📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ

📄 মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ


যে ব্যক্তি ইসলামী নীতিমালা ও আদর্শে বিশ্বাসী তাকে যদি কোনো সেক্যুলার রাষ্ট্রের বিচারক বা কাযী নিযুক্ত করা হয় তার ধর্ম কি তাকে শরীয়তের বাইরে গিয়ে কোনো বিচার করার সুযোগ দিবে? তখন তো তিনি অসংখ্য আয়াত ও হাদীসের জেরার মুখে পড়বেন। তিনি কি বলতে পারবেন যে, এই আয়াত ঐ সন পর্যন্ত, ঐ প্রজন্মের জন্য ছিল? এ রকম করলে সবই ছেড়ে দিতে হবে। (মাসিক আলকাউসার, ফেব্রুয়ারী ২০১৪, পৃ: ৯)

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক হাফিযাহুল্লাহ

📄 মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক হাফিযাহুল্লাহ


'যারা শরীয়তের শুধু 'শান্তির বিধান গ্রহণ করেন আর জিহাদের বিধানকে সন্ত্রাস বা উগ্রবাদিতা বলেন; উপদেশের কথাগুলো গ্রহণ করেন আর হদ- তাযীর ও কিসাসের বিধান বর্জনীয় মনে করেন; ইবাদতের বিষয়গুলো গ্রহণ করেন আর লেনদেন ও হালাল-হারামের বিধান মানতে অসম্মত থাকেন; ব্যক্তিগত জীবনের বিধিবিধান গ্রহণ করেন, কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্র-পরিচালনার বিধি-বিধান (প্রশাসন, নির্বাহী ও বিচার-বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট) সম্পর্কে বিরূপ থাকেন; অথবা ইবাদত ও লেনদেনের বিধান মানেন, কিন্তু বেশ-ভূষা, আনন্দ- বিষাদ, পর্ব-উৎসব ও জীবন যাপনের আদব কায়েদার ইসলামী নির্দেশ ও নির্দেশনার প্রতি বিরূপ থাকেন বা মানাকে জরুরী মনে করেন না, এরা সবাই ইসলামের কিছু অংশের অস্বীকার বা কিছু অংশের উপর বিরুদ্ধপ্রশ্নের কারণে নিজের ঈমান হারিয়ে বসেছেন।' (ঈমান সবার আগে, পৃঃ ৩১)।

'প্রকৃতপক্ষে কোনো তাগুত ব্যক্তি বা দলের বানানো আইন-কানুন হচ্ছে সত্য দ্বীন ইসলামের বিপরীতে বিভিন্ন 'ধর্ম', যা থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করা ছাড়া ঈমান সাব্যস্ত হয় না। আল্লাহর বিরুদ্ধে কিংবা আল্লাহর সাথে তাগূতের উপাসনা বা আনুগত্য করা কিংবা তা বৈধ মনে করা, তদ্রূপ আল্লাহর দ্বীনের মোকাবেলায় বা তার সাথে তাগুতের আইন-কানুন গ্রহণ করা বা গ্রহণ করাকে বৈধ মনে করা সরাসরি কুফর ও শিরক। তাগূত ও তার বিধি-বিধান থেকে সম্পর্কচ্ছেদ ছাড়া ঈমানের দাবি নিফাক ও মুনাফিকী।' (ঈমান সবার আগে, ৭০-৭৪)

টিকাঃ
১৮. উস্তাযে মুহতারাম কর্তৃক প্রদত্ত তাগুতের পরিচয় মাথায় রেখে উস্তাযে মুহতারাম বা বলে সরাসরি কুফর ও শিরকের যে সুরতগুলো উল্লেখ করেছেন; তা থেকে 'আল্লাহর দ্বীনের সাথে তাগুতের আইন-কানুন গ্রহণ করা সরাসরি কুফর ও শিরক' সুরতটি সামনে এনে যে কেউ মানবরচিত আইনের শাসকদের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারি এবং ফলাফল বের করার চেষ্টা করতে পারি।

