📘 মুসাফিরের পাথেয় 📄 দুর্ভাগা অনুসারীদের কথা

📄 দুর্ভাগা অনুসারীদের কথা


এটা তো গেল মুশরিকদের কথা। অনুসারী এবং অনুসৃত দু'দলই গোমরাহ। আরও এক শ্রেণী রয়েছে, যারা তাদের পূর্ববর্তীদের নীতি-আদর্শের উলটা পথে চলেও দাবি করে—তারা পূর্বসূরিদের অনুসারী। আসলে তারা মোটেই তাদের অনুসরণ করে না। আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলছেন,

'অনুসৃতরা যখন অনুসরণকারীদের থেকে দায়মুক্তির ঘোষণা করবে এবং আযাব প্রত্যক্ষ করবে ও তাদের পারস্পরিক সমস্ত সম্পর্ক তখন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অনুসারীরা তখন বলবে, “হায়, যদি আমাদেরকে পৃথিবীতে ফিরে যাবার সুযোগ দেওয়া হতো! তাহলে আমরাও তাদের থেকে দায়মুক্তির ঘোষণা দিয়ে দিতাম, যেমন তারা আমাদের থেকে দায়মুক্তি ঘোষণা করেছে।” এভাবেই আল্লাহ তাআলা তাদের কৃতকর্মগুলো তাদেরকে দেখাবেন, তাদেরকে অনুতপ্ত করার জন্য। আর তারা কস্মিনকালেও আগুন থেকে বের হতে পারবে না।

মূলত এই অনুসৃত ব্যক্তিরা ছিলেন হিদায়াতপ্রাপ্ত। তাদের অনুসারীরা তাদের মত ও পথের বিপরীতে চলেও দাবি করত যে, তারা সেসব ব্যক্তিদের আদর্শের ওপরই আছে। তারা এও দাবি করত যে, 'আমরা তাদের আদর্শের উলটা পথে চললে কী হবে, আমরা তো তাদেরকে ভালোবাসি! এই ভালোবাসার কারণেই আমরা পার পেয়ে যাব। কিন্তু কিয়ামতের দিন দেখা যাবে, অনুসৃতরা এই অনুসারীদের থেকে দায়মুক্তির ঘোষণা দিয়ে দেবে। কারণ এরা আল্লাহ তাআলার পরিবর্তে তাদেরকে অভিভাবক বানিয়ে নিয়েছিল। আর ধারণা করেছিল, এই অভিভাবকরা তাদের উপকার করবে।

এই অবস্থাই হবে সেসব লোকের, যারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের পরিবর্তে অন্যদেরকে অভিভাবক বানিয়ে নেয়। তাদের খাতিরেই বন্ধুত্ব এবং শত্রুতা করে। তারা সন্তুষ্ট এবং ক্রুদ্ধও হয়ে থাকে এই অভিভাবক আর বন্ধুদের স্বার্থেই। এই লোকদের সমস্ত আমল বাতিল হয়ে যাবে। কিয়ামতের দিন তাদের আমলের সংখ্যা বেশি দেখা যাবে, পরিশ্রম হবে অনেক, তবুও এসব তাদের আক্ষেপের কারণ হবে। কারণ তারা নিজেদের বন্ধুত্ব এবং শত্রুতা, ভালোবাসা এবং ঘৃণা, জয় এবং অগ্রাধিকার—আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য করেনি। তাই আল্লাহ তাআলা সমস্ত আমল বাতিল করে দিয়ে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে দেবেন। দুনিয়াতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য করা কোনো সম্পর্কই বহাল থাকবে না। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'তাদের পারস্পরিক সমস্ত সম্পর্ক তখন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।'

কিয়ামতের দিন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য করা সব ধরনের সম্পর্ক, মাধ্যম এবং ভালোবাসা নিঃশেষ হয়ে যাবে। আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক জুড়ে দেয়, এমন সম্পর্কই কেবল সেদিন বহাল থাকবে। যেমন: আল্লাহ ও রাসূলের দিকে হিজরত, কেবল আল্লাহর জন্য করা ইবাদাত ইত্যাদি। এর জন্য আবশ্যকীয় বিষয় হলো—ভালোবাসা এবং ঘৃণা, প্রদান করা এবং বিরত থাকা, শত্রুতা এবং মিত্রতা, নৈকট্য এবং দূরত্ব ইত্যাদি ক্ষেত্রে শুধু রাসূলের অনুসরণ করা এবং অন্য কারও কথা বর্জন করা। রাসূল ﷺ আনীত শারীয়াতের বিরোধিতা করা থেকে বিরত থাকা এবং যারা তা করে তাদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করা। অন্য কারও দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে শুধু তাঁরই অনুসরণ করা। তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরিক না করা বা অন্য কারও কথাকে তাঁর কথার ওপর প্রাধান্য না দেওয়া।

এটা হলো চিরস্থায়ী সম্পর্ক। বান্দার সাথে রবের সম্পর্ক এটাই। এটাই প্রকৃত বান্দার পরিচয়। এই বন্ধন এদিক-সেদিক ঘুরে, তারপর তার দিকেই ফিরে আসে। এই সম্পর্কই বান্দার উপকার করে। এটা ছাড়া দুনিয়া, কবর এবং আখিরাতে এমন কিছু নেই, যা বান্দার উপকার করতে পারে। এই সম্পর্কই বান্দার ভরসা, আশ্রয়, নিয়ামত এবং সফলতার কেন্দ্র। এটাই বান্দার সাথে আল্লাহর অবিচ্ছিন্ন সম্পর্ক।

টিকাঃ
[৫৬] সূরা বাকারাহ, ২ : ১৬৬-১৬৭

ফন্ট সাইজ
15px
17px