📄 পরবর্তী কিছু আয়াতের তাদাব্বুর
এরপর আল্লাহ তাআলা লূত ﷺ-এর সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে প্রেরিত ফেরেশতাদের কথা আলোচনা করেছেন।
‘ইবরাহীম বলল, “হে প্রেরিত ফেরেশতাগণ, তোমাদের উদ্দেশ্য কী?” তারা বলল, “আমরা এক অপরাধী কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। যাতে তাদের ওপর মাটির শক্ত ঢেলা নিক্ষেপ করি। যা আপনার রবের পক্ষ থেকে চিহ্নিত সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য।
তাঁরা এসেছিলেন অপরাধী কওমের প্রতি পাথর বর্ষণ করার জন্য। রাসূলগণকে সত্যায়ন করা এবং অবিশ্বাসীদের ধ্বংস করা এ আলোচনার অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি পুনরুত্থান এবং (পরকালীন) সাওয়াব ও শাস্তির প্রমাণও এতে পাওয়া যায়। কারণ বিষয়টি এ দুনিয়াতেই প্রত্যক্ষভাবে সংঘটিত হয়েছে। রাসূলগণের সত্যতা এবং আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে তাঁরা যে সংবাদ দিয়েছিলেন, তার বিশুদ্ধতার এটা সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন,
'তারপর সেখানে যারা মুমিন ছিল, আমি তাদেরকে বের করে আনলাম। সেখানে একটি পরিবার ছাড়া কোনো মুসলমান আমি পাইনি।
কথার প্রয়োজনের তাগিদে আল্লাহ তাআলা এখানে ইসলাম এবং ঈমানের মাঝে পার্থক্য করেছেন। কারণ, বের করে আনা বলে আযাব থেকে উদ্ধার করা উদ্দেশ্য। আর এই উদ্ধার শুধু তাদেরই করা হয়েছে, যারা বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণভাবে রাসূলগণকে অনুসরণ এবং বিশ্বাস করে।
'সেখানে একটি পরিবার ছাড়া কোনো মুসলমান আমি পাইনি।' এ কথা বলার কারণ হলো, সেখানে থাকা লোকদের মধ্যে উদ্ধারকৃতদেরই কেবল মুসলমান বলা যায়। কারণ লূত-এর স্ত্রীও সে পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে বাহ্যিকভাবে মুসলমান ছিল। ঘরে থাকা লোকদের মধ্যে সে থাকলেও, মুক্তিপ্রাপ্ত লোকদের মধ্যে সে ছিল না। আল্লাহ তাআলা তার বিশ্বাসঘাতকতার সংবাদ জানিয়ে দিয়েছিলেন। তার বিশ্বাসঘাতকতা কেবল এটাই ছিল যে, সে লূত-এর মেহমানদের সংবাদ সম্প্রদায়ের লোকদের জানিয়ে দিয়েছিল। আর মনে মনে সে তাদের সমর্থন করত। এটা কোনো বড় বিশ্বাসঘাতকতা নয়। তারপরও দেখা গেল যে, বাহ্যিকভাবে মুসলমানদের তালিকায় তার নাম আছে বটে, কিন্তু মুক্তিপ্রাপ্ত মুমিনদের মধ্যে সে নেই। কুরআনুল কারীমের এমন সতর্ক শব্দপ্রয়োগ, রহস্য এবং বিচক্ষণতা নিয়ে চিন্তা করলে যে-কারও টনক নড়ে যাবে। সাথে সাথে এটা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এটা প্রজ্ঞাবান ও চিরপ্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এর মাধ্যমে ব্যাপকতর থেকে সাধারণতর কীভাবে আলাদা করা যায়, এ প্রসিদ্ধ প্রশ্নের জবাব এবং এর বিপরীতটা জানা যায়। এটাও স্পষ্ট হয় যে, সেখানে যারা উপস্থিত ছিল, তাদের থেকে মুসলমানদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে মুমিনদের বাদ দেওয়া হয়নি। বরং তারা হলো উদ্ধারকৃত এবং মুক্তিপ্রাপ্ত।
এরপর আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
'যারা মর্মন্তুদ শাস্তিকে ভয় করে, তাদের জন্য আমি সেখানে একটি নিদর্শন রেখেছি।'
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ তাআলা কিছু নিদর্শন রেখে দিয়েছেন, সেগুলো তাঁর এবং তাঁর রাসূলগণের সত্যতার প্রমাণ বহন করে। যারা পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং আল্লাহ তাআলার আযাবকে ভয় করে, তারাই কেবল সেগুলোর মাধ্যমে উপকৃত হয়ে থাকে। যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
'যে আখিরাতের আযাবকে ভয় করে, এতে তো তার জন্য নিদর্শন আছে।'
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
'যে ভয় করে, সে উপদেশ গ্রহণ করবে।'
এখন হয়ত আখিরাতে অবিশ্বাসকারীরা বলতে পারে, সেসব লোকেরা ওই যুগে দুর্যোগের শিকার হয়েছিল। আর সময়ের সাথে সাথে যুগের আবর্তন চলতে থাকে। বিপরীতে যারা আখিরাতকে বিশ্বাস করে এবং ভয় করে, তারাই নিদর্শন এবং উপদেশ দ্বারা উপকৃত হয়ে থাকে।
টিকাঃ
[৭৯] সূরা যারিয়াত, ৫১ : ৩১-৩৪
[৮০] সূরা যারিয়াত, ৫১ : ৩৫-৩৬
[৮১] সূরা যারিয়াত, ৫১ : ৩৭
[৮২] সূরা হুদ, ১১:১০৩
[৮৩] সূরা আ'লা, ৮৭ : ১০