📄 আবু সুলাইমান আলখাত্তাবি আশশাফেয়ি
আবু সুলাইমান আলখাত্তাবি আশশাফেয়ি (মৃ-৩৮৮ হি.) প্রথম যুগে যে সকল ক্ষেত্রে অজ্ঞতা 'ওযর' হিসেবে ধর্তব্য হয়েছে, পরবর্তীতে কেনো তা ধর্তব্য হবে না; উভয় যুগের পার্থক্য আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন- منها قرب العهد بزمان الشريعه التي كان يقع فيها تبديل الأحكام. ومنها وقوع الفترة بموت النبي ﷺ وكان القوم جهالاً بأمور الدين وكان عهدهم حديثاً بالإسلام فتداخلتهم الشبهة فعذروا كما عذر بعض من تأول من الصحابة في استباحة شرب الخمر ....... فأما اليوم فقد شاع دين الإسلام واستفاض علم وجوب الزكاة حتى عرفه الخاص والعام واشترك فيه العالم والجاهل فلا يعذر أحد بتأويل يتأوله في إنكارها. وكذلك الأمر في كل من أنكر شيئاً مما أجمعت عليه الأمة من أمور الدين إذا كان علمه منتشراً كالصلوات الخمس وصيام شهر رمضان والاغتسال من الجنابة وتحريم الزنا والخمر ونكاح ذوات المحارم في نحوها من الأحكام، إلا أن يكون رجل حديث عهد بالإسلام لا يعرف حدوده، فإذا أنكر شيئاً منه جهلاً به لم يكفر وكان سبيله سبيل أولئك القوم في تبقية اسم الدين عليه. (معالم السنن للخطابي, كتاب الزكاة, ٨/٢, شرح صحيح مسلم للنووي, ٣٠٠/١, إكفار الملحدين, ص٩١)
“তন্মধ্যে একটি হচ্ছে, শরিআত প্রবর্তনের সময় নিকটবর্তী হওয়া যাতে বিধান পরিবর্তন হতো। আরেকটি হচ্ছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইনতিকালের কারণে অবসন্নতা ছড়িয়ে পড়া। সাধারণ মানুষ দ্বীনি বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলো এবং নতুন মুসলমান ছিলো। তাই তাদের মাঝে বিভিন্ন সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। এ কারনেই তাদের 'ওযর' গ্রহণযোগ্য হয়েছে, যেমনিভাবে মদ পান করার বৈধতার ব্যাপারে কিছু সংখ্যক সাহাবির 'তাবিল' ব্যাখ্যা 'ওযর' হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। ..... কিন্তু বর্তমানে ইসলাম ছড়িয়ে পড়েছে এবং যাকাত ফরয হওয়ার বিষয়টি এমনভাবে প্রসিদ্ধ হয়েছে যে সাধারণ ও বিশেষ সকলেই তা জানে। এক্ষেত্রে আলেম-জাহেল সকলেই সমান। তাই যাকাত অস্বীকার করতে গিয়ে কোনো ব্যাখ্যার আশ্রয় নিলে তা 'ওযর' হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। যে কেউ দ্বীনি যে সকল বিষয়ের উপর উম্মাহর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে, তার কোনো একটিকে অস্বীকার করবে; তার ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে। যখন তা জানা-শুনার বিষয়টি ব্যাপক হবে, যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামায, রমযানের রোযা, 'জানাবাত' শারীরিক অপবিত্রতা থেকে গোসল করা এবং যিনা, মদ ও 'মাহরাম' যাদের সঙ্গে বিবাহ বৈধ নয় তাদেরকে বিবাহ করা হারাম হওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন বিধি-বিধান। হাঁ! কেউ যদি নতুন মুসলমান হয় যে এখনো হালাল হারামের পার্থক্য বুঝেনি; সে যদি অজ্ঞতার কারণে কোনোটিকে অস্বীকার করে, তাকে কাফের বলা হবে না। মুসলমান বলার ক্ষেত্রে তাকে প্রথম শ্রেণির লোকের বিবেচনায় রাখা হবে।” (মাআলিমুস সুনান, ২/৮, শরহে সহিহে মুসলিম, ১/৩০০, ইকফারুল মুলহিদিন, পৃ: ৯১)
📄 বুরহানুদ্দিন আলমারগিনানি আলহানাফি
বুরহানুদ্দিন আলমারগিনানি আলহানাফি (মৃ-৫৯৩ হি.)
لأنها تتفرغ لمعرفة أحكام الشرع والدار دار العلم فلم تعذر بالجهل. (الهداية, كتاب النكاح, باب في الأولياء والأكفاء, ٣١٧/٢)
“কেননা সে শরিআতের আহকাম জানার সুযোগ পায়, কারণ অঞ্চলটি ইলম ব্যাপক হয়ে থাকা অঞ্চল। সুতরাং অজ্ঞতা 'ওযর' হিসেবে ধর্তব্য হবে না।” (হিদায়া, ২/৩১৭)
📄 ফখরুদ্দিন রাযি আশশাফেয়ি
ফখরুদ্দিন রাযি আশশাফেয়ি (মৃ-৬০৬ হি.)
