📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 আরব বিশ্বের কয়েকজন শাইখের বক্তব্য

📄 আরব বিশ্বের কয়েকজন শাইখের বক্তব্য


এবার গত শতাব্দীর আরব বিশ্বের কয়েকজন শাইখের বক্তব্য উল্লেখ করছি।

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 শাইখ আহমাদ শাকের

📄 শাইখ আহমাদ শাকের


শাইখ আহমাদ শাকের (মৃ-১৩৭৭ হি.)

إن الأمر في هذه القوانين الوضعية واضح وضوح الشمس، هي كفر بواح، لا خفاء فيه ولا مداورة، ولا عذر لأحد ممن ينتسبون للإسلام - كائناً من كان في العمل بها أو الخضوع لها أو إقرارها، فليحذر امرؤ لنفسه، وكل امرئ حسيب نفسه.

الا فليصدع العلماء بالحق غير هيابين، وليبلغوا ما أمروا بتبليغه، غير موانين ولا مقصرين।

سيقول عني عبيد هذ "اليাসক العصري" وناصروه: أني جامد، وأني رجعي، وما إلى ذلك من الأقاويل। فليقولوا ما شاؤوا، فما عبأت يوماً ما بما يقال عني، ولكني قلت ما يجب أن أقول। (عمدة التفسير لأحمد شاكر، ٦৯৭/১)

“এ সকল মানবরচিত আইনের বিষয়টি সূর্যের ন্যায় স্পষ্ট, আর তা হচ্ছে 'কুফরে বাওয়াহ'-প্রকাশ্য কুফর। যার ব্যাপারে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা নেই, তার সঙ্গে চলার কোনো সুযোগ নেই এবং কোনো মুসলমান দাবিদারের জন্য -সে যেই হোক না কেনো- সেটি বাস্তবায়ন করা, তার সামনে আত্মসমর্পণ করা ও তা স্বীকার করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের 'ওযর' গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং প্রত্যেকে যেনো সতর্ক হয়ে যায়। কেননা প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের রক্ষক।

উলামায়ে কেরাম যেনো নির্ভয়ে সত্যকে প্রকাশ করে। যে সকল বিষয় পৌঁছানোর ব্যাপারে তারা আদিষ্ট তা যেনো কোনো ধরনের ত্রুটি ও অবহেলাবিহীন পৌঁছিয়ে দেয়। বর্তমান যুগের 'ইয়াসাক'র অনুসারী ও সাহায্যকারীরা আমাকে গোঁড়া, পশ্চাদমুখী জাতীয় বহু কথা বলবে। তাদের যা ইচ্ছে তাই বলুক। আমার ব্যাপারে কী বলা হলো আমি সেটির তোয়াক্কা কোনোদিন করিনি। যা বলা আমার জন্য অপরিহার্য তা আমি বলেই দিয়েছি।” (উমদাতুত তাফসির, ১/৬৯৭)

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আলে শাইখ

📄 শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আলে শাইখ


শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আলে শাইখ (মৃ-১৩৮৯ হি.)

قال الشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخ في رسالته "تحكيم القوانين"- وهو يعد الأحوال التي يكون فيها الحكم بغير ما أنزل الله كفراً أكبر - : "الخامس": وهو أعظمها وأشملها وأظهرها معاندة للشرع ومكابرة لأحكامه ومشاقة لله ولرسوله ومضاهاة بالمحاكم الشرعية، إعداداً وإمداداً وإرصاداً وتأصيلاً وتفريعاً وتشكيلاً وتنويعاً وحكماً وإلزاماً ومراجع مستمدات.

فكما أن للمحاكم الشرعية مراجع ومستمدات مرجعها كلها إلى كتاب الله وسنة رسوله فلهذه المحاكم مراجع، هي: القانون الملفق من شرائع شتى وقوانين كثيرة، كالقانون الفرنسي والقانون الأمريكي والقانون البريطاني وغيرها من القوانين، ومن مذاهب بعض البدعيين المنتسبين إلى الشريعة وغير ذلك، فهذه المحاكم الآن في كثير من أمصار الإسلام مهيأة مكملة مفتوحة الأبواب، والناس إليها أسراب إثر أسراب، يحكم حكامها بينهم بما يخالف حكم السنة والكتاب من أحكام ذلك القانون وتلزمهم به وتقرهم عليه وتحتمه عليهم، فأي كفر فوق هذا الكفر وأي مناقضة لشهادة أن محمداً رسول الله بعد هذه المناقضة. (فتاوى ورسائل المحمد بن إبراهيم آل الشيخ، ٢٨٩/١٢)

