📄 ফখরুদ্দিন রাযি আশশাফেয়ি
ফখরুদ্দিন রাযি আশশাফেয়ি (মৃ-৬০৬ হি.)
والوجه الثالث: أن يكون المراد منه أن يأتي الإنسان بالمعصية مع أنه لا يعلم كونه معصية لكن بشرط أن يكون متمكناً من العلم بكونه معصية، فإنه على هذا التقدير يستحق العقاب، ولهذا المعنى أجمعنا على أن اليهودي يستحق على يهوديته العقاب، وإن كان لا يعلم كون اليهودية معصية، إلا أنه لما كان متمكناً من تحصيل العلم بكون اليهودية ذنباً ومعصية، كفى ذلك في ثبوت استحقاق العقاب. (التفسير الكبير للرازي, سورة النساء – الآية: ١٧, ٥/١٠)
“তৃতীয় ব্যাখ্যা. তা দ্বারা উদ্দেশ্য কেউ গোনাহকে গোনাহ না জেনে তাতে লিপ্ত হওয়া। কিন্তু কেউ যদি কাজটি গোনাহ হওয়ার ইলম অর্জন করতে সক্ষম হয়, তাহলে সে শাস্তির উপযুক্ত হবে। এজন্যই আমরা এ ব্যাপারে একমত যে, ইহুদি ইহুদি হওয়ার কারণে শাস্তি ভোগ করবে, যদিও সে জানে না যে ইহুদি হওয়া অন্যায়। কেননা তার এই ইলম অর্জন করার সুযোগ ছিলো যে ইহুদি হওয়া গোনাহ ও অপরাধ, এতোটুকুই শাস্তির উপযুক্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট।” (আততাফসিরুল কাবির, ১০/৫, সুরা নিসা, আয়াত: ১৭)
📄 ইবনে কুদামা আলহাম্বলি
ইবনে কুদামা আলহাম্বলি (মৃ-৬২০ হি.)
ولأن الجهل بأحكام الشرع مع التمكن من العلم لا يسقط أحكامها كالجهل بتحريم الأكل في الصوم. (المغني لابن قدامة, باب صفة الصلاة, فصل ترك الترتيب بالجهل بوجوبه, ٣٤٦/٢)
“জানার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শরিআতের বিধি-বিধানের ব্যাপারে অজ্ঞতা তার হুকুমকে বিয়োজন করে না। যেমন রোযা অবস্থায় পানাহার হারাম হওয়ার ব্যাপারে অজ্ঞতা।” (আলমুগনি, ২/৩৪৬)
(۳۲۹) مسألة؛ قال: (ومن ترك الصلاة، وهو بالغ عاقل، جاحداً لها أو غير جاحد، دعي إليها في وقت كل صلاة، ثلاثة أيام، فإن صلى وإلا قتل وجملة ذلك أن تارك الصلاة لا يخلو؛ إما أن يكون جاحداً لوجوبها، أو غير جاحد، فإن كان جاحداً لوجوبها نظر فيه، فإن كان جاهلاً به، وهو ممن يجهل ذلك، كالحديث الإسلام والناشئ ببادية، عرف وجوبها وعلم ذلك، ولم يحكم بكفره؛ لأنه معذور. وإن لم يكن ممن يجهل ذلك، كالناشئ بين المسلمين في الأمصار والقرى، لم يعذر ولم يقبل منه ادعاء الجهل، وحكم بكفره؛ لأن أدلة الوجوب ظاهرة في الكتاب والسنة، والمسلمون يفعلونها على الدوام، فلا يخفى وجوبها على من هذا حاله، فلا يجحدها إلا تكذيباً الله تعالى ولرسوله وإجماع الأمة، وهذا يصير مرتداً عن الإسلام، وحكمه حكم سائر المرتدين في الاستتابة والقتل، ولا أعلم في هذا خلافاً. (المغني, باب الحكم في من ترك الصلاة, ٣٥١/٣)
“(অস্বীকার করে বা না করে কোনো আকেল বালেগ যদি নামাযকে বর্জন করে, তাকে তিনদিন প্রতি ওয়াক্তে নামাযের জন্য আহ্বান করা হবে। যদি নামায আদায় করে তাহলে তো ভালো, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে।) মোটকথা, নামায বর্জনকারী হয়তো নামায ফরয হওয়াকে অস্বীকার করে অথবা করে না। যদি অস্বীকারকারী হয়, তাহলে তার অবস্থা দেখতে হবে। যদি সে জাহেল হয় এবং নতুন মুসলমান বা বেদুঈন হওয়ার মতো জাহেল থাকার কারণ বিদ্যমান থাকে, তাহলে নামায ফরয হওয়ার বিষয়টি তাকে জানানো হবে এবং কুফরের হুকুম দেয়া হবে না। কেননা সে অপারগ। আর যদি অজ্ঞ থাকার কোনো কারণ তার মাঝে বিদ্যমান না থাকে, যেমন শহরে-গ্রামে সে মুসলমানদের মাঝে বসবাস করে, তার 'ওযর' ধর্তব্য হবে না এবং তার অজ্ঞতার দাবি গ্রহণ করা হবে না। বরং তার কুফরের হুকুম দেয়া হবে। কেননা কুরআন-সুন্নাহে তা ফরয হওয়ার দলিল স্পষ্ট এবং মুসলমানরা দৈনন্দিন তা পালন করে চলছে। মুসলমানদের মাঝে বসবাসরত ব্যক্তির নিকট নামায ফরয হওয়ার বিষয়টি অস্পষ্ট হওয়ার কথা নয়। সুতরাং বুঝা যাবে, সে আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও উম্মাহর 'ইজমা'কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতেই সেটিকে অস্বীকার করছে। এই লোক মুরতাদ হিসেবে সাব্যস্ত হবে এবং তার হুকুমও অন্যান্য মুরতাদদের ন্যায়; হয়তো তাওবা করতে বলা হবে নতুবা হত্যা করা হবে। এ ব্যাপারে কোনো মতানৈক্য আমার জানা নেই।” (আলমুগনি, ৩/৩৫১)
📄 আবুল আব্বাস আলকারাফি আলমালেকি
আবুল আব্বাস আলকারাফি আলমালেকি (মৃ-৬৮৪ হি.)
