📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 পৃথিবীর এক অত্যাশ্চর্যের বিষয়

📄 পৃথিবীর এক অত্যাশ্চর্যের বিষয়


এ ব্যাপারে আমাদের প্রথম কথা হচ্ছে, এটি কি পৃথিবীর এক অত্যাশ্চর্যের বিষয় নয় যে, মতবাদ কুফরি ও ভয়ঙ্কর কিন্তু সে মতবাদের কারণে সামগ্রিকভাবেও ‘তাকফির' করা যাবে না? যে পৃথিবীতে সুস্পষ্ট কুফর থেকে মানুষদের বিরত রাখা যাচ্ছে না, সে পৃথিবীতে গ্রহণযোগ্য কারো মুখ থেকে যখন মানুষ এ ধরনের অস্পষ্ট কথা শুনবে, তখন বাকি ফলাফল তারা নিজেরাই বের করে নেবে- 'ও! মতবাদ কুফরি ঠিক আছে, কিন্তু এর কারণে তো আর ইমানহারা হচ্ছি না।' পাঠকদের কী মনে হয়! মানুষদের কি এ কুফরি ও ভয়ঙ্কর মতবাদ থেকে ফেরানো যাবে?

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা দিয়ে কাউকে বাঁচানো যাবে না

📄 ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা দিয়ে কাউকে বাঁচানো যাবে না


দ্বিতীয়ত: কেউ যদি নিজকে অথবা নিজের নেতা বা দলকে বাঁচানোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করে, তাহলে ওই ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার কারণে কি বাস্তবেই কেউ বেঁচে যাবে? আমাদের মনে রাখতে হবে, ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি যে অর্থকে সমর্থন করে না তা ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দের অর্থ হতে পারে না।

আর রাষ্ট্রের হর্তকর্তাদের (নির্বাহী শক্তি, বিচারবিভাগ ও প্রশাসন) তো কোনোভাবেই কুফর থেকে বাঁচানো যাবে না। কারণ-
✓ ব্যক্তিগত ব্যাখ্যাটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এমন কোনো প্রমাণ নেই।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র অস্বীকার করেছে; এর কোনো প্রমাণ নেই।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর পক্ষে তাদের বক্তব্য আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর পক্ষে তাদের আমল আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর পক্ষে তাদের আইন আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর পক্ষে তাদের আইনের বাস্তবায়ন আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর বিপরীত পক্ষের উপর তাদের ধমকি আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর বিপরীত পক্ষের উপর তাদের এ্যাকশান আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর উপর তাদের গর্ব আছে।

সুতরাং ধর্মনিরপেক্ষতাকে তার আসল অর্থে বিশ্বাস, বাস্তবায়ন, সমর্থন ও প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে সবধরনের সহযোগিতা করে ক্ষেত্রবিশেষ নিজকে, নিজের নেতা ও দলকে আড়াল করার জন্য এর কৃত্রিম ব্যাখ্যা দেয়াকে সর্বোচ্চ ইলহাদ ও নিফাক বলা যেতে পারে, যা প্রকৃতপক্ষে কুফর এবং তার ক্ষেত্রে কুফরের হুকুমই প্রযোজ্য হবে।

মাসিক আলকাউসারের একটি প্রবন্ধের একটি অংশ আমরা লক্ষ্য করতে পারি- 'এ অর্থগুলো লিখেছে বাংলা একাডেমীর অভিধান। এটির সম্পাদনায় কোনো ডানপন্থী বা কোনো 'হুজুর' জড়িত ছিলেন না। জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী সাহেব ছিলেন এর সম্পাদক। এটা এমন নয় যে, কোনো মতবাদ ওয়ালারা নিজ মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এ ব্যাখ্যা লিখেছে; বরং দেশের সরকার-নিয়ন্ত্রিত এবং বর্তমান সরকার নিয়ন্ত্রিত সরকারী প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমী, যারা সংবিধানে আবার সেকুলারিজমকে স্থান দিয়েছে তাদের কর্তৃক নিয়োজিত, নির্ভরযোগ্য, যোগ্য ব্যক্তিরাই সেকুলারিজমের এই অর্থ ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমার দেখে ভালো লেগেছে যে, ওনারাও ভালো মানুষ। রাখঢাক না করে সাফ সাফ কথাটাই মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন। 'ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মহীনতা নয়'-এমন কথা লেখেননি। (মাসিক আলকাউসার, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, পৃঃ ০৩)।

