📄 ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা দিয়ে কাউকে বাঁচানো যাবে না
দ্বিতীয়ত: কেউ যদি নিজকে অথবা নিজের নেতা বা দলকে বাঁচানোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করে, তাহলে ওই ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার কারণে কি বাস্তবেই কেউ বেঁচে যাবে? আমাদের মনে রাখতে হবে, ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি যে অর্থকে সমর্থন করে না তা ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দের অর্থ হতে পারে না।
আর রাষ্ট্রের হর্তকর্তাদের (নির্বাহী শক্তি, বিচারবিভাগ ও প্রশাসন) তো কোনোভাবেই কুফর থেকে বাঁচানো যাবে না। কারণ-
✓ ব্যক্তিগত ব্যাখ্যাটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এমন কোনো প্রমাণ নেই।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র অস্বীকার করেছে; এর কোনো প্রমাণ নেই।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর পক্ষে তাদের বক্তব্য আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর পক্ষে তাদের আমল আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর পক্ষে তাদের আইন আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর পক্ষে তাদের আইনের বাস্তবায়ন আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর বিপরীত পক্ষের উপর তাদের ধমকি আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর বিপরীত পক্ষের উপর তাদের এ্যাকশান আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর উপর তাদের গর্ব আছে।
সুতরাং ধর্মনিরপেক্ষতাকে তার আসল অর্থে বিশ্বাস, বাস্তবায়ন, সমর্থন ও প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে সবধরনের সহযোগিতা করে ক্ষেত্রবিশেষ নিজকে, নিজের নেতা ও দলকে আড়াল করার জন্য এর কৃত্রিম ব্যাখ্যা দেয়াকে সর্বোচ্চ ইলহাদ ও নিফাক বলা যেতে পারে, যা প্রকৃতপক্ষে কুফর এবং তার ক্ষেত্রে কুফরের হুকুমই প্রযোজ্য হবে।
মাসিক আলকাউসারের একটি প্রবন্ধের একটি অংশ আমরা লক্ষ্য করতে পারি- 'এ অর্থগুলো লিখেছে বাংলা একাডেমীর অভিধান। এটির সম্পাদনায় কোনো ডানপন্থী বা কোনো 'হুজুর' জড়িত ছিলেন না। জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী সাহেব ছিলেন এর সম্পাদক। এটা এমন নয় যে, কোনো মতবাদ ওয়ালারা নিজ মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এ ব্যাখ্যা লিখেছে; বরং দেশের সরকার-নিয়ন্ত্রিত এবং বর্তমান সরকার নিয়ন্ত্রিত সরকারী প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমী, যারা সংবিধানে আবার সেকুলারিজমকে স্থান দিয়েছে তাদের কর্তৃক নিয়োজিত, নির্ভরযোগ্য, যোগ্য ব্যক্তিরাই সেকুলারিজমের এই অর্থ ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমার দেখে ভালো লেগেছে যে, ওনারাও ভালো মানুষ। রাখঢাক না করে সাফ সাফ কথাটাই মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন। 'ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মহীনতা নয়'-এমন কথা লেখেননি। (মাসিক আলকাউসার, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, পৃঃ ০৩)।
📄 ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের কারণে কাফের মুরতাদ হওয়ার ফাতওয়া
তৃতীয়ত: যে সকল উলামায়ে কেরাম ধর্মনিরপেক্ষতা তথা দ্বীনকে রাষ্ট্র থেকে পৃথক করার অসারতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁরা শুধু মতবাদকে কুফর বলেই ক্ষান্ত হননি; বরং মতবাদের কারণে কাফের-মুরতাদ হওয়ার ফাতওয়া দিয়েছেন। আমি উসমানি খিলাফতের দুই মুখপাত্র শাইখুল ইসলাম যাহেদ কাউসারি ও শাইখ মুস্তফা সাবারির এ বিষয়ক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ এবং দুয়েকটি 'মাওসুআহ' ও 'মাজাল্লাহ' থেকে কিছু কথা উল্লেখ করছি। সচেতন পাঠক আশা করি পুরো আলোচনা পড়ে নেবেন।
📄 শাইখুল ইসলাম যাহেদ কাউসারি আলহানাফি
(মৃ-১৩৭১ হি.)
