📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 ‘ইতমামে হুজ্জাত’ দলিল পূর্ণ করা

📄 ‘ইতমামে হুজ্জাত’ দলিল পূর্ণ করা


'ইতমামে হুজ্জাত' দলিল পূর্ণ করা

এক্ষেত্রে কেউ কেউ আবার 'ইতমামে হুজ্জাত'র কথা বলেন। অর্থাৎ সব ঠিক আছে, তবে 'ইতমামে হুজ্জাত' হয়নি। 'ইতমামে হুজ্জাত'র পূর্বে কারো ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা করা মুশকিল।

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 ‘ইতমামে হুজ্জাত’র কয়েকটি চিত্র

📄 ‘ইতমামে হুজ্জাত’র কয়েকটি চিত্র


'ইতমামে হুজ্জাত'র কী অর্থ? ফুকাহায়ে কেরাম যে সকল বিষয়ে বা অবস্থায় অজ্ঞতাকে 'ওযর' নয় বলে ফয়সালা দিয়েছেন; তা কি এজন্য নয় যে, তাতে 'ইতমামে হুজ্জাত' হয়ে গেছে? অন্যথায় অজ্ঞতা কেনো 'ওযর' হিসেবে ধর্তব্য হচ্ছে না? তবুও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস, সাহাবায়ে কেরামের আসার ও আইম্মায়ে দ্বীনের বক্তব্য থেকে আরো কিছু 'ইতমামে হুজ্জাত'র চিত্র তুলে ধরছি-

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 হাদিস

📄 হাদিস


قال الإمام أبو داود حدثنا محمد بن سليمان الأنباري، حدثنا وكيع، عن سفيان، عن علقمة بن مرثد، عن سليمان بن بريدة، عن أبيه، قال: كان رسول الله ﷺ إذا بعث أميراً على سرية أو جيش أوصاه بتقوى الله في خاصة نفسه وبمن معه من المسلمين خيراً، وقال: إذا لقيت عدوك من المشركين فادعهم إلى إحدى ثلاث خصال أو خلال، فأيتها أجابوك إليها فاقبل منهم، وكف عنهم: ادعهم إلى الإسلام فإن أجابوك فاقبل منهم وكف عنهم، ثم ادعهم إلى التحول من دارهم إلى دار المهاجرين، وأعلمهم أنهم إن فعلوا ذلك أن لهم ما للمهاجرين وأن عليهم ما على المهاجرين، فإن أبوا واختاروا دارهم فأعلمهم أنهم يكونون كأعراب المسلمين يجري عليهم حكم الله الذي يجري على المؤمنين، ولا يكون لهم في الفيء والغنيمة نصيب إلا أن يجاهدوا مع المسلمين، فإن هم أبوا فادعهم إلى إعطاء الجزية، فإن أجابوا فاقبل منهم وكف عنهم، فإن أبوا فاستعن بالله وقاتلهم...... (سنن أبي داؤد, كتاب الجهاد, باب في دعاء المشركين, ص ٥٧٣, رقم الحديث: ٢٦১২. وأيضاً يراجع صحيح مسلم, كتاب الجهاد والسير, باب تأمير الإمام الأمراء على البعوث, ووصيته إياهم بآداب الغزو وغيرها, ص٧৩৯, رقم الحديث ৪০২২)

