📄 ‘জুমহুর’ ও ‘শায’ নির্ধারণের মাপকাঠি কী?
‘জুমহুর’ ও ‘শায’ নির্ধারণের মাপকাঠি কী?
‘জুমহুর’ ও ‘শায’ নির্ধারণের মাপকাঠি কী? সুস্পষ্ট দলিল বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও 'শুযুয' এবং দলিলবিহীন 'জুমহুর' প্রমাণিত হওয়ার পদ্ধতি কী? নাকি এটিও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অধিকাংশের মতের ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে? 'খালকে কুরআনের মাসআলা'য় ইমাম আহমাদ 'জুমহুর' ছিলেন নাকি 'শায'? বাস্তব অবস্থা কী ছিলো? ইবনে আবি দুআদ কি খলিফা মু'তাসিমকে একথা বলেনি; হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি কি মনে করেন, আপনি, আপনার বিচারকরা এবং সকল মুফতি বাতিলের উপর আছে আর এক আহমাদ ইবনে হাম্বলই হকের উপর আছে? একই মাসআলায় ইমাম বুখারি 'শায' ছিলেন নাকি 'জুমহুর'? নিজ আসাতিযায়ে কেরাম ও সমসাময়িকদের বিশাল কাফেলার বিরোধিতার ফলে ইমাম বুখারির অবস্থা কি এ পর্যায়ে পৌঁছে যায়নি যে তাঁকে দুআ করতে হয়েছে- "اللهم إنه قد ضاقت علي الأرض بما رحبت، فاقبضني إليك"? ফকিহুন নফস রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহির নিকট যখন তাঁর শায়খের দিকে নিসবত করে লেখা রিসালা 'ফয়সালায়ে হাফত মাসআলা' পৌঁছালো, তিনি তা জ্বালিয়ে দিলেন আর লোকেরা তার বিরুদ্ধে শোরগোল-হাঙ্গামা করলো, (দেখুন: তাযকিরায়ে মাশায়েখে দেওবন্দ, পৃ: ১৪৭) তখন তিনি ‘শায' ছিলেন নাকি 'জুমহুর'? হকের উপর কে ছিলেন? মূলত তাঁরাই ছিলেন 'জুমহুর' আর অধিকাংশ ছিলো 'শায'। ইতিহাসের পাতায় এমন দৃষ্টান্তের অভাব নেই। এখানে প্রসিদ্ধ কয়েকটি উল্লেখ করলাম।
📄 ‘জুমহুর’ ও ‘জামাআহ’র ব্যাখ্যায় সাহাবায়ে কেরাম ও পরবর্তীগণ
‘জুমহুর’ ও ‘জামাআহ’র ব্যাখ্যায় সাহাবায়ে কেরাম ও পরবর্তীগণ
এগুলো ছিলো বাস্তবতা যা ঘটেছে। এবার আমরা দেখবো সাহাবায়ে কেরাম ও পরবর্তীগণ 'জুমহুর' ও 'জামাআহ' থেকে কী বুঝেছেন-
📄 আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি.
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. (মৃ-৩২ হি.)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. এর বক্তব্যটি আমার তালাশ অনুযায়ী তিনজন ইমাম নিজস্ব সনদে শব্দের কিছুটা পরিবর্তনে উল্লেখ করেছেন। আবুল কাসেম হিবাতুল্লাহ আললালাকায়ি (মৃ-৪১৮ হি.), খতিবে বাগদাদি (মৃ-৪৬৩ হি.) এবং আবুল কাসেম ইবনে আসাকির (মৃ-৫৭১ হি.)। পূর্ণতার কারণে হাফেয ইবনে আসাকিরের শব্দে বক্তব্যটি উল্লেখ করা হচ্ছে।
عن عمرو بن ميمون الأودي قال: صحبت معاذاً باليمن، فما فارقته حتى واريته في التراب بالشام، ثم صحبت بعده أفقه الناس عبد الله بن مسعود، فسمعته يقول: عليكم بالجماعة فإن يد الله على الجماعة ويرغب في الجماعة، ثم سمعته يوماً من الأيام وهو يقول: سيلي عليكم ولاة يؤخرون الصلاة عن مواقيتها، فصلوا الصلاة لميقاتها فهو الفريضة، وصلوا معهم فإنها لكم نافلة، قال: قلت: يا أصحاب محمد! ما أدري ما تحدثوا؟ قال: وما ذاك؟ قلت: تأمرني بالجماعة وتحضني عليها ثم تقول لي: صل الصلاة وحدক وهي الفريضة، وصل مع الجماعة وهي النافلة. قال: يا عمرو بن ميمون قد كنت أظنك أفقه أهل هذه القرية، تدري ما الجماعة؟ قال: قلت: لا ! قال: إن جمهور الجماعة الذين فارقوا الجماعة، الجماعة ما وافق الحق، وإن كنت وحدك. وفي رواية: الجماعة ما وافق طاعة وإن كنت وحدك. وفي رواية: فضرب على فخذي وقال: ويحك! إن جمهور الناس فارقوا الجماعة، إن الجماعة ما وافق طاعة الله عز وجل. (شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة لللالكائي, ১২১/১, رقم الحديث: ١٦٠ , الفقيه والمتفقه للخطيب البغدادي, ٤٠٤/٢, الرقم: ١١٧٦, تاريخ مدينة دمشق لابن عساكر, ٤٠٩/٤٦-٤١٠)
“আমর ইবনে মাইমুন আলআউদি বলেন, ইয়ামেনে আমি মুআযের সংশ্রব গ্রহণ করেছিলাম। পরবর্তীতে সিরিয়ায় তাঁকে কবরে দাফন করার পূর্ব পর্যন্ত আমি তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করিনি। অতঃপর আমি সর্বশ্রেষ্ঠ ফকিহ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের সংশ্রব গ্রহণ করেছি। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, তোমরা ‘জামাআহ’কে আঁকড়ে ধরো, কেননা 'জামাআহ'র উপর আল্লাহর সাহায্য রয়েছে। এবং তিনি 'জামাআহ'র ব্যাপারে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করলেন। অতঃপর তাঁকে একদিন বলতে শুনলাম, তোমাদের উপর এমন কিছু আমির নিযুক্ত হবে যারা নামাযকে আপন সময় থেকে বিলম্ব করে আদায় করবে। তোমরা সময়মতো ফরয নামায আদায় করে নাও, অতঃপর তাদের সঙ্গে নফল হিসেবে নামায আদায় করো। আমর ইবনে মাইমুন বলেন, আমি বললাম, হে মুহাম্মাদের সাহাবিরা! বুঝতে পারছি না তাঁরা কী বলতে চায়? ইবনে মাসউদ বললেন, কেনো, কী হয়েছে? আমি বললাম, আপনি আমাকে 'জামাআহ'র ব্যাপারে আদেশ দিলেন এবং তা আঁকড়ে ধরতে উদ্বুদ্ধ করলেন, অতঃপর আপনিই আমাকে বলছেন, ফরয নামায একাকী আদায় করে জামাআতের সঙ্গে নফল হিসেবে নামায আদায় করতে। ইবনে মাসউদ বললেন, হে আমর ইবনে মাইমুন! আমি তো তোমাকে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড়ো ফকিহ হিসেবে ধারণা করেছিলাম। তুমি কি জানো 'জামাআহ' কী? আমি বললাম, না! তিনি বললেন, অধিকাংশ 'জামাআহ' হচ্ছে যারা জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 'জামাআহ' হচ্ছে যা 'হক' অনুযায়ী হয়, যদিও তুমি একাকী হও। অন্য বর্ণনায় আছে, 'জামাআহ' হচ্ছে যা আনুগত্যের অনুযায়ী, যদিও তুমি একাকী হও। অন্য বর্ণনায় আছে, আমার রানের উপর তিনি হাত মারলেন এবং বললেন, তোমার জন্য আফসোস; মানুষদের মধ্যে 'জুমহুর' তো হচ্ছে, যারা জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আল্লাহর আনুগত্য অনুযায়ী যা হবে, তাই হচ্ছে 'জামাআহ'।” (শরহু উসুলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়ালজামাআহ, ১/১২১, হাদিস নং: ১৬০, আলফকিহ ওয়ালমুতাফাক্কিহ, ২/৪০৪, নং ১১৭৬, তারিখে দিমাশক, ৪৬/৪০৯-৪১০)
📄 ইবরাহিম নাখায়ি
ইবরাহিম নাখায়ি (মৃ-৯৬ হি.)
قال الخطيب البغدادي: أخبرنا القاضي أبو بكر الحيري , نا أبو العباس محمد بن يعقوب الأصم, نا أبو علي الحسن ابن إسحاق بن يزيد العطار بغدادي, نا عمر يعني ابن شبيب الماسلي, نا عثمان بن ثوبان عن أبيه, قال: قال إبراهيم النخعي: الجماعة هو الحق وإن كنت وحدك. (الفقه والمتفقه, ٤٠٤/٢, رقم: ١١٧٧)
“ইবরাহিম নাখায়ি বলেন, 'হক'ই হচ্ছে 'জামাআহ', যদিও তুমি একাকী হও।” (আলফকিহ ওয়ালমুতাফাক্কিহ, ২/৪০৪, নং: ১১৭৭)