📘 মুরজিয়াদের আকিদা 📄 ৫.৬ : মুরজিয়াদের বক্তব্য : মানুষ মুমিন কিনা সেটা তার মৃত্যু কী হিসেবে হচ্ছে, তার ওপর নির্ভরশীল

📄 ৫.৬ : মুরজিয়াদের বক্তব্য : মানুষ মুমিন কিনা সেটা তার মৃত্যু কী হিসেবে হচ্ছে, তার ওপর নির্ভরশীল


মুরজিয়াদের কেউ কেউ বলে, “মানুষ মুমিন কিনা সেটা তার মৃত্যু কী হিসেবে হচ্ছে, তার ওপর নির্ভরশীল।” অর্থাৎ, মানুষ যে বিশ্বাসে বিশ্বাসী থাকা অবস্থায় মারা যায়, তাকে সেই বিশ্বাসের লোক হিসেবেই ধরে নেওয়া হবে। সুতরাং আল্লাহর অগ্রগামী জ্ঞান অনুযায়ী ব্যক্তি যে হিসেবে মারা যাবে, সে হিসেবেই সে মুমিন বা কাফির সাব্যস্ত হবে।

তারা বলে, যে ব্যক্তি ইমানের ওপর থাকার পরে কুফরি করে বসে এবং ওই কুফরের ওপরই মারা যায়, তার 'কুফরপূর্ব সেই ইমান' মূলত ইমানই না। যেমন নামাজ শেষ হওয়ার আগেই নামাজ-আদায়কারী স্বীয় নামাজকে নষ্ট করে ফেললে, তার ওই (নষ্ট করে ফেলা) নামাজকে 'নামাজ' বলা হয় না। এজন্য যে ব্যক্তি জীবনভর ইসলামের সাথে শত্রুতা করে, মুসলিমদের কষ্ট দেয় এবং মৃত্যুর কিছুপূর্বে সে ইসলাম গ্রহণ করে; তার ব্যাপারে তারা বলে, সে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সর্বদাই আল্লাহর নিকটে প্রিয়ভাজন মুমিন বান্দা ছিল।

এটা সম্পূর্ণ বাতিল কথা; শরয়ি দলিলসমগ্র এই কথাকে প্রত্যাখ্যান করে। যেসব দলিল থেকে প্রতীয়মান হয়, একজন মানুষ একটি নির্দিষ্ট সময়ে মুমিন থাকলেও পরে আরেকসময় কাফিরও হতে পারে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই যারা ইমান আনার পর কাফির হয়েছে, অতঃপর কুফরকে পরিবর্ধিত করেছে, তাদের তওবা কখনোই গৃহীত হবে না এবং তারাই পথভ্রষ্ট।”

তিনি আরও বলেন, “নিশ্চয়ই যারা ইমান আনে, তারপর কাফির হয়, এরপর পুনরায় ইমান আনে, এবং আবার কাফির হয়, অনন্তর কুফরকে পরিবর্ধিত করে; আল্লাহ তাদেরকে কখনোই ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে পথপ্রদর্শন করবেন না।”

তিনি আরও বলেন, “এটা এ জন্য যে, তারা ইমান এনেছে, এরপর কাফির হয়েছে; ফলে তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে (সেখানে হেদায়েত পৌঁছবে না)।”

তিনি আরও বলেছেন, “তোমরা ইমান আনার পর কাফির হয়ে গেছ।”

মুরজিয়াদের এই মতবাদ উদ্ভূত হওয়ার কারণ—তারা আল্লাহর 'আস-সিফাতুল ইখতিয়ারিয়্যা' অস্বীকার করে। তারা আল্লাহর সেসব সিফাতের একককে স্বীকার করে না, যে সিফাতগুলো 'কোনো একসময় না থাকার পরে' নতুন করে সংঘটিত হয়। যেমন কথা ও শ্রবণ সিফাতের একক।

