📄 সংশয়ের পর্যালোচনা
প্রথম কথা: অবশ্যই! জাহালত-অজ্ঞতাকে শর্তহীনভাবে 'ওযর' নয় বলে দেয়া সহিহ নয়। তবে কারো কারো আলোচনার ভাবে মনে হয়, শর্তহীনভাবে 'ওযর' হিসেবে গ্রহণ করতে কোনো আপত্তি নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, শর্তগুলোর কি কোনো সীমারেখা আছে? এক প্রকারের অজ্ঞতা তো কাফেরদের মাঝেও রয়েছে। স্বয়ং আল্লাহ তাআলাই তো নবীগণের ভাষ্যে কাফেরদেরকে জাহেল বলেছেন "إني أراكم قوماً تجهلون", "قال إنكم قوم تجهلون", "بل أنتم قوم تجهلون" ইত্যাদি ইত্যাদি। এ অজ্ঞতাকে নিঃসন্দেহে কেউই গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।
📄 প্রথম কথা
প্রথম কথা: অবশ্যই! জাহালত-অজ্ঞতাকে শর্তহীনভাবে 'ওযর' নয় বলে দেয়া সহিহ নয়। তবে কারো কারো আলোচনার ভাবে মনে হয়, শর্তহীনভাবে 'ওযর' হিসেবে গ্রহণ করতে কোনো আপত্তি নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, শর্তগুলোর কি কোনো সীমারেখা আছে? এক প্রকারের অজ্ঞতা তো কাফেরদের মাঝেও রয়েছে। স্বয়ং আল্লাহ তাআলাই তো নবীগণের ভাষ্যে কাফেরদেরকে জাহেল বলেছেন "إني أراكم قوماً تجهلون" , "قال إنكم قوم تجهلون", "بل أنتم قوم تجهلون" ইত্যাদি ইত্যাদি। এ অজ্ঞতাকে নিঃসন্দেহে কেউই গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।
📄 যেকোনো ক্ষেত্রেই কি অজ্ঞতা ‘ওযর’?
দ্বিতীয়ত: যেকোনো ক্ষেত্রেই কি অজ্ঞতা 'ওযর'? ফুকাহায়ে কেরামের ভাষ্যমতে সুস্পষ্ট কুফর ও অকাট্যভাবে প্রমাণিত বিষয়াদির ক্ষেত্রে অজ্ঞতা 'ওযর' নয়। এছাড়াও ফিকহের কিতাবাদির পাতায় পাতায় এমন হাজারো মাসআলা পাওয়া যাবে, যে সকল ক্ষেত্রে অজ্ঞতা 'ওযর' নয় বলা হয়েছে। উসুলে ফিকহের কিতাবাদি থেকে জাহালাতের অধ্যায়টি পড়ে নেয়া সচেতন পাঠকের দায়িত্ব। আমি এখানে শুধু কয়েকটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করছি-
📄 তাহের ইবনে আব্দুর রশিদ আলবুখারি আলহানাফি
তাহের ইবনে আব্দুর রশিদ আলবুখারি আলহানাফি (মৃ- ৫৪২ হি.)
ওয়ামিনহা আন্নাহু মান আতা বিলفظাতিল কুফরি ওয়াহুয়া লাম ইয়া’লাম আন্নাহা কুফরুন ইল্লা আন্নাহু আতা বিহা আন ইখতিয়ারিন ইয়াকফুরু ইনদা আম্মাতিল উলামায়ি খিলাফান লিলবা’দ্ব, ওয়া লা ইউ’জারু বিলজাহল। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া লিত তাহের বিন আব্দুর রশিদ আল বুখারি, কিতাবু আলফাজিল কুফর, ৪/৩৮২, আল আশবাহ ওয়ান্নাজায়ের লিবনি নুজাইম, পৃ: ৩৬২, আল হিন্দিয়া, ২/২৭৬)
“কেউ যদি স্বেচ্ছায় কুফরি কথা উচ্চারণ করে, অথচ সে জানে না যে তা কুফর; কিছু সংখ্যক আলেম ব্যতীত অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মতে তাকে কাফের আখ্যায়িত করা হবে। এক্ষেত্রে অজ্ঞতা 'ওযর' হিসেবে ধর্তব্য হবে না।” (খুলাসাতুল ফাতাওয়া, ৪/৩৮২, আল আশবাহ, পৃ: ৩৬২, হিন্দিয়া, ২/২৭৬)