📄 দানশীলতা
عَنْ أَبِي مَالِكِ الْأَشْعَرِى قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الطُّهُورُ شَطْرُ الإِيْمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلأُ الْمِيزَانَ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَانِ أَوْ تَمْلأُ مَا بَيْنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالصَّلَاةُ نُورٌ وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ وَالصَّبْرُ ضِيَاء وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ، كُلُّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَائِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوْبِقُهَا.
আবু মালিক আল-আশ'আরী (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। একবার আল-হামদুলিল্লাহ উচ্চারণে দাঁড়িপাল্লা (ছওয়াবে) ভরে যায়; আর সুবহানাল্লাহ এবং আল-হামদুলিল্লাহ বলায় আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী সমুদয় স্থান (ছওয়াবে) ভরে যায়। (মানুষের জন্য) ছালাত হ'ল আলো, দান হ'ল প্রমাণ এবং ধৈর্য হ'ল জ্যোতি। আর কুরআন মজীদ (কিয়ামতের দিন) হয় তোমার পক্ষে প্রমাণ হয়ে দাঁড়াবে অথবা তোমার বিরুদ্ধে। প্রত্যেক মানুষ ভোর বেলায় নিজেকে (আমলের নিকট) বিক্রি করে দেয়। তারপর ভাল আমলের মাধ্যমে হয় সে নিজেকে মুক্ত করে অথবা খারাপ আমলের মাধ্যমে নিজেকে ধ্বংস করে'।
ইমাম নববী (রহঃ) বলেছেন, দান-ছাদাক্বা দাতার ঈমানের প্রমাণ। কেননা মুনাফিক দান-ছাদাক্বা থেকে হাত গুটিয়ে রাখে, সে দান-ছাদাক্বায় বিশ্বাসী নয়। সুতরাং যে দান করে সে তার দানের মাধ্যমে তার ঈমানের সত্যতা প্রমান করে।
টিকাঃ
৫৯. মুসলিম হা/২২৩।
৬০. শারহ নববী, মুসলিম ৩/১০১।
📄 রাত জেগে ছালাত আদায়
কাতাদা (রহঃ) বলেন, মুনাফিক খুব কমই রাত জাগে قَلْمَا سَاهَرٍ اللَّيْلَ مُنَافِقُ। তার কারণ মুনাফিকরা লোকদের দেখিয়ে দেখিয়ে সৎকাজ করতে আনন্দ পায়। নিরিবিলি থাকাকালে তাই সে সৎ কাজ করার উদ্দীপনা অনুভব করে না। সুতরাং কোন ব্যক্তি যখন রাত জেগে ছালাত আদায় করে, তখন তা তার মুনাফিক না হওয়ার এবং সত্য মুমিন হওয়ার প্রমাণ বহন করে।
টিকাঃ
৬১. হিলয়াতুল আওলিয়া ২/৩৩৮।
📄 আল্লাহ্ পথে জিহাদ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ وَلَمْ يُحَدِّثْ بِهِ نَفْسَهُ مَاتَ عَلَى شُعْبَةٍ مِنْ نِفَاقٍ -
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি যুদ্ধ-জিহাদ না করে অথবা নিজের মনে যুদ্ধ-জিহাদের সংকল্প না করে মারা যাবে, সে মুনাফিকীর একটি শাখার উপর মারা যাবে'।
ইমাম নববী বলেছেন, মুনাফিকরা যুদ্ধে যোগদান না করে বাড়ি বসে থাকে। তাই যে উক্ত হাদীছ মত কাজ করবে সে মুনাফিকদের সদৃশ হয়ে যাবে। কেননা জিহাদ তরক করা মুনাফিকীর একটি শাখা বা পর্যায়। এ হাদীছ থেকে একথাও প্রমাণিত হয় যে, যে ব্যক্তি কোন কাজের নিয়ত বা ইচ্ছা করল কিন্তু তা করার আগেই সে মারা গেল, তার ক্ষেত্রে ঐ নিন্দা-সাজা প্রযোজ্য হবে না যা সেই কাজের নিয়ত না করেই মৃত্যুবরণকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
টিকাঃ
৬২. মুসলিম হা/১৯১০।
৬৩. শারহ নববী, মুসলিম ১৩/৫৬।
📄 বেশী বেশী আল্লাহ্ যিকির করা
আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলার কথা বেশী বেশী স্মরণ করলে মুনাফিকী থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কেননা মুনাফিকরা আল্লাহকে কম স্মরণ করে। আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের এহেন আচরণ সম্পর্কে বলেছেন, وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلًاً 'তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে' (নিসা ৪/১৪২)।
কা'ব (রাঃ) বলেন, যে আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণ করে সে মুনাফিকী থেকে মুক্ত হয়ে যায়। এজন্যই আল্লাহ তা'আলা সূরা আল-মুনাফিকূন-এর উপসংহার টানতে গিয়ে বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلاَ أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذلكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ
'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহ্র যিকির/স্মরণ থেকে অমনোযোগী করে না দেয়। আর যারাই এমনটা করবে তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত' (মুনাফিকুন ৬৩/৯)।
মুনাফিকরা আল্লাহ্র স্মরণ সম্পর্কে উদাসীন বনে যাওয়ার কারণে মুনাফিকীর খপ্পরে পড়েছিল। তাই এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা ঈমানদারদের যিকির থেকে উদাসীন বা বেখেয়াল হওয়া সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
জনৈক ছাহাবীকে খারেজীরা মুনাফিক কি-না জিজ্ঞেস করা হ'লে, তিনি বললেন, 'না, তারা মুনাফিক নয়; কেননা মুনাফিকরা আল্লাহকে খুব অল্পই স্মরণ করে'। সুতরাং অল্প-স্বল্প যিকর মুনাফিকীর চিহ্ন ও প্রতীক এবং বেশী বেশী যিকরে মুনাফিকীর খপ্পরে পড়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যিকররত অন্তরকে আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকীর পরীক্ষার মুখোমুখি করেন না, এ পরীক্ষা কেবল তাদের জন্য যারা আল্লাহ তা'আলার যিকরে উদাসীন।
টিকাঃ
৬৪. ইবনুল কাইয়িম, আল-ওয়াবিল আছ-ছাইয়িব, পৃঃ ১১০।