📄 আলি ইবনে আবি তালেব রাযি. ও হাসান বসরির বক্তব্য
আলি ইবনে আবি তালেব রাযি. ও হাসান বসরির বক্তব্য
আলি ইবনে আবি তালেব রাযি. কর্তৃক ইবনে আব্বাস রাযি.কে উদ্দেশ্য করে লেখা জবাবি চিঠির কথা ও হাসান বসরি রহ. এর বক্তব্যও আমরা দেখতে পারি।
আলি ইবনে আবি তালেব রাযি. (মৃ-৪০ হি.)
قال الخطيب البغدادي: أخبرني علي بن أبي علي البصري، أنا محمد بن عبد الله بن محمد بن همام الشيباني، حدثني أحمد بن محمد الخوارزمي بأرمية، نا بقية، نا أبو حاتم الرازي، نا أحمد بن أبي الحواري، قال: حدثني أبو حفص الماعوني، عن عبد الله بن لهيعة قال: كتب ابن عباس إلى علي يستحثه، فكتب إليه علي مجيباً: إنه ينبغي لك أن يكون أول عملك بما أنت فيه، البصر بهداية الطريق، ولا تستوحش لقلة أهلها، فإن إبراهيم كان أمة قانتا لله حنيفاً ولم يك من المشركين، لم يستوحش مع الله في طريق الهداية إذ قل أهلها، ولم يأنس بغير الله. (الفقيه والمتفقه, ٤٠٥/٢ , الرقم: ١١٧٨)
“আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিআ বলেন, আব্বাস রাযি. অনুপ্রেরণা যোগাতে আলি রাযি. -এর নিকট চিঠি লিখলেন। আলি রাযি. উত্তরে লিখে পাঠালেন; তোমার জন্য তোমার প্রথম কাজ তোমার অবস্থান অনুযায়ী হওয়া উচিত, তথা সঠিক রাস্তার প্রতি দৃষ্টি রাখা। সংখ্যার স্বল্পতার কারণে কখনো ভীত হয়ো না। কেননা ইবরাহিম ছিলেন এক উম্মত, আল্লাহর একান্ত অনুগত ও একনিষ্ঠ। তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। সংখ্যা কম হওয়া সত্ত্বেও তিনি সঠিক পথে আল্লাহর সঙ্গে থাকতে ভীত হননি এবং আল্লাহ ব্যতীত কারো সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করেননি।” (আলফকিহ ওয়ালমুতাফাক্কিহ, ২/৪০৫, নং ১১৭৮)
হাসান বসরি (মৃ-১১০ হি.)
قال أبو شامة المقدسي: قال الدرامي: أخبرنا الحسين بن منصور، حدثنا أبو أسامة، عن مبارك، عن الحسن رحمه الله تعالى قال: سنتكم والله الذي لا إله إلا هو بينهما بين الغالي والجافي، فاصبروا عليها رحمكم الله، فإن أهل السنة كانوا أقل الناس فيما بقي، الذين لم يذهبوا مع أهل الإتراف في إترافهم, ولا مع أهل البدع في بدعهم، وصبروا على سنتهم حتى لقوا ربهم، فكذلك إن شاء الله فكونوا (الباعث على إنكار البدع والحوادث, ص ১৩)