উস্তাযে মুহতারামের বক্তব্যের ব্যাপারে আমি হাজারবার কসম করে বলতে পারবো যে, এটি লেখার সময় 'জুহুদ' অস্বীকার করার শর্তের কথা উস্তাযে মুহতারামের চিন্তার ত্রিসীমানাতেও ছিলো না। যে গ্রন্থটি সাধারণ থেকে সাধারণ পাঠকের হাতে যাবে; এমন একটি গ্রন্থে এমন একটি জটিল হুকুমের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূণ একটি শর্ত (মুখে বা অন্তরে 'জুহুদ' অস্বীকার করার শর্ত) উহ্য রাখা হবে; বিবেক কি এটিকে সমর্থন করবে? এখন যদি এমনটি দাবি করা হয়, তাহলে গ্রন্থ রচনার সমকালীন প্রেক্ষাপট, বাস্তবতা ও বক্তব্যের পূর্বাপর সেটিকে সত্যায়ন করবে না।

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 আরব বিশ্বের কয়েকজন শাইখের বক্তব্য

📄 আরব বিশ্বের কয়েকজন শাইখের বক্তব্য


এবার গত শতাব্দীর আরব বিশ্বের কয়েকজন শাইখের বক্তব্য উল্লেখ করছি।

📘 মুসলিম বিশ্ব ও সমকালীন মাসায়েল 📄 শাইখ আহমাদ শাকের

📄 শাইখ আহমাদ শাকের


শাইখ আহমাদ শাকের (মৃ-১৩৭৭ হি.)

إن الأمر في هذه القوانين الوضعية واضح وضوح الشمس، هي كفر بواح، لا خفاء فيه ولا مداورة، ولا عذر لأحد ممن ينتسبون للإسلام - كائناً من كان في العمل بها أو الخضوع لها أو إقرارها، فليحذر امرؤ لنفسه، وكل امرئ حسيب نفسه.

الا فليصدع العلماء بالحق غير هيابين، وليبلغوا ما أمروا بتبليغه، غير موانين ولا مقصرين।

سيقول عني عبيد هذ "اليাসক العصري" وناصروه: أني جامد، وأني رجعي، وما إلى ذلك من الأقاويل। فليقولوا ما شاؤوا، فما عبأت يوماً ما بما يقال عني، ولكني قلت ما يجب أن أقول। (عمدة التفسير لأحمد شاكر، ٦৯৭/১)

“এ সকল মানবরচিত আইনের বিষয়টি সূর্যের ন্যায় স্পষ্ট, আর তা হচ্ছে 'কুফরে বাওয়াহ'-প্রকাশ্য কুফর। যার ব্যাপারে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা নেই, তার সঙ্গে চলার কোনো সুযোগ নেই এবং কোনো মুসলমান দাবিদারের জন্য -সে যেই হোক না কেনো- সেটি বাস্তবায়ন করা, তার সামনে আত্মসমর্পণ করা ও তা স্বীকার করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের 'ওযর' গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং প্রত্যেকে যেনো সতর্ক হয়ে যায়। কেননা প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের রক্ষক।

উলামায়ে কেরাম যেনো নির্ভয়ে সত্যকে প্রকাশ করে। যে সকল বিষয় পৌঁছানোর ব্যাপারে তারা আদিষ্ট তা যেনো কোনো ধরনের ত্রুটি ও অবহেলাবিহীন পৌঁছিয়ে দেয়। বর্তমান যুগের 'ইয়াসাক'র অনুসারী ও সাহায্যকারীরা আমাকে গোঁড়া, পশ্চাদমুখী জাতীয় বহু কথা বলবে। তাদের যা ইচ্ছে তাই বলুক। আমার ব্যাপারে কী বলা হলো আমি সেটির তোয়াক্কা কোনোদিন করিনি। যা বলা আমার জন্য অপরিহার্য তা আমি বলেই দিয়েছি।” (উমদাতুত তাফসির, ১/৬৯৭)

ফন্ট সাইজ
15px
17px