📄 বাংলাদেশের সংবিধানের কয়েকটি সুস্পষ্ট কুফরি ধারা ও মূলনীতি
উপরিউক্ত আলোচনার পর বাংলাদেশের সংবিধানের কয়েকটি সুস্পষ্ট কুফরি ধারা ও মূলনীতি পড়ে দেখা আবশ্যকীয় মনে করছি। এটা তো জানা কথা যে, বাংলাদেশের আদালত বৃটিশ আইনে পরিচালিত হয়ে আসছে। রাষ্ট্রকর্তৃক যিনা(১৯), রিবা (২০) ও মদের (২১) বৈধতা, অপরদিকে ফাতওয়াকে শুধুমাত্র তাদের দৃষ্টিতে ধর্মীয় বিষয়াদির সঙ্গে সীমাবদ্ধ করে দেয়া; তাও আবার স্বেচ্ছায় গ্রহণ করার অধিকার(২২) প্রদানসহ মৌলিক ও শাখাগত হাজারো বিষয়ে শরিআতের বিপরীতে সুস্পষ্ট অবস্থান বিধিবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। যে সকল আইনকে বাহ্যত শরিআতবিরোধী মনে হয় না; সেগুলোকে এজন্য গ্রহণ করা হয়নি যে তা শরিআতসম্মত, বরং সেগুলোকে এজন্য গ্রহণ করা হয়েছে যে তা গণতন্ত্র ধর্মের বিপরীত নয়। তো ওই সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য আরেকটি রচনার প্রয়োজন। আমি এখানে শুধুমাত্র সংবিধানের সুস্পষ্ট কয়েকটি মৌলিক কুফরি ধারা উল্লেখ করছি; যেনো উপর্যুক্ত আলোচনার সঙ্গে কুফরি ধারাগুলো মিলিয়ে পাঠকের জন্য ফলাফল বের করা সহজ হয়।
টিকাঃ
১৯. যৌনকর্মী: স্বাধীনভাবে জীবিকা বেছে নেয়ার সুযোগে বাংলাদেশে যারা আভিধানিক অর্থে গণিকা তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পতিতা বা নটি নামে অভিহিত না হয়ে পেশাজীবী যৌনকর্মী (পেযৌক) হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।........... রাষ্ট্র গণিকালয়ে পেযৌকদের যৌনকর্ম নিয়ন্ত্রণ-লক্ষ্যে তাদের নাম নিবন্ধন করে এবং তাদেরকে সুনির্দিষ্ট (নিষিদ্ধ) এলাকায় বসবাসে সীমাবদ্ধ রাখে। এসব বসতিস্থল, সাধারণত নটি পাড়া বা বেশ্যা পাড়া নামে পরিচিত। যৌনকর্মীকে নিবন্ধিত হবার আগে গণ লেখ্য- প্রমাণিকের (নোটারি পাবলিক) মাধ্যমে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হলফনামা (এফিডেবিট) দিয়ে অনুমতিপত্র নিতে হয়। (বাংলাপিডিয়া, যৌনকর্মী)
২০. ধারা-১৫৭: কতিপয় ক্ষেত্রে কোম্পানী কর্তৃক মূলধন হতে সুদের টাকা পরিশোধের ক্ষমতা: যে ক্ষেত্রে কোন ইমারত বা অন্যবিধ নির্মাণকার্য অথবা দীর্ঘায়িত সময়ের জন্য লাভজনক করা যায় না এমন কোন স্থাপনার (plant) ব্যয় নির্বাহের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কোন কোম্পানী শেয়ার ইস্যু করে, সে ক্ষেত্রে কোম্পানী, উক্ত শেয়ার ইস্যুর সময় পর্যন্ত পরিশোধিত মূলধনের উপর এই ধারার বিধানাবলী সাপেক্ষে, সুদ পরিশোধ করিতে পারিবে; এবং উক্ত সুদকে নির্মাণকার্য বা স্থাপনার ব্যয়ের অংশ ধরিয়া মূলধনের উপর চার্জ সৃষ্টি করিতে পারিবে।..... (কোম্পানী আইন, ১৯৯৪, ১৮ নং আইন)
২১. মাদক (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৯০: এ আইনে এ্যালকোহল ব্যতীত যেকোন ধরনের মাদকদ্রব্যের চাষ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন, স্থানান্তর, আমদানি, রাপ্তানি, সরবরাহ, ক্রয়, বিক্রয়, হস্তগতকরণ, সংরক্ষণ, মজুতকরণ, প্রদর্শন এবং ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করা হইয়াছে।..... অবশ্য যেকোন ধরনের মাদকদ্রব্যের উৎপাদন, ব্যবহার, বহন এবং স্থানান্তরের জন্য লাইসেন্স, অনুমতিপত্র, বা ছাড়পত্রধারী ব্যক্তিদের বেলায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হইবে না। তবে বৈধ লাইসেন্স, অনুমতিপত্র বা পাশ ছাড়া এ নিষেধাজ্ঞাসমূহ ভঙ্গ করা দণ্ডনীয় অপরাধ.....। (বাংলাপিডিয়া, ফৌজদারি দণ্ডবিধি)
২২. ..... ধর্মীয় বিষয়াদিতে শুধু সঠিক শিক্ষিত ব্যক্তিগণ ফতোয়া দিতে পারবেন, যা শুধু স্বেচ্ছায় গ্রহণযোগ্য। কোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগ বা অনুচিত প্রভাব প্রয়োগ করা যাবে না। (দৈনিক ইনকিলাব, ২৮ জানুয়ারি, বুধবার ২০১৫ ইং)
📄 ক) আইন প্রণয়নের অধিকার মানবের হাতে
ক) আইন প্রণয়নের অধিকার মানবের হাতে: ধারা: ৭। (১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে। (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান - পঞ্চদশ সংশোধন আইন ২০১১- প্রথম ভাগ, প্রজাতন্ত্র, পৃঃ ৩)
📄 খ) চারটি কুফরি মতবাদ রাষ্ট্র পরিচালনার মহান আদর্শ ও মূলনীতি
খ) চারটি কুফরি মতবাদ রাষ্ট্র পরিচালনার মহান আদর্শ ও মূলনীতি: 'আমরা অঙ্গিকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিলো-জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে।' (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান - পঞ্চদশ সংশোধন আইন ২০১১- প্রস্তাবনা, পৃঃ ১) ধারা: ৮। (১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা-এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হইতে উদ্ভুত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে। (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান - পঞ্চদশ সংশোধন আইন ২০১১- দ্বিতীয় ভাগ, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, পৃঃ ৪)
📄 গ) রাষ্ট্র থেকে ধর্ম বিয়োজিত
গ) রাষ্ট্র থেকে ধর্ম বিয়োজিত: ধারা: ১২। ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য (ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা, (খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান, (গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার, (ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন, বিলোপ করা হইবে। (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান - পঞ্চদশ সংশোধন আইন ২০১১- দ্বিতীয় ভাগ, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, পৃ: ৪)