📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 সংশয়ের পর্যালোচনা

📄 সংশয়ের পর্যালোচনা


সংশয়ের পর্যালোচনা

"کفر دون کفر " এর ক্ষেত্র

বিষয়টি একটু ভালোভাবে বুঝা উচিত। পূর্বেও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আলোচ্য আয়াত 'কুফরে আকবর'র প্রেক্ষাপটেই অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহর বিধানের বিপরীতে ইহুদিদের অবস্থান 'কুফরে আকবর'ই ছিলো। আয়াতকে ইহুদিদের জন্য নির্দিষ্ট বলা বা 'জুহুদ'র শর্তের কথা বলা এটির প্রমাণই বহন করে। ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে এ দুটি তাফসিরও বর্ণিত আছে। হাঁ! একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে তিনি আয়াতের মূল 'মাহমাল' ক্ষেত্রের পাশাপাশি আরেকটি আনুষঙ্গিক 'মাহমাল' ক্ষেত্র দেখিয়েছেন।

টিকাঃ
২৩. এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মনে রাখা উচিত; সামনে উদ্ধৃত শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সায়িদ আলকাহতানির আলোচনা থেকেও বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তা হচ্ছে, ইবনে আব্বাস রাযি.সহ যাঁরা ‘কুফরে আসগর' দ্বারা আয়াতের তাফসির করেছেন, তাঁদের সামনে শুধু কোনো কোনো মুসলিম শাসক বা কাযির ঘুষ, স্বজনপ্রীতি বা সুপারিশ ইত্যাদির কারণে শরিআত পরিপন্থী ফয়সালা করার চিত্র ছিলো। তাঁদের কল্পনাতেও ছিলো না যে, একসময় নামধারী মুসলিম শাসক ও বিচারকদের অবস্থা ইহুদিদের অবস্থানকেও অতিক্রম করে যাবে। অর্থাৎ কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী সংবিধান অনুযায়ী শাসনব্যবস্থা কায়েম হবে; শুধু তাই নয় বরং কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী শাসন করার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে এবং তা অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হবে। সুতরাং পরবর্তী অবস্থা যেটির ধারণা পূর্ববর্তীদের ছিলো না; সে অবস্থাকে তাঁদের তাফসিরের অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া খুবই দুঃখজনক। ফিকহ ও ইফতা যাদের ‘মাশগালা', তাদের একটি 'উসুল' জানা আছে। 'উসুল'টি হচ্ছে,

عبارات الفقهاء في كتبهم مبنية على ما أمكن تصوره في زمانهم، فقد يذكرون ألفاظاً عامة تشتمل بظاهرها أحوالاً استجدت بعدهم، ولم تكن متصورة في عهدهم، فلا يمكن أن نقول: إنهم حكموا على هذا الوضع الجديد بالألفاظ العامة التي استخدموها عند بيان الحكم، فإن عبارات الفقهاء محدودة في إمكانياتهم ومقتضى استقصاءهم واستقراءهم في عهدهم، فمن الممكن أن يكون الفقهاء قد استعملوا كلمة حسب استقراءهم أحوال زمانهم، ولم يتخيلوا ما سيحدث في الأزمنة الآتية، بحيث لم تستوعب عباراتهم هذه الحوادث المستقبلة، فربما يتوهم من عموم ألفاظهم حكم للحوادث المستقبلة، ولكنهم لم يقصدوها لكونها غير متصورة في عهدهم. (أصول الإفتاء للمفتي تقي العثماني، ص ۳০৮)

উল্লিখিত 'উসুল' ও উদাহরণসহ 'উসুল'র ব্যাখ্যা আমরা মুফতি তাকি উসমানি -হাফিযাহুল্লাহ- এর কিতাব 'উসুলুল ইফতা' (পৃ: ৩০৮-৩১০) থেকে দেখে নিতে পারি।

