📄 ইবনে তাইমিয়া আলহাম্বলি
ইবনে তাইমিয়া আলহাম্বলি (মৃ-৭২৮ হি.)
لكن من الناس من يكون جاهلاً ببعض هذه الأحكام جهلاً يعذر به، فلا يحكم بكفر أحد حتى تقوم عليه الحجة من جهة بلاغ الرسالة ، كما قال تعالى: {لئلا يكون للناس على الله حجة بعد الرسل وقال تعالى: {وما كنا معذبين حتى نبعث رسولا}. (مجموع الفتاوى لابن تيمية, ١١/٤٠٦)
“এ সকল বিধি-বিধানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষদের কেউ কেউ এ পর্যায়ের অজ্ঞতার শিকার হয় যা 'ওযর' হিসেবে গ্রহণযোগ্য। সুতরাং বার্তা পৌঁছানোর মাধ্যমে 'ইকামাতে হুজ্জাত' দলিল পূর্ণ করার পূর্বে কারো ব্যাপারে কুফরের হুকুম দেয়া হবে না। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'যাতে আল্লাহর বিপক্ষে রাসুলদের পর মানুষের জন্য কোন অজুহাত না থাকে।' আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, 'আর রাসুল প্রেরণ না করা পর্যন্ত আমি শাস্তিদাতা নই।” (মাজমুউল ফাতাওয়া, ১১/৪০৬)
📄 ফখরুদ্দিন যাইলায়ি আলহানাফি
ফখরুদ্দিন যাইলায়ি আলহানাফি (মৃ-৭৪৩ হি.)
والذمي لو أسلم يلزمه لقدرته على التحصيل؛ لأن الدار دار العلم، فإذا لم يحصل كان التقصير من جهته فلا يعذر . (تبيين الحقائق للفخر الزيلعي , ١٠٢/١)
“যিম্মি যদি মুসলমান হয়ে যায়, তাহলে ইলম অর্জন করার সুযোগ থাকায় তার জন্য বিধি-বিধান আবশ্যকীয় হয়ে যাবে। কেননা অঞ্চলটি ইলম ব্যাপক হয়ে থাকা অঞ্চল। তাই ইলম অর্জন না করলে এটি তার ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে, সুতরাং তা ‘ওযর' হিসেবে ধর্তব্য হবে না।” (তাবয়িনুল হাকায়েক, ১/১০২)
📄 ইবনে হাজার হাইতামি আশশাফেয়ি
ইবনে হাজার হাইতামি আশশাফেয়ি (মৃ-৯৭৪ হি.)
نعم يعذر مدعي الجهل، إن عذر لقرب عهده بالإسلام، أو بعده عن العلماء. (الإعلام بقواطع الإسلام للهيتمي, ص ۲۸۲ , إكفار الملحدين, ص٩١)
“হাঁ! অজ্ঞতার দাবিদার 'ওযর' পেশ করলে তা 'ওযর' হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে, যদি সে নবমুসলিম হয় অথবা উলামায়ে কেরাম থেকে দূরে বসবাসরত হয়।” (আলই'লাম বি কাওয়াতিয়িল ইসলাম, পৃ: ২৮২-আলজামে' ফি আলফাযিল কুফর নামক চার কিতাবের সমষ্টির সঙ্গে-, ইকফারুল মুলহিদিন, পৃ: ৯১)
📄 অজ্ঞতার দাবি করা দ্বীনি বিষয়ে ‘মুদাহানাত’ শিথিলতা
চতুর্থত: তথাকথিত বর্তমান মুসলিম বিশ্বের গণতান্ত্রিক সরকারদের ব্যাপারে অজ্ঞতার দাবি করা কি দ্বীনি বিষয়ে ‘মুদাহানাত' শিথিলতা নয়? যেখানে যুগের পর যুগ ইসলামি দলগুলো -চাই তাদের মানহাজ সহিহ হোক বা না হোক- ইসলামি হুকুমত, শরয়ি কানুন, আল্লাহর সংবিধান-কুরআনের সংবিধানের দাবি করে আসছে এবং তা করে আসছে সংসদে আইন প্রণেতাদের সামনে, রাষ্ট্রের হর্তকর্তাদের সামনে। দ্বীনের ধারক-বাহকগণ ধর্মনিরপেক্ষতা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছেন। এবং এটি একবার বা একদিনের ঘটনা নয়; বরং যুগের পর যুগ ধরে চলছে। এরপরও তাদের ব্যাপারে অজ্ঞতার দাবি করা কি অনর্থক নয়? এ দাবিকে কুরআন, সুন্নাহ, ফিকহ কতোটুকু সমর্থন করবে তা কি দেখার কোনো প্রয়োজন নেই?