কারণ (তারা মনে করে, সিফাতে ইখতিয়ারিয়‍্যার স্বীকৃতি) আল্লাহর সত্তায় 'নতুন করে সংঘটিত হওয়া বিষয়াবলি' থাকাকে (حلول الحوادث) অপরিহার্য করে। এজন্য আমরা দেখি, তারা বলে থাকে, বিশ্বজগৎ হলো মুহদাস তথা নতুনভাবে সংঘটিত হওয়া বিষয়; আর নতুনভাবে সংঘটিত হওয়া প্রতিটি বিষয়ই সৃষ্ট। আর প্রত্যেক সৃষ্ট জিনিসের সৃষ্টিকর্তা থাকা অপরিহার্য। এই (দার্শনিক) প্রমাণই এ সম্প্রদায়ের পথভ্রষ্ট হওয়ার মূল কারণ; অথচ তাদের কারও কারও ধারণা, এই প্রমাণ ছাড়া আল্লাহকে চেনাই যায় না!

উক্ত প্রমাণ (দার্শনিক যুক্তি) অনুযায়ী সিফাতে ইখতিয়ারিয়‍্যার এককগুলো সৃষ্ট হওয়া জরুরি হয়ে যায়; কেননা এগুলো মুহদাস তথা নতুনভাবে সংঘটিত হওয়া বিষয়। অথচ সন্দেহাতীতভাবে মহান আল্লাহ যেকোনো সময় নিজে যা ইচ্ছে করেন, সেটাই করে থাকেন। সুতরাং যখন ইচ্ছে তিনি কথা বলেন। যেমন সালাফগণ বলেছেন, “তিনি সর্বদা কথা বলার গুণে গুণান্বিত থাকেন।” কুরআনে এ বিষয়ের পক্ষে শতাধিক আয়াত রয়েছে এবং সুন্নাহয় তার কয়েকগুণ প্রমাণ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর সেদিন (আল্লাহ) তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা রসুলদেরকে কী জবাব দিয়েছিলে?”

মহান আল্লাহ ডাক দেওয়ার বিষয়টিকে নির্ধারিত করেছেন সুনির্দিষ্ট একটি দিনে।

তিনি আরও বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন, সেটাই হুকুম করে থাকেন।” আল্লাহ তাঁর হুকুমকে স্বীয় ইচ্ছের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি আরও বলেন, “তাঁর ব্যাপারতো শুধু এই যে, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছে করেন, তখন বলেন, 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “যখন তারা আমাকে অতিশয় ক্রোধান্বিত করল, তখন আমি তাদেরকে শাস্তি দিলাম।” তিনি আরও বলেছেন, “(হে রসুল) আল্লাহ সেই নারীর কথা শুনেছেন, যে তার স্বামীর বিষয়ে তোমার সাথে বাদানুবাদ করেছে।”

হাদিসে এসেছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করলেন, «هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمُ اللَّيْلَةَ».
“তোমরা কি জানো, তোমাদের প্রভু গতরাতে কি বলেছেন?”

বিরোধীরা (দর্শনভিত্তিক আকিদাচর্চাকারীরা) এই মাসআলা না বোঝার কারণে বলে, ইবনু তাইমিয়া বিশ্বজগতকে 'কদিম (সূচনাবিহীন আদি)' বলেছেন। কেননা তিনি 'হাওয়াদিস (নতুনভাবে সংঘটিত হওয়া বিষয়াবলি)' সাব্যস্ত করেছেন, যেগুলোর কোনো সূচনা নেই। শাইখের (ইবনু তাইমিয়ার) এ জাতীয় বক্তব্যে উল্লিখিত 'হাওয়াদিস' কোনো সৃষ্ট জিনিস না; বরং তাঁর বক্তব্যে 'হাওয়াদিস' হলো সিফাতে ইখতিয়ারিয়‍্যা। এর ব্যাখ্যা বিস্তারিত আলোচনাসাপেক্ষ, যা এখানে করা সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