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 "کفر دون کفر" এর ক্ষেত্র

📄 "کفر دون کفر" এর ক্ষেত্র


বিষয়টি একটু ভালোভাবে বুঝা উচিত। পূর্বেও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আলোচ্য আয়াত 'কুফরে আকবর'র প্রেক্ষাপটেই অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহর বিধানের বিপরীতে ইহুদিদের অবস্থান 'কুফরে আকবর'ই ছিলো। আয়াতকে ইহুদিদের জন্য নির্দিষ্ট বলা বা 'জুহুদ'র শর্তের কথা বলা এটির প্রমাণই বহন করে। ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে এ দুটি তাফসিরও বর্ণিত আছে। হাঁ! একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে তিনি আয়াতের মূল 'মাহমাল' ক্ষেত্রের পাশাপাশি আরেকটি আনুষঙ্গিক 'মাহমাল' ক্ষেত্র দেখিয়েছেন।

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 ইবনে আব্বাস রাযি. এর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট

📄 ইবনে আব্বাস রাযি. এর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট


"كفر دون کفر" তথা 'কুফরে আসগর' দ্বারা আয়াতের তাফসির ইবনে আব্বাস রাযি. কোন প্রেক্ষাপটে করেছেন এবং কাদের মোকাবেলায় বলেছেন? তা আমরা দেখতে পারি।

قال ابن أبي حاتم: حدثنا محمد بن عبد الله بن يزيد المقرئ، ثنا سفيان عن هشام بن جحير عن طاووس عن ابن عباس في قوله : "ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الكافرون" قال: ليس هو بالكفر الذي يذهبون إليه. (تفسير ابن أبي حاتم ١١٤٣/٤، رقم الحديث: ٦٤٣٤، المستدرك للحاكم، كتاب التفسير، تفسير سورة المائدة، ٤٢٧/٢، رقم الحديث: ٣٢٦٩)

"ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الكافرون" এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, এটি ওই কুফর নয় যা তারা ব্যক্ত করে।” (তাফসিরে ইবনে আবি হাতেম ৪/১১৪৩, হাদিস নং: ৬৪৩৪, মুসতাদরাকে হাকেম, ২/৪২৭, হাদিস নং: ৩২৬৯)

ইবনে আব্বাস রাযি. يذهبون বলে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং তাদের অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। উমাবি খিলাফতকালে সর্বত্র যখন আল্লাহর আইনই প্রতিষ্ঠিত, শরিআত কর্তৃক নির্ধারিত হুদুদ- কিসাসই যখন কার্যকর হচ্ছিলো, তখন কোনো কোনো গভর্নর বা কাযি নিজেদের নফসের বা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে আল্লাহর আইন অনুযায়ী হুকুম দেয়া তার জন্য আবশ্যকীয় জেনেই কখনো খেলাফে শরিআত ফয়সালা করে বসতো। এতেই খাওয়ারেজ সম্প্রদায় উল্লিখিত আয়াতটির অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে তাদেরকে কাফের আখ্যা দিতে লাগলো। তাদের এই অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করতে গিয়েই ইবনে আব্বাস রাযি. আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন- এটি কুফরে আসগর তথা ওই গভর্নর বা কাযি ফাসেক হবে কাফের নয়।(২৩)

