📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 রিবয়ি ইবনে আমেরের রাযি. বক্তব্য

📄 রিবয়ি ইবনে আমেরের রাযি. বক্তব্য


রিবয়ি ইবনে আমের রাযি. রুস্তমকে উদ্দেশ্য করে যে কথাগুলো বলেছিলেন- قال: الله ابتعثنا، والله جاء بنا لنخرج من شاء من عبادة العباد إلى عبادة الله، ومن ضيق الدنيا إلى سعتها، ومن جور الأديان إلى عدل الإسلام، فأرسلنا بدينه إلى خلقه لندعوهم إليه، فمن قبل منا ذلك قبلنا ذلك منه ورجعنا عنه، وتركناه وأرضه يليها دوننا، ومن أبي قاتلناه أبداً، حتى نفضي إلى موعود الله. قال: وما موعود الله? قال: الجنة لمن مات على قتال من أبي، والظفر لمن بقي. فقال رستم: قد سمعت مقالتكم، فهل لكم أن تؤخروا هذا الأمر حتى ننظر فيه وتنظروا! قال: نعم، كم أحب إليكم? أيوماً أو يومين? قال: لا بل حتى نكاتب أهل رأينا ورؤساء قومنا، وأراد مقاربته ومدافعته، فقال: إن مما سن لنا رسول الله ﷺ وعمل به أئمتنا، ألا نمكن الأعداء من آذاننا، ولا نؤجلهم عند اللقاء أكثر من ثلاث، فنحن مترددون عنكم ثلاثاً، فانظر في أمرك وأمرهم، واختر واحدة من ثلاث بعد الأجل، اختر الإسلام وندعك وأرضك، أو الجزاء، فنقبل ونكফ عنك، وإن كنت عن نصرنا غنياً تركناك منه، وإن كنت إليه محتاجاً منعناك أو المنابذة في اليوم الرابع، ولسنا نبدؤك فيما بيننا وبين اليوم الرابع إلا أن تبدأنا، أنا كفيل لك بذلك على أصحابي وعلى جميع من ترى قال: أسيدهم أنت? قال: لا، ولكن المسلمين كالجسد بعضهم من بعض، يجير أدناهم على أعلاهم. (تاريخ الطبري, ٥٢٠/٣, البداية والنهاية, ٣٩/٧)

“রিবয়ি ইবনে আমের রাযি. বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাআলাই আমাদেরকে এখানে নিয়ে এসেছেন তাঁর ইচ্ছানুযায়ী মানুষকে মানুষের উপাসনা থেকে আল্লাহর ইবাদত, দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে প্রশস্ততা এবং অন্যান্য ধর্মের অবিচার থেকে ইসলামের ন্যায়পরায়ণতার দিকে বের করে আনার জন্য। তাই তিনি তাঁর দ্বীন দিয়ে আমাদেরকে মানুষদের নিকট পাঠিয়েছেন সেই দ্বীনের দিকে আহ্বান করার জন্য। যে সেই দ্বীনকে গ্রহণ করবে আমরা তার থেকে সেটি গ্রহণ করে ফিরে যাবো এবং তাকে ও তার অঞ্চল ছেড়ে চলে যাবো; সেই এটির দেখা-শুনা করবে। আর যে তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাবে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতিতে পৌঁছা পর্যন্ত আমরা তার মোকাবেলায় যুদ্ধ করতেই থাকবো। রুস্তুম বললো, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি কী? রিবয়ি ইবনে আমের বললেন, অস্বীকারকারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে যে মারা যায় তার জন্য জান্নাত, আর যে জীবিত থাকে তার বিজয়। রুস্তুম বললো, আমি তোমাদের কথা শুনেছি। তোমরা কি এ বিষয়ে একটু বিলম্ব করবে যেনো আমরাও ভেবে দেখতে পারি এবং তোমরাও একটু ভেবে দেখো! রিবয়ি ইবনে আমের বললেন, ঠিক আছে! তুমি কতোদিন সুযোগ চাও? একদিন নাকি দু'দিন? রুস্তুম বললো, না! বরং আমি এ বিষয়ে জ্ঞানী-গুণী ও নেতা পর্যায়ের লোকদের সঙ্গে পত্র বিনিময় করা পর্যন্ত সুযোগ চাই। রুস্তুম রিবয়ি ইবনে আমেরের নৈকট্য অর্জন করে তাঁকে তাঁর অবস্থান থেকে ফেরাতে চেয়েছে। রিবয়ি ইবনে আমের বললেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পদ্ধতি প্রবর্তন করে গেছেন এবং আমাদের ইমামগণ যে পদ্ধতি কার্যকর করেছেন; তা হচ্ছে, শত্রুর হাতে আমরা যেনো আমাদের কান ন্যস্ত করে না দেই এবং মোকাবেলার মুহূর্তে শত্রুকে যেনো তিন দিনের অধিক সুযোগ না দেই। সুতরাং আমরা তিনদিন তোমাদের থেকে বিরত থাকবো, তুমি তোমার ও তোমার সৈন্যদের বিষয়ে ভেবে দেখো। তিনদিন পর তিনটির কোনো একটি গ্রহণ করে নাও। হয়তো ইসলাম গ্রহণ করে নাও; আমরা তোমাকে ও তোমার অঞ্চল ছেড়ে চলে যাবো। অথবা 'জিযয়া'র বিধান স্বীকার করে নাও; আমরা তোমার থেকে তা গ্রহণ করবো এবং যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবো। তখন তুমি যদি আমাদের সাহায্যের মুখাপেক্ষী না হও, আমাদের তা করার প্রয়োজন হবে না। আর যদি সাহায্যের প্রয়োজন মনে করো, তাহলে তোমাকে আমরা রক্ষা করবো। আর যদি প্রস্তাবগুলো গ্রহণ না করো, তাহলে চতুর্থদিন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও। এই চারদিনের মাঝে তোমরা না করলে আমরা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধের সূচনা করবো না। এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার ব্যাপারে আমি আমার সকল সহচর এবং যাদেরকে তুমি দেখছো সকলের দায়িত্ব নিচ্ছি। রুস্তুম বললো, তুমি কি তাদের নেতা? রিবয়ি ইবনে আমের বললেন, না! কিন্তু মুসলমানরা শরীরের ন্যায় একে অপরের অংশ। তাদের নিম্নস্তরের ব্যক্তিও উচ্চস্তরের ব্যক্তির ক্ষেত্রে আশ্রয় দিতে পারে।” (তারিখে Tabari, -১৪ হিজরির আলোচনা- ৩/৫২০, আলবিদায়া ওয়াননিহায়া, ৭/৩৯)