حكم محاولة فصل الدين عن الدولة - بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين. أما بعد! فقد ورد من بعض العلماء الأفاضل في حلب الشهباء استفتاء يسألني فيه عن حكم شرع الله في مسلم يطالب حكومته في بلد إسلامي عريق في الإسلام بإبعاد النص على أن (دين الدولة الرسمي هو الإسلام) عن دستور تلك الحكومة، إحلالاً للأحكام الوضعية اللادينية محل أحكام شرع الله؟ ويسألني فيه أيضاً عن حكم الشرع الأغر في مسلم يكون سبباً لاستফحال ذلك الشر بسكوته عن تأييد الحق في هذه الكارثة، وفي هذا الخطر الداهم؟
فأقول مستعيناً بالله جلت قدرته إن هذه هي أدهى الدواهي وأعظم المصائب يذوب لهولها قلب كل مؤمن صادق الإيمان، ولا سيما في مثل بلاد الشام التي لها ماض مجيد في خدمة الإسلام. فالمسلم إذا طالب بمثل ذلك في سلامة عقله، يجري عليه حكم الردة في بلد يكون فيه الإسلام نافذ الأحكام، وفي غيره يهجر هذا المطالب هجراً كلياً، فلا يكلم ولا يعامل في أمر أصلاً حتى تضيق عليه الأرض بما رحبت ويتوب وينيب.
وقد دلت نصوص الكتاب والسنة على أن دين الإسلام جامع لمصلحتي الدنيا والآخرة، ولأحكامهما دلالة واضحة لا ارتياب فيها، فتكون محاولة فصل الدين عن الدولة كفراً صارخاً منابذاً لإعلاء كلمة الله، وعداء موجهاً إلى الدين الإسلامي في صميمه، ويكون هذا الطلب من هذا المطالب إقرار منه بالانبتار والانفصال فيلزمه بإقراره، فنعده عضواً مبتوراً من جسم جماعة المسلمين وشخصاً منفصلاً عن عقيدة أهل الإسلام، فلا تصح مناكحته ولا تحل ذبيحته، لأنه ليس من المسلمين ولا من أهل الكتاب. (مقالات الكوثرى, ص২৭৮)
“রাষ্ট্র থেকে দ্বীনকে পৃথককরণের প্রচেষ্টার বিধান- বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। হামদ ও সালাতের পর! হলব শহরে এক শ্রদ্ধেয় আলেমের পক্ষ হতে একটি 'ইস্তিফতা' এসে পৌঁছেছে। তাতে তিনি আমার নিকট ওই মুসলমানের ব্যাপারে শরিআতের হুকুম জানতে চাচ্ছেন; যে মুসলমান আল্লাহর শরিআতের বিধি-বিধানের স্থানে মানবরচিত ধর্মহীন বিধি-বিধানকে অবতরণ করাতে দৃঢ়মূল একটি মুসলিম দেশের সংবিধান থেকে 'রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম' ধারাটি বাদ দিতে সরকারের নিকট দাবি জানায়। ওই 'ইস্তিফতা'য় তিনি আরো জানতে চেয়েছেন; ওই মুসলমানের ব্যাপারে শরিআতের কী হুকুম, যে এই অব্যাহত ভয়াবহ মুহূর্তে এবং এই বিপর্যয়ে সত্যের সমর্থন করা থেকে চুপ থেকে ওই অন্যায় গুরুতর হওয়ার কারণ হয়?