واعلم أن الجهل بما تؤدي إليه هذه الأدعية ليس عذراً للداعي عند الله تعالى؛ لأن القاعدة الشرعية دلت على أن كل جهل يمكن المكلف دفعه لا يكون حجة للجاهل، فإن الله تعالى بعث رسله إلى خلقه برسائله، وأوجب عليهم كافة أن يعلموها ثم يعملوا بها، فالعلم والعمل بها واجبان، فمن ترك التعلم والعمل وبقي جاهلاً فقد عصى معصيتين لتركه واجبين، وإن علم ولم يعمل فقد عصى معصية واحدة بترك العمل، ومن علم وعمل فقد নেছা. (আল ফুরুক লিল কুরাফী, আল ফারকুস সানি ওয়াস সিবউন ওয়াল মিতআন, ৪/৪৪২)
“জেনে রাখা উচিত, এ সকল দাবিতে যে অজ্ঞতার কথা ফুটে উঠে, তা আল্লাহ তাআলার নিকট দাবিদারের 'ওযর' হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা শরয়ি মূলনীতি প্রমাণ করে, যে অজ্ঞতাকে দূর করা সম্ভব, জাহেলের জন্য সে অজ্ঞতা (ওযরের) দলিল হবে না। কারণ আল্লাহ তাআলা তার বার্তা দিয়ে মানুষদের নিকট রাসুলদেরকে প্রেরণ করেছেন এবং সকলের জন্য তা জেনে সে অনুযায়ী আমল করা আবশ্যকীয় করে দিয়েছেন। সুতরাং জানা ও আমল করা দু'টোই ওয়াজিব। যে শেখা ও আমল করা বর্জন করে এবং অজ্ঞ থাকে, সে দু'টি ওয়াজিব বর্জন করার পাপে পাপিষ্ঠ হবে। আর যে শিখলো কিন্তু আমল করলো না, সে আমল না করার গোনাহে গোনাহগার হবে। আর যে শিখলো এবং আমল করলো সে সফলকাম হলো।” (আলফুরুক, ৪/৪৪৯)
📄 ইবনে তাইমিয়া আলহাম্বলি
ইবনে তাইমিয়া আলহাম্বলি (মৃ-৭২৮ হি.)
لكن من الناس من يكون جاهلاً ببعض هذه الأحكام جهلاً يعذر به، فلا يحكم بكفر أحد حتى تقوم عليه الحجة من جهة بلاغ الرسالة ، كما قال تعالى: {لئلا يكون للناس على الله حجة بعد الرسل وقال تعالى: {وما كنا معذبين حتى نبعث رسولا}. (مجموع الفتاوى لابن تيمية, ١١/٤٠٦)
“এ সকল বিধি-বিধানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষদের কেউ কেউ এ পর্যায়ের অজ্ঞতার শিকার হয় যা 'ওযর' হিসেবে গ্রহণযোগ্য। সুতরাং বার্তা পৌঁছানোর মাধ্যমে 'ইকামাতে হুজ্জাত' দলিল পূর্ণ করার পূর্বে কারো ব্যাপারে কুফরের হুকুম দেয়া হবে না। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'যাতে আল্লাহর বিপক্ষে রাসুলদের পর মানুষের জন্য কোন অজুহাত না থাকে।' আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, 'আর রাসুল প্রেরণ না করা পর্যন্ত আমি শাস্তিদাতা নই।” (মাজমুউল ফাতাওয়া, ১১/৪০৬)