📄 ৫.১৩ : মুরজিয়াদের বক্তব্য : ইমানের প্রকৃত পরিচয় কেবল জবানের স্বীকৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ
কতক মুরজিয়া বলে থাকে, “ইমান কেবল জবানের স্বীকৃতি।” তাদের এই বক্তব্য নিতান্তই ভুল। এভাবে বললে মুনাফেকদেরও মুমিন বলতে হয়। কেননা তারাও জবানের মাধ্যমে ইসলামের স্বীকৃতি দেয়। অথচ তারা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে-কাফিরদেরও নিচে অবস্থান করবে। যেমনটি আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয় মুনাফেকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করবে।”
টিকাঃ
১৯৯ আল-কুরআন, ৪ (সুরা নিসা) : ১৪৫।
📄 ৫.১৪ : মুরজিয়াদের বক্তব্য : শরিয়তে ইমান বলতে বোঝায় অন্তরের সত্যায়ন
মুরজিয়াদের আকিদার একটি অন্যতম প্রকার হলো, আভিধানিক অর্থ অনুযায়ী (শরিয়তে বর্ণিত) ইমান শব্দের ব্যাখ্যা করা-ইমান মানে অন্তরের সত্যায়ন (التصديق القلبي)। তারা বলে, ইমানের শাব্দিক অর্থ বিশ্বাস করা বা সত্যায়ন করা (التصديق)। যেমন মহান আল্লাহ ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইদের ঘটনা বর্ণনা করে বলেছেন, “(ইউসুফের ভাইয়েরা পিতা ইয়াকুবকে বলেছিল,) কিন্তু আপনি তো আমাদেরকে বিশ্বাস করবেন না।” অর্থাৎ, সত্যায়ন করবেন না। এমনকি ইমানের এই আভিধানিক অর্থের পক্ষে ভাষাবিদদের ইজমা (মতৈক্য) আছে বলেও কেউ কেউ দাবি করেছেন।
এর জবাব হিসেবে বলা হবে, 'বা' অব্যয়যোগে ইমান শব্দকে সকর্মক করা হলে এর অর্থ শুধু 'সত্যায়ন করা' হয় না; আর এ ব্যাপারে কোনো দলিলও নেই। পক্ষান্তরে যেই 'ইমান' শব্দের অর্থ 'সত্যায়ন করা' বলা হচ্ছে, সেই শব্দকে 'লাম' অব্যয়যোগে সকর্মক করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন, “সে (লুত) তার প্রতি (ইবরাহিমের প্রতি) বিশ্বাস স্থাপন করেছে।”
অপরপক্ষে 'বা' অব্যয়যোগে এই শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে, “(তাদের মধ্যে) কেউ কেউ তাঁর প্রতি (মুহাম্মাদের প্রতি) ইমান এনেছে।” এক্ষেত্রে শাব্দিক অর্থ হিসেবে ইমান মানে 'সত্যায়ন' করা শুদ্ধ নয়।
পরন্তু 'সত্যায়ন করা (التصديق)' দৃশ্যমান-অদৃশ্যমান উভয় বিষয়াবলির ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। অপরদিকে 'ইমান' শব্দ কেবল অদৃশ্য বিষয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যারা অদৃশ্যের প্রতি ইমান রাখে।”
আর অন্তরের সত্যায়নের (بالقلب التصديق) বিপরীত মিথ্যা প্রতিপন্ন করা (التكذيب)। কিন্তু ইমানের বিপরীত 'মিথ্যা প্রতিপন্ন করা' নয়, বরং এর বিপরীত অস্বীকার (الكفر)। এজন্য কেউ যদি বলে, “আমি নবিকে সত্যায়ন করি, কিন্তু তাকে মানি না, তার বিরোধিতা করি,” তাহলে সে মুমিন নয়।
'কোনো জিনিসের প্রতি ইমান আনা' বলা হলে আভিধানিকভাবেই তাতে আমল অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। যদি বলা হয়, "অমুক পুনরুত্থানের প্রতি ইমান রাখে,” তার মানে সে পরকালের জন্য আমলের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিয়েছে। আবার যদি বলা হয়, “অমুক পুনরুত্থানের প্রতি ইমান রাখে না,” এর মানে যদিও সে তা সত্যায়ন করে, কিন্তু সে তার জন্য প্রস্তুতি নেয়নি। যেমন ইবলিস; সে আল্লাহর প্রতি ইমান আনেনি, যদিও সে তাঁর অস্তিত্ব ও রুবুবিয়্যাতকে (আল্লাহর প্রভুত্বকে) সত্যায়ন করেছে।