“হাসান রহ. বলেন, আল্লাহ যিনি ব্যতীত কোনো মা'বুদ নেই তাঁর কসম করে বলছি, তোমাদের সুন্নাত-অনুমোদিত পথ হচ্ছে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মাঝে। তোমরা সেটিকেই আঁকড়ে ধরো, আল্লাহ তোমাদের উপর রহম করুন! কেননা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত সবসময় সংখ্যায় কমই ছিলেন, যাঁরা বিলাসীদের সঙ্গে তাদের বিলাসিতায় এবং বিদআতিদের সঙ্গে তাদের বিদআতে অংশগ্রহণ করেননি। তাঁরা প্রভুর সাক্ষাত পর্যন্ত তাঁদের সুন্নাতের উপর অবিচল ছিলেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা হলে তোমরাও তাঁদের মতো হও।” (আলবায়েস আলা ইনকারিল বিদা' ওয়ালহাওয়াদেস, পৃঃ ১৩)
📄 আরো কিছু স্থূল আপত্তি
আরো কিছু স্থূল আপত্তি
মৌলিক সংশয়গুলোর পর্যালোচনার এখানেই ইতি টানছি। তবে এক্ষেত্রে কিছু স্থূল আপত্তি রয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করা অনর্থক। "لا نكفر أهل القبلة" এবং "لا يكفر أحد بذنب" কে অপাত্রে ব্যবহার করে কিছুটা সংশয় সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। এ ব্যাপারে আমি আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরির আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ হুবহু উল্লেখ করে দেয়াই যথেষ্ঠ মনে করছি, যা তিনি "আল মুরাদ বি আহলিল কিবলা আল্লাযিনা লা ইয়াকফুরুন" শিরোনামের অধীনে উল্লেখ করেছেন। সচেতন পাঠক মূল কিতাব থেকে পুরো আলোচনাটি পড়ে নিতে পারেন।
📄 কাশ্মিরি রহ. এর আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ
কাশ্মিরি রহ. এর আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ
اعلم أن المراد بأهل القبلة: الذين اتفقوا على ما هو من ضروريات الدين، كحدوث العالم، وحشر الأجساد، وعلم الله تعالى بالكليات والجزئيات، وما أشبه ذلك من المسائل المهمات، فمن واظب طول عمره على الطاعات والعبادات مع اعتقاد قدم العالم ونفي الحشر أو نفي علمه سبحانه بالحزئيات لا يكون من أهل القبلة، وإن المراد بعدم تكفير أحد من أهل القبلة عند أهل السنة: أنه لا يكفر ما لم يوجد شيء من أمارات الكفر وعلاماته، ولم يصدر عنه شيء من موجباته.
إن غلا فيه أي في هواه حتى وجب إكفاره به لا يعتبر خلافه ووفاقه أيضاً، لعدم دخوله في مسمى الأمة المشهود لها بالعصمة وإن صلى إلى القبلة واعتقد نفسه مسلماً، لأن الأمة ليست عبارة عن المصلين إلى القبلة، بل عن المؤمنين، وهو كافر وإن كان لا يدري أنه كافر. ونحوه في "الكشف شرح البزدوي" من الإجماع, و"الإحكام" للأمدي من المسلأة السادسة منه.
لا خلاف في كفر المخالف في ضروريات الإسلام وإن كان من أهل القبلة المواظب طول عمره على الطاعات. كما في "شرح التحرير". "رد المختار" من الإمامة ومن جحود الوتر. أيضاً ثم قال (أي صاحب "البحر"): والحاصل أن المذهب عدم تكفير أحد من المخالفين فيما ليس من الأصول المعلومة من الدين ضرورة. إلخ. فافهم.
