📄 ২. সৌভাগ্যবান মানুষের দ্বিতীয় প্রকার
সৌভাগ্যবানদের দ্বিতীয় প্রকার হলো ঈমানদার অনুসারীদের সন্তানসন্ততি। দুনিয়াতে তারা শারীয়াতের বিধানাবলি পালনের উপযুক্ত হয়নি। তারা মূলত তাদের পূর্বপুরুষের অনুগামী হিসেবেই তাদের অনুসারী। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَالَّذِينَ ءَامَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُم بِإِيمَانِ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّতَهُمْ وَمَا أَلَتْنَهُم مِّنْ عَمَلِهِم মِّن شَيْءٍ كُلُّ امْرِئٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ
'যারা ঈমান আনে এবং তাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুগামী হয়, তাদের সঙ্গে আমি মিলিয়ে দেবো তাদের সন্তানসন্ততিকে এবং তাদের কর্মফল আমি কিছুমাত্রও হ্রাস করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী।
এখানে আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিচ্ছেন—তিনি মুমিনদের সন্তানদেরকে ঈমানের ক্ষেত্রে তাদের পূর্বপুরুষদের সাথে মিলিত করে দিয়েছেন। পাশাপাশি জান্নাতেও তাদেরকে একত্র করে দেবেন। যদিও সেই স্তরে পৌঁছার উপযুক্ত হওয়ার মতো আমল সন্তানদের নেই। আল্লাহ তাআলা বলছেন, 'তাদের কর্মফল আমি কিছুমাত্রও হ্রাস করব না।' অর্থাৎ পূর্বপুরুষদের আমল না কমিয়েই সন্তানদেরকে আমি পূর্বপুরুষদের স্তরে উন্নীত করে দেবো এবং তাদের প্রতিদান পুরোপুরি দেওয়া হবে। আর সন্তানদের অবস্থাও এমন হবে না যেন তাদের আমলই নেই, বরং তারাও পূর্ণ প্রতিদান লাভ করবে। তাদের নিজেদের স্তর থেকে উন্নীত করে তবেই তাদেরকে আমি পূর্বপুরুষদের সাথে মিলিয়ে দেবো।
টিকাঃ
[৬৪] সূরা তৃর, ৫২ : ২১
📄 আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ
এরপর আল্লাহ তাআলা এটা বুঝিয়ে দিলেন যে, সাওয়াব এবং স্তরগত সমতা, এটা কেবলই তাঁর অনুগ্রহ। কারণ কারও মনে এমনটা ধারণা আসতে পারে যে, নেক কাজের কারণে ইনসাফ করে মনে হয় সন্তানদের সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনটাও মনে হতে পারে যে, পূর্বপুরুষরা পাপ করলে সন্তানরাও বোধহয় তাদের শাস্তির ভাগীদার হবে। আসলে প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের কৃতকর্মের জন্য দায়ী, অন্য কেউ তার সাথে সম্পৃক্ত হবে না। উল্লিখিত যুক্তকরণ হবে কেবল আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ এবং সাওয়াবের ক্ষেত্রে। শাস্তিপ্রদানের ক্ষেত্রে নয়। কুরআন কারীমের এমন আরও কিছু গুপ্তভাণ্ডার রয়েছে, যার বুঝ ও সমঝ আল্লাহ তাআলা নিজের মনোনীত ব্যক্তিদের দান করে থাকেন।
এ ধরনের আয়াতগুলোতে সমস্ত মানুষের প্রকার, সৌভাগ্যবান-দুর্ভাগা এবং তাদের অনুসারীদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং জ্ঞানী ও নিজের প্রতি কল্যাণকামী লোকদের উচিত নিজের অবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা যে, সে কোন প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে। নিজের অভ্যাসের প্রতি ধোঁকায় পড়ে গিয়ে নিজেকে বীর বাহাদুর ভাবতে থাকা উচিত হবে না। নিজেকে সৌভাগ্যবানদের কাতারে দেখতে পেলে আরও উন্নতি করার প্রয়াস চালাতে হবে। আল্লাহ তাআলা তাওফীক এবং সফলতা দান করবেন। আর দুর্ভাগাদের দলভুক্ত দেখতে পেলে সময় থাকতে থাকতেই সৌভাগ্যবানদের কাতারে চলে আসার চেষ্টা করতে হবে। তা না হলে কুরআনের ভাষায় আক্ষেপ করে বলতে হবে, 'হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে সৎপথ অবলম্বন করতাম!'
টিকাঃ
[৬৫] সূরা ফুরকান, ২৫: ২৭
📄 সবচেয়ে বড় সহযোগিতা
নেক কাজ, তাকওয়া এবং আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের দিকে হিজরত করার জন্য হাত তথা কাজের মাধ্যমে, মুখ তথা নির্দেশনা দিয়ে এবং অন্তর তথা ভালোবাসা দিয়ে সাহায্য করাটাই সবচেয়ে বড় সহযোগিতা। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার বান্দাদের এভাবে সহযোগিতা করবে, আল্লাহ সব কল্যাণকে তার দিকে ফিরিয়ে দেবেন। মানুষের অন্তরে সে ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসার সঞ্চার হবে। তার অন্তরে ঢেলে দেবেন সব ধরনের ইলম এবং সব কঠিন কাজ সহজ হয়ে যাবে তার জন্য। পক্ষান্তরে এর বিপরীত কাজ যে করবে, আল্লাহর তরফ থেকে সে বিপরীতটাই ভোগ করবে। কারণ আল্লাহ নিজেই নিজের সম্পর্কে বলেন,
وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ
‘আপনার পালনকর্তা বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুম করেন না।
টিকাঃ
[৬৬] সূরা ফুসলিাত, ৪১ : ৪৬