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 নাফে‘ আলফকিহ মাওলা ইবনে উমরের দাবি

📄 নাফে‘ আলফকিহ মাওলা ইবনে উমরের দাবি


নাফে' আলফকিহ মাওলা ইবনে উমরের দাবি (মৃ-১১৭ হি.)

قال الإمام مسلم: حدثنا يحيى بن يحيى التميمي، حدثنا سليم بن أخضر، عن ابن عون قال: كتبت إلى نافع أسأله عن الدعاء قبل القتال، قال: فكتب إلي: "إنما كان ذلك في أول الإسلام، قد أغار رسول الله ﷺ على بني المصطلق وهم غارون، وأنعامهم تسقى على الماء، فقتل مقاتلتهم، وسبى سبيهم، وأصاب يومئذ - قال يحيى أحسبه قال- جويرية أو قال: البتة ابنة الحارث"، وحدثني هذا الحديث عبد الله بن عمر، وكان في ذاك الجيش. (صحيح مسلم, كتاب الجهاد والسير, باب جواز الإغارة على الكفار الذين بلغتهم دعوة الإسلام من غير تقدم الإعلام بالإغارة, ص۷۳۹ , رقم الحديث: ٤٥١٩ , سنن أبي داود, كتاب الجهاد, باب في دعاء المشركين, ص٥٧٧, رقم الحديث: (٢٦٣٣)

“ইবনে আউন বলেন, কিতালের পূর্বে ইসলামের প্রতি আহ্বানের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে আমি নাফে'র নিকট লিখে পাঠালাম। তিনি প্রত্যুত্তরে আমাকে লিখলেন, ইসলামের সূচনাকালে এটির বিধান ছিলো। পরবর্তীতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বনিল মুসতালিককে অনবগত রেখেই তাদের উপর হঠাৎ আক্রমণ করেছেন, অথচ তাদের গবাদিপশুকে তখন পানি পান করানো হচ্ছিল। তাদের যুদ্ধাদেরকে হত্যা করেছেন এবং বন্দির উপযোগীদেরকে বন্দি করেছেন। সেদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুওয়াইরিয়া বিনতুল হারেসকে গনিমত হিসেবে পেয়েছেন। নাফে' বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আমাকে এটি বর্ণনা করেছেন, তখন তিনি সে সৈন্যদলে ছিলেন।” (সহিহ মুসলিম, পৃ: ৭৩৯, হাদিস নং: ৪৫১৯, সুনানে আবু দাউদ, পৃ: ৫৭৭, হাদিস নং: ২৬৩৩)

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 ইমাম শাফেয়ির দাবি

📄 ইমাম শাফেয়ির দাবি


ইমাম শাফেয়ির দাবি (মৃ-২০৪ হি.)