টিকাঃ
১৪২ অতএব মুরজিয়াদের আকিদা অনুযায়ী যদি মুমিন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তাহলে মনে করতে হবে, সারাজীবন সে মুমিনই ছিল; তদ্রুপ কাফির অবস্থায় মারা গেলে মনে করতে হবে, সে সারাজীবন আসলে কাফিরই ছিল। – অনুবাদক।
১৪৩ আল-কুরআন, ৩ (সুরা আলে ইমরান) : ৯০।
১৪৪ আল-কুরআন, ৪ (সুরা নিসা) : ১৩৭।
১৪৫ আল-কুরআন, ৬৩ (সুরা মুনাফিকুন): ৩।
১৪৬ আল-কুরআন, ৯ (সুরা তাওবা) : ৬৬।
১৪৭ অনুবাদকের টীকা : মহান আল্লাহর ইচ্ছে ও ক্ষমতা অনুযায়ী তাঁর যেসব গুণ তাঁর সত্তায় থাকে, সেসব গুণকে 'আস-সিফাতুল ইখতিয়ারিয়‍্যা' বলে। যেমন তাঁর কথা, শোনা, দেখা, ইচ্ছে করা, ভালোবাসা, সন্তুষ্ট হওয়া, অসন্তুষ্ট হওয়া, দয়া, ক্রোধ, সৃষ্টি করা, ন্যায়পরায়ণতা করা, আরশের ওপর আরোহণ, তাঁর আগমন, অবতরণ ইত্যাদি 'আস-সিফাতুল ইখতিয়ারিয়‍্যা'। এসব সিফাতের একক আল্লাহর ইচ্ছে অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে হয়ে থাকে। দ্রষ্টব্য : ইবনু তাইমিয়া, মাজমুউল ফাতাওয়া, খ. ৬, পৃ. ২১৭।
১৪৮ অনুবাদকের টীকা: আল্লাহর যত কর্মর্গত গুণ বা বৈশিষ্ট্য আছে, সবগুলো বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে সালাফদের আকিদা ছিল, এগুলো সামষ্টিকভাবে সুপ্রাচীন (যার কোনো শুরু নেই), কিন্তু (এসবের) বিভিন্ন এককের বিবেচনায় এগুলো 'নতুন করে সংঘটিত হওয়া বিষয়'। এর মানে মহান আল্লাহ এসব বৈশিষ্ট্য কোনো একটা সময়ে অর্জন করেছেন, বিষয়টা এমন নয়; বরং সূচনাহীন অতীত থেকে আল্লাহ সর্বদাই এসব গুণে গুণান্বিত হয়ে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে মহান আল্লাহর এসব গুণ সুপ্রাচীন, যার কোনো শুরু নেই। পক্ষান্তরে আল্লাহ যখন ইচ্ছে করেন, তখন এসব বৈশিষ্ট্যের একক সংঘটন করেন। যেমন আল্লাহ যখন ইচ্ছে করেছেন, তখন মুসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেছেন, আবার যখন ইচ্ছে করেছেন, তখন প্রিয় নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বলেছেন। এভাবে তিনি অনেকের সাথে কথা বলেছেন। এগুলো একেকটি একক এবং তাঁর কথার অংশ। এসব একক তো আর সুপ্রাচীন নয়, যার কোনো শুরু নেই। বরং এসব বিষয় বিভিন্ন সময়ে ঘটেছে এবং প্রত্যেকটি এককের শুরু আছে, এই দৃষ্টিকোণ থেকে এ জাতীয় কর্মগত গুণ 'নতুন করে সংঘটিত হওয়া বিষয়'। দ্রষ্টব্য: আব্দুর রহমান বিন নাসির আলু সাদি, আত-তাম্বিহাতুল লাতিফা ফিমা ইহতাওয়াত আলাইহিল ওয়াসিতিয়্যাতু মিনাল মাবাহিসিল মুনিফা (রিয়াদ : দারু তাইবা, ১ম প্রকাশ, ১৪১৪ হি.), ৪৮।
১৪৯ আল-কুরআন, ২৮ (সুরা কাসাস): ৬৫।
১৫১ আল-কুরআন, ৫ (সুরা মায়িদা) : ১।
১৫২ আল-কুরআন, ৩৬ (সুরা ইয়াসিন) : ৮২।
১৫৩ আল-কুরআন, ৪৩ (সুরা জুখরুফ): ৫৫।
১৫৪ আল-কুরআন, ৫৮ (সুরা মুজাদিলা) : ১।
১৫৫ আল-বুখারি, আস-সহিহ, হা. ১০৩৮; মুসলিম বিন হাজ্জাজ, আস-সহিহ, হা. ৭১।
১৫৬ অনুবাদকের টীকা : ইবনু তাইমিয়া বুঝিয়েছেন, মহান আল্লাহর 'আস-সিফাতুল ইখতিয়ারিয়‍্যা' সামষ্টিকভাবে সুপ্রাচীন (যার কোনো শুরু নেই), কিন্তু (এসবের) বিভিন্ন এককের বিবেচনায় এগুলো 'নতুন করে সংঘটিত হওয়া বিষয়'। এই মূলনীতির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা কিছুপূর্বে টীকার মধ্যে আলোচিত হয়েছে।

