📄 হাফেয ইবনে হাজার আসকালানি আশশাফেয়ি
হাফেয ইবনে হাজার আসকালানি আশশাফেয়ি (মৃ-৮৫২ হি.)
قوله: كتاب الإكراه هو إلزام الغير بما لا يريده وشروط الإكراه أربعة: الأول: أن يكون فاعله قادراً على إيقاع ما يهدد به والمأمور عاجزاً عن الدفع ولو بالفرار، الثاني: أن يغلب على ظنه أنه إذا امتنع أوقع به ذلك، الثالث: أن يكون ماهدده به فورياً، فلو قال: إن لم تفعل كذا ضربتك غداً لا يعد مكرهاً، ويستثنى ما إذا ذكر زمناً قريباً جداً، أو جرت العادة بأنه لا يخلف الرابع: أن لا يظهر من المأمور ما يدل على اختياره. (فتح الباري للعسقلاني, ٢٧٩/٢٢)
“কিতাবুল ইকরাহ- 'ইকরাহ' বলা হয়, অন্যের উপর এমন কিছু চাপিয়ে দেয়া যা সে চাচ্ছে না। 'ইকরাহ' সাব্যস্ত হওয়ার শর্ত চারটি; এক. 'মুকরিহ' বলপ্রয়োগকারী যেটির হুমকি দিচ্ছে তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হওয়া এবং ‘মুকরাহ' বলপ্রয়োগকৃত তা প্রতিহত করতে অক্ষম হওয়া, চাই তা পলায়ন করার মাধ্যমেই হোক না কেনো। দুই. 'মুকরাহ'র প্রবলধারণা হওয়া যে, যদি সে তা থেকে বিরত থাকে, তাহলে 'মুকরিহ' প্রদান করা হুমকি বাস্তবায়ন করবে। তিন. যে হুমকি দিচ্ছে তা তাৎক্ষণিক হতে হবে। যদি এমনটি বলে, তুমি যদি এ কাজ না করো তোমাকে আগামীকাল মারবো, তাহলে এটি 'ইকরাহ' হিসেবে ধর্তব্য হবে না। তবে এর ব্যতিক্রম হবে; যদি খুবই নিকটবর্তী সময়ের কথা উল্লেখ করে বা সকলেই জানে সে যা বলে তার ব্যতিক্রম করে না। চার. আদিষ্ট ব্যক্তির স্বেচ্ছায় করার কোনো প্রমাণ প্রকাশ হতে পারবে না।” (ফাতহুল বারি, ২২/২৭৯)
📄 আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি আলহানাফি
আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি আলহানাফি (মৃ-১৩৫২ হি.)
وجملة الكلام فيه، أن الإكراه عندنا لا يتم إلا بتهديد إيقاع الفعل المهدد به على ذاته، أو أطرافه، أو القريب من أقاربه، فإن سابه أو هدده بإيقاع الفعل على غيره، لا يكون مكرهاً. (فيض الباري للكشميري, كتاب الإكراه, ٤٠٩/٦)
“মোটকথা, আমাদের মতে নিজের, নিজের অঙ্গের বা কোনো নিকটাত্মীয়ের উপর প্রদান করা হুমকি বাস্তবায়ন হওয়ার ধমক আসা পর্যন্ত 'ইকরাহ' সাব্যস্ত হয় না। সুতরাং যদি তাকে গালি দেয় বা অন্যের উপর হুমকি বাস্তবায়ন করার ধমক দেয়, তাহলে সে 'মুকরাহ' বলপ্রয়োগকৃত সাব্যস্ত হবে না।” (ফায়যুল বারি, ৬/৪০৯)
📄 অত্যাশ্চর্যজনক ‘ইকরাহ’র চিত্র
দ্বিতীয়ত: এটি কি পৃথিবীর এক অত্যাশ্চর্যজনক 'ইকরাহ'র চিত্র নয়? যে 'ইকরাহ'র স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রত্যেকে নিজের ও অন্যের জান-মাল, মেধা-সময়, ইজ্জত- আবরু এবং সর্বশেষ ইমানটাও কুরবান করে দিতে প্রস্তুত। 'মুকরাহ-অপারগদের দুআ তো কুরআনে বিবৃত হয়েছে এভাবে- "ربنا أخرجنا من هذه القرية الظالم أهلها"। আর এখন যাদের ব্যাপারে 'মুকরাহ' হওয়ার দাবি করা হচ্ছে; তাদের অবস্থাদৃষ্টের দুআ - "ربنا (الديمقراطية) ثبتنا على هذه الرتبة المكره أهلها!"
