📄 অজ্ঞতার দাবি করা দ্বীনি বিষয়ে ‘মুদাহানাত’ শিথিলতা
চতুর্থত: তথাকথিত বর্তমান মুসলিম বিশ্বের গণতান্ত্রিক সরকারদের ব্যাপারে অজ্ঞতার দাবি করা কি দ্বীনি বিষয়ে ‘মুদাহানাত' শিথিলতা নয়? যেখানে যুগের পর যুগ ইসলামি দলগুলো -চাই তাদের মানহাজ সহিহ হোক বা না হোক- ইসলামি হুকুমত, শরয়ি কানুন, আল্লাহর সংবিধান-কুরআনের সংবিধানের দাবি করে আসছে এবং তা করে আসছে সংসদে আইন প্রণেতাদের সামনে, রাষ্ট্রের হর্তকর্তাদের সামনে। দ্বীনের ধারক-বাহকগণ ধর্মনিরপেক্ষতা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছেন। এবং এটি একবার বা একদিনের ঘটনা নয়; বরং যুগের পর যুগ ধরে চলছে। এরপরও তাদের ব্যাপারে অজ্ঞতার দাবি করা কি অনর্থক নয়? এ দাবিকে কুরআন, সুন্নাহ, ফিকহ কতোটুকু সমর্থন করবে তা কি দেখার কোনো প্রয়োজন নেই?
📄 ‘ইতমামে হুজ্জাত’ দলিল পূর্ণ করা
'ইতমামে হুজ্জাত' দলিল পূর্ণ করা
এক্ষেত্রে কেউ কেউ আবার 'ইতমামে হুজ্জাত'র কথা বলেন। অর্থাৎ সব ঠিক আছে, তবে 'ইতমামে হুজ্জাত' হয়নি। 'ইতমামে হুজ্জাত'র পূর্বে কারো ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা করা মুশকিল।
📄 ‘ইতমামে হুজ্জাত’র কয়েকটি চিত্র
'ইতমামে হুজ্জাত'র কী অর্থ? ফুকাহায়ে কেরাম যে সকল বিষয়ে বা অবস্থায় অজ্ঞতাকে 'ওযর' নয় বলে ফয়সালা দিয়েছেন; তা কি এজন্য নয় যে, তাতে 'ইতমামে হুজ্জাত' হয়ে গেছে? অন্যথায় অজ্ঞতা কেনো 'ওযর' হিসেবে ধর্তব্য হচ্ছে না? তবুও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস, সাহাবায়ে কেরামের আসার ও আইম্মায়ে দ্বীনের বক্তব্য থেকে আরো কিছু 'ইতমামে হুজ্জাত'র চিত্র তুলে ধরছি-
📄 হাদিস
قال الإمام أبو داود حدثنا محمد بن سليمان الأنباري، حدثنا وكيع، عن سفيان، عن علقمة بن مرثد، عن سليمان بن بريدة، عن أبيه، قال: كان رسول الله ﷺ إذا بعث أميراً على سرية أو جيش أوصاه بتقوى الله في خاصة نفسه وبمن معه من المسلمين خيراً، وقال: إذا لقيت عدوك من المشركين فادعهم إلى إحدى ثلاث خصال أو خلال، فأيتها أجابوك إليها فاقبل منهم، وكف عنهم: ادعهم إلى الإسلام فإن أجابوك فاقبل منهم وكف عنهم، ثم ادعهم إلى التحول من دارهم إلى دار المهاجرين، وأعلمهم أنهم إن فعلوا ذلك أن لهم ما للمهاجرين وأن عليهم ما على المهاجرين، فإن أبوا واختاروا دارهم فأعلمهم أنهم يكونون كأعراب المسلمين يجري عليهم حكم الله الذي يجري على المؤمنين، ولا يكون لهم في الفيء والغنيمة نصيب إلا أن يجاهدوا مع المسلمين، فإن هم أبوا فادعهم إلى إعطاء الجزية، فإن أجابوا فاقبل منهم وكف عنهم، فإن أبوا فاستعن بالله وقاتلهم...... (سنن أبي داؤد, كتاب الجهاد, باب في دعاء المشركين, ص ٥٧٣, رقم الحديث: ٢٦১২. وأيضاً يراجع صحيح مسلم, كتاب الجهاد والسير, باب تأمير الإمام الأمراء على البعوث, ووصيته إياهم بآداب الغزو وغيرها, ص٧৩৯, رقم الحديث ৪০২২)
“বুরাইদা রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই ছোটো বা বড়ো কোনো সৈন্যদলের আমির হিসেবে কাউকে প্রেরণ করতেন, প্রথমেই তাকে নিজের ব্যাপারে তাকওয়া ও তার সাথী অন্যান্য মুসলমানদের ব্যাপারে কল্যাণকামিতার অসিয়ত করতেন। এবং বলতেন, যখন তোমার শত্রু মুশরিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, তাদেরকে তিনটি বিষয়ের কোনো একটি গ্রহণ করার প্রতি আহ্বান জানাবে। তা থেকে যেকোনো একটির প্রতি সাড়া দিলে তুমি তাদের থেকে তা গ্রহণ করে নিবে এবং তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকবে। প্রথমেই তাদেরকে ইসলাম গ্রহণ করার প্রতি আহ্বান করো। যদি তারা সেটির প্রতি সাড়া দেয়, তাদের থেকে তা গ্রহণ করে নাও এবং যুদ্ধ থেকে বিরত থাকো। অতঃপর তাদেরকে তাদের অঞ্চল থেকে মুহাজিরদের অঞ্চলে স্থানান্তর হওয়ার আহ্বান জানাও। এবং তাদেরকে জানিয়ে দাও; যদি তারা এমনটি করে, তাহলে মুহাজিরগণ যে অধিকার পায় তারাও সে অধিকার পাবে এবং মুহাজিরদের উপর যা অর্পিত হয় তাদের উপরও তা অর্পিত হবে। যদি তারা স্থানান্তরের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেদের অঞ্চলে অবস্থান করাকেই গ্রহণ করে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দাও; তারা বেদুঈন মুসলমানদের ন্যায় পরিগণিত হবে। অন্যান্য মুসলমানদের ক্ষেত্রে আল্লাহর যে সকল বিধান কার্যকর হয়, তাদের ক্ষেত্রেও তাই কার্যকর হবে এবং মুসলমানদের সঙ্গে জিহাদে অংশগ্রহণ না করলে 'গনিমত' যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও 'ফাই' সন্ধিসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদে তাদের কোনো অংশ থাকবে না। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তাদেরকে 'জিযয়া' অমুসলিমদের উপর ধার্যকৃত কর আদায় করতে বলো। যদি তারা তাতে সাড়া দেয়, তাদের থেকে তা গ্রহণ করো এবং যুদ্ধ থেকে বিরত থাকো। যদি তারা 'জিযয়া' দিতেও অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে আল্লাহর নিকট সাহায্য কামনা করে তাদের মোকাবেলায় কিতাল করো.....।" (সুনানে আবু দাউদ, পৃ: ৫৭৩, হাদিস নং: ২৬১২, আরো দেখুন: সহিহ মুসলিম, পৃঃ ৭৩৯, হাদিস নং: ৪৫২২)