📄 এই হিজরতের শক্তি এবং দুর্বলতা
এই হিজরত শক্তিশালী এবং দুর্বল হয়ে থাকে আহ্বায়কের ভালোবাসার শক্তি এবং দুর্বলতার ভিত্তিতে। বান্দার অন্তরে ভালোবাসার আহ্বায়ক শক্তিশালী হলে, এই হিজরত শক্তিশালী হয়ে থাকে। আর যদি আহ্বায়ক দুর্বল হয়, তবে হিজরতও দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি অবস্থা এমন হয় যে, না-পাওয়া যায় কোনো জ্ঞানের নিদর্শন, আর না পাওয়া যায় কোনো রকম ইচ্ছাশক্তি।
অবাক-করা বিষয় হলো, মানুষ কুফরের এলাকা থেকে ইসলামি দেশে হিজরত করা নিয়ে নানান আলোচনা এবং মাসআলা উদঘাটন করে থাকে। মক্কাবিজয়ের মাধ্যমে কোন হিজরতের সমাপ্তি ঘটেছে, তা নিয়ে অনেক পর্যালোচনা করে। কিন্তু যে হিজরত জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত করে যেতে হয়, সে বিষয়ে না থাকে জ্ঞান, আর না থাকে ইচ্ছা। এর কারণ হলো সৃষ্টির উদ্দেশ্য ভুলে যাওয়া এবং গাইরুল্লাহকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়া। এটা সেসব লোকের অবস্থা, যার অন্তর্চক্ষুতে ছানি পড়ে গেছে। আর ধংসস্তূপের নিচে প্রকৃত ইলম চাপা পড়েছে। আল্লাহ তাআলাই প্রকৃত সাহায্যকারী। তিনিই তাওফীক দেন। তিনি ছাড়া না আছে কোনো ইলাহ, আর না আছে অন্য কোনো প্রতিপালক।
রাসূল ﷺ-এর দিকে হিজরত
দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এটা এখন একটি প্রতিকী বিষয় হয়ে গেছে; যার নামটাই শুধু বাকি আছে, বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই। যেন প্রচণ্ড ধুলিঝড় এসে, এর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট রাখেনি। যেন শত্রুর আক্রমণে আশেপাশের ঝরনাধারা শুকিয়ে গেছে। ফলে মুমিনের অবিকল্প এই পথ আজ খোদ মুসলিম-সমাজেই অপরিচিত। এ পথের পথিক আজ অল্প কিছু মানুষ, যাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। উম্মাত দাবিকারী হাজার হাজার মানুষ থেকে হয়ত দু-একজন পাওয়া যাবে। এই হিজরতের পথে যে নেমেছে, সে যেন আজ কাছে থেকেও দূরে। বহু জনতার মাঝেও একা। নিজ দেশেও প্রবাসী। লোকেরা বিভিন্ন মতাদর্শের পেছনে ছোটে আর সে তা থেকে পালিয়ে বেড়ায়। আর সে যা তালাশ করে, অন্যদের কাছে তা গুরুত্বহীন। তার অবস্থা সবার চেয়ে আলাদা। যাত্রাপথে সে সঙ্গীহীন, একা। তার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ আলাদা। অন্যদের চোখ যখন সুখনিদ্রায় বিভোর, সুপথের তালাশে তখন সে বিনিদ্র রজনী কাটায়। সবাই যেন নববি হিজরতের পথ থেকে হাত গুটিয়ে বসে আছে, আর সে কোমর বেঁধে তার অন্বেষণ করছে। নিজেদের মতের বিরুদ্ধে যাওয়ায় লোকেরা তাকে নানাভাবে দোষারোপ করে চলছে। তাদের অজ্ঞতা এবং প্রবৃত্তির বিরোধিতা করার কারণে, সবাই তাকে ঘৃণার চোখে দেখে। তাকে চোখে চোখে রাখে। সে যেন বিপদে পড়ে, তার প্রতীক্ষায় থাকে। এই অবস্থায় আসলে কিছু বলার নেই। শুধু কুরআনের ভাষায় বলতে হয় :
'কাজেই, তোমরা অপেক্ষা করো, আর আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।
‘রাসূল বললেন, হে আমার পালনকর্তা! আপনি ন্যায়ানুগ ফায়সালা করে দিন। আমাদের পালনকর্তা তো দয়াময়; তোমরা যা বলছ, সে বিষয়ে আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।”
মোটকথা, এই নববি হিজরতের পথ বড়ই বন্ধুর। কন্টকাকীর্ণ ও দুর্গম। অনাগ্রহী ব্যক্তির জন্য এটা অকল্পনীয়। অকর্মণ্যের জন্য অসাধ্য। পক্ষান্তরে আগ্রহীদের জন্য এটা পানির মতো সহজ। আল্লাহর শপথ! এটা তো সমুজ্জ্বল আলো, কিন্তু তুমি অন্ধকারে নিমজ্জিত। এটা পূর্ব-পশ্চিম আলোকিতকারী পূর্ণিমার চাঁদ, কিন্তু তুমি হলে নিকষকালো মেঘ। এটা সুমিষ্ট ও স্বচ্ছ পানির ধারা, কিন্তু তুমি হলে এক পশলা কাদা। এখান থেকেই এক মহান কল্যাণের শুরু, কিন্তু তোমার কোনো খবর নেই।
টিকাঃ
[১৮] সূরা তাওবা, ৯ : ৫২
[১৯] সূরা আম্বিয়া, ২১ : ১১২