📄 যে সম্পর্ক কিয়ামাতের দিন বহাল থাকবে
কিয়ামাতের দিন মানুষের সাথে মানুষের যত ধরনের সম্পর্ক আছে, তার সবগুলো আল্লাহ তাআলা বিচ্ছিন্ন করে দেবেন। থাকবে কেবল বান্দা এবং আল্লাহ তাআলার সম্পর্ক। সেটা হলো স্রেফ দাসত্বের সম্পর্ক। এটা অস্তিত্বে আসার জন্য প্রয়োজন কেবল রাসূলগণের নিরঙ্কুশ অনুসরণ। কারণ, এই দাসত্বের কথা তো তাঁদের মুখেই উচ্চারিত হয়েছে এবং তাঁদের মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করেছে। কাজেই, তাঁদেরকে অনুসরণের মাধ্যমেই কেবল সেটা অর্জন করা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَّنثُورًا
'আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করব, তারপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধুলিকণা করে দেবো।”
এগুলো হবে এমন সব কাজ, যা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য করা হয়নি। বরং রাসূলগণের বাতলে দেওয়া পদ্ধতির বাইরে গিয়ে করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধুলিকণা বানিয়ে দেবেন। আমলকারী সেই আমলের দ্বারা মোটেও উপকৃত হবে না। কিয়ামাতের দিন বান্দার জন্য এটাই সবচেয়ে বড় আক্ষেপের কারণ হবে, যখন সে দেখবে যে তার সব প্রচেষ্টা ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে; কোনোটাই কাজেই আসেনি। অথচ সে তখন আমলের প্রতি সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী থাকবে। সত্যিকারের প্রচেষ্টাকারীরাই তখন তাদের চেষ্টা দ্বারা উপকৃত হবে।
টিকাঃ
[৫৭] সূরা ফুরকান, ২৫: ২৩
📄 ১. সাহাবি এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী
এক ধরনের অনুসারীরা হচ্ছে স্বাধীন। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانِ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَরَضُوا عَنْهُ
'মুহাজির ও আনসারদের মাঝে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।
এই সৌভাগ্যবানদের জন্য আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি সাব্যস্ত হয়ে গেছে। এঁরা হলেন নবি ﷺ-এর সাহাবি এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারীগণ। এ কথার মাধ্যমে কিয়ামাত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদেরকে অনুসরণ করবে, সবাই এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। যারা শুধু আনসার এবং মুহাজিরদের যুগ দেখেছেন, শুধু তাদের কথাই বলা হয়নি। বরং পরবর্তীদের থেকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করার জন্য পারিভাষিক অনুসারীদের কথা বলা হয়েছে। অবশ্য কারও কারও মতে আয়াতে অনুসারীদের কথা বলে শুধু বিশেষ দলকে বুঝানো হয়েছে। নাহলে যারাই তাঁদের অনুসরণ করবে, তারাই নিষ্ঠার সাথে অনুসারী হয়ে যাবে। ‘আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট' এ কথা তাদের সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
আল্লাহ তাআলা এখানে অনুসরণের শর্তারোপ করেছেন 'নিষ্ঠার সাথে' বলে। এর দ্বারা বোঝা যায়, এটা সাধারণ কোনো অনুসরণ নয়। কেবল তাঁদের সম্পর্কিত হওয়া এবং তাদের শত্রুদের বিরোধিতা করার দ্বারাই এটা পূর্ণ হয় না। বরং অনুসরণ যখন নিষ্ঠার সাথে হবে, তখনই সেটা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাত লাভের কারণ হবে।
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّنَ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ، وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُواْ مِن قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُّবِينٍ
'তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তাঁর আয়াতসমূহ, তাঁদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমাত। ইতিপূর্বে তারা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে। এবং (এই রাসূল প্রেরিত হয়েছেন) তাদের অন্যান্যের জন্যও, যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। এটা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি এটা দান করেন। আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।
এখানে প্রথম দলটি হলেন যারা আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে পেয়ে তাঁর সংস্রব গ্রহণ করেছেন। আর 'যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি'-এই অংশটুকুর দ্বারা সেসব লোকদের কথা বলা হয়েছে, যারা কিয়ামাত পর্যন্ত তাঁদের অনুসরণ করবেন। তাদের পেছনে থাকা এবং পূর্ববর্তীদের সাথে মিলিত না হতে পারার কারণ হলো সময়গত তফাত। আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, যারা সম্মান ও স্তরের ক্ষেত্রে প্রথম দলের সাথে মিলিত হতে পারেনি; বরং তারা নিচের স্তরে রয়েছে। এ ব্যাখ্যা অনুসারে দ্বিতীয় দলের মিলিত না হওয়ার কারণ হলো স্তরগত পার্থক্য।
এই দুটি বক্তব্যই একটি অপরটির সাথে সংযুক্ত। কারণ দুটি দলেরই একটি থেকে অপরটির মর্যাদাগত যেমন তফাত রয়েছে, তেমনই সময়গত পার্থক্যও আছে। মোটকথা উভয় দলই সৌভাগ্যবান। আর যারা রাসূলকে দিয়ে আল্লাহ তাআলার প্রেরিত হিদায়াত গ্রহণ করেনি, এমনকি সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করেনি, তারা তৃতীয় দলের অন্তর্ভুক্ত। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পরের আয়াতে বলেছেন,
الَّذِينَ حُمِلُوا التَّوْرَنَةَ ثُمَّ لَمْ يَহْمِلُوهَا
'যাদেরকে তাওরাত দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তারা তার অনুসরণ করেনি।'
নবির দাওয়াতে সাড়া দেওয়া হিসেবে মানুষের প্রকারভেদ:
আল্লাহ তাআলা যে দাওয়াত এবং হিদায়াত দিয়ে নবিজিকে পাঠিয়েছেন, তার সাথে আচরণের ভিত্তিতে মানুষের প্রকারের বর্ণনা নবি নিজেই দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'আল্লাহ তাআলা আমাকে যে হিদায়াত ও ইলম দিয়ে পাঠিয়েছেন তার দৃষ্টান্ত হলো যমিনে পতিত বৃষ্টির মতো। কোনো কোনো যমিন থাকে উর্বর, যা সেই পানি শুষে নিয়ে প্রচুর পরিমাণে ঘাসপাতা এবং সবুজ তরুলতা উৎপাদন করে। আর কোনো কোনো যমিন থাকে কঠিন, যা পানি আটকে রাখে। পরে আল্লাহ তাআলা তা দিয়ে মানুষের উপকার করেন; তারা নিজেরা তা পান করে, (পশুপালকে) পান করায় এবং তার দ্বারা চাষাবাদ করে। আবার কোনো কোনো যমিন আছে যা একেবারে মসৃণ ও সমতল; তা না পানি আটকে রাখে, আর না কোনো ঘাসপাতা উৎপাদন করে। এই হলো সে ব্যক্তির দৃষ্টান্ত, যে দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে এবং আল্লাহ তাআলা আমাকে যা দিয়ে প্রেরণ করেছেন তা দ্বারা সে উপকৃত হয়। ফলে সে নিজে শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়। আর সে ব্যক্তির দৃষ্টান্ত যে কিনা সেদিকে মাথা তুলে তাকায়ই না এবং আল্লাহ (প্রদত্ত) যে হিদায়াত নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি, তা গ্রহণও করে না।'
হাদীসের ব্যাখ্যা:
• এ হাদীসে নবি ইলমকে বৃষ্টির সাথে তুলনা দিয়েছেন। কারণ বৃষ্টি এবং ইলম, দুটিই জীবন লাভের কারণ। বৃষ্টির মাধ্যমে শারীরিক জীবন লাভ হয়, আর ইলমের মাধ্যমে লাভ হয় অন্তরের জীবন।
