণের কথা বলেছেন, ইসলামবিরোধী ও রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী না হওয়া। কথা হলো, কুফরি সংবিধানের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রে এ দু'টি গুণ একত্রিত হওয়ার পদ্ধতি কী? ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠার শিরোনাম ব্যবহার করলে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী তা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী, আর ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললে তা ইসলামবিরোধী। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের কথা বললে তা ইসলামবিরোধী, আর এগুলোর বিপক্ষে কথা বললে তা বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রবিরোধী। এছাড়াও প্রার্থীর নীতি-নৈতিকতা ও চিন্তা-চেতনা বিবেচনার কথা যে বলা হয়েছে, তা কি ইসলামের আলোকে বিবেচ্য হবে নাকি রাষ্ট্রের স্বার্থের আলোকে?
📄 এ প্রশ্নের উত্তর কী হবে?
তৃতীয়ত: উপর্যুক্ত ফাতওয়ায় যদি শুধু ইসলামের শিরোনাম ব্যবহারকারী প্রার্থীকে ভোট দেয়ার কথা বলা হতো, দলিলের আলোকে সেটি সমর্থনযোগ্য না হলেও তার একটি পর্যায় ছিলো। কিন্তু ঢালাওভাবে যে ভোট প্রদান করাকে আবশ্যকীয় করে দেয়া হলো, সেক্ষেত্রে এরূপ প্রশ্ন আসলে উত্তর কী হবে? আমাদের এলাকায় দু'জন প্রার্থী যারা নীতি-নৈতিকতায় উনিশ-বিশ। একজন কাদিয়ানি মতবাদে বিশ্বাসী, অপরজন দেওয়ানবাগির নির্ভেজাল মুরিদ। এক্ষেত্রে আমরা কাকে ভোট দেবো? অথবা আমাদের আসনে দু'জন প্রার্থীর একজন সদ্য মুসলমান থেকে খৃস্টান হয়ে যাওয়া মুরতাদ, তবে তার নীতি- নৈতিকতা বর্তমান সমাজের দৃষ্টিতে ভালো, অপরজন নামে মুসলমান হলেও সমাজের মানুষ তাকে গালি দেয়া ব্যতীত তার নাম মুখে নেয় না। এক্ষেত্রে আমরা কাকে ভোট দেবো? অথবা আমাদের আসনে দু'জন প্রার্থী। একজনের নীতি-নৈতিকতা সমাজের দৃষ্টিতে খুব ভালো, কিন্তু তাকে ভোট দিলে যে দল ক্ষমতায় যাবে সেটি ইসলামবিদ্বেষী। অপর প্রার্থীকে মানুষ হারামযাদা ছাড়া কথা বলে না, তাকে ভোট দিলে যে দল ক্ষমতায় যাবে তাকে অনেকটা ইসলামবান্ধব মনে করা হয়। এক্ষেত্রে আমরা কাকে ভোট দেবো? এ জাতীয় হাজারো প্রশ্নের জবাব প্রস্তুত রেখেই ফাতওয়া দেয়া কাম্য!!!