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের কারণে কাফের মুরতাদ হওয়ার ফাতওয়া

📄 ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের কারণে কাফের মুরতাদ হওয়ার ফাতওয়া


তৃতীয়ত: যে সকল উলামায়ে কেরাম ধর্মনিরপেক্ষতা তথা দ্বীনকে রাষ্ট্র থেকে পৃথক করার অসারতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁরা শুধু মতবাদকে কুফর বলেই ক্ষান্ত হননি; বরং মতবাদের কারণে কাফের-মুরতাদ হওয়ার ফাতওয়া দিয়েছেন। আমি উসমানি খিলাফতের দুই মুখপাত্র শাইখুল ইসলাম যাহেদ কাউসারি ও শাইখ মুস্তফা সাবারির এ বিষয়ক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ এবং দুয়েকটি 'মাওসুআহ' ও 'মাজাল্লাহ' থেকে কিছু কথা উল্লেখ করছি। সচেতন পাঠক আশা করি পুরো আলোচনা পড়ে নেবেন।

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 শাইখুল ইসলাম যাহেদ কাউসারি আলহানাফি

📄 শাইখুল ইসলাম যাহেদ কাউসারি আলহানাফি


(মৃ-১৩৭১ হি.)

حكم محاولة فصل الدين عن الدولة - بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين. أما بعد! فقد ورد من بعض العلماء الأفاضل في حلب الشهباء استفتاء يسألني فيه عن حكم شرع الله في مسلم يطالب حكومته في بلد إسلامي عريق في الإسلام بإبعاد النص على أن (دين الدولة الرسمي هو الإسلام) عن دستور تلك الحكومة، إحلالاً للأحكام الوضعية اللادينية محل أحكام شرع الله؟ ويسألني فيه أيضاً عن حكم الشرع الأغر في مسلم يكون سبباً لاستফحال ذلك الشر بسكوته عن تأييد الحق في هذه الكارثة، وفي هذا الخطر الداهم؟

فأقول مستعيناً بالله جلت قدرته إن هذه هي أدهى الدواهي وأعظم المصائب يذوب لهولها قلب كل مؤمن صادق الإيمان، ولا سيما في مثل بلاد الشام التي لها ماض مجيد في خدمة الإسلام. فالمسلم إذا طالب بمثل ذلك في سلامة عقله، يجري عليه حكم الردة في بلد يكون فيه الإسلام نافذ الأحكام، وفي غيره يهجر هذا المطالب هجراً كلياً، فلا يكلم ولا يعامل في أمر أصلاً حتى تضيق عليه الأرض بما رحبت ويتوب وينيب.

وقد دلت نصوص الكتاب والسنة على أن دين الإسلام جامع لمصلحتي الدنيا والآخرة، ولأحكامهما دلالة واضحة لا ارتياب فيها، فتكون محاولة فصل الدين عن الدولة كفراً صارخاً منابذاً لإعلاء كلمة الله، وعداء موجهاً إلى الدين الإسلامي في صميمه، ويكون هذا الطلب من هذا المطالب إقرار منه بالانبتار والانفصال فيلزمه بإقراره، فنعده عضواً مبتوراً من جسم جماعة المسلمين وشخصاً منفصلاً عن عقيدة أهل الإسلام، فلا تصح مناكحته ولا تحل ذبيحته، لأنه ليس من المسلمين ولا من أهل الكتاب. (مقالات الكوثرى, ص২৭৮)