📘 মুরজিয়াদের আকিদা 📄 ৫.৭ : মুরজিয়াদের বক্তব্য : ইমানের হ্রাস-বৃদ্ধি হয় না

📄 ৫.৭ : মুরজিয়াদের বক্তব্য : ইমানের হ্রাস-বৃদ্ধি হয় না


মুরজিয়ারা আরও বলে, “সত্তাগতভাবে ইমান কেবল একটিমাত্র বিষয়। ইমানের বৃদ্ধি ঘটে, এমনটি কল্পনাও করা যায় না। তবে ইমানের যেসব শাখা-প্রশাখার প্রতি বান্দা ইমান আনে, সেসবের দৃষ্টিকোণ থেকে ইমান বাড়ে; এবং ইমানের যে সময়কাল বৃদ্ধি হয়, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ইমান বাড়ে।” এজন্য তাদের কেউ কেউ বলে, "আমার ইমান আবুবকর-ওমরের মতো, এমনকি জিবরাইল-মিকাইলের মতো!”

অথচ শরয়ি দলিলগুলো এই বিদাতি কথাকে সুস্পষ্টভাবে খণ্ডন করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি অবতীর্ণ করেন, যেন তারা তাদের ইমানের সাথে ইমান বৃদ্ধি করে নেয়।” এ আয়াত অনুযায়ী প্রশান্তি অবতীর্ণ হলে কি 'যে বিষয়ের প্রতি ইমান আনা হয় এমন শাখা-প্রশাখা' বৃদ্ধি পায়, কিংবা ইমানের সময়কাল বৃদ্ধি পায়? আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “আমি ফেরেশতাদেরকে করেছি জাহান্নামের প্রহরী। আমি কাফিরদেরদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ তাদের এই সংখ্যা উল্লেখ করেছি। যাতে কিতাবধারীদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে এবং ইমানদারদের ইমান বেড়ে যায়।”

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, “আর যখন কোনো সুরা অবতীর্ণ করা হয়, তখন কেউ কেউ বলে, ‘এই সুরা তোমাদের মধ্যে কার ইমান বৃদ্ধি করল?’ যেসব লোক ইমান এনেছে, এই সুরা তাদের ইমানকে বৃদ্ধি করেছে এবং তারাই হয়েছে আনন্দিত।”

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “যাদেরকে লোকেরা বলেছিল, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের বিরুদ্ধে মানুষজন সমবেত হয়েছে, অতএব তোমরা তাদেরকে ভয় করো।’ কিন্তু এতে তাদের ইমান বেড়ে গিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক।”

এই আয়াতগুলো তাদের কথার-ইমান কেবল একটিমাত্র বিষয়-খণ্ডনে সবচেয়ে বড়ো দলিলগুলোর অন্যতম।

মহান আল্লাহ বলেন, “মুমিনরা যখন সম্মিলিত বাহিনীকে দেখল, তখন তারা বলে উঠল, 'এটা তো সেই বিষয়, আল্লাহ ও তাঁর রসুল যার প্রতিশ্রুতি আমাদেরকে দিয়েছেন। আর আল্লাহ ও তাঁর রসুল সত্যই বলেছিলেন।' এতে তাদের ইমান ও আনুগত্যই বৃদ্ধি পেল।”

মহান আল্লাহ আরও বলেন, “আর যখন ইবরাহিম বলেছিল, 'হে আমার রব, আপনি কীভাবে মৃতকে জীবিত করেন, তা আমাকে প্রদর্শন করুন।' তিনি বললেন, 'তাহলে কি তুমি (এর প্রতি) ইমান রাখ না?' সে বলল, 'জি, অবশ্যই (ইমান রাখি)। কিন্তু (আমি এটা চাইছি) যাতে আমার অন্তর প্রশান্ত হয় (ইমান বৃদ্ধি পায়)।'”

