📄 এটি "ولكن من شرح بالكفر صدراً" এর অন্তর্ভুক্ত
তৃতীয়ত: শাসক শ্রেণির কোনো আচরণে কি বুঝা যায় যে তারা "إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ" "وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌ بِالْإِيمَانِ এর অন্তর্ভুক্ত? নাকি তার বিপরীতে তাদের কথা-কাজ থেকে এটাই স্পষ্ট যে, তারা "وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا" এর অন্তর্ভুক্ত।
কুফরি সংবিধান বাস্তবায়নে কার কতো বেশি অর্জন, কে কতো বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করে চলছে, বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের তালিকায় কে কতো নম্বর স্থান অধিকার করেছে, কে বিশ্বের পরাশক্তিকেও বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিতে পেরেছে, কোনো চাপের মুখে কাজ করছে না বলে কে কতো বেশি প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারছে, কোন সরকারের আমলে বিচার বিভাগ সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেছে; এ সকল বিষয় যখন জনসম্মুখে কোনো রাখ-ঢাক ছাড়াই বলা হচ্ছে এবং দম্ভভরে বুক ফুলিয়ে বলা হচ্ছে, তখন তাদের ব্যাপারে 'মুকরাহ' হওয়ার দাবি করে তাদেরকে বাঁচাতে চাই নাকি আমরা বাঁচতে চাই? এটি কি "صِرْفُ الْكَلَامِ إِلَى مَا لَا يَرْضَى بِهِ الْمُتَكَلِّمُ" হয়ে যাচ্ছে না?
তারপরও তাদেরকে বাঁচাতে যদি কেউ বলে, তারা দুনিয়ার মোহে পড়ে জাগতিক স্বার্থোদ্ধারে এমনটি করছে। তখন তাকে বলতে হয়; হাঁ! এ সকল লোকদের ব্যাপারেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন- مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ. ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ. أُولَئِكَ الَّذِينَ طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ. لَا جَرَمَ أَنَّهُمْ فِي الْآخِرَةِ هُمُ الْخَاسِرُونَ. (سورة النحل, الآية: ١٠٦-١٠٩)
“যে ইমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে এবং যারা তাদের অন্তর কুফর দ্বারা উন্মুক্ত করেছে, তাদের উপরই আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। ওই ব্যক্তি ছাড়া যাকে বাধ্য করা হয় (কুফরি করতে), অথচ তার অন্তর থাকে ইমানে পরিতৃপ্ত। এটা এ জন্য যে, তারা আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে পছন্দ করেছে। আর নিশ্চয় আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না। এরাই তারা, যাদের অন্তর, কান ও দৃষ্টির উপর আল্লাহ মোহর করে দিয়েছেন এবং তারাই হচ্ছে গাফেল। সন্দেহ নেই, তারাই আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত। (সুরা নাহল, আয়াত: ১০৬-১০৯)