📄 চরিত্র গঠনের নীতিমালা
চরিত্র গঠনের এমন সব নীতিমালা রাসূল ﷺ-কে আল্লাহ তাআলা শিক্ষা দিয়েছেন। আর তাঁর সম্পর্কে বলেছেন,
‘আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, ‘কুরআনই ছিল নবি ﷺ-এর চরিত্র।
এই উন্নত চরিত্র লাভ করতে প্রয়োজন তিনটি বৈশিষ্ট্য। ১. ব্যক্তিত্ববান হওয়া। স্বভাব যদি রূঢ় এবং কর্কশ হয়, তাহলে উন্নত চরিত্রের জ্ঞান অর্জন করতে চাওয়া, এ সম্পর্কে আগ্রহী হওয়া এবং এর জন্য অনুশীলন করা কঠিন হয়ে যায়। পক্ষান্তরে অনুগত এবং নম্র প্রকৃতি হলো চাষের উপযোগী যমিনের মতো। ২. প্রবৃত্তি এবং ভ্রষ্টতার বিপক্ষে শক্তিশালী এবং অপ্রতিরোধ্য হওয়া। কারণ প্রবৃত্তি এবং ভ্রষ্টতা হলো উৎকর্ষতার শত্রু। এখন ব্যক্তি যদি সেগুলোকে দমন করার মতো শক্তি না রাখে, তবে সে নিজেই পরাস্ত হতে থাকবে। ৩. বস্তুর স্বরূপ এবং স্তর সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা। যাতে পার্থক্য করা যায়— কোনটা চর্বি, আর কোনটা টিউমার। কোনটা কাঁচ, আর কোনটা জহরত।
এই বৈশিষ্ট্য তিনটির পাশাপাশি আল্লাহ তাআলার দেওয়া তাওফিকও যদি লাভ হয়, তবে তো সোনায় সোহাগা। সে তখন ওই লোকদের দলভুক্ত হয়ে যাবে, যাদের জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান নির্ধারিত করে রাখা হয়েছে এবং পরিপূর্ণ অনুগ্রহ করা হয়েছে।
সর্বশেষ কথা হলো, একমাত্র আল্লাহ তাআলার সাথে সম্পর্ক করা, অন্য সবকিছুর সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে অন্তরে একমাত্র তাঁকেই আসন দেওয়া এবং তাঁর কাছে ধরনা দিয়ে পড়ে থাকা। এই স্তরে পৌঁছতে পারলে বান্দা আল্লাহ তাআলার বিস্ময়কর অনুগ্রহ দেখতে পাবে। সে দেখবে, আল্লাহ তাআলা কীভাবে বান্দার প্রতি রহম করেন এবং যাবতীয় অনিষ্ট থেকে দূরে রাখেন। পাশাপাশি অন্যান্য মানুষের অন্তরে সেই বান্দার প্রতি ভালোবাসা এবং দয়া সঞ্চার করে দেন।
কিন্তু আমরা বলি : হে আমাদের রব! আমরা অনেক তিরস্কার শুনছি। আমাদের মূর্খতা, অত্যাচার এবং অন্যায় অনেক বেড়ে গেছে। আমরা স্বীকার করে নিচ্ছি, আমরা সীমালঙ্ঘন এবং কমতি করছি। লাঞ্ছিত আর ইতর লোকই কেবল এতকিছুর পর আপনার কাছে সুনাম দাবি করে। এখন আপনি যদি আমাদেরকে আমাদের হাতেই ছেড়ে দেন, তবে তো আপনি ধ্বংস ও পাপের মাঝে আমাদেরকে ছেড়ে দিলেন। আপনার সন্তুষ্টির জন্য আক্ষেপ করা ছাড়া আমাদের কোনো গতি থাকবে না। আপনি ছাড়া অন্য কারও ক্রোধের পরোয়া আমরা করি না। আপনার আনুগত্য, ভালোবাসা এবং আপনার সাথে থাকা সৎ সম্পর্কের ঊর্ধ্বে কাউকে স্থান দিই না।
টিকাঃ
[৮৭] সূরা কালাম, ৬৮ : ৪
[৮৮] আল আদাবুল মুফরাদ : ৩০৮; সহীহ মুসলিম : ৭৪৬; ইবনে মাজাহ : ২৩৩৩