বুখারি-মুসলিমে আবু সায়িদ খুদরি থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ، وَأَهْلُ النَّارِ النَّارَ، ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى أَخْرِجُوا مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ» “জান্নাতীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এরপর মহান আল্লাহ বলবেন, 'যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ইমান আছে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করো'।”

বুখারি-মুসলিমে এসেছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «وَيُقَالُ لِلرَّجُلِ مَا أَعْقَلَهُ وَمَا أَطْرَفَهُ وَمَا أَجْلَدَهُ وَمَا فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةِ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ» “(কেয়ামতের আগে লোকেরা বলাবলি করবে, অমুক বংশে একজন আমানতদার লোক আছে)। সে ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হবে, সে কতইনা বুদ্ধিমান, কতইনা অবিচল, আর কতইনা বিবেকবান? অথচ তার অন্তরে সরিষাদানা পরিমাণ ইমানও থাকবে না।”

সমুদয় সাহাবি ইমানের ক্ষেত্রে 'বৃদ্ধি হওয়া'-শব্দ প্রয়োগ করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। আর আবু দারদা, আবু হুরাইরা ও উমাইর বিন হাবিব আল-খাতমি থেকে, 'ইমান হ্রাস পাওয়া' শীর্ষক শব্দের ব্যবহার বর্ণিত হয়েছে।

মূলত মুরজিয়ারা যে বলে, ইমানের কোনো কমবেশি হয় না; তার কারণ, তারা বিশ্বাস করে, অকাট্য ও দৃঢ় বিশ্বাসের স্তর কেবল একটা। অথচ এই মতবাদ বাতিল; কুরআন-সুন্নাহ এই মতবাদকে প্রত্যাখান করে।

সহিহ বুখারিতে আম্মিজান আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «إِنَّ أَتْقَاكُمْ وَأَعْلَمَكُمْ بِاللَّهِ أَنَا». “আমি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখি এবং আমিই তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক তাকওয়াবান।” এখানে নবিজি আল্লাহসম্পর্কিত জ্ঞানের অস্তিত্বে মর্যাদাগত তারতম্য সাব্যস্ত করেছেন (সাব্যস্ত করেছেন, আল্লাহসম্পর্কিত জ্ঞান কারও কম, আবার কারও বেশি)। এখানে যেসব বিষয় সম্পর্কে জানা হয়, সেসব বিষয়ের আধিক্যের ক্ষেত্রে মর্যাদাগত তারতম্য উদ্দেশ্য করা হয়নি।

এ বিষয়ে (আমাদের কথার পক্ষে) আরও প্রমাণ হলো—আল্লাহ তায়ালা যখন মুসা আলাইহিস সালামকে জানালেন, তার কওম গোবৎস পূজা করছে, তখন তিনি সেকথা অকাট্যভাবে বিশ্বাস করলেন; কেননা এটা আল্লাহর দেওয়া সংবাদ। এরপর তিনি তার স্বজাতির কাছে ফিরে গিয়ে যখন বিষয়টি স্বচক্ষে দেখেন, তখন তাঁর ইলম বেড়ে যায় এবং আল্লাহর কথায় অকাট্যভাবে বিশ্বাস করেন। তারপর তিনি (তাঁর হাতে থাকা) ফলকসমূহ নিক্ষেপ করেন। যেমনভাবে হাদিসে এসেছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, «لَيْسَ الْخَبَرُ كَالْمُعَايَنَةِ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَخْبَرَ مُوسَى بِمَا صَنَعَ قَوْمُهُ فِي الْعِجْلِ فَلَمْ يُلْقِ الْأَلْوَاحَ فَلَمَّا عَايَنَ مَا صَنَعُوا أَلْقَى الْأَلْوَاحَ».
“খবর শোনা চাক্ষুষ দেখার মতো নয়। নিশ্চয়ই মুসা আলায়হিস সালামের সম্প্রদায়ের গোবৎস পূজা সম্পর্কে মহান আল্লাহ মুসা আলায়হিস সালামকে যে সংবাদ দিয়েছেন, এতে তিনি হাতে সংরক্ষিত তাওরাতের ফলকসমূহ ফেলে দেননি, কিন্তু যখন তাদের মধ্যে গিয়ে চাক্ষুষ তাদের কর্মকাণ্ড স্বচক্ষে দেখলেন, তখন ফলকসমূহ ছুঁড়ে ফেললেন।”