• ইলম গ্রহণকারী অন্তরকে বৃষ্টির পানি ধারণ করতে পারে এমন যমিনের সাথে তুলনা করেছেন। যেমন কুরআন কারীমে উপত্যকার সাথে অন্তরের তুলনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
أَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا
'তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। ফলে উপত্যকাগুলো তাদের পরিমাণ অনুযায়ী প্লাবিত হয়।'
বৃষ্টির পানি ধারণ করার দিক থেকে যমিন তিন ধরনের।
ক. ঘাসপাতা এবং তরুলতা উৎপাদনকারী: এ ধরনের জমিতে বৃষ্টি পড়লে তা সবুজ শ্যামল হয়ে ওঠে। এটা হলো পবিত্র এবং বুদ্ধিমান অন্তরের দৃষ্টান্ত। বুদ্ধিমত্তা থাকায় তা গ্রহণ করে ইলম। পবিত্রতা থাকায় প্রজ্ঞা এবং দ্বীনের সততার কারণে তা সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়। এই অন্তর যেমন ইলমের উপযোগী, তেমনি ইলমের সুপরিণাম, গভীরতা এবং সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম রহস্যের আধার। এই অন্তর হলো বিচক্ষণ ধনী ব্যবসায়ীর মতো, যার অনেক ধরনের ব্যবসা ও উপার্জনের মাধ্যম আছে। তিনি সম্পদ দিয়ে ইচ্ছেমতো মাল কামাই করেন।
খ. কঠিন ভূমি : পানি আটকে এবং সংরক্ষণ করে রাখে। এটা এমন অন্তরের উদাহরণ, যা ইলম সংরক্ষণ করে থাকে। যেমন শ্রবণ করে, তেমনই সংরক্ষণ করে থাকে। সে ইলমের কোনো ধরনের চর্চা বা তা থেকে কোনো মাসআলা আহরণ সে করে না। বরং তার কাজ হলো শুধু সংরক্ষণ করা এবং যেভাবে শুনে হুবহু সেভাবে অপরজনের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এ প্রকার সম্পর্কে নবি অন্য জায়গায় বলেছেন,
فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهِ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ، وَرُبَّ حَامِلٍ فِقْهِ لَيْسَ بِফَقِيهِ
'জ্ঞানবাহক অনেকেই তার চেয়ে বড় জ্ঞানীর কাছে জ্ঞান পৌঁছে দিতে পারে। অনেক জ্ঞানবাহক ব্যক্তি নিজে প্রজ্ঞাবান নয়।'
এই অন্তর ধনী ব্যক্তির মতো, যার কামাইয়ের অভিজ্ঞতা নেই। তিনি শুধু সম্পদ সংরক্ষণ করতে পারেন, কিন্তু খরচের পদ্ধতি তার জানা নেই।
গ. মসৃণ ও সমতল : এই যমিন কোনো রকম ঘাসপাতা উৎপাদন করে না, পানিও আটকে রাখে না। পতিত যমিন, যাতে না আছে ঘাসপাতা, আর না আছে পানি আটকে রাখার ক্ষমতা। বৃষ্টির দ্বারা এ ধরনের যমিনের কোনো রকম উপকার হয় না। এটা হলো এমন অন্তরের মতো, যাতে কোনো রকম ইলম নেই। তার অবস্থা এমন হতদরিদ্র ব্যক্তির ন্যায়, যার না আছে সম্পদ, আর না আছে সম্পদ সঞ্চয় করার ক্ষমতা।
⇨ প্রথম প্রকার ব্যক্তি হলেন জ্ঞানী, শিক্ষক এবং দূরদর্শিতাসম্পন্ন দাঈ। তিনিই নবিগণের উত্তরাধিকারী।
⇨ দ্বিতীয় প্রকার ব্যক্তি হচ্ছেন যিনি সংরক্ষণ করেন এবং যা শোনা জিনিস যথাযথভাবে অন্যের কাছে পৌঁছে দেন। তিনি এমন ব্যক্তির মতো, যে অন্যকে ব্যবসার জন্য মূলধন দিয়ে থাকে এবং লাভবান হয়।
⇨ তৃতীয় প্রকার ব্যক্তির প্রথম কিংবা দ্বিতীয় প্রকার ব্যক্তির মতো কোনো যোগ্যতা নেই। সে আল্লাহ তাআলার দেওয়া হিদায়াত গ্রহণ করা তো পরের কথা, সেদিকে ভ্রুক্ষেপই করে না।
মোটকথা, এই হাদীসটি নববি দাওয়াতের আঙ্গিকে মানুষের প্রকার এবং তাদের স্তরগত বিন্যাস অনুপুঙ্খরূপে ফুটিয়ে তুলেছে।
টিকাঃ
[৫৮] সূরা তাওবা, ৯ : ১০০
[৫৯] সূরা জুমুআ, ৬২ : ২-৪
[৬০] সূরা জুমুআ, ৬২ : ৫
[৬১] সহীহ বুখারি, হাদীস নং : ৭৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং : ২২৮২
[৬২] সূরা রা'দ, ১৩ : ১৭
[৬৩] মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং : ২১৫৯০; আবু দাউদ, হাদীস নং : ৩৬৬০; তিরমিযি, ২৬৫৬
📄 ২. সৌভাগ্যবান মানুষের দ্বিতীয় প্রকার