والوجه الثالث: أن يكون المراد منه أن يأتي الإنسان بالمعصية مع أنه لا يعلم كونه معصية لكن بشرط أن يكون متمكناً من العلم بكونه معصية، فإنه على هذا التقدير يستحق العقاب، ولهذا المعنى أجمعنا على أن اليهودي يستحق على يهوديته العقاب، وإن كان لا يعلم كون اليهودية معصية، إلا أنه لما كان متمكناً من تحصيل العلم بكون اليهودية ذنباً ومعصية، كفى ذلك في ثبوت استحقاق العقاب. (التفسير الكبير للرازي, سورة النساء – الآية: ١٧, ٥/١٠)
“তৃতীয় ব্যাখ্যা. তা দ্বারা উদ্দেশ্য কেউ গোনাহকে গোনাহ না জেনে তাতে লিপ্ত হওয়া। কিন্তু কেউ যদি কাজটি গোনাহ হওয়ার ইলম অর্জন করতে সক্ষম হয়, তাহলে সে শাস্তির উপযুক্ত হবে। এজন্যই আমরা এ ব্যাপারে একমত যে, ইহুদি ইহুদি হওয়ার কারণে শাস্তি ভোগ করবে, যদিও সে জানে না যে ইহুদি হওয়া অন্যায়। কেননা তার এই ইলম অর্জন করার সুযোগ ছিলো যে ইহুদি হওয়া গোনাহ ও অপরাধ, এতোটুকুই শাস্তির উপযুক্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট।” (আততাফসিরুল কাবির, ১০/৫, সুরা নিসা, আয়াত: ১৭)
📄 ইবনে কুদামা আলহাম্বলি
ইবনে কুদামা আলহাম্বলি (মৃ-৬২০ হি.)
ولأن الجهل بأحكام الشرع مع التمكن من العلم لا يسقط أحكامها كالجهل بتحريم الأكل في الصوم. (المغني لابن قدامة, باب صفة الصلاة, فصل ترك الترتيب بالجهل بوجوبه, ٣٤٦/٢)
“জানার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শরিআতের বিধি-বিধানের ব্যাপারে অজ্ঞতা তার হুকুমকে বিয়োজন করে না। যেমন রোযা অবস্থায় পানাহার হারাম হওয়ার ব্যাপারে অজ্ঞতা।” (আলমুগনি, ২/৩৪৬)
(۳۲۹) مسألة؛ قال: (ومن ترك الصلاة، وهو بالغ عاقل، جاحداً لها أو غير جاحد، دعي إليها في وقت كل صلاة، ثلاثة أيام، فإن صلى وإلا قتل وجملة ذلك أن تارك الصلاة لا يخلو؛ إما أن يكون جاحداً لوجوبها، أو غير جاحد، فإن كان جاحداً لوجوبها نظر فيه، فإن كان جاهلاً به، وهو ممن يجهل ذلك، كالحديث الإسلام والناشئ ببادية، عرف وجوبها وعلم ذلك، ولم يحكم بكفره؛ لأنه معذور. وإن لم يكن ممن يجهل ذلك، كالناشئ بين المسلمين في الأمصار والقرى، لم يعذر ولم يقبل منه ادعاء الجهل، وحكم بكفره؛ لأن أدلة الوجوب ظاهرة في الكتاب والسنة، والمسلمون يفعلونها على الدوام، فلا يخفى وجوبها على من هذا حاله، فلا يجحدها إلا تكذيباً الله تعالى ولرسوله وإجماع الأمة، وهذا يصير مرتداً عن الإسلام، وحكمه حكم سائر المرتدين في الاستتابة والقتل، ولا أعلم في هذا خلافاً. (المغني, باب الحكم في من ترك الصلاة, ٣٥١/٣)
“(অস্বীকার করে বা না করে কোনো আকেল বালেগ যদি নামাযকে বর্জন করে, তাকে তিনদিন প্রতি ওয়াক্তে নামাযের জন্য আহ্বান করা হবে। যদি নামায আদায় করে তাহলে তো ভালো, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে।) মোটকথা, নামায বর্জনকারী হয়তো নামায ফরয হওয়াকে অস্বীকার করে অথবা করে না। যদি অস্বীকারকারী হয়, তাহলে তার অবস্থা দেখতে হবে। যদি সে জাহেল হয় এবং নতুন মুসলমান বা বেদুঈন হওয়ার মতো জাহেল থাকার কারণ বিদ্যমান থাকে, তাহলে নামায ফরয হওয়ার বিষয়টি তাকে জানানো হবে এবং কুফরের হুকুম দেয়া হবে না। কেননা সে অপারগ। আর যদি অজ্ঞ থাকার কোনো কারণ তার মাঝে বিদ্যমান না থাকে, যেমন শহরে-গ্রামে সে মুসলমানদের মাঝে বসবাস করে, তার 'ওযর' ধর্তব্য হবে না এবং তার অজ্ঞতার দাবি গ্রহণ করা হবে না। বরং তার কুফরের হুকুম দেয়া হবে। কেননা কুরআন-সুন্নাহে তা ফরয হওয়ার দলিল স্পষ্ট এবং মুসলমানরা দৈনন্দিন তা পালন করে চলছে। মুসলমানদের মাঝে বসবাসরত ব্যক্তির নিকট নামায ফরয হওয়ার বিষয়টি অস্পষ্ট হওয়ার কথা নয়। সুতরাং বুঝা যাবে, সে আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও উম্মাহর 'ইজমা'কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতেই সেটিকে অস্বীকার করছে। এই লোক মুরতাদ হিসেবে সাব্যস্ত হবে এবং তার হুকুমও অন্যান্য মুরতাদদের ন্যায়; হয়তো তাওবা করতে বলা হবে নতুবা হত্যা করা হবে। এ ব্যাপারে কোনো মতানৈক্য আমার জানা নেই।” (আলমুগনি, ৩/৩৫১)