মহান আল্লাহ বলেছেন, “আর যখন ইবরাহিম বলেছিল, 'হে আমার রব, আপনি কীভাবে মৃতকে জীবিত করেন, তা আমাকে প্রদর্শন করুন।' তিনি বললেন, 'তাহলে কি তুমি (এর প্রতি) ইমান রাখ না?' সে বলল, 'জি, অবশ্যই (ইমান রাখি)। কিন্তু (আমি এটা চাইছি) যাতে আমার অন্তর প্রশান্ত হয় (ইমান বৃদ্ধি পায়)।”

ইবরাহিম আলাইহিস সালাম অকাট্যভাবেই জানতেন, আল্লাহ মৃতকে জীবিত করতে পারেন। কিন্তু তিনি নিজের ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস) বাড়াতে চেয়েছিলেন। এ থেকে প্রমাণিত হয়, ইয়াকিন বৃদ্ধি হতে পারে। এই মাসআলা আমি সূক্ষ্মভাবে আলোচনা করেছি, 'আল-কাতউ ওয়াজ জন্ম ইনদাল উসুলিয়্যিন' গ্রন্থে।

আর মুরজিয়াদের মধ্যে যারা বলে, ‘আমার ইমান জিবরাইলের ইমানের মতো,’ তাদের এই মতকে সালাফদের ইজমা (সর্ববাদিসম্মত অভিমত) বাতিল প্রমাণ করে। ইবনু আবি মুলাইকাহ বলেন, «أَدْرَكْتُ ثَلاَثِينَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ كُلُّهُمْ يَخَافُ النِّفَاقَ عَلَى نَفْسِهِ مَا مِنْهُمْ أَحَدٌ يَقُولُ: إِنَّهُ عَلَى إِيمَانِ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ».
“আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তিরিশজন সাহাবিকে পেয়েছি, যারা তাঁদের অন্তরে মুনাফেকির আশঙ্কা করতেন। তাঁদের কেউ বলেননি, আমার ইমান জিবরাইল-মিকাইলের মতো।”

টিকাঃ
১৫৭ আল-কুরআন, ৪৮ (সুরা ফাতহ): ৪।
১৫৮ আল-কুরআন, ৭৪ (সুরা মুদ্দাসসির) : ৩১।
১৫৯ আল-কুরআন, ৯ (সুরা তওবা) : ১২৪।
১৬০ আল-কুরআন, ৩ (সুরা আলে ইমরান) : ১৭৩।
১৬১ আল-কুরআন, ৩৩ (সুরা আহজাব): ২২।
১৬২ আল-কুরআন, ২ (সুরা বাকারা): ২৬০।
১৬৩ আল-বুখারি, আস-সহিহ, হা. ২২; মুসলিম বিন হাজ্জাজ, আস-সহিহ, হা. ১৭৪।
১৬৪ আল-বুখারি, আস-সহিহ, হা. ৬৪৯৭; মুসলিম বিন হাজ্জাজ, আস-সহিহ, হা. ১৪৩।
১৬৫ আল-বুখারি, আস-সহিহ, হা. ২০।
১৬৬ আহমাদ, হা. ২৭১; তাবারানি, হা. ১২৪৫১; ইবনে হিব্বান, হা. ৬২১৩; বর্ণনার মান : সহিহ।
১৬৭ আল-কুরআন, ২ (সুরা বাকারা): ২৬০।
১৬৮ আশ-শাসরি, আল-কাতউ ওয়াজ জন্ম ইনদাল উসুলিয়্যিন, খ. ১, পৃ. ২৭।
১৬৯ ইমাম বুখারি এই উক্তি সহিহুল বুখারির ইমান অধ্যায়ে কাটাসনদে বর্ণনা করেছেন, অধ্যায়ের পরিচ্ছেদ নং: ৩৬।

