📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 সংশয়ের পর্যালোচনা

📄 সংশয়ের পর্যালোচনা


সংশয়ের পর্যালোচনা

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 প্রথম কথা

📄 প্রথম কথা


এক হিন্দু আপনার সামনে এক পেয়ালা শূকরের গোস্ত পেশ করেছে এবং এক মুসলমান আপনার সামনে এক পেয়ালা গরুর গোস্ত রেখে দিয়েছে। আপনি শূকরের গোস্তের পেয়ালা গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হননি বরং গরুর গোস্ত গ্রহণের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করে দিয়েছেন; এটি কি শুধু গ্রহণ করা না কি গরুর গোস্তের উপর শূকরের গোস্তকে প্রাধান্য দেয়া?

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 সংবিধানের প্রাধান্য

📄 সংবিধানের প্রাধান্য


দ্বিতীয়ত: বাংলাদেশের সংবিধান সামনে রাখলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এটি কি শুধু গ্রহণ করা নাকি প্রাধান্য দেয়া! আমরা নিম্নোল্লিখিত ধারার শিরোনাম ও ধারাটি একটু লক্ষ্য করি-

সংবিধানের প্রাধান্য ৭। (২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে। (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান - পঞ্চদশ সংশোধন আইন ২০১১- প্রথম ভাগ, প্রজাতন্ত্র, পৃ: ৩) ফাতওয়া বিষয়ক সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়টিও লক্ষণীয়-

“..... তবে ফতোয়ার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতন করা যাবে না।.... দেশের প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় এমন কোনো ফতোয়া দেয়া যাবে না। কোনো ব্যক্তির অধিকার, মর্যাদা বা সম্মান বিনষ্ট করে ফতোয়া দেয়া যাবে না। ফতোয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব কথা বলা হয়েছে।” (দৈনিক ইনকিলাব, ২৮ জানুয়ারি, বুধবার ২০১৫ ইং)

এটি কি শুধু গ্রহণ নাকি প্রাধান্য? এতেই শেষ নয়; যারা এই মানবরচিত আইনের বিরোধিতা করবে তারা রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে সাব্যস্ত হবে এবং তাকে সর্বোচ্চ দণ্ডে (ফাঁসি) দণ্ডিত করা হবে। এগুলো কি শুধুই গ্রহণ করা নাকি প্রাধান্য? নিচের ধারাটি লক্ষণীয়-

ধারা: ৭ক।
(১) কোন ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোন অসাংবিধানিক পন্থায়-
(ক) এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে; কিংবা
(খ) এই সংবিধানের বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকদের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবারজন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে-
তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।
(২) কোন ব্যক্তি (১) দফায় বর্ণিত-
(ক) কোন কার্য করিতে সহযোগিতা বা উস্কানি প্রদান করিলে; কিংবা
(খ) কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলে- তাহার এইরূপ কার্যও একই অপরাধ হইবে।
(৩) এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে। (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান - পঞ্চদশ সংশোধন আইন ২০১১- প্রথম ভাগ, প্রজাতন্ত্র, পৃঃ ৩)

এবং এ ধারাটি এমন যা সবসময়ের জন্য অপরিবর্তিত। দেখুন-

ধারা: ৭খ। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান - পঞ্চদশ সংশোধন আইন ২০১১- প্রথম ভাগ, প্রজাতন্ত্র, পৃ: ৩)

ফন্ট সাইজ
15px
17px