📄 আলমাউসুআতুল আরাবিয়্যাতুল আলামিয়্যাহ
وقد انتشرت هذه الظاهرة (ظاهرة الإلحاد) انتشاراً واسعاً في الدول الأوروبية بصفة خاصة، وأصبحت له في بعض البلاد حكومات تحرسه ودول تحميه، وهو يتسلح ببعض النظريات العلمية المادية لتؤيده. ويمكن اعتبار ظاهرة "العلمانية" جزءاً من التيار الإلحادي بمفهومه العام. فعلى الرغم من ارتباط العلمانية بفصل الدين عن الدولة أو السياسة في الاستعمال الشائع، فإن لتلك الظاهرة دلالتها الأخرى المتصلة بذلك الفصل، والتي لا تقل أهمية في الاستعمال الغربي المعاصر. فهي تدل لدى كثير من المفكرين ومؤرخي الفكر على "نزع القداسة عن العالم بتحويل الاهتمام من الدين بما يتضمنه من إيمان بإله وبروح وبعالم أخروي أو مغاير خفي إلى انشغال بهذا العالم المرئي أو المحسوس وغير المقدس". ويمكن اعتبار العلمانية بمفهومها الشائع أي فصل الدين عن الدولة مرحلة مبكرة في هذا التوجه العام نحو ربط الحياة الإنسانية بعالم الحس، لأنها تمنح الأولوية لذلك العالم في التشريع لحياة الإنسان وسياستها وفي الآية القرآنية الكريمة إشارة إلى هذا المعنى العام والأساسي للعلمانية، حيث يقول الله تعالى على لسان الذين كفروا: "إن هي إلا حياتنا الدنيا وما نحن بمبعوثين" (الأنعام: ۲۹). والدنيا هي العالم الوحيد بالنسبة للعلمانية. ومن هنا استخدم مفهوم "الدنيوية" كمرادف للعلمانية. ومن العلمانية اشتق فعل "العلمنة" ليدل على عملية التحول نحو هذا العالم. (الموسوعة العربية العالمية، المادة: الإلحاد، (٥٢٨/٢)
“এই নাস্তিকতা বিশেষভাবে ইউরোপে ব্যাপক হয়ে আছে। কোনো কোনো অঞ্চলে সেটিকে পাহারা দেয়ার মতো শাসনব্যবস্থা এবং পৃষ্ঠপোষকতা করার মতো রাষ্ট্র তৈরি হয়ে গেছে। তা আবার নাস্তিকতার সমর্থনে কিছু বস্তুবাদী বৈজ্ঞানিক মতবাদের সজ্জা গ্রহণ করছে। ধর্মনিরপেক্ষতাকে ব্যাপক অর্থের নাস্তিক্য প্রবাহের একটি অংশ হিসেবে ধরা যায়। সাধারণ ব্যবহারে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রনীতি থেকে দ্বীনকে পৃথক করার সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতার সম্পৃক্ততা তো রয়েছেই। কেননা এ পৃথককরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য প্রমাণাদি সেক্ষেত্রে রয়েছে এবং সাম্প্রতিক পাশ্চাত্য ব্যবহারে এটির গুরুত্ব কম নয়। এটিই অনেক চিন্তাবিদ ও গবেষকের দৃষ্টিতে দ্বীন তথা আল্লাহ, রূহ, আখেরাত বা অদৃশ্যের উপর ইমান থেকে গুরুত্ব সরিয়ে এই দৃশ্যত বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও অপবিত্র পৃথিবীতে লিপ্ত করে পৃথিবী থেকে পবিত্রতাকে অপসারণ করার প্রমাণ বহন করে। অনুভূত পৃথিবীর সঙ্গে মানবজীবনকে সম্পৃক্তকরণের দিকে অভিমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতাকে তার প্রসিদ্ধ অর্থে-রাষ্ট্র থেকে দ্বীনকে পৃথককরণ- প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। কেননা ধর্মনিরপেক্ষতা মানবজীবনের আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ওই পৃথিবীকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। ধর্মনিরপেক্ষতার এই ব্যাপক ও মৌলিক অর্থের প্রতি কুরআনে কারিমে ইঙ্গিত রয়েছে। আল্লাহ তাআলা কাফেরদের ভাষ্যে বলছেন, 'আমাদের এ দুনিয়ার জীবন ছাড়া কিছু নেই এবং আমরা পুনরুজ্জীবিত হবো না।' (সুরা আনআম ২৯)। 'আলমানিয়্যাহ' ধর্মনিরপেক্ষতার দৃষ্টিতে দুনিয়াটাই একমাত্র 'আলাম' জগৎ। এটির ভিত্তিতেই 'দুনয়াবিয়্যাহ' পার্থিবতার অর্থকে ‘আলমানিয়্যাহ' ধর্মনিরপেক্ষতার সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। রূপান্তরের সকল কার্যকলাপ এই পৃথিবী কেন্দ্রিক হওয়ার উপর প্রমাণ বহন করাতে 'আলমানিয়্যাহ' থেকে 'আলমানাহ' নির্গত করা হয়েছে।” (আলমাউসুআতুল আরাবিয়্যাতুল আলামিয়্যাহ, ২/৫২৮)
📄 মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ
ওমান য'আমা ফাসলাদ্দিনে আনিল দাউলা, অআন্নাদ্দিনা মহল্লাল মাসাজিদ ওয়াল বুইউত, অ আন্না লিদ্দৌলাতা আং তাফ'আলা মা ইয়াশাউ অ তাহকুমু বিমা তাশাউ ফাকাদ আজমা আলাল্লাহিল ফিরিয়া, অকাযাবা আলাল্লাহি অ রাসুলাহু, অ গলাত আবিহুল গলাত, বাল হাযা কুফরুন অদোয়ালুন বাঈদ, ইয়াযাল্লা বিল্লাহি মিন যালিক। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়া, আদাদুল খামিস ওয়াল আরবায়ুন, আশশুক্কুছ ছানি জারুরাতুল বাশার ইলাশ শরিয়াতিল ইসলামিয়া, ৪৭/৩৫)
“যে মনে করবে রাষ্ট্র থেকে দ্বীন আলাদা, দ্বীনের ক্ষেত্র শুধু মসজিদ ও আবাসস্থল এবং রাষ্ট্রের যে কোনো কিছু করা ও যে কোনোভাবে ফয়সালা দেয়ার অধিকার আছে, সে মূলত আল্লাহর ব্যাপারে কঠিন অপবাদ দিলো, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উপর মিথ্যারোপ করলো এবং ভয়ঙ্কর প্রকারের ভুলে লিপ্ত হলো। বরং এটি কুফর ও বিদূরিত ভ্রষ্টতা। আল্লাহ তাআলার নিকট এর থেকে আশ্রয় চাই।” (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ, ৩৫/৪৭)
📄 শাইখুল হাদিস আজিজুল হক
(মৃ-১৪৩৩ হি.)
দৈনিক সংগ্রাম: কেউ যদি ইসলাম থেকে রাজনীতি বা রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থা সজ্ঞানভাবে আলাদা করে তাহলে তার ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা?
শাইখুল হাদীস: যদি কেউ বিশ্বাস করে যে, ইসলামে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থা বা রাজনীতির বিধান নেই, কিংবা ইসলামী ব্যবস্থার বিকল্প বা তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোন ব্যবস্থা আছে অথবা মুসলমানদের রাজনীতি ও ধর্ম ভিন্ন ভিন্ন তাহলে কুরআন, সুন্নাহ ও ফেকাহ শাস্ত্রে তাকে জিন্দীক বা ধর্মদ্রোহী আখ্যায়িত করা হয়েছে। (অন্তরঙ্গ আলোকে শাইখুল হাদীস রহ., পৃ: ১৪৭-১৪৮)
📄 মুফতি তাকি উসমানি
হাফিযাহুল্লাহ
مكانة السياسة في الدين: قد اشتهر عن النصارى أنهم يفرقون بين الدين والسياسة بقولهم المعروف: "دع ما لقيصر لقيصر، وما لله لله"، فكأن الدين لا علاقة له بالسياسة، والسياسة لا ربط لها بالدين، وإن هذه النظرية الباطلة قد تدرجت إلى أبشع صورها في
الআলমায়িয়াহ” أو “سيكولر إزم" التى أخرجت الدين من سائر شئون العصور الأخيرة باسم الحياة حتى قضت عليه بتاتاً.
وإن هذه النظرية فى الحقيقة نوع من أنواع الإشراك بالله، من حيث إنها لا تعترف للدين بسلطة فى الحياة المادية، وإنما تقصر سلطة الدين على رسوم وعبادات يمارسها المرء في خلوته أو في معبده، فكأن الإله ليس إلها إلا في العبادات والرسوم، وأما الأمور الدنيوية، فلها إله آخر، والعياذ بالله. (تكملة فتح الملهم للمفتي تقي العثماني، كتاب الإمارة، (١٥٣/٣)
“দ্বীনে রাজনীতির অবস্থান: খৃস্টানদের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ আছে যে তারা দ্বীন ও রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য করে। তাদের প্রসিদ্ধ প্রবাদ রয়েছে, 'কায়সারের অধিকার কায়সারের জন্য রাখো আর আল্লাহর প্রাপ্য আল্লাহকে দাও।' তো কেমন জানি রাজনীতির সঙ্গে দ্বীনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং দ্বীনের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এই বাতিল মতবাদ সাম্প্রতিক সময়ে 'আলমানিয়্যাহ' বা 'সেকুলারিজম' ধর্মনিরপেক্ষতার নামে তার সবচেয়ে কুৎসিত আকৃতিতে ক্রমবর্ধমান হচ্ছে, যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে দ্বীনকে বের করে দিয়েছে, এমনকি দ্বীনকে চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।
এই মতবাদ মূলত আল্লাহ তাআলার সঙ্গে শিরকের একটি প্রকার। কেননা এটি বস্তুবাদী জীবনে দ্বীনের কর্তৃত্বকে স্বীকার করে না এবং দ্বীনের কর্তৃত্বকে কিছু রীতি-নীতি ও ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করে যা মানুষ একাকীত্বে বা ইবাদতখানায় চর্চা করে। কেমন জানি 'ইলাহ' তিনি শুধু ইবাদত ও রীতি- নীতির ক্ষেত্রে 'ইলাহ', আর জাগতিক বিষয়ের জন্য আরেকজন 'ইলাহ' রয়েছে। আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” (তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম, ৩/১৫৩)