📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 হাফেয ইবনে হাজার আসকালানির দাবি

📄 হাফেয ইবনে হাজার আসকালানির দাবি


وكلهم أجمعوا على أن أحكام الدنيا على الظاهر، والله يتولى السرائر. (فتح الباري للعسقلاني, كتاب استتابة المرتدين, باب حكم المرتد والمرتدة واستتابتهم, ١٩١/٢٢)

“সকলেই এ ব্যাপারে একমত যে, দুনিয়ার বিধি-বিধান কার্যকর হবে বাহ্যিক অবস্থার ভিত্তিতে। অপ্রকাশ্য বিষয়ের দায়-দায়িত্ব আল্লাহর হাতে।” (ফাতহুল বারি, ২২/১৯১)

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 বদরুদ্দিন আইনির দাবি

📄 বদরুদ্দিন আইনির দাবি


قوله: (إنما أنا بشر) أي: لا أعلم الغيب وبواطن الأمور، كما هو مقتضى حال البشرية، وأنه إنما يحكم بالظاهر والله يتولى السرائر، ولو شاء الله لأطلعه على باطن الأمور حتى يحكم باليقين، لكن أمر الله أمته بالاقتداء به، فأجرى أحكامه على الظاهر لتطيب نفوسهم للانقياد. (عمدة القاري للعيني, كتاب المظالم والغضب, باب إثم من خاصم في باطل وهو يعلمه, ٩٩/١٢)

“(আমি একজন মানুষ) অর্থাৎ আমি মানুষ হিসেবে অদৃশ্যের বিষয় ও অপ্রকাশ্য বিষয়ের ব্যাপারে অবগত নই। তিনি বাহ্যিক অবস্থার ভিত্তিতেই ফয়সালা করবেন, অপ্রকাশ্য বিষয়ের দায়-দায়িত্ব আল্লাহর হাতে। আল্লাহ তাআলা চাইলে তাঁকে গোপন বিষয়ে অবগত করে দিতে পারতেন, যেনো তিনি নিশ্চিত জেনে ফয়সালা করতে পারেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর উম্মতদের তাঁর অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিধি-বিধানের ভিত্তি রেখেছেন বাহ্যিক অবস্থার উপর। যেনো আনুগত্যের ক্ষেত্রে তাদের অন্তর আস্থাশীল হয়।” (উমদাতুল কারি, ১২/৯৯)

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 আবুল আব্বাস ইবনে হাজার হাইতামির দাবি

📄 আবুল আব্বাস ইবনে হাজার হাইতামির দাবি


وما ذكره ظاهر موافق لقواعد مذهبنا إذ المدار في الحكم بالكفر على الظواهر، ولا نظر للمقصود والنيات ولا نظر لقرائن حاله (الإعلام بقواطع الإسلام للهيتمي ص۲۸۲ ، إكফار الملحدين، ص۹۱)

“তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা আমাদের মাযহাবের মূলনীতি অনুযায়ী হয়েছে। কেননা কুফরের হুকুমের মূলভিত্তি হলো বাহ্যিক অবস্থা। উদ্দেশ্য, নিয়ত ও তার অবস্থার লক্ষণকে আমলে আনা হবে না।” (আলই'লাম বি কাওয়াতিয়িল ইসলাম, পৃঃ ২৮২ -আলজামে' ফি আলফাযিল কুফর নামক চার কিতাবের সমষ্টির সঙ্গে-, ইকফারুল মুলহিদিন, পৃ: ৯১)

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 ‘তাকদিমে ই‘তিকাদি’ প্রমাণিত হওয়ার ব্যবস্থা কী?

📄 ‘তাকদিমে ই‘তিকাদি’ প্রমাণিত হওয়ার ব্যবস্থা কী?


তৃতীয়ত: 'তাকদিমে ই'তিকাদি' প্রমাণিত হওয়ার ব্যবস্থা কী? যুগের পর যুগ কুফরি সংবিধানের উপর অবিচল থাকা, উত্তরোত্তর তা যুগোপযোগী করার জন্য নিজেদের পুরো মেধা ও সময় ব্যয় করা এবং সফলতার উপর গর্ববোধ ও জনসম্মুখে বুক ফুলিয়ে তা ব্যক্ত করা, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও গণ প্রজাতন্ত্র উভয়ের মাঝে পার্থক্য বুঝে বলেই 'ইসলামি'র স্থলে 'গণ'কে স্থান দেয়া, স্বাধীনতার এক বছরের মাথায় সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে ঠাঁই দেয়া, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টানসহ বিধর্মীদের কুফরি উৎসব উপলক্ষে সরকার কর্তৃক শুভেচ্ছা বাণী প্রদান করা এবং বিশেষ কোনো ইস্যুতে ইসলামি আইন বাস্তবায়নের দাবিতে উলামায়ে কেরাম রাজপথে নামলে তাদেরকে অস্ত্র হাতে দমন করা ইত্যাদি ইত্যাদি; এসব কিছু কি 'তাকদিমে ই'তিকাদি'র আলামত বহন করে না? যদি না করে থাকে তাহলে আশা করি কোনো গবেষক আমাদেরকে 'তাকদিমে ই'তিকাদি' বুঝার কিছু ব্যবস্থাপত্র দেবেন। তবে সঙ্গে আরেকটি কাজ করতে হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যমানা থেকে শতাব্দীকাল ধরে যতো মুরতাদ ও যিন্দিককে ইরতিদাদ ও যানদাকার কারণে হত্যা করা হয়েছে এবং ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাযি. এর যমানা থেকে যুগে যুগে যতো মুরতাদ ও যিন্দিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইরতিদাদ ও যানদাকার কারণে জিহাদ করা হয়েছে; সকল ক্ষেত্রে বা কোনো একটি ক্ষেত্রে 'তাকদিমে ই'তিকাদি' প্রমাণ করার জন্য গবেষকের দেয়া সে সকল ফর্মুলা আমলে নেয়া হয়েছিলো; তাও প্রমাণ করে দেখাতে হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px