আল্লাহর সহযোগিতা কামনা করে আমি বলছি, এটি এমন একটি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ও বড়ো ধরনের বিপর্যয়, যার আতঙ্কে সাচ্চা ইমানের অধিকারী প্রত্যেক মুমিনের অন্তর গলে যায়। বিশেষকরে শামের মতো অঞ্চলে; ইসলামের খেদমতে যার গৌরবান্বিত অতীত রয়েছে। সুতরাং সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী কোনো মুসলমান যদি তা দাবি করে, তাহলে যে অঞ্চলে ইসলামের বিধি-বিধান কার্যকর সে অঞ্চলে তার ক্ষেত্রে 'ইরতিদাদ' ধর্মত্যাগের বিধান বাস্তবায়ন হবে। আর অন্য অঞ্চলে এই দাবিদারের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে। সুতরাং তার সঙ্গে কথা বলা হবে না এবং কোনো ক্ষেত্রেই তার সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন হবে না, যাতে দুনিয়া প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তার জন্য সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং সে তাওবা করে ও তার দাবি থেকে ফিরে আসে।
কুরআন ও সুন্নাহর 'নুসুস' স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, দ্বীন ইসলাম দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতের কল্যাণ সমন্বিত। এবং কুরআন ও সুন্নাহর বিধি- বিধানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যার ব্যাপারে কোনো ধরনের সন্দেহ নেই। সুতরাং রাষ্ট্র থেকে দ্বীনকে পৃথককরণের প্রচেষ্টা হবে প্রকাশ্য কুফর, আল্লাহর কালেমা উঁচু করার পথে প্রতিবন্ধক এবং দ্বীন ইসলামের অন্তরমুখী সুস্পষ্ট শত্রুতা। এই দাবিদারের এই দাবি হবে তার পক্ষ হতে সম্পর্কহীনতা ও বিচ্ছিন্নতার স্বীকারোক্তি। তার স্বীকারোক্তিতেই তার জন্য তা আবশ্যক হবে।
সুতরাং আমরা তাকে মুসলমান জামাআতের শরীর থেকে একটি বিচ্ছিন্ন অঙ্গ এবং মুসলমানদের আকিদা থেকে এক পৃথক মানুষ মনে করবো। তার সঙ্গে বিবাহ-শাদি সহিহ হবে না এবং তার জবাইকৃত পশুর গোশত খাওয়া হালাল হবে না। কেননা সে মুসলমানও নয় এবং আহলে কিতাবিও নয়।” (মাকালাতুল কাউসারি, পৃঃ ২৭৮)
وأما الساكت من أهل الشأن عن تأييد الحق في مثل تلك الكارثة، فإنما هو شيطان أخرس ورد لأهل الردة. (مقالات الكوثري، ص٢٧٩)
“এ ধরনের বিপর্যয়ের মুহূর্তে সত্যের সমর্থন করা থেকে যে ব্যক্তিত্ব চুপ থাকে, সে মূলত 'বোবা শয়তান'; মুরতাদদের সমর্থনে যার আবির্ভাব ঘটেছে।” (মাকালাতুল কাউসারি, পৃ: ২৭৯)
📄 শাইখুল ইসলাম মুস্তফা সাবারি
(মৃ-১৩৭৩ হি.)
قال الشيخ مصطفى صبري: بسم اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ . الباب الرابع في عدم جواز فصل الدين عن السياسة - ... لكن حقيقة الأمر أن هذا الفصل مؤامرة بالدين للقضاء عليه، وقد كان في كل بدعة أحدثها العصريون المتفرنجون في البلاد الإسلامية كيد للدين ومحاولة الخروج عليه، لكن كيدهم في فصله عن السياسة أدهى وأشد من كل كيد في غيره، فهو ثورة حكومية على دين الشعب في حين أن العادة أن تكون الثورات من الشعب على الحكومة وشق عصا الطاعة منها أي الحكومة لأحكام الإسلام، بل ارتداد عنه من الحكومة أولاً ومن الأمة ثانياً، إن لم يكن بارتداد الداخلين في حوزة تلك الحكومة باعتبارهم أفراداً، فباعتبارهم جماعة, وهو أقصر طريق إلى الكفر من ارتداد الأفراد، بل إنه يتضمن ارتداد الأفراد أيضاً لقبولهم الطاعة لتلك الحكومة المرتدة التي ادعت الاستقلال لنفسها بعد أن كانت