📄 ‘জুহুদ’ কি শুধু আন্তরিক অস্বীকারে সীমাবদ্ধ?
কোনো কোনো মুফাসসির অবশ্যই 'জুহুদ' অস্বীকার করার শর্ত যুক্ত করেছেন এবং ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে এমন একটি বর্ণনাও বর্ণিত আছে। তবে বুঝার বিষয় হচ্ছে, 'জুহুদ' সাব্যস্ত হওয়ার জন্য কি 'কালবি জুহুদ' তথা অন্তর থেকে অস্বীকার করা জরুরি; যা 'মুরজিয়া' সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি বা মুখে স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকার করা আবশ্যক? নাকি কখনো কর্ম ও অবস্থানের মাধ্যমেও 'জুহুদ' সাব্যস্ত হয়!
📄 উলামায়ে কেরামের ‘আমলি ময়দান’র আলোকে ‘জুহুদ’
সালাফ ও খালাফের উলামায়ে কেরামের 'আমলি ময়দান' পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, 'জুহুদ' যেমনিভাবে আন্তরিক ও ভাষ্যে হতে পারে, তেমনিভাকে কর্ম ও অবস্থানের মাধ্যমেও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ তাআলার কোনো বিধানকে কোনো শাসক বা বিচারক নিজের জন্য আবশ্যকীয় মনে না করা এবং শরিআ মোতাবেক ফয়সালা করার বিষয়টিকে হালকা মনে করে সে অনুযায়ী ফয়সালা না করা। আল্লাহ তাআলা ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াঅসাল্লামের বিধানের বিপরীতে 'জুহুদ'র প্রসঙ্গ উল্লেখ ছাড়াই যে সকল কর্ম ও অবস্থানকে উলামায়ে কেরাম কুফর ও ব্যক্তিকে কাফের আখ্যা দিয়েছেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে হয়তো বলতে হবে, এ কর্ম ও অবস্থানই 'জুহুদ' অস্বীকার নির্দেশক -যদি 'জুহুদ'র শর্তকে অকাট্য ও সর্বস্বীকৃত দাবি করা হয়- অথবা বলতে হবে, এ পর্যায়ের কুফরি কর্ম ও অবস্থান প্রকাশ পেলে 'জুহুদ'র প্রসঙ্গ টেনে আনার প্রয়োজন নেই। যাই বলা হোক না কেনো; আমাদের দাবি প্রমাণিত। আমরা এখন আকাবিরে আসলাফের 'নুসুস'গুলো দেখতে পারি-
টিকাঃ
১৫. উলামায়ে কেরামের যে বক্তব্যগুলো উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে প্রথম সংস্করণেও দাবি করা হয়নি যে তাঁরা এগুলো আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় বা 'জুহুদ'র ব্যাখ্যায় বলেছেন। প্রথম সংস্করণেও তাঁদের 'নুসুস'র আলোকে প্রমাণিত দাবি করা হয়েছে। হাদিস ও উলুমুল হাদিস যাদের 'মাশগালা' (বাস্তবিক অর্থে, গতানুগতিক দু'তিন বছর পড়া বা কোথাও উলুমুল হাদিস বিভাগের মুশরিফ হওয়া নয়) তারা ভালো করে জানেন, উলুমুল হাদিসের; বরং যে কোনো বিষয়ের উসুল, কাওয়ায়েদ ও মাসআলার 'তানকিহ' ও গভীরতায় পৌঁছাতে হলে সে বিষয় অনেক কিতাব থেকে পড়ে নেয়াই যথেষ্ট নয়। বরং শাস্ত্রীয় উলামায়ে কেরামের 'আমলি ময়দান' যথাসম্ভব পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। আর জানা কথা যে, 'আমলি ময়দান' সাধারণত আলোচ্য উসুল বা মাসআলার অধীনে উল্লেখ থাকে না বা এক স্থানে সব জমা করা থাকে না। বরং তা সংশ্লিষ্ট-অসংশ্লিষ্ট, কাছে-দূরে ও সম্ভাব্য-অসম্ভাব্য; সব স্থান খুঁজে বের করতে হয়। সুতরাং কেউ যদি বক্তব্যগুলো আলোচ্য আয়াতের অধীনে তালাশ করে এবং তালাশ করে না পেয়ে আমার ব্যাপারে ভিন্ন মন্তব্য করে, তা তার অনুধাবনের ভুল।