📘 মুরজিয়াদের আকিদা 📄 ৫.৮ : ‘আমি মুমিন ইনশাআল্লাহ’ বলা নিয়ে মুরজিয়াদের অদ্ভুত মতবাদ

📄 ৫.৮ : ‘আমি মুমিন ইনশাআল্লাহ’ বলা নিয়ে মুরজিয়াদের অদ্ভুত মতবাদ


ইমানের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ বলার ব্যাপারে মুরজিয়াদের অবস্থান খুবই আশ্চর্যজনক। এক্ষেত্রে তাদের দুটি মত রয়েছে।

প্রথম মত : তাদের কেউ কেউ ইমানের ক্ষেত্রে 'ইনশাআল্লাহ' বলা ওয়াজিব মনে করে। সুতরাং মানুষকে অবশ্যকীয়ভাবে বলতে হবে, 'আমি মুমিন, ইনশাআল্লাহ।' কেননা কেউ মুমিন কিনা সেটা সাব্যস্ত হয়, মৃত্যুর সময়ের অবস্থানুযায়ী। আর সে ইমানের ওপর মরবে, না কুফরের ওপর-আল্লাহর সেই অগ্রবর্তী জ্ঞান সম্পর্কে তো মানুষ ওয়াকিবহাল নয়।

দ্বিতীয় মত : মুরজিয়াদের কেউ কেউ ইমানের ক্ষেত্রে 'ইনশাআল্লাহ' বলা হারাম মনে করে। কেননা ইমান তাদের কাছে একটিমাত্র বিষয় (যা খণ্ডিত বা বিভাজিত হয় না)। তাই কেউ দৃঢ়ভাবে ইমান এনে থাকলে, 'আমি মুমিন, ইনশাআল্লাহ'-বলার প্রয়োজন পড়ে না। কেননা এতে সংশয় প্রকাশ পায়।

উল্লিখিত দুটি মতই ভুল। সঠিক হলো, ইনশাআল্লাহ বলা এবং না-বলা উভয়টিই বৈধ। সুতরাং পরিপূর্ণ ইমানের ক্ষেত্রে 'ইনশাআল্লাহ' বলতে হয়। কেননা এক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ না বললে এরকম বুঝায় যে, বান্দা নিজের ওপর অর্পিত সকল নির্দেশ পালন করেছে। আর এতে আত্মপ্রশংসা রয়েছে। এজন্য একদল সালাফ থেকে (পরিপূর্ণ) ইমানের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ বলার বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-সহ আরও অনেকে ইমানের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ বলেছেন।

আর ইনশাআল্লাহ পরিত্যাগ করতে হয় ন্যূনতম ইমানের ক্ষেত্রে।
একারণে আল্লাহ তায়ালা কিছু মুমিনের কথা কুরআনে উল্লেখ করেছেন; যাঁরা ইনশাআল্লাহ না বলেই তাদের নিজেদের ব্যাপারে ইমানের স্বীকৃতি দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁদের কথা বর্ণনা করে বলেন, “যারা বলে, হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা ইমান এনেছি; কাজেই আপনি আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।”

আল্লাহ আরও বলেন, “(তারা বলে) হে আমাদের রব, আমরা এক আহ্বায়ককে ইমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি, 'তোমরা তোমাদের রবের ওপর ইমান আন।' কাজেই আমরা ইমান এনেছি।”

আল্লাহ আরও বলেন, “আমার বান্দাগণের মধ্যে একদল ছিল যারা বলত, 'হে আমাদের রব, আমরা ইমান এনেছি, অতএব আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন'। "

আল্লাহ আরও বলেন, “তারা বলে, 'হে আমাদের রব, আমরা ইমান এনেছি; কাজেই আপনি আমাদেরকে সাক্ষ্যদাতাদের তালিকাভুক্ত করুন।"

টিকাঃ
১৭০ আল-কুরআন, ৩ (সুরা আলে ইমরান): ১৬।
১৭১ আল-কুরআন, ৩ (সুরা আলে ইমরান) : ১৯৩।
১৭২ আল-কুরআন, ২৩ (সুরা মুমিনুন): ১০৯।
১৭৩ আল-কুরআন, ৫ (সুরা মায়িদা) : ৮৩।