خاضعة لحكم الإسلام عليها، وماذا الفرق بين أن تتولى الأمر في البلاد الإسلامية حكومة مرتدة عن الإسلام وبين أن تحتلها حكومة أجنبية عن الإسلام، بل المرتد أبعد عن الإسلام من غيره أشد، وتأثيره الضار في دين الأمة أكثر، من حيث إن الحكومة الأجنبية لا تتدخل في شؤون الشعب الدينية وتترك لهم جماعة فيما بينهم تتولى الفصل في تلك الشؤون، ومن حيث إن الأمة لا تزال تعتبر الحكومة المرتدة عن دينها من نفسها فترتد هي أيضاً معها تدريجاً، إن لم نقل بارتدادها معها دفعة باعتبارها مضطرة في طاعة الحكومة، ومن حيث إن موقفها الاضطراري تجاه حكومة تأخذ سلطتها وقوتها من نفس الأمة ليس كموقفها الاضطراري تجاه حكومة أجنبية لها قوة أجنبية مثلها. (موقف العقل والعلم والعالم من رب العالمين وعباده المرسلين، ٢٨١/٤-٢٨٥)
“চতুর্থ অধ্যায় রাষ্ট্রনীতি থেকে দ্বীনকে পৃথককরণ জায়েয না হওয়া সম্পর্কে- কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এই পৃথককরণ মূলত দ্বীনকে ধ্বংস করার একটি ষড়যন্ত্র। সাম্প্রতিক পশ্চিমাদের আদর্শে বিশ্বাসীরা ইসলামি বিশ্বে নতুন যা কিছুরই প্রবর্তন করেছে, তা দ্বীনের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও ইসলামের সঙ্গে বিদ্রোহের প্রচেষ্টা হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রনীতি থেকে দ্বীনকে পৃথককরণের ক্ষেত্রে তাদের চক্রান্ত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রের চক্রান্ত থেকে কঠিন ও ভয়ঙ্কর। এটি জনগণের ধর্মের বিপক্ষে একটি রাষ্ট্রীয় বিপ্লব -যদিও বিপ্লব সাধারণত রাষ্ট্রের বিপক্ষে জনগণের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে- এবং ইসলামি বিধি-বিধানের সামনে রাষ্ট্রের আত্মসমর্পণের বিষয়টি বিনষ্টকরণ।
বরং তা প্রথমত রাষ্ট্রের এবং দ্বিতীয়ত জনগোষ্ঠীর ইসলাম থেকে 'ইরতিদাদ' নিবৃত্ত হওয়া। যদি ওই রাষ্ট্রের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি ব্যক্তি ব্যক্তির 'ইরতিদাদ' নাও হয়, তবে সামগ্রিকভাবে তো অবশ্যই। এটি ব্যক্তি ব্যক্তির 'ইরতিদাদ'র চেয়ে কুফরের দিকে আরো সংক্ষিপ্ত পথ। বরং তা ব্যক্তি ব্যক্তির 'ইরতিদাদ'কেও আবশ্যক করে। কেননা তারা ওই মুরতাদ রাষ্ট্রের বশ্যতা স্বীকার করে নেয়, যে রাষ্ট্র ইসলামি বিধি-বিধানের অনুগত থাকার পর এখন নিজকে স্বতন্ত্র দাবি করছে। ইসলাম থেকে মুরতাদ হওয়া কোনো শাসনব্যবস্থা ইসলামি বিশ্বের উপর ক্ষমতাসীন হওয়া এবং ইসলামবিবর্জিত ভিনদেশি কোনো রাষ্ট্র ইসলামি বিশ্ব দখল করে নেয়া; দু'য়ের মধ্যে কী পার্থক্য? বরং মুরতাদ অন্যের তুলনায় ইসলাম থেকে বেশি দূরে এবং উম্মতের দ্বীনের জন্য তার ক্ষতিকর প্রভাব আরো প্রবল। কেননা ভিনদেশি রাষ্ট্র সাধারণত ধর্মীয় জাতি-গোষ্ঠীর বিষয়াদিতে হস্তক্ষেপ করে না এবং তাদের থেকে একটি শ্রেণিকে নির্ধারণ করে দেয় যারা ওই সকল বিষয়াদিতে ফয়সালা প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করে। অপরদিকে নিজের দ্বীন থেকে মুরতাদ হওয়া রাষ্ট্রকে উম্মত নিজেদের অন্তর্ভুক্ত মনে করে চলছে। ফলে রাষ্ট্রের সঙ্গে তারাও ধীরে ধীরে মুরতাদ হয়ে যাচ্ছে। যদিও রাষ্ট্রের বশ্যতা স্বীকারের ক্ষেত্রে নিরুপায় হওয়ার বিষয়টি রয়েছে বলে রাষ্ট্রের সঙ্গে সবাই একসাথে মুরতাদ হয়ে যায়; এ কথা আমরা বলি না। এছাড়াও নিজ জাতির শক্তি ও ক্ষমতায় ক্ষমতাবান রাষ্ট্রের বিপরীতে বাধ্যতামূলক অবস্থান কখনো ভিনদেশি রাষ্ট্রের বিপরীতে বাধ্যতামূলক অবস্থানের মতো নয়, যার শক্তিও অনুরূপ ভিনদেশি।” (মাওকিফুল আকলি ওয়ালইলমি ওয়ালআলাম, ৪/২৮১-২৮৫)