যারা 'ইকরাহ'র দাবি করছেন তারা কি একটি জিজ্ঞাসার জবাব দেবেন? একজন লোক শুধু ১০০% নয় বরং ২০০% নিশ্চিত, অমুক স্থানে গেলে তাকে 'ইকরাহ'র শিকার হয়ে কুফরিতে লিপ্ত হতে হবে। তবুও স্বাচ্ছন্দ্যে লোকটি সেখানে যাওয়ার পর 'ইকরাহ'র শিকার হলে সে 'ইকরাহ' কি 'ওযর' হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে?
এই 'ইকরাহ'র দাবির দৃশ্যটি কি এমন নয়? একজন লোক স্বেচ্ছায় গলায় রশি পেঁচিয়ে শূন্যে ঝুলে পড়েছে। নিচ থেকে এক পথিক আফসোস করে বললো, হায়! লোকটি আত্মহত্যার মতো একটি জঘন্যতম পাপাচারে লিপ্ত হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছে। পাশ থেকে আরেকজন বলে উঠলো, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে কথা বলা উচিত। পাপ হবে কেনো? তার প্রাণ নিচ্ছে ওই রশিটা, সে তো এখন অপারগ!!!
📄 এটি "ولكن من شرح بالكفر صدراً" এর অন্তর্ভুক্ত
তৃতীয়ত: শাসক শ্রেণির কোনো আচরণে কি বুঝা যায় যে তারা "إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ" "وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌ بِالْإِيمَانِ এর অন্তর্ভুক্ত? নাকি তার বিপরীতে তাদের কথা-কাজ থেকে এটাই স্পষ্ট যে, তারা "وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا" এর অন্তর্ভুক্ত।
কুফরি সংবিধান বাস্তবায়নে কার কতো বেশি অর্জন, কে কতো বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করে চলছে, বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের তালিকায় কে কতো নম্বর স্থান অধিকার করেছে, কে বিশ্বের পরাশক্তিকেও বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিতে পেরেছে, কোনো চাপের মুখে কাজ করছে না বলে কে কতো বেশি প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারছে, কোন সরকারের আমলে বিচার বিভাগ সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেছে; এ সকল বিষয় যখন জনসম্মুখে কোনো রাখ-ঢাক ছাড়াই বলা হচ্ছে এবং দম্ভভরে বুক ফুলিয়ে বলা হচ্ছে, তখন তাদের ব্যাপারে 'মুকরাহ' হওয়ার দাবি করে তাদেরকে বাঁচাতে চাই নাকি আমরা বাঁচতে চাই? এটি কি "صِرْفُ الْكَلَامِ إِلَى مَا لَا يَرْضَى بِهِ الْمُتَكَلِّمُ" হয়ে যাচ্ছে না?
তারপরও তাদেরকে বাঁচাতে যদি কেউ বলে, তারা দুনিয়ার মোহে পড়ে জাগতিক স্বার্থোদ্ধারে এমনটি করছে। তখন তাকে বলতে হয়; হাঁ! এ সকল লোকদের ব্যাপারেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন- مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ. ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ. أُولَئِكَ الَّذِينَ طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ. لَا جَرَمَ أَنَّهُمْ فِي الْآخِرَةِ هُمُ الْخَاسِرُونَ. (سورة النحل, الآية: ١٠٦-١٠٩)
“যে ইমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে এবং যারা তাদের অন্তর কুফর দ্বারা উন্মুক্ত করেছে, তাদের উপরই আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। ওই ব্যক্তি ছাড়া যাকে বাধ্য করা হয় (কুফরি করতে), অথচ তার অন্তর থাকে ইমানে পরিতৃপ্ত। এটা এ জন্য যে, তারা আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে পছন্দ করেছে। আর নিশ্চয় আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না। এরাই তারা, যাদের অন্তর, কান ও দৃষ্টির উপর আল্লাহ মোহর করে দিয়েছেন এবং তারাই হচ্ছে গাফেল। সন্দেহ নেই, তারাই আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত। (সুরা নাহল, আয়াত: ১০৬-১০৯)