“আল্লাহ প্রদত্ত আইনের বিপরীতে বিচার করা যে সকল অবস্থায় 'কুফরে আকবার' হিসেবে সাব্যস্ত হয়, সেগুলো নির্ধারণ করতে গিয়ে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আলে শাইখ তাঁর 'তাহকিমুল কাওয়ানিন' নামক রিসালায় বলেন- পাঁচ. আর তা প্রস্তুতি, উপকরণ ও পরিকল্পনা, মূল ও শাখা, রূপায়ণ ও শ্রেণিবিন্যাস, কর্তৃত্ব ও বাধ্যকরণ এবং গৃহীত সূত্রের দিক থেকে শরিআতের অবাধ্যতা, ইসলামি বিধি-বিধানের সঙ্গে হটকারিতা, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরোধিতা এবং শরয়ি আদালতের সমকক্ষতা স্থাপনের ক্ষেত্রে (কুফরে আকবরের) সবচেয়ে বৃহৎ, ব্যাপক ও স্পষ্ট প্রকার।

যেমনিভাবে শরয়ি আদালতের বিভিন্ন গৃহীত বিষয় ও উদ্ধৃতিসূত্র আছে, যার সবকটিই আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে আহরিত, তেমনিভাবে এ সকল আদালতেরও উদ্ধৃতিসূত্র রয়েছে। আর তা হচ্ছে, বিভিন্ন রহিত শরিআত, ফরাসি, মার্কিন ও বৃটিশ ইত্যাদি আইনসহ অন্যান্য বহু বিধি-বিধান এবং শরিআতের দিকে সম্বন্ধকরা বিভিন্ন বিদআতির মতবাদ ইত্যাদির সমন্বয়ে রচিত আইন। এ আদালতই বর্তমানে বহু মুসলিম রাষ্ট্রে দ্বার উন্মোচন করে পূর্ণমাত্রায় প্রস্তুত হয়ে আছে, আর মানুষ দলে দলে সেদিকে ছুটে চলছে। এই আদালতের বিচারকরা মানুষদের মাঝে কুরআন ও সুন্নাহর বিধি-বিধানের বিপরীতে ওই আইনের নীতি অনুসারে বিচার করে, সে অনুযায়ী চলতে তাদেরকে বাধ্য করে, সেটির উপর তাদেরকে ধরে রাখে এবং তা তাদের জন্য আবশ্যকীয় করে দেয়। তো এই কুফরের চেয়ে মারাত্মক কুফর আর কী হতে পারে এবং এই বৈপরীত্যের পর মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল হওয়ার ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদানের সঙ্গে আর কোন বৈপরীত্য অবশিষ্ট থাকে!” (ফাতাওয়া ওয়ারাসায়েল, ১২/২৮৯)

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 শাইখ মুহাম্মাদ আলআমিন আশশানকিভি

📄 শাইখ মুহাম্মাদ আলআমিন আশশানকিভি


শাইখ মুহাম্মাদ আলআমিন আশশানকিতি (মৃ-১৩৯৩ হি.)

وبهذه النصوص السماوية التي ذكرنا يظهر غاية الظهور: أن الذين يتبعون القوانين الوضعية التي شرعها الشيطان على ألسنة أوليائه مخالفة لما شرعه الله جل وعلا على ألسنة رسله صلى الله عليه وسلم، أنه لا يشك في كفرهم وشركهم إلا من طمس الله بصيرته، وأعماه عن نور الوحي مثلهم. (أضواء البيان لمحمد الأمين الشنقيطي، ١٠٩/٤)

“উপর্যুক্ত 'নুসুস'র আলোকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, যারা শয়তান কর্তৃক তার চেলা-চামুণ্ডাদের মাধ্যমে প্রণীত 'মানবরচিত আইন'র অনুসরণ করে, তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তাঁর বান্দা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের মাধ্যমে প্রদত্ত শরিআতের সম্পূর্ণ বিপরীত। মানবরচিত আইনের অনুসারীদের কুফর ও শিরকের ব্যাপারে একমাত্র সে ব্যক্তিই সংশয় প্রকাশ করে, তাদের ন্যায় আল্লাহ তাআলা যার অন্তর্দৃষ্টি বিলুপ্ত করেছেন এবং নুরে ওহির ব্যাপারে দৃষ্টিহীন করে দিয়েছেন।” (আযওয়াউল বয়ান, ৪/১০৯)

ফন্ট সাইজ
15px
17px