أهل القبلة في اصطلاح المتكلمين من يصدق بضروريات الدين أي الأمور التي علم في الشرع واشتهر, فمن أنكر شيئاً من الضروريات كحدوث العالم وحشر الأجساد، وعلم الله سبحانه بالجزئيات، وفرضية الصلاة والصوم لم يكن من أهل القبلة، ولو كان مجاهداً بالطاعات، وكذلك من باشر شيئاً من أمارات التكذيب كسجود الصنم والإهانة بأمر شرعي والاستهزاء عليه، فليس من أهل القبلة، ومعنى: "عدم تكفير أهل القبلة أن لا يكفر بارتكاب المعاصي, ولا بإنكار الأمور الخفية غير المشهورة. هذا ما حققه المحققون فاحفظه. (إكفار الملحدين, ص١٦-١٧)
“জেনে রাখা উচিত, ‘আহলে কিবলা’ দ্বারা উদ্দেশ্য যারা দ্বীনের অকাট্য-সুস্পষ্ট বিধানের ব্যাপারে একমত। যেমন, পৃথিবী আধুনিক হওয়া, শরীরের হাশর- পুনরুত্থান হওয়া, সার্বিক ও আনুষঙ্গিক বিষয় আল্লাহ তাআলার ইলমে থাকা এবং এ জাতীয় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল। সুতরাং কেউ পৃথিবী আদি, হাশর হবে না এবং আনুষঙ্গিক বিষয় আল্লাহর ইলমে নেই বলে বিশ্বাস রেখে জীবনভর ইবাদত ও আনুগত্যে কাটিয়ে দিলেও সে ‘আহলে কিবলা’র অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মতে ‘আহলে কিবলার কাউকে কাফের বলা হবে না’ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, যতোক্ষণ পর্যন্ত কুফরের কোনো নিদর্শন পাওয়া যাবে না এবং কুফরকে আবশ্যক করে এমন কোনো কিছু প্রকাশ পাবে না, ততোক্ষণ পর্যন্ত ‘আহলে কিবলা’র কাউকে কাফের আখ্যায়িত করা যাবে না।
যদি সে তার প্রবৃত্তির ব্যাপারে এ পর্যায়ের বাড়াবাড়ি করে যে, তাকে কাফের আখ্যা দেয়া আবশ্যক হয়, তাহলে তার একমত হওয়া আর দ্বিমত হওয়ারও কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। কেননা সে সংরক্ষণের সাক্ষ্যপ্রাপ্ত উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও সে কিবলামুখী হয়ে নামায আদায় করে এবং নিজেকে মুসলমান মনে করে। কারণ, উম্মত তো কিবলামুখী হয়ে নামায আদায় করার নাম নয় বরং তা মুমিনদেরকে বলা হয়। তো সে কাফের, যদিও সে জানে না যে সে কাফের। ‘উসুলে বাযদাবি’র ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘কাশফুল আসরার’ নামক কিতাবের ‘ইজমা’ অধ্যায়ে এবং আল্লামা আমেদির ‘ইহকাম’ নামক কিতাবের ষষ্ঠ নম্বর মাসআলায় এ জাতীয় আলোচনা রয়েছে।
ইসলামের অকাট্য বিধানের বিরোধীর কুফরের ব্যাপারে কোনো মতানৈক্য নেই, যদিও সে ‘আহলে কিবলা’ হয়ে জীবনভর আনুগত্যে কাটিয়ে দেয়। যেমনটি ‘শরহুত তাহরির’ কিতাবে রয়েছে। তার উদ্ধৃতিতে রদ্দুল মুহতারের ‘ইমামত’ ও ‘জুহুদুল বিতর’ অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে আরো উল্লেখ আছে, অতঃপর ‘আলবাহরুর রায়েক’র মুসান্নিফ বলেন, মোটকথা, মাযহাবের সিদ্ধান্ত হলো, বিরোধীদের কাউকে কাফের আখ্যা দেয়া হবে না ওই সকল ক্ষেত্রে, যা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দ্বীনের অকাট্য বিধান নয়।... বিষয়টি ভালোভাবে বুঝে নাও।
