📘 মুসাফিরের পাথেয় 📄 ২. কঠোর চেষ্টা-সাধনা

📄 ২. কঠোর চেষ্টা-সাধনা


দুনিয়ার মুসিবত ব্যাপক আকার ধারণ করলে বিপদগ্রস্তরা একে অপরের থেকে সান্ত্বনা লাভ করে। যেমন আরবের এক প্রসিদ্ধ কবি খানসা, তার ভাই যুদ্ধে মারা যাওয়ার কারণে একটি মর্সিয়া রচনা করেন। তাতে তিনি বলেন, 'আমার চারপাশে ভাইহারাদের আহাজারি না থাকলে আমি আত্মহত্যা করে বসতাম। কিন্তু আমার মতো তারাও ভাই হারিয়ে কান্নাকাটি করছে দেখে আমি সান্ত্বনা পাচ্ছি।'

কিয়ামতের দিন বান্দার অবস্থা এমন থাকবে না। সবাই আযাবের অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও কেউ কারও থেকে সান্ত্বনা পাবে না। তাই, এই সফরের জন্য নিজের সবটুকু সাধ্য এবং সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করতে হবে। শুধু স্বপ্ন আর সাধ দিয়ে এই সফর পার করা সম্ভব নয়। এ জন্য দুটি বিষয় লক্ষ রাখা প্রয়োজন।

প্রথমত, সত্যের ক্ষেত্রে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারের পরওয়া করা যাবে না। কারণ তিরস্কার এমন এক বিষয়, যার কারণে দক্ষ অশ্বারোহীও ঘোড়া থেকে মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি খায়।

দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাআলার পথে হীন আর তুচ্ছ মনে করতে হবে নিজেকে। তাহলেই বিপদ-আপদকে ভয় না করে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। কারণ, মানুষ নিজের ব্যাপারে শঙ্কা বোধ করলেই পিছু হটে এবং যমিনে স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে।

📘 মুসাফিরের পাথেয় 📄 ৩. ধৈর্যশক্তি

📄 ৩. ধৈর্যশক্তি


আর এ দুটি বিষয়ের জন্য চাই ধৈর্যশক্তি। সামান্য সবর করলেও দেখা যাবে— ভয়াবহ বিপদ মৃদুমন্দ বায়ুর মতো অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করছে। একসময় দেখা যাবে, বিপদই তার সেবক এবং সহচরে পরিণত হয়েছে। বাস্তব অভিজ্ঞতা না থাকলে বিষয়টি বোঝা বড় দায়।

📘 মুসাফিরের পাথেয় 📄 ৪. আল্লাহ তাআলার আশ্রয়

📄 ৪. আল্লাহ তাআলার আশ্রয়


এই সফরের বাহন হলো অন্য সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক আল্লাহর কাছে আশ্রয় গ্রহণ করা। নিজের অভাব আর প্রয়োজন প্রকাশ করে কাকুতি মিনতির মাধ্যমে সাহায্য চাইতে থাকা। তাঁরই ওপর ভরসা রাখা। ভাঙা এবং খালি বোতল যেমন পড়ে থাকে, আল্লাহ তাআলার সামনে সেভাবে পড়ে থেকে সাহায্য চাওয়া। যেন তিনি অনুগ্রহ করেন এবং ক্ষমার চাদরে আবৃত করে নেন। আশা করা যায়, এর দ্বারা আল্লাহ তাআলা হিদায়াত দান করবেন এবং এই হিজরতের পথে থাকা নানান গুপ্ত রহস্য এবং ঘাঁটিগুলো উন্মোচিত করে দেবেন।

📘 মুসাফিরের পাথেয় 📄 ৫. কুরআনের তাদাব্বুর

📄 ৫. কুরআনের তাদাব্বুর


মূলকথা হলো, এজন্য প্রয়োজন সার্বক্ষণিক ফিকির এবং কুরআনের আয়াত নিয়ে তাদাব্বুর তথা চিন্তাভাবনা করা। যাতে মস্তিষ্কে সব সময় কোশেশ চলতে থাকে এবং অন্তর যেন ব্যস্ত থাকে। মন-মস্তিষ্ক যখন এই ফিকিরে ছেয়ে যাবে এবং সব অবস্থায় কুরআনের দ্বারস্থ হওয়া অভ্যাসে পরিণত হবে, ঈমান তখন হৃদয়ের মাঝে পাকাপোক্ত আসন গ্রহণ করবে। সে ব্যক্তির চালচলন হবে ঈমানের মর্জিমাফিক। সিরাতে মুস্তাকিমের ওপর চলা তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। ঈমানের আলোয় গোটা পথ সে পরিষ্কার দেখতে পাবে। তাকে বাহ্যত স্থির মনে হলেও, সে বাতাসের সাথে প্রতিযোগিতা করবে।

وَتَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ

‘আপনি পর্বতমালাকে দেখে স্থির মনে করছেন, অথচ (কিয়ামতের দিন) এগুলো মেঘমালার মতো চলমান হবে’।

টিকাঃ
[৬৮] সূরা নামল, ২৭ : ৮৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px