📄 আবু বকর আলজাসসাস আলহানাফি
আবু বকর আলজাসসাস আলহানাফি (মৃ-৩৭০ হি.)
قال أبو بكر هذا أصل في جواز إظهار كلمة الكفر في حال الإكراه، والإكراه المبيح لذلك هو أن يخاف على نفسه أو على بعض أعضائه التلف إن لم يفعل ما أمره به، فأبيح له في هذه الحال أن يظهر كلمة الكفر ويعارض بها غيره إذا خطر ذلك بباله، فإن لم يفعل ذلك مع خطوره بباله كان كافراً. (أحكام القرآن للجصاص, سورة النحل, باب الاستعاذة, ١٣/٥)
“আবু বকর আলজাসসাস বলেন, 'ইকরাহ' অবস্থায় কুফরি কথা প্রকাশের বৈধতার পক্ষে এই আয়াতটি দলিল। আর এটির বৈধতা প্রদানকারী 'ইকরাহ' হচ্ছে, আদিষ্ট কাজটি না করলে জীবননাশ বা কোনো অঙ্গহানীর আশঙ্কা করা। এ অবস্থায় কুফরি কথা প্রকাশ করার বৈধতা দেয়া হয়েছে। তবে কুফরি কথা উচ্চারণ করার সময় যদি কুফরি নয় এমন আরেকটি উদ্দেশ্য মনে আসে, তাহলে সেটি উদ্দেশ্য নেবে। মনে আসা সত্ত্বেও যদি সে তা না করে, তাহলে কাফের হয়ে যাবে।” (আহকামুল কুরআন, ৫/১৩)
📄 আলাউদ্দিন কাসানি আলহানাফি
আলাউদ্দিন কাসানি আলহানাফি (মৃ-৫৮৭ হি.)
(কিতাবুল ইকরাহ)...... ওয়া ফিশ শারয়ি ইবারাতুন আনিল দুআয়ি ইলাল ফিল বিল ইইয়াআদি ওয়াত্তাহদিদি মাআ উজুদু শারায়িতিহা আল্লাতি নাযকুরুহা ফি মাওয়াদিইহা ইন শা আল্লাহু তায়ালা।
ফসল- ওয়ামা বাইয়ানু আনওয়ায়িল ইকরাহি ফানাকুলু: ইন্নাহু নাওআন: নাওউন ইয়ুজিবুল ইলজাআ ওয়াল ইজতিরারা তাবআন, কালকাতলি ওয়ালকাতউ ওয়াল দারবুল্লাযি ইয়াখাফু ফিহি তালাফুন নাফসি আও আল উদউ কুল্লাদ দারবি আও কাছুর........ ওয়াহাযান নাওউ ইয়ুসামী ইকরাহান তাম্মান, ওয়া নাওউন লা ইয়ুজিবুল ইলজাআ ওয়াল ইজতিরারা, ওয়াহুয়াল হাবসু ওয়াল কায়দু ওয়াদ দারবুল্লাযি লা ইয়াখাফু মিনহুত্তালাফু ......... ওয়াহাযান নাওউ মিনাল ইকরাহি ইয়ুসামী ইকরাহান নাকিসান।
ফসল- ওয়ামা শারায়িতুল ইকরাহি ফানাওআন : নাওউন ইয়ারজিউ ইলাল মুকরিহ, ওয়া নাওউন ইয়ারজিউ ইলাল মুকরাহ। আম্মাল্লাযি ইয়ারজিউ ইলাল মুকরাহ, ফাহুয়া আন ইয়াকুনা ক্বাদিরান আলা তাহকিকি মা আওআদ, লিআন্নাস সারুরাতা লা তাতা হাক্কাকু ইল্লা ইন্দাল কুদরাতি । ওয়াম্মান নাওউল্লাযি ইয়ারজিউ ইলাল মুকরিহ, ফাহুয়া আন ইয়াক্বা ফি গালিব রায়িহি ওয়া আকছার জান্নাহু আন্নাহু লাও লাম ইয়াজিব ইলা মা দুঈ ইলাইহি তাহাক্কাক্বা মা আওআদ বিহি, লি আন্না গালিব আররায়ি হুজ্জাতুন খুসুসান ইন্দা তাআজ্জুরিল বুসুলি ইলাত তাইয়্যিনি, হাত্তা ইন্নাহু লাও কানা ফি আকছারি রায়িল মুকরিহি আন্নাল মুকরাহা লা ইউহাক্কিকু মা আও আদাহু লা ইয়াসবুতু হুকমুল ইকরাহি শারআন।
