📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 আবু শ্যামা আলমাকদেসি

📄 আবু শ্যামা আলমাকদেসি


আবু শামা আলমাকদেসি (মৃ-৬৬৫ হি.)

قال الإمام أبو شامة المقدسي: وحيث جاء الأمر بلزوم الجماعة فالمراد به لزوم الحق واتباعه, وإن كان المتمسك بالحق قليلاً والمخالف كثيراً, لأن الحق الذي كانت عليه الجماعة الأولى من عهد النبي ﷺ وأصحابه ولا نظر إلى كثرة أهل الباطل بعدهم. (الباعث على إنكار البدع والحوادث لأبي شامة المقدسي, ص ١٩)

“আবু শামা আলমাকদেসি বলেন, 'জামাআহ' আঁকড়ে ধরার যে আদেশ বর্ণিত হয়েছে, তা দ্বারা উদ্দেশ্য 'হক' আঁকড়ে ধরা ও তার অনুসরণ করা। যদিও সত্যের অনুসারী কম হয় এবং বিরোধীদের সংখ্যা অধিক হয়। কেননা 'হক' তো হচ্ছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে প্রথমদিকের 'জামাআহ' যে আদর্শের উপর ছিলো। পরবর্তীতে বাতিলের আধিক্যের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।” (আলবায়েস আলা ইনকারিল বিদা' ওয়ালহাওয়াদেস, পৃ: ১৯)

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 ইবনুল কাইয়িম

📄 ইবনুল কাইয়িম


ইবনুল কাইয়িম (মৃ-৭৫১ হি.)

قال الحافظ ابن القيم: العالم صاحب الحق واعلم أن الإجماع والحجة والسواد الأعظم هو العالم صاحب الحق، وإن كان وحده، وإن خالفه أهل الأرض (ثم ذكر كلام ابن مسعود ونعيم بن حماد، ثم قال : ( وقال بعض أئمة الحديث وقد ذكر له السواد الأعظم، فقال: أتدري ما السواد الأعظم? هو محمد بن أسلم الطوسي وأصحابه. فمسخ المختلفون الذين جعلوا السواد الأعظم والحجة والجماعة هم الجمهور, وجعلوهم عياراً على السنة، وجعلوا السنة بدعة، والمعروف منكراً لقلة أهله وتفردهم في الأعصار والأمصار، وقالوا : من شذ شذ الله به في النار، وما عرف المختلفون أن الشاذ ما خالف الحق وإن كان الناس كلهم عليه إلا واحداً منهم فهم الشاذون. وقد شذ الناس كلهم زمن أحمد بن حنبل إلا نفراً يسيراً؛ فكانوا هم الجماعة، وكانت القضاة حينئذ والمفتون والخليفة وأتباعه كلهم هم الشاذون، وكان الإمام أحمد وحده هو الجماعة، ولما لم تحمل هذا عقول الناس قالوا للخليفة يا أمير المؤمنين أتكون أنت وقضاتك وولاتك والفقهاء والمفتون كلهم على الباطل وأحمد وحده هو على الحق? فلم يتسع علمه لذلك؛ فأخذه بالسياط والعقوبة بعد الحبس الطويل؛ فلا إله إلا الله، ما أشبه الليلة بالبارحة، وهي السبিল المهيع لأهل السنة والجماعة حتى يلقوا ربهم، مضى عليها سلفهم، وينتظرها خلفهم: { من المؤمنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه فمنهم من قضى نحبه ومنهم من ينتظر وما بدلوا تبديلا} [الأحزاب: ٢٣] ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم. (إعلام الموقعين لابن القيم, ٣٨٨/٥)

“হাফেয ইবনুল কাইয়িম বলেন, হকের পতাকাবাহী আলেম- জেনে রাখা উচিত, 'ইজমা', 'হুজ্জাহ' ও 'সাওয়াদে আ'যাম' বড়ো জামাআত সবই হচ্ছে মূলত হকের পতাকাবাহী আলেম, যদিও সে একাকী হয় এবং দুনিয়াবাসী তার বিরোধিতা করে। (অতঃপর তিনি ইবনে মাসউদ রাযি. ও নুয়াইম ইবনে হাম্মাদের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন) কোনো এক ইমামুল হাদিসকে বড়ো জামাআত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তোমরা কি জানো বড়ো জামাআত কী? তা হচ্ছে মুহাম্মাদ ইবনে আসলাম আততুসি ও তার সঙ্গীরা।

