📄 কাযি বাইযাবি
قال العلامة البيضاوي: وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِما أَنْزَلَ اللهُ مستهيناً به منكراً له. فَأُولئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ لاستهانتهم به وتمردهم بأن حكموا بغيره. (تفسير البيضاوي، ١٢٨/٢)
“যারা আল্লাহ তাআলার বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে, বিষয়টিকে হালকা জ্ঞান করে সে অনুযায়ী ফয়সালা করলো না, তারা বিষয়টিকে হালকা মনে করায় এবং এর বিপরীতে ফয়সালা করার মতো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করায় কাফের হিসেবে সাব্যস্ত হবে।” (তাফসিরে বাইযাবি, ২/১২৮)
টিকাঃ
১৭. কাযি বায়যাবির "منكراً له" শব্দের অর্থ আল্লাহ তাআলার বিধান অস্বীকার করার পরিবর্তে আল্লাহ তাআলার বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করতে অস্বীকৃতি জানানো দ্বারা করেছি; কারণ, তিনি কাফের হওয়ার কারণ হিসেবে বিধান অস্বীকার করাকে উল্লেখ করেননি, বরং বিধান অনুযায়ী ফয়সালা না করাকে উল্লেখ করেছেন। হাঁ! আল্লাহ তাআলার বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করার বিষয়কে হালকা জ্ঞান করে সে অনুযায়ী ফয়সালা না করার মতো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা অস্বীকার করার নামান্তর।
📄 আবুল বারাকাত আননাসাফি আলহানাফি
قال الإمام النسفي الحনفي: {وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ الله} مستهيناً به {فأولئك هم الكافرون} . (تفسير النسفي، ٤٤٩/١)
“যারা আল্লাহ তাআলার বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করার বিষয়টিকে হালকা মনে করে সে অনুযায়ী ফয়সালা করলো না, তারা কাফের।” (তাফসিরে নাসাফি, ১/৪৪৯)
📄 শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া
"ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الكافرون" قال: ولا ريب أن من لم يعتقد وجوب الحكم بما أنزل الله على رسوله فهو كافر، فمن استحل أن يحكم بين الناس بما يراه هو عدلاً من غير اتباع لما أنزل الله فهو كافر، فإنه ما من أمة إلا وهي تأمر بالحكم بالعدل وقد يكون العدل في دينها ما رآه أكابرهم، بل كثير من المنتسبين إلى الإسلام يحكمون بعاداتهم التي لم ينزلها الله سبحانه وتعالى كسوالف البادية وكأوامর المطاعين فيهم، ويرون أن هذا هو الذي ينبغي الحكم به دون الكتاب والسنة.
وَهَذَا هُوَ الْكُفْرُ فَإِنَّ كَثِيراً مِنْ النَّاسِ أَسْلَمُوا وَلَكِنْ مَعَ هَذَا لَا يَحْكُمُونَ إِلَّا بِالْعَادَاتِ الْجَارِيَةِ لَهُمْ الَّتِي يَأْمُرُ بِهَا الْمُطَاعُوْنَ، فَهُؤُلَاءِ إِذَا عَرَفُوْا أَنَّهُ لَا يَجُوْزُ الْحُকْمُ إِلَّا بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَلَمْ يَلْتَزِمُوْا ذَلِكَ، بَلْ اِسْتَحَلُّوْا أَنْ يَحْكُمُوْا بِخِلَافِ مَا أَنْزَلَ اللهُ فَهُمْ كُفَّارٌ، وَإِلَّا كَانُوْا جُهَالًا، كَمَنْ تَقَدَّمَ أَمْرُهُمْ. (مِنْهَاجُ السُّنَّةِ لِابْنِ تَيْمِيَّةَ، ٥/١٣٠)