“বুরাইদা রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই ছোটো বা বড়ো কোনো সৈন্যদলের আমির হিসেবে কাউকে প্রেরণ করতেন, প্রথমেই তাকে নিজের ব্যাপারে তাকওয়া ও তার সাথী অন্যান্য মুসলমানদের ব্যাপারে কল্যাণকামিতার অসিয়ত করতেন। এবং বলতেন, যখন তোমার শত্রু মুশরিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, তাদেরকে তিনটি বিষয়ের কোনো একটি গ্রহণ করার প্রতি আহ্বান জানাবে। তা থেকে যেকোনো একটির প্রতি সাড়া দিলে তুমি তাদের থেকে তা গ্রহণ করে নিবে এবং তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকবে। প্রথমেই তাদেরকে ইসলাম গ্রহণ করার প্রতি আহ্বান করো। যদি তারা সেটির প্রতি সাড়া দেয়, তাদের থেকে তা গ্রহণ করে নাও এবং যুদ্ধ থেকে বিরত থাকো। অতঃপর তাদেরকে তাদের অঞ্চল থেকে মুহাজিরদের অঞ্চলে স্থানান্তর হওয়ার আহ্বান জানাও। এবং তাদেরকে জানিয়ে দাও; যদি তারা এমনটি করে, তাহলে মুহাজিরগণ যে অধিকার পায় তারাও সে অধিকার পাবে এবং মুহাজিরদের উপর যা অর্পিত হয় তাদের উপরও তা অর্পিত হবে। যদি তারা স্থানান্তরের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেদের অঞ্চলে অবস্থান করাকেই গ্রহণ করে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দাও; তারা বেদুঈন মুসলমানদের ন্যায় পরিগণিত হবে। অন্যান্য মুসলমানদের ক্ষেত্রে আল্লাহর যে সকল বিধান কার্যকর হয়, তাদের ক্ষেত্রেও তাই কার্যকর হবে এবং মুসলমানদের সঙ্গে জিহাদে অংশগ্রহণ না করলে 'গনিমত' যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও 'ফাই' সন্ধিসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদে তাদের কোনো অংশ থাকবে না। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তাদেরকে 'জিযয়া' অমুসলিমদের উপর ধার্যকৃত কর আদায় করতে বলো। যদি তারা তাতে সাড়া দেয়, তাদের থেকে তা গ্রহণ করো এবং যুদ্ধ থেকে বিরত থাকো। যদি তারা 'জিযয়া' দিতেও অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে আল্লাহর নিকট সাহায্য কামনা করে তাদের মোকাবেলায় কিতাল করো.....।" (সুনানে আবু দাউদ, পৃ: ৫৭৩, হাদিস নং: ২৬১২, আরো দেখুন: সহিহ মুসলিম, পৃঃ ৭৩৯, হাদিস নং: ৪৫২২)

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 রিবয়ি ইবনে আমেরের রাযি. বক্তব্য

📄 রিবয়ি ইবনে আমেরের রাযি. বক্তব্য


রিবয়ি ইবনে আমের রাযি. রুস্তমকে উদ্দেশ্য করে যে কথাগুলো বলেছিলেন- قال: الله ابتعثنا، والله جاء بنا لنخرج من شاء من عبادة العباد إلى عبادة الله، ومن ضيق الدنيا إلى سعتها، ومن جور الأديان إلى عدل الإسلام، فأرسلنا بدينه إلى خلقه لندعوهم إليه، فمن قبل منا ذلك قبلنا ذلك منه ورجعنا عنه، وتركناه وأرضه يليها دوننا، ومن أبي قاتلناه أبداً، حتى نفضي إلى موعود الله. قال: وما موعود الله? قال: الجنة لمن مات على قتال من أبي، والظفر لمن بقي. فقال رستم: قد سمعت مقالتكم، فهل لكم أن تؤخروا هذا الأمر حتى ننظر فيه وتنظروا! قال: نعم، كم أحب إليكم? أيوماً أو يومين? قال: لا بل حتى نكاتب أهل رأينا ورؤساء قومنا، وأراد مقاربته ومدافعته، فقال: إن مما سن لنا رسول الله ﷺ وعمل به أئمتنا، ألا نمكن الأعداء من آذاننا، ولا نؤجلهم عند اللقاء أكثر من ثلاث، فنحن مترددون عنكم ثلاثاً، فانظر في أمرك وأمرهم، واختر واحدة من ثلاث بعد الأجل، اختر الإسلام وندعك وأرضك، أو الجزاء، فنقبل ونكফ عنك، وإن كنت عن نصرنا غنياً تركناك منه، وإن كنت إليه محتاجاً منعناك أو المنابذة في اليوم الرابع، ولسنا نبدؤك فيما بيننا وبين اليوم الرابع إلا أن تبدأنا، أنا كفيل لك بذلك على أصحابي وعلى جميع من ترى قال: أسيدهم أنت? قال: لا، ولكن المسلمين كالجسد بعضهم من بعض، يجير أدناهم على أعلاهم. (تاريخ الطبري, ٥٢٠/٣, البداية والنهاية, ٣٩/٧)