সৌভাগ্যবানদের দ্বিতীয় প্রকার হলো ঈমানদার অনুসারীদের সন্তানসন্ততি। দুনিয়াতে তারা শারীয়াতের বিধানাবলি পালনের উপযুক্ত হয়নি। তারা মূলত তাদের পূর্বপুরুষের অনুগামী হিসেবেই তাদের অনুসারী। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَالَّذِينَ ءَامَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُم بِإِيمَانِ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّতَهُمْ وَمَا أَلَتْنَهُم مِّنْ عَمَلِهِم মِّن شَيْءٍ كُلُّ امْرِئٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ
'যারা ঈমান আনে এবং তাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুগামী হয়, তাদের সঙ্গে আমি মিলিয়ে দেবো তাদের সন্তানসন্ততিকে এবং তাদের কর্মফল আমি কিছুমাত্রও হ্রাস করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী।
এখানে আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিচ্ছেন—তিনি মুমিনদের সন্তানদেরকে ঈমানের ক্ষেত্রে তাদের পূর্বপুরুষদের সাথে মিলিত করে দিয়েছেন। পাশাপাশি জান্নাতেও তাদেরকে একত্র করে দেবেন। যদিও সেই স্তরে পৌঁছার উপযুক্ত হওয়ার মতো আমল সন্তানদের নেই। আল্লাহ তাআলা বলছেন, 'তাদের কর্মফল আমি কিছুমাত্রও হ্রাস করব না।' অর্থাৎ পূর্বপুরুষদের আমল না কমিয়েই সন্তানদেরকে আমি পূর্বপুরুষদের স্তরে উন্নীত করে দেবো এবং তাদের প্রতিদান পুরোপুরি দেওয়া হবে। আর সন্তানদের অবস্থাও এমন হবে না যেন তাদের আমলই নেই, বরং তারাও পূর্ণ প্রতিদান লাভ করবে। তাদের নিজেদের স্তর থেকে উন্নীত করে তবেই তাদেরকে আমি পূর্বপুরুষদের সাথে মিলিয়ে দেবো।
টিকাঃ
[৬৪] সূরা তৃর, ৫২ : ২১
📄 আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ
এরপর আল্লাহ তাআলা এটা বুঝিয়ে দিলেন যে, সাওয়াব এবং স্তরগত সমতা, এটা কেবলই তাঁর অনুগ্রহ। কারণ কারও মনে এমনটা ধারণা আসতে পারে যে, নেক কাজের কারণে ইনসাফ করে মনে হয় সন্তানদের সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনটাও মনে হতে পারে যে, পূর্বপুরুষরা পাপ করলে সন্তানরাও বোধহয় তাদের শাস্তির ভাগীদার হবে। আসলে প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের কৃতকর্মের জন্য দায়ী, অন্য কেউ তার সাথে সম্পৃক্ত হবে না। উল্লিখিত যুক্তকরণ হবে কেবল আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ এবং সাওয়াবের ক্ষেত্রে। শাস্তিপ্রদানের ক্ষেত্রে নয়। কুরআন কারীমের এমন আরও কিছু গুপ্তভাণ্ডার রয়েছে, যার বুঝ ও সমঝ আল্লাহ তাআলা নিজের মনোনীত ব্যক্তিদের দান করে থাকেন।
এ ধরনের আয়াতগুলোতে সমস্ত মানুষের প্রকার, সৌভাগ্যবান-দুর্ভাগা এবং তাদের অনুসারীদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং জ্ঞানী ও নিজের প্রতি কল্যাণকামী লোকদের উচিত নিজের অবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা যে, সে কোন প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে। নিজের অভ্যাসের প্রতি ধোঁকায় পড়ে গিয়ে নিজেকে বীর বাহাদুর ভাবতে থাকা উচিত হবে না। নিজেকে সৌভাগ্যবানদের কাতারে দেখতে পেলে আরও উন্নতি করার প্রয়াস চালাতে হবে। আল্লাহ তাআলা তাওফীক এবং সফলতা দান করবেন। আর দুর্ভাগাদের দলভুক্ত দেখতে পেলে সময় থাকতে থাকতেই সৌভাগ্যবানদের কাতারে চলে আসার চেষ্টা করতে হবে। তা না হলে কুরআনের ভাষায় আক্ষেপ করে বলতে হবে, 'হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে সৎপথ অবলম্বন করতাম!'
টিকাঃ
[৬৫] সূরা ফুরকান, ২৫: ২৭