“যে আল্লাহ কর্তৃক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রদত্ত বিধান মতে ফয়সালা করাকে আবশ্যকীয় মনে করে না, সে নিঃসন্দেহে কাফের। সুতরাং যে আল্লাহর বিধানের অনুসরণ না করে নিজে যেটিকে ন্যায় মনে করে সে অনুযায়ী ফয়সালা করাকে বৈধ মনে করে সে কাফের। কেননা প্রত্যেক জাতিই ন্যায়সঙ্গত ফয়সালা করে এবং তার ধর্মে সেটিই ন্যায়সঙ্গত যা তাদের বড়োরা ন্যায় মনে করে। বরং বহু মুসলমান নামধারী আল্লাহর আইনের পরিবর্তে নিজেদের রীতি-নীতি অনুযায়ী ফয়সালা করে, যেমন যাযাবরদের পূর্বসূরি এবং তাদের অনুসৃত নেতৃবৃন্দ। কিতাব ও সুন্নাহ’র পরিবর্তে এসবের মাধ্যমে ফয়সালা করাকে তারা মুনাসেব মনে করে।
এটিই হচ্ছে কুফর। কেননা অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করা সত্ত্বেও তাদের নেতাদের নির্দেশিত প্রচলিত রীতি-নীতি মতে ফয়সালা করে। এরা যদি আল্লাহর বিধানের বিপরীত ফয়সালা দেয়া জায়েয নয় জেনেও আল্লাহর বিধানকে আঁকড়ে না ধরে, বরং আল্লাহর আইনের বিপরীত ফয়সালা করাকে বৈধ মনে করে তারা কাফের। অন্যথায় তারা জাহেল, যেমনিভাবে পূর্বে তাদের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।” (মিনহাজুস সুন্নাহ, ৫/১৩০)
📄 ইবনে আবিল ইয্য আলহানাফি
قَالَ الْقَاضِي ابْنِ أَبِي الْعِزِّ الْحَنَفِي: وَهُنَا أَمْرٌ يَجِبُ أَنْ يَتَفَطَّنَ لَهُ وَهُوَ: أَنَّ الْحُكْمَ بِغَيْرِ مَا أَنْزَلَ اللهُ قَدْ يَكُوْنُ كُفْراً يَنْقُلُ عَنِ الْمِلَّةِ وَقَدْ يَكُوْنُ مَعْصِيَةً: كَبِيْرَةً أَوْ صَغِيْرَةً، وَيَكُوْنُ كُفْراً: إِمَّا مَجَازِيّاً، وَإِمَّا كُفْراً أَصْغَرَ، عَلَى الْقَوْلَيْنِ الْمَذْكُوْرِيْنِ. وَذَلِكَ بِحَسَبِ حَالِ الْحَاكِمِ: فَإِنَّهُ إِنِ اعْتَقَدَ أَنَّ الْحُكْمَ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ غَيْرُ وَاجِبٍ وَأَنَّهُ مُخَيَّرٌ فِيْهِ أَوِ اسْتَهَانَ بِهِ مَعَ تَيَقُّنِهِ أَنَّهُ حُكْمُ اللهِ، فَهَذَا كُفْرٌ أَكْبَرُ. (شَرْحُ الْعَقِيْدَةِ الطَّحَاوِيَّةِ لِابْنِ أَبِي الْعِزِّ الْحَنَفِي، ٢/ ٩٥)
“এখানে একটি বিষয় ভালোভাবে বুঝে নেয়া উচিত, আর তা হচ্ছে- আল্লাহ তাআলার বিধান অনুযায়ী ফয়সালা না করা কখনো এমন কুফরের অন্তর্ভুক্ত হয়, যা তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। আর কখনো তা কবিরা বা সগিরা গুনাহ হিসেবে ধর্তব্য হয়। উপর্যুক্ত দুই মতানুযায়ী কখনো তা 'কুফরে মাজাযি' বা 'কুফরে আসগর' হয়। মূলত তা বিচারকের অবস্থা অনুযায়ী বিবেচ্য। যদি আল্লাহর আইন অনুযায়ী ফয়সালা করা আবশ্যকীয় নয় এবং এ বিষয়ে তার জন্য সুযোগ আছে মনে করে, অথবা তা আল্লাহ তাআলার হুকুম হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও সেটিকে হালকা মনে করে, তাহলে এটি কুফরে আকবর।” (শরহুল আকিদাতিত তহাবিয়্যাহ, ২/৯৫)