“রিবয়ি ইবনে আমের রাযি. বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাআলাই আমাদেরকে এখানে নিয়ে এসেছেন তাঁর ইচ্ছানুযায়ী মানুষকে মানুষের উপাসনা থেকে আল্লাহর ইবাদত, দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে প্রশস্ততা এবং অন্যান্য ধর্মের অবিচার থেকে ইসলামের ন্যায়পরায়ণতার দিকে বের করে আনার জন্য। তাই তিনি তাঁর দ্বীন দিয়ে আমাদেরকে মানুষদের নিকট পাঠিয়েছেন সেই দ্বীনের দিকে আহ্বান করার জন্য। যে সেই দ্বীনকে গ্রহণ করবে আমরা তার থেকে সেটি গ্রহণ করে ফিরে যাবো এবং তাকে ও তার অঞ্চল ছেড়ে চলে যাবো; সেই এটির দেখা-শুনা করবে। আর যে তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাবে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতিতে পৌঁছা পর্যন্ত আমরা তার মোকাবেলায় যুদ্ধ করতেই থাকবো। রুস্তুম বললো, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি কী? রিবয়ি ইবনে আমের বললেন, অস্বীকারকারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে যে মারা যায় তার জন্য জান্নাত, আর যে জীবিত থাকে তার বিজয়। রুস্তুম বললো, আমি তোমাদের কথা শুনেছি। তোমরা কি এ বিষয়ে একটু বিলম্ব করবে যেনো আমরাও ভেবে দেখতে পারি এবং তোমরাও একটু ভেবে দেখো! রিবয়ি ইবনে আমের বললেন, ঠিক আছে! তুমি কতোদিন সুযোগ চাও? একদিন নাকি দু'দিন? রুস্তুম বললো, না! বরং আমি এ বিষয়ে জ্ঞানী-গুণী ও নেতা পর্যায়ের লোকদের সঙ্গে পত্র বিনিময় করা পর্যন্ত সুযোগ চাই। রুস্তুম রিবয়ি ইবনে আমেরের নৈকট্য অর্জন করে তাঁকে তাঁর অবস্থান থেকে ফেরাতে চেয়েছে। রিবয়ি ইবনে আমের বললেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পদ্ধতি প্রবর্তন করে গেছেন এবং আমাদের ইমামগণ যে পদ্ধতি কার্যকর করেছেন; তা হচ্ছে, শত্রুর হাতে আমরা যেনো আমাদের কান ন্যস্ত করে না দেই এবং মোকাবেলার মুহূর্তে শত্রুকে যেনো তিন দিনের অধিক সুযোগ না দেই। সুতরাং আমরা তিনদিন তোমাদের থেকে বিরত থাকবো, তুমি তোমার ও তোমার সৈন্যদের বিষয়ে ভেবে দেখো। তিনদিন পর তিনটির কোনো একটি গ্রহণ করে নাও। হয়তো ইসলাম গ্রহণ করে নাও; আমরা তোমাকে ও তোমার অঞ্চল ছেড়ে চলে যাবো। অথবা 'জিযয়া'র বিধান স্বীকার করে নাও; আমরা তোমার থেকে তা গ্রহণ করবো এবং যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবো। তখন তুমি যদি আমাদের সাহায্যের মুখাপেক্ষী না হও, আমাদের তা করার প্রয়োজন হবে না। আর যদি সাহায্যের প্রয়োজন মনে করো, তাহলে তোমাকে আমরা রক্ষা করবো। আর যদি প্রস্তাবগুলো গ্রহণ না করো, তাহলে চতুর্থদিন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও। এই চারদিনের মাঝে তোমরা না করলে আমরা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধের সূচনা করবো না। এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার ব্যাপারে আমি আমার সকল সহচর এবং যাদেরকে তুমি দেখছো সকলের দায়িত্ব নিচ্ছি। রুস্তুম বললো, তুমি কি তাদের নেতা? রিবয়ি ইবনে আমের বললেন, না! কিন্তু মুসলমানরা শরীরের ন্যায় একে অপরের অংশ। তাদের নিম্নস্তরের ব্যক্তিও উচ্চস্তরের ব্যক্তির ক্ষেত্রে আশ্রয় দিতে পারে।” (তারিখে Tabari, -১৪ হিজরির আলোচনা- ৩/৫২০, আলবিদায়া ওয়াননিহায়া, ৭/৩৯)

ফন্ট সাইজ
15px
17px