📘 মুনাফিকী > 📄 মুনাফিকদের উপেক্ষা করা

📄 মুনাফিকদের উপেক্ষা করা


আল্লাহ তা'আলা বলেন, بَشِّرِ الْمُنَافِقِينَ بِأَنَّ لَهُمْ عَذَابًاً أَلِيماً ‘তুমি মুনাফিকদের এই সংবাদ জানিয়ে দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি' (নিসা ৪/১৩৮)।

📘 মুনাফিকী > 📄 ভীতি প্রদর্শন ও উপদেশ দান

📄 ভীতি প্রদর্শন ও উপদেশ দান


আল্লাহ তা'আলা বলেন,
أُولَئِكَ الَّذِينَ يَعْلَمُ اللَّهُ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُل لَّهُمْ فِي أَنفُسِهِمْ قَوْلاً بَلِيْغاً -
'এরা হ'ল ঐসব লোক, যাদের অন্তরের লুক্কায়িত বিষয় আল্লাহ জানেন। অতএব আপনি ওদের এড়িয়ে চলুন ও উপদেশ দিন এবং তাদের উদ্দেশ্যে হৃদয়স্পর্শী বক্তব্য রাখুন' (নিসা ৪/৬৩)।
আল্লাহ তা'আলা আয়াতে 'ওরা' (اوكك) বলতে মুনাফিকদের বুঝিয়েছেন, ইতিপূর্বে যাদের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, হে রাসূল! তাগূতের কাছে তাদের বিচার প্রার্থনা করা, তোমার কাছে বিচার প্রার্থনা না করা এবং তোমার কাছে আসতে বাধা দানে তাদের মনে কী অভিপ্রায় লুকিয়ে ছিল তা আল্লাহ খুব ভাল জানেন। তাদের মনে তো মুনাফিকী ও বক্রতা লুকিয়ে আছে যদিও তারা শপথ করে বলে, আমরা কেবলই কল্যাণ ও সম্প্রীতি কামনা করি।
আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাসূলকে বলছেন, 'তুমি ওদের ছাড় দাও, কায়িক-দৈহিক কোন শাস্তি তুমি ওদের দিবে না। তবে তুমি তাদের উপর আল্লাহ্র শাস্তি চেপে বসার এবং তাদের বসতিতে আল্লাহ্র মার অবতীর্ণ হওয়া সম্পর্কে তাদেরকে ভয় দেখিয়ে উপদেশ দাও। তারা আল্লাহ ও তার রাসূল সম্পর্কে যে সন্দেহের দোলাচলে ঘুরপাক খাচ্ছে সেজন্য যে অপ্রীতিকর অবস্থার মুখোমুখি তারা হবে সে সম্পর্কে তাদের সতর্ক কর। আর তাদের নির্দেশ দাও আল্লাহকে ভয় করতে এবং আল্লাহ, আল্লাহ্র রাসূল, আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি ও শাস্তিকে সত্য বলে মেনে নিতে'।

টিকাঃ
৭০. ঐ, ৮/৫১৫।

📘 মুনাফিকী > 📄 মুনাফিকদের সঙ্গে বিতর্কে না জড়ানো এবং তাদের পক্ষাবলম্বন না করা

📄 মুনাফিকদের সঙ্গে বিতর্কে না জড়ানো এবং তাদের পক্ষাবলম্বন না করা


আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَلَا تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُوْنَ أَنْفُسَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ خَوَّانَا أَثِيْماً.
'যারা নিজেদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তুমি তাদের পক্ষে বিতর্কে লিপ্ত হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কখনো বিশ্বাসঘাতক পাপিষ্ঠকে পসন্দ করেন না' (নিসা ৪/১০৭)।
আল্লাহ বলেছেন, হে রাসূল! যারা নিজেদের সাথে খেয়ানত তথা বিশ্বাসঘাতকতা করে তাদের পক্ষ নিয়ে তুমি বিতর্ক করবে না। বনু উবাইরিক গোত্রের কিছু লোক এই বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। যাফর গোত্রের তাম'আহ বা বশীর ইবনু উবাইরিক এক আনছারীর বর্ম চুরি করে। বর্মের মালিক নবী করীম (ছাঃ)-এর কাছে অভিযোগ করে এবং তাম‘আহর প্রতি তার সন্দেহের কথা বলে। অনুসন্ধান শুরু হ'লে সে বর্মটি এক ইহুদীর কাছে গচ্ছিত রাখে। পরে তাম'আহ, তার ভাই-বেরাদার ও বনু যাফরের আরো কিছু লোক জোট পাকিয়ে সেই ইহুদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। ইহুদীকে জিজ্ঞেস করা হ'লে সে নিজেকে নির্দোষ দাবী করে। কিন্তু তাম'আহর লোকেরা জোরেশোরে বলতে থাকে, এতো শয়তান ইহুদী, সেতো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করে। তার কথা কেমন করে বিশ্বাসযোগ্য হ'তে পারে? বরং আমাদের কথা মেনে নেওয়া উচিত। কেননা আমরা মুসলমান। এ মোকদ্দমার বাহ্যিক ধারাবিবরণীতে প্রভাবিত হয়ে নবী করীম (ছাঃ) ঐ ইহুদীর বিরুদ্ধে রায় দিতে এবং অভিযোগকারীকে বনু উবাইরিকের বিরুদ্ধে দোষারোপ করার জন্য সতর্ক করে দিতে প্রায় উদ্যত হয়েছিলেন। এমন সময় উক্ত আয়াত নাযিল হয় এবং সমস্ত ব্যাপারটির প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়।
আসলে যে ব্যক্তি অন্যের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে সে সবার আগে নিজের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। কারণ মন ও মস্তিষ্কের শক্তিগুলো তার কাছে আমানত হিসাবে গচ্ছিত রাখা হয়েছে। সে সেগুলোকে অযথা ব্যবহার করে তাদেরকে বিশ্বাসঘাতকতা করতে বাধ্য করে। বিবেক-বুদ্ধিকে দ্বীনের অনুগত না করে বরং আপন খেয়ালখুশির অনুগত করে সে এভাবে নিজের সাথে খেয়ানত ও বিশ্বাসঘাতকতা করে।
তাই এমন বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ নিতে নবী করীম (ছাঃ)-কে নিষেধ করা হয়েছে। বস্তুতঃ মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করা যাদের স্বভাব এবং এরূপ আত্মসাৎ ও অন্যান্য হারামের মাঝে বিচরণের মাধ্যমে যারা পাপ-পঙ্কিলতার মাঝে ডুবে থাকে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে মোটেও ভালবাসেন না এবং পসন্দও করেন না।

টিকাঃ
৭১. ঐ, ৯/১৯০।

📘 মুনাফিকী > 📄 মুনাফিকদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে না তোলা

📄 মুনাফিকদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে না তোলা


আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوْا بِطَانَةً مِّنْ دُوْنِكُمْ لَا يَأْلُوْنَكُمْ خَبَالاً وَدُّوْا مَا عَنتُمْ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ قَدْ بَيْنَا لَكُمُ الآيَاتِ إِنْ كُنتُمْ تَعْقِلُوْنَ -
'হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা তোমাদের ব্যতীত অন্যদের অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না। যারা তোমাদের ক্ষতি করতে আদৌ ত্রুটি করবে না। তারা চায় তোমরা কষ্টে পতিত হও। বিদ্বেষ তাদের যবান দিয়েই বেরিয়ে আসে। আর তাদের বুকের মধ্যে যা লুকিয়ে আছে, তা আরও মারাত্মক। আমরা তোমাদের জন্য আয়াত সমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করলাম, যদি তোমরা বুঝ' (আলে ইমরান ৩/১১৮)।
উক্ত আয়াত কিছু মুসলিম সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। তারা তাদের ইহুদী মুনাফিক বন্ধুদের সঙ্গে গভীর মিতালি রাখত এবং প্রাক ইসলামী যুগে জাহেলিয়াতের যামানায় যেসব কারণে তাদের মাঝে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল ইসলাম পরবর্তীকালেও তারা তা নির্ভেজালভাবে অটুট রেখেছিল। আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতে তাদেরকে এমন বন্ধুত্ব রক্ষা করতে নিষেধ করেন এবং একই সাথে তাদের কোন কাজে ওদের থেকে পরামর্শ নিতেও নিষেধ করে দেন'।

টিকাঃ
৭১. ঐ, ৯/১৯০।
৭২. ঐ, ৭/১৪০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00