“রাষ্ট্র থেকে দ্বীনকে পৃথককরণের প্রচেষ্টার বিধান- বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। হামদ ও সালাতের পর! হলব শহরে এক শ্রদ্ধেয় আলেমের পক্ষ হতে একটি 'ইস্তিফতা' এসে পৌঁছেছে। তাতে তিনি আমার নিকট ওই মুসলমানের ব্যাপারে শরিআতের হুকুম জানতে চাচ্ছেন; যে মুসলমান আল্লাহর শরিআতের বিধি-বিধানের স্থানে মানবরচিত ধর্মহীন বিধি-বিধানকে অবতরণ করাতে দৃঢ়মূল একটি মুসলিম দেশের সংবিধান থেকে 'রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম' ধারাটি বাদ দিতে সরকারের নিকট দাবি জানায়। ওই 'ইস্তিফতা'য় তিনি আরো জানতে চেয়েছেন; ওই মুসলমানের ব্যাপারে শরিআতের কী হুকুম, যে এই অব্যাহত ভয়াবহ মুহূর্তে এবং এই বিপর্যয়ে সত্যের সমর্থন করা থেকে চুপ থেকে ওই অন্যায় গুরুতর হওয়ার কারণ হয়?

আল্লাহর সহযোগিতা কামনা করে আমি বলছি, এটি এমন একটি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ও বড়ো ধরনের বিপর্যয়, যার আতঙ্কে সাচ্চা ইমানের অধিকারী প্রত্যেক মুমিনের অন্তর গলে যায়। বিশেষকরে শামের মতো অঞ্চলে; ইসলামের খেদমতে যার গৌরবান্বিত অতীত রয়েছে। সুতরাং সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী কোনো মুসলমান যদি তা দাবি করে, তাহলে যে অঞ্চলে ইসলামের বিধি-বিধান কার্যকর সে অঞ্চলে তার ক্ষেত্রে 'ইরতিদাদ' ধর্মত্যাগের বিধান বাস্তবায়ন হবে। আর অন্য অঞ্চলে এই দাবিদারের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে। সুতরাং তার সঙ্গে কথা বলা হবে না এবং কোনো ক্ষেত্রেই তার সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন হবে না, যাতে দুনিয়া প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তার জন্য সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং সে তাওবা করে ও তার দাবি থেকে ফিরে আসে।

কুরআন ও সুন্নাহর 'নুসুস' স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, দ্বীন ইসলাম দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতের কল্যাণ সমন্বিত। এবং কুরআন ও সুন্নাহর বিধি- বিধানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যার ব্যাপারে কোনো ধরনের সন্দেহ নেই। সুতরাং রাষ্ট্র থেকে দ্বীনকে পৃথককরণের প্রচেষ্টা হবে প্রকাশ্য কুফর, আল্লাহর কালেমা উঁচু করার পথে প্রতিবন্ধক এবং দ্বীন ইসলামের অন্তরমুখী সুস্পষ্ট শত্রুতা। এই দাবিদারের এই দাবি হবে তার পক্ষ হতে সম্পর্কহীনতা ও বিচ্ছিন্নতার স্বীকারোক্তি। তার স্বীকারোক্তিতেই তার জন্য তা আবশ্যক হবে।

সুতরাং আমরা তাকে মুসলমান জামাআতের শরীর থেকে একটি বিচ্ছিন্ন অঙ্গ এবং মুসলমানদের আকিদা থেকে এক পৃথক মানুষ মনে করবো। তার সঙ্গে বিবাহ-শাদি সহিহ হবে না এবং তার জবাইকৃত পশুর গোশত খাওয়া হালাল হবে না। কেননা সে মুসলমানও নয় এবং আহলে কিতাবিও নয়।” (মাকালাতুল কাউসারি, পৃঃ ২৭৮)

وأما الساكت من أهل الشأن عن تأييد الحق في مثل تلك الكارثة، فإنما هو شيطان أخرس ورد لأهل الردة. (مقالات الكوثري، ص٢٧٩)

“এ ধরনের বিপর্যয়ের মুহূর্তে সত্যের সমর্থন করা থেকে যে ব্যক্তিত্ব চুপ থাকে, সে মূলত 'বোবা শয়তান'; মুরতাদদের সমর্থনে যার আবির্ভাব ঘটেছে।” (মাকালাতুল কাউসারি, পৃ: ২৭৯)

ফন্ট সাইজ
15px
17px