ওয়াম্মান নাওউল্লাযি হুয়া মুরাখখিসুন, ফাহুয়া ইজরাউ কালিমাতাল কুফরি আলাল লিসানি মাআত ইতমিনানিল কালবি বিল ঈমানি, ইযা কানাল ইকরাহু তাম্মান, ওয়াহুয়া মুহরিমুন ফি নাফসিহি মাআ ছুবুতির রূখসাতি, ফাআছার বিররুখসাতি ফি তাগরি হুকমিল ফিলি ওয়াহুয়াল মুয়াআখাযাতু লা ফি তাগরী ওয়াসফিহি ওয়াহুয়াল হুরমাতি, লি আন্না কালিমাতাল কুফরি মিম্মা লা ইয়াহতামিলুল ইবাহাতা বিHAL, ফাকানাতিল হুরমাতু কায়িমাতুন ইল্লা আন্নাহু সাকাতাতিল মুয়াআখাযাতু লি উজরী ইকরাহি। (বাদায়িউস সানাঈ লিল কাসানি, ১৭৫/৭, ১৭৬)
“(কিতাবুল ইকরাহ)..... শরিআতের পরিভাষায় 'ইকরাহ' বলা হয়, ভীতিপ্রদর্শন ও হুমকিপ্রদানের মাধ্যমে কোনো কাজ করতে বলা, সঙ্গে ওই সকল শর্তও প্রযোজ্য যা যথাস্থানে উল্লেখ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
‘ইকরাহ'র প্রকারভেদ সম্পর্কে আমরা বলবো যে, 'ইকরাহ' দু'প্রকার। একটি হচ্ছে, যা স্বভাবত বাধ্যতাকে আবশ্যকীয় করে। যেমন, হত্যা, কর্তন বা এমন প্রহার যার কারণে জীবননাশ বা অঙ্গহানীর আশঙ্কা করা হয়, চাই প্রহারের পরিমাণ কম হোক বা বেশি।..... এই প্রকারটিকে 'ইকরাহে তাম' পূর্ণমাত্রার জবরদস্তি বলা হয়। আরেকটি প্রকার যা বাধ্যতাকে আবশ্যকীয় করে না। যেমন, গ্রেফতারি, বন্দিকরণ এবং এমন প্রহার যাতে অঙ্গহানীর আশঙ্কা থাকে না।..... এটিকে 'ইকরাহে নাকেস' স্বল্পমাত্রার জবরদস্তি বলা হয়।
'ইকরাহ'র শর্তাবলী দু'প্রকার। একটি প্রকার যা 'মুকরিহ' বলপ্রয়োগকারীর সঙ্গে সম্পৃক্ত, আর অপরটি বলপ্রয়োগকৃতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। 'মুকরিহ' বলপ্রয়োগকারীর সঙ্গে সম্পৃক্ত শর্ত হচ্ছে, সে যে হুমকি দিচ্ছে তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হওয়া। কেননা শক্তির উপস্থিতি ব্যতীত 'যরুরাত' ঠেকায় পড়া অবস্থা পরিগণিত হয় না।..... আর 'মুকরাহ' বলপ্রয়োগকৃতের সঙ্গে সম্পৃক্ত শর্ত হচ্ছে, তার প্রবলধারণা হতে হবে যে, আহ্বানকৃত বিষয়ে যদি সে সাড়া না দেয় তাহলে প্রদান করা হুমকি সে বাস্তবায়ন করবে। কেননা প্রবলধারণা এটি দলিল, বিশেষকরে যখন নির্দিষ্টকরণ পর্যন্ত পৌঁছা সম্ভব হয় না। সুতরাং 'মুকরাহ'র যদি প্রবলধারণা হয় যে, ‘মুকরিহ' যে হুমকি দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করবে না, তাহলে শরিআতের দৃষ্টিতে তা 'ইকরাহ' হিসেবে সাব্যস্ত হবে না।..............
