📄 বেশী বেশী আল্লাহ্ যিকির করা
আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলার কথা বেশী বেশী স্মরণ করলে মুনাফিকী থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কেননা মুনাফিকরা আল্লাহকে কম স্মরণ করে। আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের এহেন আচরণ সম্পর্কে বলেছেন, وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلًاً 'তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে' (নিসা ৪/১৪২)।
কা'ব (রাঃ) বলেন, যে আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণ করে সে মুনাফিকী থেকে মুক্ত হয়ে যায়। এজন্যই আল্লাহ তা'আলা সূরা আল-মুনাফিকূন-এর উপসংহার টানতে গিয়ে বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلاَ أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذلكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ
'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহ্র যিকির/স্মরণ থেকে অমনোযোগী করে না দেয়। আর যারাই এমনটা করবে তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত' (মুনাফিকুন ৬৩/৯)।
মুনাফিকরা আল্লাহ্র স্মরণ সম্পর্কে উদাসীন বনে যাওয়ার কারণে মুনাফিকীর খপ্পরে পড়েছিল। তাই এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা ঈমানদারদের যিকির থেকে উদাসীন বা বেখেয়াল হওয়া সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
জনৈক ছাহাবীকে খারেজীরা মুনাফিক কি-না জিজ্ঞেস করা হ'লে, তিনি বললেন, 'না, তারা মুনাফিক নয়; কেননা মুনাফিকরা আল্লাহকে খুব অল্পই স্মরণ করে'। সুতরাং অল্প-স্বল্প যিকর মুনাফিকীর চিহ্ন ও প্রতীক এবং বেশী বেশী যিকরে মুনাফিকীর খপ্পরে পড়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যিকররত অন্তরকে আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকীর পরীক্ষার মুখোমুখি করেন না, এ পরীক্ষা কেবল তাদের জন্য যারা আল্লাহ তা'আলার যিকরে উদাসীন।
টিকাঃ
৬৪. ইবনুল কাইয়িম, আল-ওয়াবিল আছ-ছাইয়িব, পৃঃ ১১০।
📄 দো'আ
জুবায়ের ইবনু নুফায়ের (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সিরিয়ার হিমছ শহরে আবুদ্দারদা (রাঃ)-এর বাড়িতে তাঁর সাথে দেখা করতে গেলাম। আমি যখন সেখানে পৌঁছলাম তখন দেখলাম, তিনি তাঁর ছালাতের জায়গায় দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করছেন। যখন তিনি বসে আত্তাহিয়্যাতু পড়া শেষ করলেন তখন মুনাফিকী থেকে আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন। তাঁর ছালাত শেষ হ'লে আমি বললাম, হে আবুদ্দারদা আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন! মুনাফিকী নিয়ে আপনার ভাবনা কেন? তিনি অবাক সুরে বললেন, আল্লাহ মাফ কর! আল্লাহ মাফ কর (তিন বার)! বালা-মুছীবতের হাত থেকে কে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে? বালা-মুছীবতের হাত থেকে কে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে? আল্লাহ্র কসম! একজন মানুষ মুহূর্তের মধ্যে বিপদে পড়তে পারে এবং সেজন্যে তার দ্বীন-ধর্মও ত্যাগ করতে পারে।
টিকাঃ
৬৫. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ৬/৩৮২, যাহাবী সনদ ছহীহ বলেছেন।
📄 আনছারদের ভালবাসা
আনাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, آيَةُ الْإِيْمَانِ حُبُّ الأَنْصَارِ، وَآيَةُ النِّفَاقِ بُغْضُ الأَنْصَارِ - ‘ঈমানের নিদর্শন আনছারদের প্রতি ভালবাসা এবং মুনাফিকীর নিদর্শন আনছারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা'।
টিকাঃ
৬৬. বুখারী হা/১৭; মুসলিম হা/৭৪।
📄 আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)-কে ভালবাসা
যির (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) বলেছেন, وَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ وَبَرَأَ النَّسَمَةَ إِنَّهُ لَعَهْدُ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَنَّهُ لاَ يُحِبُّنِي إِلا مُؤْمِنٌ وَلَا يُبْغِضُنِي إِلَّا مُنَافِقٌ - ‘যিনি ফসল উদগত করেন এবং জীবকে অস্তিত্বহীন অবস্থা থেকে অস্তিত্ব দান করেন তাঁর কসম! আমার সপক্ষে নিরক্ষর নবী (ছাঃ)-এর অছিয়ত রয়েছে যে, মুমিন ছাড়া আমাকে কেউ ভালবাসবে না এবং মুনাফিক ছাড়া কেউ আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না'।
টিকাঃ
৬৭. মুসলিম হা/৭৮ 'ঈমান' অধ্যায়।