لو عذر الجاهل لأجل جهله لكان الجهل خيراً من العلم؛ إذ كان يحط عن العبد أعباء التكليف ويريح قلبه من ضروب التعنيف، فلا حجة للعبد في جهله بالحكم بعد التبليغ والتمكين لئلا يكون للناس على الله حجة بعد الرسل. (المنثور في القواعد للبدر الزركشي, حرف الجيم, ۲۷۲/۱, الموسوعة الفقهية الكويتية, ٢٠١/١٦)

"জাহেলের জাহালত যদি 'ওযর' হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে তো ইলমের চেয়ে জাহালতই উত্তম হতো। যেহেতু তা দায়িত্বভারের বোঝা নামিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন ধরনের তীব্র ভর্ৎসনা থেকে তার অন্তরকে প্রশান্তি দেয়। সুতরাং বার্তা পৌঁছা বা সেটির জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ থাকার পর বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে জাহালত-অজ্ঞতা কারো জন্য (ওযরের) দলিল হতে পারে না। 'যাতে আল্লাহর বিপক্ষে রাসুলদের পর মানুষের জন্য কোন অজুহাত না থাকে।” (আলমানসুর ফিল কাওয়ায়েদ, ১/২৭২, আলমাউসুআতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ১৬/২০১)

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার দাবি

📄 শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার দাবি


শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার দাবি (মৃ-৭২৮ হি.)

وإذا أخبر بوقوع الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر منها لم يكن من شرط ذلك أن يصل أمر الآمر ونهي الناهي منها إلى كل مكلف في العالم؛ إذ ليس هذا من شرط تبليغ الرسالة، فكيف يشترط فيما هو من توابعها? بل الشرط أن يتمكن المكلفون من وصول ذلك إليهم. ثم إذا فرطوا فلم يسعوا في وصوله إليهم مع قيام فاعله بما يجب عليه كان التفريط منهم لا منه. (مجموع الفتاوى لابن تيمية, قاعدة في الحسبة, فصل في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر, ١٢٥/٢٨)

“যখন সৎ কাজের আদেশ এবং অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করা প্রতিফলিত হওয়ার ব্যাপারে অবগত করা হয়, তখন সেক্ষেত্রে এটি শর্ত নয় যে, আদেশদাতার আদেশ এবং বারণকারীর নিষেধ পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। কেননা এটি তো 'রিসালত' পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও শর্ত নয়, তাহলে কীভাবে তা রিসালতের আনুষঙ্গিক বিষয়ের ক্ষেত্রে শর্ত হতে পারে! বরং শর্ত হলো, মানুষদের নিকট তা পৌঁছার সুযোগ থাকা। দায়িত্বশীল তার দায়িত্ব আদায় করার পর যদি তারা তাদের নিকট সেই জ্ঞান পৌঁছার জন্য চেষ্টা না করে শিথিলতা প্রদর্শন করে, তাহলে এটি তাদের অবহেলা হিসেবে পরিগণিত হবে, দায়িত্বশীলের নয়।” (মাজমুউল ফাতাওয়া, ২৮/১২৫)

ومن جواب هؤلاء أن حجة الله برسله قامت بالتمكن من العلم، فليس من شرط حجة الله تعالى علم المدعوين بها. ولهذا لم يكن إعراض الكفار عن استماع القرآن وتدبره مانعاً من قيام حجة الله تعالى عليهم، وكذلك إعراضهم عن استماع المنقول عن الأنبياء وقراءة الآثار المأثورة عنهم لا يمنع الحجة، إذ المكنة حاصلة. كتاب الرد على المنطقيين لابن تيمية, إنكار المتواترات هو من أصول الإلحاد والكفر, ص ١٤٠)

“এদের প্রত্যুত্তরে বলা যায়, রাসুলগণের আবির্ভাবের পর ইলম অর্জনের সুযোগ থাকার মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে দলিল পূর্ণ হয়ে গেছে। আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে দলিল পূর্ণ হওয়ার জন্য আহ্বানকৃত প্রত্যেকের তা জানা শর্ত নয়। এজন্যই তো কুরআন শ্রবণ ও তা নিয়ে গবেষণা করা থেকে কাফেরদের বিরত থাকা আল্লাহ তাআলার দলিল পূর্ণ হওয়ার ব্যাপারে প্রতিবন্ধক হয়নি। তেমনিভাবে নবীদের থেকে বর্ণিত বিষয়াদি শুনা এবং তাদের থেকে ক্রমাগত সূত্রে বর্ণিত হাদিস পড়া থেকে বিরত থাকা দলিল পূর্ণ হওয়ার ব্যাপারে প্রতিবন্ধক নয়। কেননা সুযোগ বিদ্যমান আছে।” (কিতাবুর রদ্দি আলাল মানতিকিয়্যিন, পৃ: ১৪০)

ফন্ট সাইজ
15px
17px