والحق أن ترويج فصل الدين عن الدولة سواء كان هذا الترويج من رجال الحكومة أو الكتاب المفكرين في مصلحة الدولة والأمة، لا يتفق مع الإيمان، بأن الدين منزل من عند الله وأن أحكامه المذكورة في الكتاب والسنة أحكام الله المبلغة بواسطة رسوله، وكل من أشار بمبدأ الفصل إلى المجتمع فهو إما مستبطن للإلحاد... وإما بليد جاهل بمعنى فصل الدين عن الدولة ومغزاه، مع ظهور كونه عبارة عن عزل الإسلام عن حكومته على حكومة الدولة ومنعه من التدخل في شؤونها، ولأجل ذلك يمنع العلماء الذين في العادة مع قبول مبدأ الفصل، عن الاشتغال بالسياسة، فإذا خرج عن الإسلام من لا يقبل سلطة الدين عليه بالأمر والنهي وتدخله في أعماله حال كونه فرداً من أفراد المسلمين، فكيف لا يخرج من لا يقبل هذه السلطة وهذا التدخل بصفة أنه داخل في هيئة الحكومة? (موقف العقل والعلم والعالم من رب العالمين وعباده المرسلين، ٢٩٤/٤)
“সহিহ কথা হচ্ছে, রাষ্ট্র থেকে দ্বীনকে পৃথককরণের বিষয়টি তরান্বিত করা, চাই তা রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে রাষ্ট্রীয় হর্তকর্তাদের পক্ষ থেকে হোক বা বুদ্ধিজীবী লেখকদের পক্ষ থেকে হোক; ইমানের সঙ্গে মিলতে পারে না। কেননা দ্বীন আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে অবতারিত এবং কুরআন ও সুন্নাহর বিধি-বিধান আল্লাহ তাআলার বিধি-বিধান, যা তাঁর রাসুলের মাধ্যমে পৌঁছানো হয়েছে। যে ব্যক্তি সমাজকে পৃথককরণের নীতির নির্দেশনা দেয়, সে হয়তো 'ইলহাদ' নাস্তিকতা গোপনকারী...... অথবা এমন নির্বোধ যে রাষ্ট্র থেকে দ্বীনকে পৃথক করার অর্থ ও উদ্দেশ্যের ব্যাপারে অজ্ঞ। অথচ এটা স্পষ্ট যে, এ দাবির অর্থই হচ্ছে, রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার উপর ইসলামের কর্তৃত্ব থেকে ইসলামকে সরিয়ে দেয়া এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের অনুপ্রবেশকে বাধাগ্রস্ত করা। এজন্যই তো সাধারণতঃ যে সকল আলেম পৃথককরণের নীতির পক্ষে; তারাও রাষ্ট্রীয় কাজে জড়াতে নিষেধ করেন। তো যে ব্যক্তি মুসলমানদের একজন হওয়া সত্ত্বেও তার উপর দ্বীনের আদেশ-নিষেধের কর্তৃত্ব এবং তার প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের অনুপ্রবেশ গ্রহণ করে না সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়, তাহলে ওই ব্যক্তি কেনো ইসলাম থেকে বের হবে না; যে রাষ্ট্রের কমিশনের সদস্য হিসেবে এই কর্তৃত্ব ও এই অনুপ্রবেশকে গ্রহণ করে না? (মাওকিফুল আকলি ওয়ালইলমি ওয়ালআলাম, ৪/২৯৪)
টিকাঃ
২৫. মাওকিফুল আকলি ওয়ালইলমি ওয়ালআলাম থেকে একটি আলোচনা উদ্ধৃত করতে গিয়ে শাইখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রহ. কিতাব ও কিতাবের রচয়িতা সম্পর্কে যে স্তুতিবাক্য ব্যবহার করেছেন তা হচ্ছে,
"قال أستاذنا المحقق الإمام، خاتمة شيوخ الإسلام في الدولة العثمانية، شيخ الإسلام مصطفى صبري التوقادي رحمه الله تعالى، في كتابه الفذ العجاب، الذي وصف حين صدوره بأنه (كتاب القرن الرابع عشر): "موقف العقل والعلم والعالم من رب العالمين وعباده المرسلين". (الإسناد من الدين وصفحة مشرقة من تاريخ سماع الحديث عند المحدثين، ص٨٦)