📄 ধর্মনিরপেক্ষতা একটি কুফরি ধর্ম
মাসআলা: ধর্মনিরপেক্ষতা একটি স্বতন্ত্র ধর্ম এবং 'এন্টি ইসলাম' ইসলামের মোকাবেলায় ইসলামের প্রকাশ্য শত্রুদের হাতে তৈরি একটি মতবাদ। সুতরাং ধর্মনিরপেক্ষ ধর্মে বিশ্বাসী, তা প্রতিষ্ঠাতা ও বাস্তবায়নকারী নির্বাহী শক্তি, সেটির নীতি অনুসারী বিচারকবর্গ এবং তা রক্ষাকারী প্রশাসন কাফের-মুরতাদ।
📄 দলিল
ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ একটি কুফরি ও ভয়ঙ্কর মতবাদ হওয়া সংক্রান্ত অত্যন্ত চমৎকার ও দলিলনির্ভর প্রবন্ধ আমরা মাসিক আলকাউসার (ফেব্রুয়ারি ২০১৪, পৃঃ ০৩-১০) থেকে পড়ে নিতে পারি। আমি সেখান থেকে ছোট্ট একটি অংশ উল্লেখ করছি- 'আমি শুধু সংক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছি এবং সেক্যুলার ব্যক্তিবর্গের কথা ও লেখা থেকে প্রমাণ করেছি যে, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মহীনতা সমার্থবোধক। এবং এর সবচেয়ে হালকা ব্যাখ্যাদাতারও দাবি হল, রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। যা সুস্পষ্ট কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী বক্তব্য।'
ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ কুফরি হওয়ার বিষয়টি অনেকটা ঐক্যমত্যে সাব্যস্ত হওয়ায় আমি এ বিষয়ে বিশেষ কোনো দলিল উল্লেখ করছি না। তবে কেউ কেউ মতবাদটি কুফরি মতবাদ স্বীকার করে নিলেও সেটির ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবেও 'তাকফির' করতে প্রস্তুত নয়।
📄 পৃথিবীর এক অত্যাশ্চর্যের বিষয়
এ ব্যাপারে আমাদের প্রথম কথা হচ্ছে, এটি কি পৃথিবীর এক অত্যাশ্চর্যের বিষয় নয় যে, মতবাদ কুফরি ও ভয়ঙ্কর কিন্তু সে মতবাদের কারণে সামগ্রিকভাবেও ‘তাকফির' করা যাবে না? যে পৃথিবীতে সুস্পষ্ট কুফর থেকে মানুষদের বিরত রাখা যাচ্ছে না, সে পৃথিবীতে গ্রহণযোগ্য কারো মুখ থেকে যখন মানুষ এ ধরনের অস্পষ্ট কথা শুনবে, তখন বাকি ফলাফল তারা নিজেরাই বের করে নেবে- 'ও! মতবাদ কুফরি ঠিক আছে, কিন্তু এর কারণে তো আর ইমানহারা হচ্ছি না।' পাঠকদের কী মনে হয়! মানুষদের কি এ কুফরি ও ভয়ঙ্কর মতবাদ থেকে ফেরানো যাবে?
📄 ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা দিয়ে কাউকে বাঁচানো যাবে না
দ্বিতীয়ত: কেউ যদি নিজকে অথবা নিজের নেতা বা দলকে বাঁচানোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করে, তাহলে ওই ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার কারণে কি বাস্তবেই কেউ বেঁচে যাবে? আমাদের মনে রাখতে হবে, ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি যে অর্থকে সমর্থন করে না তা ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দের অর্থ হতে পারে না।
আর রাষ্ট্রের হর্তকর্তাদের (নির্বাহী শক্তি, বিচারবিভাগ ও প্রশাসন) তো কোনোভাবেই কুফর থেকে বাঁচানো যাবে না। কারণ-
✓ ব্যক্তিগত ব্যাখ্যাটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এমন কোনো প্রমাণ নেই।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র অস্বীকার করেছে; এর কোনো প্রমাণ নেই।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর পক্ষে তাদের বক্তব্য আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর পক্ষে তাদের আমল আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর পক্ষে তাদের আইন আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর পক্ষে তাদের আইনের বাস্তবায়ন আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর বিপরীত পক্ষের উপর তাদের ধমকি আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর বিপরীত পক্ষের উপর তাদের এ্যাকশান আছে।
✓ পরিচিত ও স্বীকৃত অর্থটি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে; এর উপর তাদের গর্ব আছে।
সুতরাং ধর্মনিরপেক্ষতাকে তার আসল অর্থে বিশ্বাস, বাস্তবায়ন, সমর্থন ও প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে সবধরনের সহযোগিতা করে ক্ষেত্রবিশেষ নিজকে, নিজের নেতা ও দলকে আড়াল করার জন্য এর কৃত্রিম ব্যাখ্যা দেয়াকে সর্বোচ্চ ইলহাদ ও নিফাক বলা যেতে পারে, যা প্রকৃতপক্ষে কুফর এবং তার ক্ষেত্রে কুফরের হুকুমই প্রযোজ্য হবে।
মাসিক আলকাউসারের একটি প্রবন্ধের একটি অংশ আমরা লক্ষ্য করতে পারি- 'এ অর্থগুলো লিখেছে বাংলা একাডেমীর অভিধান। এটির সম্পাদনায় কোনো ডানপন্থী বা কোনো 'হুজুর' জড়িত ছিলেন না। জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী সাহেব ছিলেন এর সম্পাদক। এটা এমন নয় যে, কোনো মতবাদ ওয়ালারা নিজ মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এ ব্যাখ্যা লিখেছে; বরং দেশের সরকার-নিয়ন্ত্রিত এবং বর্তমান সরকার নিয়ন্ত্রিত সরকারী প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমী, যারা সংবিধানে আবার সেকুলারিজমকে স্থান দিয়েছে তাদের কর্তৃক নিয়োজিত, নির্ভরযোগ্য, যোগ্য ব্যক্তিরাই সেকুলারিজমের এই অর্থ ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমার দেখে ভালো লেগেছে যে, ওনারাও ভালো মানুষ। রাখঢাক না করে সাফ সাফ কথাটাই মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন। 'ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মহীনতা নয়'-এমন কথা লেখেননি। (মাসিক আলকাউসার, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, পৃঃ ০৩)।