📄 ইবনুল হুমাম
ومن هزل بلفظ كفر ارتد وإن لم يعتقده للاستخفاف، فهو ككفر العناد، والألفاظ التي يكفر بها تعرف في الفتاوى فتح القدير لابن الهمام, ٩١/٦)
“যে হেয়জ্ঞান করে কুফরি শব্দ দিয়ে রসিকতা করলো; সে মুরতাদ হয়ে যাবে, যদিও সে তার ই'তিকাদ না রাখে। তা হটকারিতা করে কুফরি করার মতই। যে সকল শব্দের কারণে কাফের আখ্যায়িত করা হয় তা ফাতাওয়ার কিতাবে জানা যাবে।” (ফাতহুল কাদির, ৬/৯১)
📄 ইবনে নুজাইম আলহানাফি
والحاصل أن من تكلم بكلمة الكفر هازلاً أو لاعباً كفر عند الكل، ولا اعتبار باعتقاده. كما صرح به قاضي خان في فتاواه. (البحر الرائق لابن نجيم, ٢١٠/٥, رد المحتار, ٢٧২/٦)
“মোটকথা, যে রসিকতা বা কৌতুকচ্ছলে কুফরি কথা বললো; সকলের মতে তাকে কাফের হিসেবে আখ্যায়িত করা হবে এবং তার ই'তিকাদকে আমলে আনা হবে না। যেমনিভাবে কাযি খান তাঁর ফাতাওয়াতে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন।” (আলবাহরুর রায়েক, ৫/২১০, রদ্দুল মুহতার, ৬/২৭২)
📄 আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি
اتفقوا في بعض الأفعال على أنها كفر، مع أنه يمكن فيها أن لا ينسلخ من التصديق، لأنها أفعال الجوارح لا القلب، وذلك كالهزل بلفظ كفر وإن لم يعتقده، وكالسجود لصنم، وكقتل نبي، والاستخفاف به، وبالمصحف، والكعبة، واختلفوا في وجه الكفر بها بعد الاتفاق على التكفير، فقيل: إن الشارع لم يعتبر ذلك التصديق حكماً، وإن كان موجوداً حقيقة. حكاه الحافظ ابن تيمية في "كتاب الإيمان" من لفظ الأشعري، وقيل: إن ما كان دليل الاستخفاف يكفر به، وإن لم يقصد الاستخفاف ذكره في رد المحتار"، وقيل زيد على التصديق المجرد أشياء في الإيمان المعتبر شرعاً، وقيل التصديق المعتبر لا تجامع هذه الأفعال. ذكره العلامة قاسم في حاشية "المسايرة"، والحافظ ابن تيمية رحمه الله. وبالجملة يكفر ببعض الأفعাল أيضاً اتفاقاً، وإن لم ينسلخ من التصديق اللغوي القلبي. (إكفار الملحدين, ص٦٨)
“কিছু কিছু কাজের ব্যাপারে সমস্ত উলামায়ে কেরাম একমত যে তা কুফর, অথচ সেক্ষেত্রেও 'তাসদিক' শরিআতকে সত্যায়ন করা থেকে বের না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কেননা সেগুলো অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বিষয়, অন্তরের নয়। আর তা কুফরি শব্দ দিয়ে রসিকতা করার ন্যায়, যদিও সে তার ই'তিকাদ না রাখে। তেমনিভাবে মূর্তিকে সিজদা করা, নবীকে হত্যা করা এবং নবী, মুসহাফ ও কা'বাকে হেয়জ্ঞান করার ন্যায়। সমস্ত উলামায়ে কেরাম কাফের আখ্যা দেয়ার ব্যাপারে একমত পোষণ করার পর তাঁদের মাঝে কুফরের কারণ নিয়ে মতানৈক্য হয়েছে। কেউ বলেন, বাস্তবে 'তাসদিক'র উপস্থিতি থাকলেও শরিআত প্রণেতা কার্যত তা গ্রহণ করেননি। হাফেয ইবনে তাইমিয়া 'কিতাবুল ইমান' -এ আশআরির শব্দে তা বর্ণনা করেছেন। আর কেউ বলেন, যদি হেয়জ্ঞান করার প্রমাণ পাওয়া যায়; তাহলে কাফের সাব্যস্ত করা হবে, যদিও হেয়জ্ঞান করা তার উদ্দেশ্যে না থাকে। রদ্দুল মুহতারে তা উল্লেখ করা হয়েছে। আর কেউ বলেন, শরিআত ইমান গ্রহণযোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে 'তাসদিক'র সঙ্গে আরো কিছু বিষয় বৃদ্ধি করেছে। আর কেউ বলেন, গ্রহণযোগ্য 'তাসদিক'র সঙ্গে এ সকল কুফরি কাজ একত্রিত হতে পারে না। আল্লামা কাসেম 'আলমুসায়ারা' নামক কিতাবের টীকায় এবং হাফেয ইবনে তাইমিয়া তা উল্লেখ করেছেন। মোটকথা, উম্মাহর ঐক্যমত্যে কিছু কিছু কাজের কারণে কাফের আখ্যায়িত করা হবে, যদিও সে শাব্দিক আন্তরিক 'তাসদিক' থেকে বের হয়ে যায় না।” (ইকফারুল মুলহিদিন, পৃ: ৬৮)
وفي "مجمع الأنهر" مستدركاً على "البحر": لكن في "الدرر": وإن لم يعتقد، أو لم يعلم أنها لفظة الكفر، ولكن أتى بها عن اختيار، فقد كفر عند عامة العلماء، ولا يعذر بالجهل إلخ. وعزاه في "الدرر" من الكراهية، والاستحسان للمحيط". وهذا الخلاف في غير الضروريات، وأما هي فليس فيها إلا الاستتابة. (إكفار الملحدين, পৃঃ ১২৯)
“আলবাহরুর রায়েক'র বক্তব্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে 'মাজমাউল আনহুর' কিতাবে বলা হয়েছে, কিন্তু 'আদদুরার' -এ বলা হয়েছে, যদিও ই'তিকাদ না রাখে অথবা সে জানে না যে তা কুফরি কথা, কিন্তু সে স্বেচ্ছায় তা উচ্চারণ করেছে, তাহলে অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মতে তাকে কাফের আখ্যায়িত করা হবে এবং অজ্ঞতা 'ওযর' হিসেবে ধর্তব্য হবে না। 'আদদুরার' -এ তা 'আলমুহিত'র 'আলকারাহিয়্যাহ ওয়ালইসতিহসান'র উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মতানৈক্য শরিআতের অকাট্য বিধানের ক্ষেত্রে নয়। অকাট্য বিধানের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র তাওবা করতে বলা হবে।” (ইকফারুল মুলহিদিন, পৃঃ ১২৯)
📄 ‘ই‘তিকাদ’ বুঝার ব্যবস্থা কী?
দ্বিতীয়ত: 'ই'তিকাদ' বুঝার ব্যবস্থা কী? 'শাক্কুল কালব'-অন্তর বিদীর্ণ করার দায়িত্ব তো বান্দাকে দেয়া হয়নি। বাহ্যিক কথা-কাজের ভিত্তিতেই একজন আলেমকে ফাতওয়া দিতে হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস, সাহাবায়ে কেরামের 'আসার' থেকে উলামায়ে কেরাম এমনটিই বুঝেছেন।