তথাপি আমরা যদি মেনেও নিই যে, ইমানের আভিধানিক অর্থ—সত্যায়ন করা, তবুও আভিধানিকভাবে 'সত্যায়ন করার' মধ্যে কর্মাবলিও এসে যায়। যেমন হাদিসে এসেছে, “(নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন) চোখের জিনা হলো (হারামের দিকে) তাকানো এবং জিহ্বার জিনা হলো মুখে বলা। মন কামনা করে এবং আকাঙ্ক্ষা করে। আর লজ্জাস্থান তাকে সত্যায়ন করে অথবা মিথ্যা প্রমাণ করে।”
তদ্রুপ ইমানকে শাব্দিকভাবে 'সত্যায়ন করা' বলে ব্যাখ্যা করা হলেও শরিয়তপ্রণেতা (মহান আল্লাহ) 'ইমান' শব্দের সাথে অন্যান্য বিধিনিষেধ জুড়ে দিতেই পারেন; এতে তো কোনো বাধা নেই। যেমন আস-সালাত (الصلاة) শব্দ; আভিধানিক অর্থে এই শব্দ—প্রার্থনা করা, প্রশংসা করা প্রভৃতি অর্থে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু শরিয়তপ্রণেতা 'আস-সালাত' শব্দের সাথে রুকু, সিজদা, কিরাতকে ফরজ বিধান হিসেবে জুড়ে দিয়েছেন।
ইমান শুধু সত্যায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এ ব্যাপারে বেশকিছু সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে। যেমন আব্দুল কাইস গোত্রের প্রতিনিধিদলের হাদিস; সেখানে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা ও কাজকে ইমানের তাফসিরের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, «أَتَدْرُونَ مَا الإِيمَانُ بِاللَّهِ وَحْدَهُ؟ ... شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامُ الصَّلاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَصِيَامُ رَمَضَانَ، وَأَنْ تُعْطُوا مِنَ الْمَغْنَمِ الْخُمُسَ».
“এক আল্লাহর প্রতি ইমান আনার স্বরূপ কী, তা কি তোমরা অবগত আছ? ... তা হচ্ছে এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসুল, এবং (যথাযথভাবে) নামাজ আদায় করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা; আর গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) হতে তোমাদের এক-পঞ্চমাংশ সম্পদ (মুসলিম রাষ্ট্রের কোষাগারে) অর্পণ করা।”
আর তারা সত্যায়নের ব্যাখ্যায় যে বিশৃঙ্খলা করেছে, তা দেখলেই তাদের কথার ভ্রান্তি প্রমাণিত হয়। তাদের কেউ বলেছে, এর মানে জানা। অথবা এর মানে অন্তরের কথা, যার মধ্যে জানাও সন্নিবেশিত হয়। আবার তাদের কেউ কেউ বলেছে, "তাসদিক তথা সত্যায়ন মানে অবাধ্যতা ত্যাগ করা।” এগুলো তাদের মধ্যকার মতভেদ ও বিশৃঙ্খলার প্রমাণ বহন করে।
তাদের পূর্বোক্ত বক্তব্য— 'ইমান স্রেফ অন্তরের সত্যায়ন'- মেনে নিলে নিকৃষ্ট কিছু জিনিস অপরিহার্যভাবে চলে আসে, যার অধিকাংশই তারা মেনে নিবে না। এজন্য বুদ্ধিমানরা তাদের সমালোচনা করেছেন, এবং তাদের এই মতবাদের বলেছেন, এগুলো গোঁয়ার্তুমি এবং কূটতর্ক।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, একদল মুরজিয়া শব্দের মর্মার্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে ওয়াকিফিয়্যা সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত! তাদের মতে, ইঙ্গিতবহ প্রমাণ ছাড়া কোনো শব্দ অর্থ প্রকাশ করে না। অথচ তারা কোনো ইঙ্গিতবহ প্রমাণ ব্যতিরেকে ইমানের ব্যাপারে বর্ণিত (শরয়ি) দলিলগুলোর ব্যাখ্যা করে-এসবের মানে সত্যায়ন করা! বরং দলিলসমূহ ও ইঙ্গিতবহ প্রমাণসমগ্র থেকে তাদের ব্যাখ্যার বিপরীত বিষয়ই প্রমাণিত হয়।
কেননা যেসব দলিল থেকে প্রমাণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রসুলকে ভালোবাসে না, আল্লাহকে ভয় করে না, কোনো ভালো আমল করে না, সে ইমানদার নয়; সেসব দলিল স্পষ্ট এবং সেসবের সংখ্যাও অনেক।