📘 মুরজিয়াদের আকিদা 📄 ৫.৯ : মুরজিয়াদের বক্তব্য : ছোটো কুফর বলে কিছু নেই

📄 ৫.৯ : মুরজিয়াদের বক্তব্য : ছোটো কুফর বলে কিছু নেই


মুরজিয়াদের বক্তব্য হলো, কুফরের প্রকার একটিই। ছোটো কুফর বলে কিছু নেই। কুফরের ছোটো-বড়ো ভাগ নেই। তারা বলে থাকে, কুফরের মানে যেহেতু অস্বীকার করা, তাই এর স্তর কেবল একটি।

এটা শরিয়তের সেই দলিলগুলোর বিরোধী, যেগুলোতে কাবিরা গুনাহকে কুফর বলা হয়েছে। বুখারি-মুসলিমে ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদিস এসেছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «سِبَابُ المُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ». “মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসেকি, আর মুসলিমের সাথে লড়াই করা কুফরি। "

মারফু সূত্রে ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «لَا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ». “তোমরা আমার পরে এমন কাফির হয়ে যেও না যে, একজন আরেকজনের গর্দান উড়িয়ে দিবে।” নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, «اثْنَتَانِ فِي النَّاسِ هُمَا بِهِمْ كُفْرُ الطَّعْنُ فِي النَّسَبِ وَالنِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ»। “লোকদের মাঝে দুই ধরনের স্বভাব আছে, যা কুফর। বংশের প্রতি কটাক্ষ করা এবং মৃতব্যক্তির জন্য উচ্চৈঃস্বরে কান্না করা।” একদল সাহাবি এই পাপগুলোকে ছোটো কুফর (কুফর দুনা কুফর) বলেছেন এবং তাঁদের যুগে কেউ এ কথার বিরোধিতা করেছেন বলে জানা যায় না।

কুফরের একটি শাখা ন্যূনতম ইমানের সাথে বিরোধপূর্ণ নয়; কখনো কখনো একজন মানুষের মাঝে 'ইমান এবং ছোটো কুফুর' উভয়টিই জমা হতে পারে। ছোটো মুনাফেকির মতো; যেমন আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «أَرْبَعُ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا، وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ وَإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ، وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ». “চারটি স্বভাব যার মধ্যে রয়েছে, সে খাঁটি মুনাফেক। যার মাঝে এর মধ্যকার কোনো একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফেকের একটি স্বভাব আছে বলে বিবেচিত হবে।” তদ্রুপ ছোটো শিরকও ন্যূনতম ইমানের সাথে একত্রিত হতে পারে।

এসব জায়গায় 'কুফর' শব্দ রূপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, বলা সঠিক নয়। কেননা যাবতীয় শব্দ প্রয়োগের ক্ষেত্রে মূল (origin) হলো, “প্রকৃত অর্থই গ্রহণ করা এবং ইঙ্গিতবহ প্রমাণ ব্যতিরেকে রূপক অর্থ গ্রহণ না করা।” যেমনভাবে তারা বলে, “শরিয়তের মুস্তাহাব বিষয় প্রকৃত অর্থেই নির্দেশিত; আর আমর তথা নির্দেশকে ইঙ্গিতবহ প্রমাণ ছাড়া মুস্তাহাব বলে ব্যাখ্যা করা যাবে না।”

টিকাঃ
১৭৪ আল-বুখারি, আস-সহিহ, হা. ৪৮; মুসলিম বিন হাজ্জাজ, আস-সহিহ, হা. ৬৪।
১৭৫ আল-বুখারি, আস-সহিহ, হা. ৬৮৬৮; মুসলিম বিন হাজ্জাজ, আস-সহিহ, হা. ৬৬।
১৭৬ মুসলিম বিন হাজ্জাজ, আস-সহিহ, হা. ৬৭।
১৭৭ আল-বুখারি, আস-সহিহ, হা. ৩৪; মুসলিম বিন হাজ্জাজ, আস-সহিহ, হা. ৫৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px