মতভেদ সৃষ্টিকারীরা বিকৃতি সাধন করে অধিকাংশকে 'সাওয়াদে আ'যাম', 'হুজ্জাহ' ও 'জামাআহ' আখ্যা দিয়েছে। বিভিন্ন যুগে ও অঞ্চলে 'সাওয়াদে আ'যাম'র অনুসারীর স্বল্পতা ও একাকীত্বের কারণে 'সুন্নাহর' মোকাবেলায় অধিকাংশকে মানদণ্ড বানিয়ে সুন্নাতকে বিদআত এবং স্বীকৃতকে অস্বীকৃত আখ্যা দিয়েছে। আরো দলিল দিচ্ছে, যে একাকী হবে আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নামে একাকী রাখবেন। এই মতভেদ সৃষ্টিকারীরা জানে না যে, যা হকের বিপরীত তাই মূলত 'শায' বিচ্ছিন্ন। যদিও একজন ব্যতীত সকলেই সেটির উপর থাকে, তাহলেও তারা সকলেই 'শায'। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের সময়ে কিছু সংখ্যক ব্যতীত সকলেই 'শায' ছিলো, আর কিছু সংখ্যক ছিলেন 'জামাআহ'। ওই সময়ের বিচারকমণ্ডলী, মুফতিরা, খলিফা ও তার অনুসারীরা সকলেই ছিলো 'শায', আর ইমাম আহমাদ একাই ছিলেন 'জামাআহ'।

লোকদের মেধা যখন তা অনুধাবন করতে পারলো না, তখন তারা খলিফাকে বললো, হে আমিরুল মুমিনিন! এটি কী করে সম্ভব যে, আপনি, আপনার বিচারক, আপনার গভর্নর এবং ফকিহ ও মুফতি সকলেই বাতিলের উপর রয়েছে আর এক আহমাদই শুধু হকের উপর আছে? খলিফার জ্ঞানে তা সঙ্কুলান হয়নি; তাই সে দীর্ঘ সময় তাঁকে বন্দি রেখে ছড়ির আঘাত ও শাস্তি দিতে লাগলো। 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। গত রাত্রির সঙ্গে আজ রাতের কতোইনা সাদৃশ্যতা। প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাত করা পর্যন্ত এটিই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রশস্ত পথ। এটির উপরই তাদের পূর্ববর্তীরা অতিবাহিত হয়েছে এবং পরবর্তীরা তার অপেক্ষা করছে। 'মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের প্রতিশ্রুতি সত্যে বাস্তবায়ন করেছে। তাদের কেউ কেউ [যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করে] তার দায়িত্ব পূর্ণ করেছে, আবার কেউ কেউ [শাহাদাত বরণের] প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা (প্রতিশ্রুতিতে) কোন পরিবর্তনই করেনি।' (সুরা আহযাব, ২৩)। 'লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিইয়িল আযিম'।” (ই'লামুল মুআক্কিয়িন, ৫/৩৮৮)

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 হাফেয ইবনে কাসির

📄 হাফেয ইবনে কাসির


হাফেয ইবনে কাসির (মৃ-৭৭৪ হি.)

قال الحافظ ابن كثير : وفي بعض الروايات "عليكم بالسواد الأعظم الحق وأهله"، فأهل الحق هم أكثر الأمة، ولا سيما في الصدر الزمان الأول، ولا يكাদ يوجد فيهم من هو على بدعة، وأما في الأعصار المتأخرة فقد يجتمع الجمع الغفير على بدعة. (النهاية في الفتن والملاحم لابن كثير, لا تجتمع الأمة على ضلالة, (২৫/২)

“হাফেয ইবনে কাসির বলেন, কোনো কোনো বর্ণনায় আছে 'তোমরা হক ও হকের অনুসারী বড়ো জামাআতকে আঁকড়ে ধরো'। তো উম্মাহর সংখ্যাগরিষ্ঠতাই হলো আহলে হক, বিশেষকরে প্রথম যুগে। সে যুগে কাউকে বিদআতের উপর পাওয়াই দুষ্কর ছিলো। কিন্তু পরবর্তী যুগে এসে এমন হচ্ছে যে, বড়ো জামাআতও কখনো বিদআতের উপর একত্রিত হয়ে যায়। (আননিহায়া ফিল ফিতানি ওয়ালমালাহিম, ২/২৫)