আর যদি ধরেও নেওয়া হয়, কোনো দলিল এগুলোর সাথে বিরোধপূর্ণ, তাহলে স্বল্পপরিমাণ আমকে খাস করা (অনির্দিষ্টকে নির্দিষ্ট করা) কিংবা তাবিল তথা ভিন্নার্থ করা-সুস্পষ্ট মুতাওয়াতির (বিপুলসংখ্যক বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণিত) দলিলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করার চেয়ে উত্তম।
টিকাঃ
২০০ আল-কুরআন, ১২ (সুরা ইউসুফ) : ১৭।
২০১ আল-কুরআন, ২৯ (সুরা আনকাবুত): ২৬।
২০২ আল-কুরআন, ৪ (সুরা নিসা): ৫৫।
২০৩ আল-কুরআন, ২ (সুরা বাকারা): ৩।
২০৫ আল-বুখারি, আস-সহিহ, হা. ৬৬১২; মুসলিম বিন হাজ্জাজ, আস-সহিহ, হা. ২৬৫৭।
২০৬ আল-বুখারি, আস-সহিহ, হা. ৫৩; মুসলিম বিন হাজ্জাজ, আস-সহিহ, হা. ১৭।
২০৭ অনুবাদকের টীকা: যারা মনে করে, শব্দকে তার প্রকাশ্য অর্থ অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা যাবে না, যতক্ষণ না কোনো ইঙ্গিতবহ প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে; প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে মর্মার্থ নির্ণিত হবে, অন্যথায় কোনো অর্থ নির্ধারণ না করে ক্ষান্ত থাকতে হবে। এদেরকে ওয়াকিফিয়্যা বলা হয়। আশারিদের জনক আবুল হাসান আল-আশারি, আশারিদের বিখ্যাত ইমাম কাদি আবু বাকার আল-বাকিল্লানি প্রমুখ এই মতাদর্শ পোষণ করতেন। দ্রষ্টব্য : আবুল ওয়াফা আলি ইবনু আকিল আল-বাগদাদি আল-হাম্বালি, আল-ওয়াদিহ ফি উসুলিল ফিকহ, তাহকিক : আব্দুল্লাহ আত-তুর্কি (বৈরুত : মুআসসাসাতুর রিসালা, ১ম প্রকাশ, ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.), খ. ২, পৃ. ৭-৮।
২০৮ অনুবাদকের টীকা: আহলুস সুন্নাহর অনেক বিদ্বান ইমানের পরিচয় বিষয়ে সঠিক আকিদা রাখা সত্ত্বেও ইমানের আভিধানিক অর্থ 'তাসদিক' তথা 'সত্যায়ন করা' হবে বলে উল্লেখ করেছেন। ইমানের আভিধানিক অর্থ নিয়ে আহলুস সুন্নাহর উলামাগণ মতভেদ করেছেন। সুতরাং কোনো একটি মত গ্রহণ করার কারণে সুন্নাহপন্থি কারও ওপর চড়াও হওয়া কিংবা আহলুস সুন্নাহ থেকে খারিজ করা গর্হিত অপরাধ। এটা অন্যায়ভাবে 'বিদাতি' আখ্যাদাতা হাদ্দাদি ফের্কার কাজ। আল্লাহুল মুস্তাআন। আহলুস সুন্নাহর মহামতি মুফাসসির, ইমাম ইবনু জারির আত-তাবারি রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৩১০ হি.) বলেছেন, «وَمَعْنَى الْإِيمَانِ عِنْدَ الْعَرَبِ : التَّصْدِيقُ فَيُدْعَى الْمُصَدِّقُ بِالشَّيْءِ قَوْلًا مُؤْمِنًا بِهِ، وَيُدْعَى الْمُصَدِّقُ قَوْلَهُ بِفِعْلِهِ مُؤْمِنًا». “আরবদের নিকটে 'ইমান' শব্দের অর্থ তাসদিক (সত্যায়ন করা)। এজন্য কথার মাধ্যমে কোনোকিছুকে সত্যায়নকারীকে 'সে বিষয়ের প্রতি ইমান আনয়নকারী' বলে অভিহিত করা হয়। আবার কাজের মাধ্যমে নিজের কথাকে সত্যায়নকারীকেও 'মুমিন' বলা হয়।” দ্রষ্টব্য : আত-তাবারি, জামিউল বায়ান, খ. ১, পৃ. ২৪১। ইমাম ইবনু কাসির রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৭৭৪ হি.) বলেছেন, «أَمَّا الْإِيمَانُ فِي اللُّغَةِ فَيُطْلَقُ عَلَى التَّصْدِيقِ الْمَحْضِ، وَقَدْ يُسْتَعْمَلُ فِي الْقُرْآنِ وَالْمُرَادُ بِهِ ذَلِكَ». "আরবি ভাষায় 'ইমান' শব্দ স্রেফ তাসদিক (সত্যায়ন করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়। কুরআনেও এই শব্দ উক্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।” দ্রষ্টব্য : আবুল ফিদা ইসমায়িল বিন উমার ইবনু কাসির আল-কুরাশি আদ-দিমাশকি, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, তাহকিক : মুহাম্মাদ হুসাইন শামসুদ্দিন (বৈরুত : দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, ১ম প্রকাশ, ১৪১৯ হি.), খ. ১, পৃ. ৭৬। আরবি ভাষাশাস্ত্রের ইমাম মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-আজহারি রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৩৭০ হি.) বলেছেন, واتفق أهل العلم من اللغويين وغيرهم أَن (الْإِيمَانِ) مَعْنَاهُ : التَّصْدِيق». “আরবি ভাষাবিদ ও অন্যান্য শাস্ত্রবিশারদদের মধ্যকার আহলুল ইলমগণ একমত পোষণ করেছেন, ইমান মানে তাসদিক (সত্যায়ন করা)।” দ্রষ্টব্য: আবু মানসুর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-আজহারি, তাহজিবুল লুগাহ, তাহকিক : মুহাম্মাদ আওয়াদ মুরয়িব (বৈরুত : দারু ইহইয়ায়িত তুরাসিল আরাবি, ১ম প্রকাশ, ২০০১ খ্রি.), খ. ১৫, পৃ. ৩৬৮। ইমানের আভিধানিক অর্থের ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের লেখক শাইখ শাসরি হাফিজাহুল্লাহ সেই মতেরই পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন এই অধ্যায়ে। এই মত অনুযায়ী, ইমানের আভিধানিক অর্থ তাসদিকের চেয়েও বেশিকিছু, কিংবা ইমান মানে ইকরার তথা স্বীকার করা বা স্বীকৃতি দেওয়া। এ আলোচনায় মুরজিয়াদের ভূমিকা হচ্ছে, তারা বলে, যেহেতু ইমানের আভিধানিক অর্থ তাসদিক (সত্যায়ন করা, বিশ্বাস করা), সেহেতু শরিয়তেও ইমানের পরিচয় কেবল তাসদিক, আমল ইমানের পরিচয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। ইমানের আভিধানিক অর্থের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহর যেসব উলামা ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহর সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, তাঁরা মুরজিয়াদের জবাবে বলেন, কোনো শব্দের আভিধানিক অর্থ শরিয়তেও একই থাকা জরুরি নয়। বরং শরিয়ত কোনো শব্দের সুনির্দিষ্ট অর্থ নির্ধারণ করতে পারে। যেমন সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ প্রভৃতি শব্দের শরয়ি অর্থ আর আভিধানিক অর্থ একই নয়। শরিয়তে এসব শব্দের সুনির্দিষ্ট অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে। ইমান শব্দটিও এমন। এ ব্যাপারে বিশদ দলিলপ্রমাণ বক্ষ্যমাণ কিতাবে আলোকপাত করা হয়েছে।
📄 ৫.১৬ : মুরজিয়াদের বক্তব্য : ভীতিসঞ্চারকারী আয়াত-হাদিসে শুধু ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যই করা হয়েছে, সত্যিকারার্থে আজাব দেওয়ার উদ্দেশ্য করা হয়নি
মুরজিয়ারা বলে, “পাপের ব্যাপারে ভীতিসঞ্চারকারী আয়াত-হাদিস কেবল ভয় দেখানোর জন্যই বলা হয়েছে। আসলে মুসলিমদের কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না। এগুলো স্রেফ শাস্তির ভীতিপ্রদর্শন, যার বাস্তবতা বলতে কিছু নেই।” এটা বাতিল কথা। এতে শরিয়তকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়।
এই কথার জবাব-শরিয়তের দলিলগুলো তখনই ভীতিপ্রদর্শক বিবেচিত হবে, যখন ভয় দেখানোর বিষয়টা সংঘটিত হওয়া সম্ভবপর হবে। আর সেটা যদি ঘটার সম্ভবনাই না থাকে, তাহলে সেখানে আর ভীতিপ্রদর্শন থাকে না। কেননা বুদ্ধিমানরা যখন জানবে, বাস্তবে ভীতিকর কিছু নাই, তখন ভয় দূরীভূত হয়ে যাবে; তাদের বক্তব্য অনুযায়ী বিষয়টি যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলেই কেবল এটা ঘটবে।
মুরজিয়ারা এটাও বলে যে, “আশাপ্রদানকারী দলিলগুলো নিঃশর্তভাবেই বহাল থাকবে; অন্যান্য দলিলের মাধ্যমে এগুলোকে শর্তযুক্ত করা যাবে না।”