📘 মুসাফিরের পাথেয় 📄 মহিলাদের ব্যাপারে আলোচনা

📄 মহিলাদের ব্যাপারে আলোচনা


তখন তাঁর স্ত্রী চিৎকার করতে করতে সামনে এলো এবং গাল চাপড়াল : এখানে মহিলাদের দুর্বল বুদ্ধিমত্তা এবং অস্থির চিত্তের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কারণ তিনি সংবাদটি শোনামাত্রই বিলাপ করা এবং গাল চাপড়ানো শুরু করেছিলেন।

এবং বললেন, এক বৃদ্ধা, বন্ধ্যা! : পুরুষের সাথে মহিলারা কথা বলার সময় প্রয়োজনীয় কথাটুকুই যে বলবে, তা চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ইবরাহীম ﷺ-এর স্ত্রী কথার উদ্দেশ্যটুকুই শুধু বলেছেন। বিধেয়টুকু এড়িয়ে গেছেন। 'আমি তো বৃদ্ধা-বন্ধ্যা। আমার কীভাবে সন্তান হবে?' -এমনটা তিনি বলেননি। সন্তান জন্ম দেওয়ার অক্ষমতার কারণটুকুই শুধু বলেছেন। অতিরিক্ত কিছু নয়। আর সূরা হুদ-এ এসেছে, তিনি নিজের এবং স্বামী ইবরাহীম ﷺ-এর অক্ষমতার কারণ বর্ণনা করে আশ্চর্য প্রকাশ করেছেন।

📘 মুসাফিরের পাথেয় 📄 আল্লাহ তাআলার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা

📄 আল্লাহ তাআলার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা


তারা বলল, 'আপনার পালনকর্তা এমনই বলেছেন।' : আল্লাহ তাআলা যে কথা বলেন, তা এই অংশটুকু দ্বারা সাব্যস্ত করা হয়েছে।

তিনি তো প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ : এখানে আল্লাহ তাআলার প্রজ্ঞা এবং জ্ঞান সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা সমস্ত সৃষ্টি এবং আদেশের উৎস। কারণ আল্লাহ তাআলা যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, এর সবকিছুই তাঁর জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা থেকে প্রকাশ পেয়েছে। তদ্রূপ তাঁর আদেশ এবং বিধানেরও উৎস এই জ্ঞান ও প্রজ্ঞা।

জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা হলো সমস্ত পূর্ণতার আধার। জ্ঞান জীবনকে ধারণ করে। জীবনে পূর্ণতার সহজাত বৈশিষ্ট্য তথা সক্ষমতা, স্থায়িত্ব, শ্রবণ ক্ষমতা এবং দৃষ্টিশক্তি-সহ সমস্ত বৈশিষ্ট্যের জন্য পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের প্রয়োজন। আর প্রজ্ঞা পরিপূর্ণ ইচ্ছাকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন ইনসাফ, দয়া, অনুগ্রহ, দান, সদাচার এবং প্রতিটি কাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা। এছাড়াও রাসূল প্রেরণ করা এবং সাওয়াব ও শাস্তি দেওয়াও প্রজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। এসব কিছু আল্লাহ তাআলার নাম 'হাকীম' থেকে জানা যায়। কুরআনিক পদ্ধতি হচ্ছে হিকমাতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার মহান উদ্দেশ্য প্রমাণ করার পাশাপাশি সেসব লোকদের রদ করা, যারা এটা দাবি করে যে সৃষ্টিজগতের সৃষ্টি সম্পূর্ণ অযথা ও উদ্দেশ্যহীন। কারণ আল্লাহ তাআলার হিকমাত থেকেই শারীয়াত, ভাগ্য, সাওয়াব এবং শাস্তি দান প্রমাণিত হয়। এজন্য বিশুদ্ধতম মত এটাই যে, বিবেকের মাধ্যমে পুনরুত্থান সম্পর্কে অবগতি লাভ হয়। আর শ্রবণশক্তি সম্পর্কে এতটা সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে, যাতে বিবেকের কাছে বিষয়টি প্রমাণিত হয়ে যায়।

📘 মুসাফিরের পাথেয় 📄 বন্ধা ও বৃদ্ধ পিতা-মাতা থেকে সন্তান আসা

📄 বন্ধা ও বৃদ্ধ পিতা-মাতা থেকে সন্তান আসা


উল্লিখিত আয়াতে এমন বাবা-মা থেকে সন্তান জন্মগ্রহণের কথা উঠে এসেছে, যাদের থেকে স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম নেয় না। এই অসাধারণ সন্তান জন্মগ্রহণের জ্ঞান আল্লাহ তাআলার কাছেই রয়েছে। আর এর পেছনে লুকিয়ে আছে প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়। এ জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা বোঝানোর জন্যই আল্লাহ তাআলার উল্লিখিত নাম দুটি ঘটনার মধ্যে আনা হয়েছে। কারণ এই সন্তান সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল। আর প্রজ্ঞার কারণে তিনি এই সন্তানকে যথাসময়ে ও যথাস্থানে সৃষ্টি করেছেন।

পুনরুত্থান নিয়ে কেউ ভাবলে, কুরআন থেকে যথেষ্ট দলিল খুঁজে পাবে। সাথে সাথে মানুষের অন্তরে উদিত সংশয়ের খণ্ডনও সে দেখতে পাবে। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দিলে, কুরআন কারীমের আরোগ্য, হিদায়াত, কার্যকারিতা, চমৎকার বর্ণনাশৈলী, সংশয়ের ব্যাপারে সতর্কতা, অন্তর প্রশান্তকারী উত্তর এবং দীপ্তিমান ইয়াকীন নিয়ে আমি যা কিছু দেখতে পেয়েছি, তা নিয়ে একটি বই লিখব। এখানে সেসব বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব নয়। মোটকথা, সব বস্তুর সৃষ্টিগত এবং আদেশগত উৎস হলো আল্লাহ তাআলার জ্ঞান এবং তাঁর প্রজ্ঞা।

টিকাঃ
[৭৮] লেখক এমন কিছু প্রমাণ এবং সেগুলোর ওপর আপত্তি উত্থাপন নিয়ে ই'লামুল মুকিঈন : ১/১৩৮-১৪৮-এ আলোচনা করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px