‘মুতাকাল্লিম' ইলমে কালাম বিশারদদের পরিভাষায় ‘আহলে কিবলা' বলা হয়, যে ‘যরুরিয়্যাতে দ্বীন' অর্থাৎ শরিআতের অকাট্য ও প্রসিদ্ধ বিষয়াদিকে সত্যায়ন করে। সুতরাং কেউ যদি তা থেকে কোনো একটিকে অস্বীকার করলো যেমন, পৃথিবী আধুনিক হওয়া, শরীরের হাশর-পুনরুত্থান হওয়া, আনুষঙ্গিক বিষয় আল্লাহ তাআলার ইলমে থাকা এবং সালাত ও সাওম ফরয হওয়া। তাহলে সে ‘আহলে কিবলা’র অন্তর্ভুক্ত হবে না, যদিও ইবাদত সাধনায় লিপ্ত থাকে। তেমনিভাবে কেউ যদি অস্বীকার নির্দেশক কোনো কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, যেমন, মূর্তিকে সিজদা করা, শরিআতের কোনো বিষয়কে হেয় করা এবং তা নিয়ে রসিকতা করা। এই লোক ‘আহলে কিবলা’র অন্তর্ভুক্ত নয়। ‘আহলে কিবলা’কে কাফের আখ্যায়িত করা হবে না দ্বারা উদ্দেশ্য, গোনাহের কাজে লিপ্ত হওয়া এবং অপ্রসিদ্ধ সূক্ষ্ম কোনো দ্বীনি বিষয়কে অস্বীকার করার কারণে কাউকে কাফের সাব্যস্ত করা হবে না। গবেষক উলামায়ে কেরামের গবেষণার সারাংশ এটিই। সুতরাং এটি ভালোভাবে বুঝে নাও।” (ইকফারুল মুলহিদিন, পৃ: ১৬-১৭)
ثم رأيت في "كتاب الإيمان" للحافظ ابن تيمية رحمه الله صرح به قال: ونحن إذا قلنا: أهل السنة متفقون على أنه لا يكفر بالذنب، فإنما تريد بها المعاصي كالزنا والشرب إهـ.
وأوضحه القونوي في "شرح العقيدة الطحاوية".
ولهذا امتنع كثير من الأئمة عن إطلاق القول بأنا لا نكفر أحداً بذنب، بل يقال: إنا لا نكفرهم بكل ذنب كما يفعله الخوارج. ثم قال القونوي: وفي قوله: "بذنب" إشارة إلى تكفيره بفساد اعتقاده كفساد اعتقاد المجسمة والمشبهة ونحوهم, لأن ذلك لا يسمى ذنباً، والكلام في الذنب. "شرح فقه أكبر" - من بحث الإيمان ونحوه كلام الطحاوي في "المعتصر" من تفسير الفرقان- ومن آخر "الاقتصاد" للغزالي. (إكفار الملحدين, ص٢٣)
“অতঃপর আমি দেখলাম, হাফেয ইবনে তাইমিয়া তাঁর 'কিতাবুল ইমানে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, আমরা যখন বলি, গোনাহের কারণে কাউকে কাফের না বলার ব্যাপারে আহলে সুন্নাত একমত; তখন তা দ্বারা আহলে সুন্নাত যিনা ও মদপানের ন্যায় পাপকাজ উদ্দেশ্য নিয়ে থাকে। আল্লামা কাওনাবি ‘আলআকিদাতুত তাহাবিয়্যার'র ব্যাখ্যাগ্রন্থে তা স্পষ্ট করেছেন।
এ কারণে 'আমরা কোনো গোনাহের কারণে কাউকে কাফের বলি না' এভাবে বলা থেকে অনেক ইমাম বিরত থেকেছেন। বরং বলা হবে, আমরা খারেজিদের ন্যায় যেকোনো গোনাহের কারণে তাদেরকে কাফের আখ্যায়িত করি না। অতঃপর আল্লামা কাওনাবি বলেন, 'গোনাহ' শব্দ বলায় এদিকে ইঙ্গিত হয় যে, আকিদা বিনষ্ট হলে কাফের আখ্যা দেয়া যাবে। যেমন, মুজাসসিমা ও মুশাববিহা প্রমুখদের ফাসেদ আকিদা। কেননা এটিকে 'গোনাহ' বলা হয় না, আর কথা চলছে 'গোনাহ' নিয়ে। 'শরহে ফিকহে আকবার' - ঈমানের অধ্যায়- তেমনিভাবে ইমাম তহাবির বক্তব্য রয়েছে 'আলমু'তাসার' কিতাবের সুরা ফুরকানের তাফসিরে এবং গাযালির 'আলইকতিসাদ' কিতাবের শেষদিকে এমনটি রয়েছে।” (ইকফারুল মুলহিদিন, পৃঃ ২৩)