📄 ইমাম শাফেয়ির দাবি
ইমাম শাফেয়ির দাবি (মৃ-২০৪ হি.)
لو عذر الجاهل لأجل جهله لكان الجهل خيراً من العلم؛ إذ كان يحط عن العبد أعباء التكليف ويريح قلبه من ضروب التعنيف، فلا حجة للعبد في جهله بالحكم بعد التبليغ والتمكين لئلا يكون للناس على الله حجة بعد الرسل. (المنثور في القواعد للبدر الزركشي, حرف الجيم, ۲۷۲/۱, الموسوعة الفقهية الكويتية, ٢٠١/١٦)
"জাহেলের জাহালত যদি 'ওযর' হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে তো ইলমের চেয়ে জাহালতই উত্তম হতো। যেহেতু তা দায়িত্বভারের বোঝা নামিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন ধরনের তীব্র ভর্ৎসনা থেকে তার অন্তরকে প্রশান্তি দেয়। সুতরাং বার্তা পৌঁছা বা সেটির জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ থাকার পর বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে জাহালত-অজ্ঞতা কারো জন্য (ওযরের) দলিল হতে পারে না। 'যাতে আল্লাহর বিপক্ষে রাসুলদের পর মানুষের জন্য কোন অজুহাত না থাকে।” (আলমানসুর ফিল কাওয়ায়েদ, ১/২৭২, আলমাউসুআতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ১৬/২০১)
📄 শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার দাবি
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার দাবি (মৃ-৭২৮ হি.)
وإذا أخبر بوقوع الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر منها لم يكن من شرط ذلك أن يصل أمر الآمر ونهي الناهي منها إلى كل مكلف في العالم؛ إذ ليس هذا من شرط تبليغ الرسالة، فكيف يشترط فيما هو من توابعها? بل الشرط أن يتمكن المكلفون من وصول ذلك إليهم. ثم إذا فرطوا فلم يسعوا في وصوله إليهم مع قيام فاعله بما يجب عليه كان التفريط منهم لا منه. (مجموع الفتاوى لابن تيمية, قاعدة في الحسبة, فصل في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر, ١٢٥/٢٨)
“যখন সৎ কাজের আদেশ এবং অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করা প্রতিফলিত হওয়ার ব্যাপারে অবগত করা হয়, তখন সেক্ষেত্রে এটি শর্ত নয় যে, আদেশদাতার আদেশ এবং বারণকারীর নিষেধ পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। কেননা এটি তো 'রিসালত' পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও শর্ত নয়, তাহলে কীভাবে তা রিসালতের আনুষঙ্গিক বিষয়ের ক্ষেত্রে শর্ত হতে পারে! বরং শর্ত হলো, মানুষদের নিকট তা পৌঁছার সুযোগ থাকা। দায়িত্বশীল তার দায়িত্ব আদায় করার পর যদি তারা তাদের নিকট সেই জ্ঞান পৌঁছার জন্য চেষ্টা না করে শিথিলতা প্রদর্শন করে, তাহলে এটি তাদের অবহেলা হিসেবে পরিগণিত হবে, দায়িত্বশীলের নয়।” (মাজমুউল ফাতাওয়া, ২৮/১২৫)
ومن جواب هؤلاء أن حجة الله برسله قامت بالتمكن من العلم، فليس من شرط حجة الله تعالى علم المدعوين بها. ولهذا لم يكن إعراض الكفار عن استماع القرآن وتدبره مانعاً من قيام حجة الله تعالى عليهم، وكذلك إعراضهم عن استماع المنقول عن الأنبياء وقراءة الآثار المأثورة عنهم لا يمنع الحجة، إذ المكنة حاصلة. كتاب الرد على المنطقيين لابن تيمية, إنكار المتواترات هو من أصول الإلحاد والكفر, ص ١٤٠)
“এদের প্রত্যুত্তরে বলা যায়, রাসুলগণের আবির্ভাবের পর ইলম অর্জনের সুযোগ থাকার মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে দলিল পূর্ণ হয়ে গেছে। আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে দলিল পূর্ণ হওয়ার জন্য আহ্বানকৃত প্রত্যেকের তা জানা শর্ত নয়। এজন্যই তো কুরআন শ্রবণ ও তা নিয়ে গবেষণা করা থেকে কাফেরদের বিরত থাকা আল্লাহ তাআলার দলিল পূর্ণ হওয়ার ব্যাপারে প্রতিবন্ধক হয়নি। তেমনিভাবে নবীদের থেকে বর্ণিত বিষয়াদি শুনা এবং তাদের থেকে ক্রমাগত সূত্রে বর্ণিত হাদিস পড়া থেকে বিরত থাকা দলিল পূর্ণ হওয়ার ব্যাপারে প্রতিবন্ধক নয়। কেননা সুযোগ বিদ্যমান আছে।” (কিতাবুর রদ্দি আলাল মানতিকিয়্যিন, পৃ: ১৪০)
📄 আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরির বক্তব্য
আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরির বক্তব্য (মৃ-১৩৫২ হি.)
ويريد أي ابن تيمية ) - رحمه الله - بإقامة الحجة في تصانيفه في مسألة التكفير : التبليغ لا غير، كأخبار معاذ، ودعوة علي ل ليهود خيبر. (إكفار الملحدين, ص٦١)
“কুফর আখ্যা দেয়ার মাসআলায় ইবনে তাইমিয়া রহ. দলিল পূর্ণ হওয়া দ্বারা শুধুমাত্র বার্তা পৌঁছানো উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন, অন্য কিছু নয়। যেমন, মুআয রাযি. -এর হাদিস ও আলি রাযি. কর্তৃক খাইবারের ইহুদিদের ইসলামের প্রতি আহ্বান করা।” (ইকফারুল মুলহিদিন, পৃ: ৬১)
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সৈন্যদলকে অসিয়ত, রিবয়ি ইবনে আমের রাযি. কর্তৃক রুস্তমকে বলা কথাগুলো এবং নাফে' আলফকিহের ফাতওয়া কি 'ইতমামে হুজ্জাত'র বাস্তব নমুনা নয়? এরপরও যদি কেউ তাদের অজ্ঞতা দূর না হওয়ার দাবি করে, তখন ইমাম শাফেয়ির কন্ঠে বলতে হয়, 'তাহলে তো ইলমের চেয়ে জাহালতই উত্তম হতো।'
📄 ‘ইলকাউল ইয়াকিন’ বিশ্বাস স্থাপন করানো
'ইলকাউল ইয়াকিন' বিশ্বাস স্থাপন করানো
অথবা কেউ যদি দাবি করে (যেমনটি কেউ কেউ ইতোমধ্যে করেছেন), ‘এতোটুকুতেই যথেষ্ট হবে না; বরং তাদের অন্তরে ‘ইলকাউল ইয়াকিন' বিশ্বাস স্থাপন করাতে হবে, অতঃপর হটকারিতা প্রদর্শন করলে হুকুম দেয়া যাবে।' তাদের ব্যাপারে আমরা আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি রহ. এর বক্তব্যটি হুবহু তুলে দিচ্ছি।