📄 ইসহাক ইবনে রাহুইয়া, আহমাদ ইবনে হাম্বল
قال الإمام أبو يعقوب إسحاق بن إبراهيم الحنظلي المعروف بابن راهويه ..... وأحمد: قد أجمع المسلمون أن من سب الله أو سب رسوله ﷺ أو دفع شيئاً مما أنزل الله..... أنه كافر بذلك وإن كان مقراً بكل ما أنزل الله (الصارم المسلول لابن تيمية، ٩٥٥/٣، إكفار الملحدين لأنور شاه الكشميري، ص۱۱۹)
“সমস্ত উম্মাহ এ ব্যাপারে একমত, যে আল্লাহ তাআলা বা তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেয়, অথবা আল্লাহ তাআলা কর্তৃক প্রদত্ত কোনো বিধানকে রদ করে....., সে আল্লাহ তাআলার অবতীর্ণ সবকিছু স্বীকার করলেও কাফের।” (আসসারিমুল মাসলুল, ৩/৯৫৫, ইকফারুল মুলহিদিন, পৃ: ১১৯)
📄 আবু বকর আলজাসসাস আলহানাফি
قال الإمام أبو بكر الجصاص الحنفي (باب وجوب طاعة الرسول تحت "فلا وربك لا يؤمنون ..... "): وفي هذه الآية دلالة على أن من رد شيئاً من أوامر الله تعالى أو أوامر رسوله صلى الله عليه وسلم، فهو خارج من الإسلام سواء رده من جهة الشك فيه أو من جهة ترك القبول والامتناع من التسليم، وذلك يوجب صحة ما ذهب إليه الصحابة في حكمهم بارتداد من امتنع من أداء الزكاة وقتلهم وسبي ذراريهم. (أحكام القرآن للجصاص، ١٨١/٣)
“এই আয়াত থেকে প্রতীয়মান, যে আল্লাহ তাআলা বা তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হুকুম রদ করে, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। চাই তা সন্দেহের ভিত্তিতে হোক অথবা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা হিসেবে হোক। এটি যাকাত আদায় থেকে বিরত থাকা ব্যক্তিদের ব্যাপারে মুরতাদ হওয়ার হুকুম দেয়া, তাদেরকে হত্যা করা এবং তাদের সন্তানদের বন্দি করার ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের অবস্থানের সঠিকতা প্রমাণ করে।” (আহকামুল কুরআন, ৩/১৮১)
টিকাঃ
১৬. ইমাম আবু বকর জাসসাস এখানে কর্ম ও অবস্থানের আলোকে 'কুফরে আকবর'র একটি সুরত উল্লেখ করেছেন, আর পরবর্তীতে সুরা মায়েদার আয়াত তথা আমাদের আলোচ্য দলিলের অধীনে 'কুফরে আকবর'র দুটি সুরত উল্লেখ করেছেন; অর্থাৎ আল্লাহর কোনো বিধানকে অস্বীকার করা অথবা ভিন্ন বিধানে ফয়সালা করে সেটিকে আল্লাহর বিধান আখ্যা দেয়া। (দেখুন: আহকামুল কুরআন, ৪/৯৩)। পরবর্তী দুটি সুরতের ব্যাপারে যেহেতু উল্লেখযোগ্য কোনো সংশয় পেশ করা হয় না, তাই এখানে সে দুটি উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। যে সুরতের ব্যাপারে কারো কারো সংশয় তৈরি হয়েছে সেটি উল্লেখ করাই আমাদের উদ্দেশ্য। এছাড়াও এখানে উল্লিখিত সুরত যদি ইমাম জাসসাসের দৃষ্টিতে 'জুহুদ' অস্বীকার নির্দেশক হয়, তাহলে তা পরবর্তীতে উল্লিখিত দুই সুরতের প্রথম সুরতের অন্তর্ভুক্ত। তখন এটিকে ভিন্ন সুরত আখ্যা দেয়ার প্রয়োজন হবে না।