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 আলি ইবনে আবি তালেব রাযি. ও হাসান বসরির বক্তব্য

📄 আলি ইবনে আবি তালেব রাযি. ও হাসান বসরির বক্তব্য


আলি ইবনে আবি তালেব রাযি. ও হাসান বসরির বক্তব্য

আলি ইবনে আবি তালেব রাযি. কর্তৃক ইবনে আব্বাস রাযি.কে উদ্দেশ্য করে লেখা জবাবি চিঠির কথা ও হাসান বসরি রহ. এর বক্তব্যও আমরা দেখতে পারি।

আলি ইবনে আবি তালেব রাযি. (মৃ-৪০ হি.)

قال الخطيب البغدادي: أخبرني علي بن أبي علي البصري، أنا محمد بن عبد الله بن محمد بن همام الشيباني، حدثني أحمد بن محمد الخوارزمي بأرمية، نا بقية، نا أبو حاتم الرازي، نا أحمد بن أبي الحواري، قال: حدثني أبو حفص الماعوني، عن عبد الله بن لهيعة قال: كتب ابن عباس إلى علي يستحثه، فكتب إليه علي مجيباً: إنه ينبغي لك أن يكون أول عملك بما أنت فيه، البصر بهداية الطريق، ولا تستوحش لقلة أهلها، فإن إبراهيم كان أمة قانتا لله حنيفاً ولم يك من المشركين، لم يستوحش مع الله في طريق الهداية إذ قل أهلها، ولم يأنس بغير الله. (الفقيه والمتفقه, ٤٠٥/٢ , الرقم: ١١٧٨)

“আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিআ বলেন, আব্বাস রাযি. অনুপ্রেরণা যোগাতে আলি রাযি. -এর নিকট চিঠি লিখলেন। আলি রাযি. উত্তরে লিখে পাঠালেন; তোমার জন্য তোমার প্রথম কাজ তোমার অবস্থান অনুযায়ী হওয়া উচিত, তথা সঠিক রাস্তার প্রতি দৃষ্টি রাখা। সংখ্যার স্বল্পতার কারণে কখনো ভীত হয়ো না। কেননা ইবরাহিম ছিলেন এক উম্মত, আল্লাহর একান্ত অনুগত ও একনিষ্ঠ। তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। সংখ্যা কম হওয়া সত্ত্বেও তিনি সঠিক পথে আল্লাহর সঙ্গে থাকতে ভীত হননি এবং আল্লাহ ব্যতীত কারো সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করেননি।” (আলফকিহ ওয়ালমুতাফাক্কিহ, ২/৪০৫, নং ১১৭৮)

হাসান বসরি (মৃ-১১০ হি.)

قال أبو شامة المقدسي: قال الدرامي: أخبرنا الحسين بن منصور، حدثنا أبو أسامة، عن مبارك، عن الحسن رحمه الله تعالى قال: سنتكم والله الذي لا إله إلا هو بينهما بين الغالي والجافي، فاصبروا عليها رحمكم الله، فإن أهل السنة كانوا أقل الناس فيما بقي، الذين لم يذهبوا مع أهل الإتراف في إترافهم, ولا مع أهل البدع في بدعهم، وصبروا على سنتهم حتى لقوا ربهم، فكذلك إن شاء الله فكونوا (الباعث على إنكار البدع والحوادث, ص ১৩)

“হাসান রহ. বলেন, আল্লাহ যিনি ব্যতীত কোনো মা'বুদ নেই তাঁর কসম করে বলছি, তোমাদের সুন্নাত-অনুমোদিত পথ হচ্ছে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মাঝে। তোমরা সেটিকেই আঁকড়ে ধরো, আল্লাহ তোমাদের উপর রহম করুন! কেননা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত সবসময় সংখ্যায় কমই ছিলেন, যাঁরা বিলাসীদের সঙ্গে তাদের বিলাসিতায় এবং বিদআতিদের সঙ্গে তাদের বিদআতে অংশগ্রহণ করেননি। তাঁরা প্রভুর সাক্ষাত পর্যন্ত তাঁদের সুন্নাতের উপর অবিচল ছিলেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা হলে তোমরাও তাঁদের মতো হও।” (আলবায়েস আলা ইনকারিল বিদা' ওয়ালহাওয়াদেস, পৃঃ ১৩)

ফন্ট সাইজ
15px
17px