আর শরিআত যে প্রকারের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে তা হচ্ছে, 'ইকরাহে তাম' পূর্ণমাত্রার জবরদস্তির সময় ইমানের উপর অন্তরকে স্থির রেখে মুখে কুফরি শব্দ উচ্চারণ করা। তা মূলত হারাম, তবে ছাড়ও প্রমাণিত। সুতরাং ছাড়ের প্রভাব পড়বে কাজের হুকুম পরিবর্তন হওয়ার ক্ষেত্রে, অর্থাৎ তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করা হবে না। হারাম হওয়ার যে বিশেষণ ছিলো তা পরিবর্তন হবে না। কেননা কুফরি কথা কোনো অবস্থাতেই বৈধতাকে গ্রহণ করতে পারে না। তাই তা হারাম হওয়া যথারীতিই অবশিষ্ট থাকবে, তবে অপরাধী হওয়াটা 'ইকরাহ'র ওযরের কারণে বাদ যাবে।” (বাদায়েউস সানায়ে', ৭/১৭৫, ১৭৬)
📄 ফখরুদ্দিন রাযি আশশাফেয়ি
ফখরুদ্দিন রাযি আশশাফেয়ি (মৃ-৬০৬ হি.)
المسألة الرابعة: يجب ههنا بيان الإكراه الذي عنده يجوز التلفظ بكلمة الكفر، وهو أن يعذبه بعذاب لا طاقة له به، مثل التخويف بالقتل، ومثل الضرب الشديد والإيلامات القوية. (التفسير الكبير للرازي, سورة النحل, الآية: ١٠٦ - ١٢٣/٢٠)
“চতুর্থ মাসআলা: যে ‘ইকরাহ'র কারণে কুফরি কথা উচ্চারণ করা জায়েয, এখানে সেটির আলোচনা করা আবশ্যক। আর তা হচ্ছে, কাউকে এমন শাস্তি দেয়া যা সহ্য করা তার জন্য অসম্ভব। যেমন, হত্যা, কঠিন প্রহার এবং অস্বাভাবিক যন্ত্রণার ধমকি দেয়া।” (আততাফসিরুল কাবির ২০/১২৩, সুরা নাহল, আয়াত: ১০৬)
📄 ইবনে তাইমিয়া আলহাম্বলি
ইবনে তাইমিিয়া আলহাম্বলি (মৃ-৭২৮ হি.)
وقال أبو العباس: تأملت المذهب فوجدت الإكراه يختلف باختلاف المكره عليه، فليس الإكراه المعتبر في كلمة الكفر كالإكراه المعتبر في الهبة ونحوها، فإن أحمد قد نص في غير موضع على أن الإكراه على الكفر لا يكون إلا بتعذيب من ضرب أو قيد، ولا يكون الكلام إكراهاً. (الفتاوى الكبرى لابن تيمية, كتاب الطلاق, ٤٩٠/٥)
“আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া বলেন, আমি মাযহাবের কিতাবাদিতে এই মাসআলা গবেষণা করে দেখলাম যে, 'মুকরাহ' বলপ্রয়োগকৃতের অবস্থাভেদে 'ইকরাহ'র হুকুম বিভিন্ন হবে। 'হিবা' ইত্যাদির ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য 'ইকরাহ' কুফরি কথার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য 'ইকরাহ'র মতো নয়। কেননা ইমাম আহমাদ একাধিক স্থানে এ কথা বলেছেন যে, প্রহার বা বন্দিকরণের মাধ্যমে শাস্তিপ্রদান করলে কুফরের ক্ষেত্রে 'ইকরাহ' সাব্যস্ত হবে। শুধুমাত্র মুখের ধমকি 'ইকরাহ' হতে পারে না।” (আলফাতাওয়াল কুবরা, ৫/৪৯০)