টিকাঃ
২৩. এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মনে রাখা উচিত; সামনে উদ্ধৃত শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সায়িদ আলকাহতানির আলোচনা থেকেও বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তা হচ্ছে, ইবনে আব্বাস রাযি.সহ যাঁরা ‘কুফরে আসগর' দ্বারা আয়াতের তাফসির করেছেন, তাঁদের সামনে শুধু কোনো কোনো মুসলিম শাসক বা কাযির ঘুষ, স্বজনপ্রীতি বা সুপারিশ ইত্যাদির কারণে শরিআত পরিপন্থী ফয়সালা করার চিত্র ছিলো। তাঁদের কল্পনাতেও ছিলো না যে, একসময় নামধারী মুসলিম শাসক ও বিচারকদের অবস্থা ইহুদিদের অবস্থানকেও অতিক্রম করে যাবে। অর্থাৎ কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী সংবিধান অনুযায়ী শাসনব্যবস্থা কায়েম হবে; শুধু তাই নয় বরং কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী শাসন করার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে এবং তা অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হবে। সুতরাং পরবর্তী অবস্থা যেটির ধারণা পূর্ববর্তীদের ছিলো না; সে অবস্থাকে তাঁদের তাফসিরের অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া খুবই দুঃখজনক। ফিকহ ও ইফতা যাদের ‘মাশগালা', তাদের একটি 'উসুল' জানা আছে। 'উসুল'টি হচ্ছে,
عبارات الفقهاء في كتبهم مبنية على ما أمكن تصوره في زمانهم، فقد يذكرون ألفاظاً عامة تشتمل بظاهرها أحوالاً استجدت بعدهم، ولم تكن متصورة في عهدهم، فلا يمكن أن نقول: إنهم حكموا على هذا الوضع الجديد بالألفاظ العامة التي استخدموها عند بيان الحكم، فإن عبارات الفقهاء محدودة في إمكانياتهم مقتضى استقصاءهم واستقراءهم في عهدهم، فمن الممكن أن يكون الفقهاء قد استعملوا كلمة حسب استقراءهم أحوال زمانهم، ولم يتخيلوا ما سيحدث في الأزمنة الآتية، بحيث لم تستوعب عباراتهم هذه الحوادث المستقبلة، فربما يتوهم من عموم ألفاظهم حكم للحوادث المستقبلة، ولكنهم لم يقصدوها لكونها غير متصورة في عهدهم. (أصول الإفتاء للمفتي تقي العثماني، ص ৩০৮)
উল্লিখিত 'উসুল' ও উদাহরণসহ 'উসুল'র ব্যাখ্যা আমরা মুফতি তাকি উসমানি -হাফিযাহুল্লাহ- এর কিতাব 'উসুলুল ইফতা' (পৃ: ৩০৮-৩১০) থেকে দেখে নিতে পারি।

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 কুফরে আকবর ও কুফরে আসগরের ক্ষেত্র

📄 কুফরে আকবর ও কুফরে আসগরের ক্ষেত্র


বুঝা গেলো, যে কারো ক্ষেত্রে ইবনে আব্বাস রাযি. এর তাফসির পেশ করে দেয়া সহিহ নয়। সহিহ কথা হচ্ছে, আয়াতটি মৌলিকভাবে ‘কুফরে আকবর'র জন্য অবতীর্ণ হলেও সেটির একটি আনুষঙ্গিক ক্ষেত্র 'কুফরে আসগর'ও। অর্থাৎ আয়াতটি উভয় কুফরকে শামিল করে। সেটি বিবেচনা হবে রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যবস্থাপনা ও বিচারকের অবস্থানুযায়ী। পূর্বোল্লিখিত আকাবিরে আসলাফের 'নুসুস' থেকেও তা স্পষ্ট। ইবনে আবিল ইয্য আলহানাফি তা ব্যাখ্যা করেই বলেছেন। হাফেয ইবনুল কাইয়িম (মৃ-৭৫১ হি.) এ মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

والصحيح أن الحكم بغير ما أنزل الله يتناول الكفرين، الأصغر والأكبر بحسب حال الحاكم، فإنه إن اعتقد وجوب الحكم بما أنزل الله في هذه الواقعة، وعدل عنه عصياناً، مع اعترافه بأنه مستحق للعقوبة، فهذا كفر أصغر، وإن اعتقد أنه غير واجب، وأنه مخير فيه، مع تيقنه أنه حكم الله، فهذا كفر أكبر. (مدارج السالكين لابن القيم، الكفر الأكبر، ٢٥٩/١)

“সহিহ কথা হচ্ছে, আল্লাহ প্রদত্ত বিধান পরিপন্থী ফয়সালা করা বিচারকের অবস্থাভেদে 'কুফরে আকবর' ও 'কুফরে আসগর' উভয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে। বিচারক যদি কোনো ক্ষেত্রে আল্লাহ প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী বিচার করার অপরিহার্যতার বিশ্বাস রেখেই অবাধ্যতা করে তা থেকে সরে যায়, অথচ সে স্বীকার করে যে সে এ কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত হবে, এটি হবে কুফরে আসগর। আর যদি সে মনে করে যে, এটি তার জন্য আবশ্যকীয় নয় এবং তার ইচ্ছার অধিকার আছে, অথচ সে নিশ্চিত যে তা আল্লাহর বিধান, তাহলে এটি হবে কুফরে আকবর।” (মাদারিজুস সালেকিন, ১/২৫৯)

ফন্ট সাইজ
15px
17px