📄 ছালাতের জামা'আতে শরীক না হওয়া
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللَّهَ غَدًا مُسْلِمًا فَلْيُحَافِظُ عَلَى هَؤُلَاءِ الصَّلَوَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّ اللَّهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم سُنَنَ الْهُدَى وَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى وَلَوْ أَنَّكُمْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا الْمُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ وَمَا مِنْ رَجُلٍ يَتَطَهَّرُ فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ ثُمَّ يَعْمِدُ إِلَى مَسْجِدٍ مِنْ هَذِهِ الْمَسَاجِدِ إِلَّا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ خَطْوَةٍ يَخْطُوهَا حَسَنَةً وَيَرْفَعُهُ بِهَا دَرَجَةً وَيَحُطُّ عَنْهُ بِهَا سَيِّئَةً وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلَّا مُنَافِقٌ مَعْلُومُ النِّفَاقِ وَلَقَدْ كَانَ الرَّجُلُ يُؤْتَى بِهِ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفْ
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, ক্বিয়ামতের ময়দানে যে ব্যক্তি মুসলিম হিসাবে আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হ'তে চায়, সে যেন এই ছালাতগুলো যেখানে আযান দেওয়া হয় সেখানে (মসজিদে) গিয়ে যথারীতি আদায় করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীর জন্য হেদায়াত বা পথনির্দেশমূলক অনেক বিধান দিয়েছেন। এই ছালাতগুলো ঐ হেদায়াতমূলক বিধানের অন্তর্ভুক্ত। তোমাদের ছালাতগুলো যদি তোমরা ঘরে আদায় কর, যেমন করে এই পশ্চাৎপদ ব্যক্তি তার বাড়ীতে ছালাত আদায় করে, তাহ'লে তোমরা তোমাদের নবী করীম (ছাঃ)-এর সুন্নাত (আদর্শ) ছেড়ে দিবে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত ছেড়ে দাও, তাহ'লে তোমরা বিপথগামী হয়ে যাবে। কোন ব্যক্তি যখন খুব ভালমত পাক-পবিত্র হয়, তারপর এই মসজিদগুলোর কোন একটি মসজিদে গমনের সংকল্প করে, তার প্রতি পদক্ষেপের জন্য একটি নেকী লেখা হয়, একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং একটি পাপ মুছে দেওয়া হয়। নিশ্চয়ই আমি আমাদের মধ্যে দেখেছি যার মুনাফিকী সুবিদিত এমন লোক ছাড়া ছালাতের জামা'আত থেকে কেউ পশ্চাৎপদ থাকত না। এমনকি হাঁটতে পারে না এমন লোককেও দু'জনের কাঁধে ভর দিয়ে (মসজিদে এনে) লাইনের মাঝে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হ'ত।
আল্লামা শুমুন্নী (السُّمَّى) বলেছেন, এখানে মুনাফিক বলতে যে মুখে ইসলাম যাহির করে কিন্তু মনে তা গোপন রাখে সে নয়। নচেৎ জামা'আতে ছালাত আদায় ফরয হয়ে দাঁড়ায়। কেননা যে অন্তরে কুফর লুকিয়ে রাখে সে তো কাফেরই। এতে ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর কথার শেষাংশ প্রথমাংশের বিপরীত হয়ে দাঁড়াবে। কেননা জামা'আতে ছালাত আদায়কে তিনি সুন্নাত বলেছেন।
টিকাঃ
৪৯. মুসলিম হা/৬৫৪; মিশকাত হা/১০৭২।
৫০. আওনুল মা'বুদ ২/১৭৯।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللَّهَ غَدًا مُسْلِمًا فَلْيُحَافِظُ عَلَى هَؤُلَاءِ الصَّلَوَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّ اللَّهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم سُنَنَ الْهُدَى وَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى وَلَوْ أَنَّكُمْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا الْمُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ وَمَا مِنْ رَجُلٍ يَتَطَهَّرُ فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ ثُمَّ يَعْمِدُ إِلَى مَسْجِدٍ مِنْ هَذِهِ الْمَسَاجِدِ إِلَّا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ خَطْوَةٍ يَخْطُوهَا حَسَنَةً وَيَرْفَعُهُ بِهَا دَرَجَةً وَيَحُطُّ عَنْهُ بِهَا سَيِّئَةً وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلَّا مُنَافِقٌ مَعْلُومُ النِّفَاقِ وَلَقَدْ كَانَ الرَّجُلُ يُؤْتَى بِهِ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفْ
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, ক্বিয়ামতের ময়দানে যে ব্যক্তি মুসলিম হিসাবে আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হ'তে চায়, সে যেন এই ছালাতগুলো যেখানে আযান দেওয়া হয় সেখানে (মসজিদে) গিয়ে যথারীতি আদায় করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীর জন্য হেদায়াত বা পথনির্দেশমূলক অনেক বিধান দিয়েছেন। এই ছালাতগুলো ঐ হেদায়াতমূলক বিধানের অন্তর্ভুক্ত। তোমাদের ছালাতগুলো যদি তোমরা ঘরে আদায় কর, যেমন করে এই পশ্চাৎপদ ব্যক্তি তার বাড়ীতে ছালাত আদায় করে, তাহ'লে তোমরা তোমাদের নবী করীম (ছাঃ)-এর সুন্নাত (আদর্শ) ছেড়ে দিবে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত ছেড়ে দাও, তাহ'লে তোমরা বিপথগামী হয়ে যাবে। কোন ব্যক্তি যখন খুব ভালমত পাক-পবিত্র হয়, তারপর এই মসজিদগুলোর কোন একটি মসজিদে গমনের সংকল্প করে, তার প্রতি পদক্ষেপের জন্য একটি নেকী লেখা হয়, একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং একটি পাপ মুছে দেওয়া হয়। নিশ্চয়ই আমি আমাদের মধ্যে দেখেছি যার মুনাফিকী সুবিদিত এমন লোক ছাড়া ছালাতের জামা'আত থেকে কেউ পশ্চাৎপদ থাকত না। এমনকি হাঁটতে পারে না এমন লোককেও দু'জনের কাঁধে ভর দিয়ে (মসজিদে এনে) লাইনের মাঝে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হ'ত।
আল্লামা শুমুন্নী (السُّمَّى) বলেছেন, এখানে মুনাফিক বলতে যে মুখে ইসলাম যাহির করে কিন্তু মনে তা গোপন রাখে সে নয়। নচেৎ জামা'আতে ছালাত আদায় ফরয হয়ে দাঁড়ায়। কেননা যে অন্তরে কুফর লুকিয়ে রাখে সে তো কাফেরই। এতে ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর কথার শেষাংশ প্রথমাংশের বিপরীত হয়ে দাঁড়াবে। কেননা জামা'আতে ছালাত আদায়কে তিনি সুন্নাত বলেছেন।
টিকাঃ
৪৯. মুসলিম হা/৬৫৪; মিশকাত হা/১০৭২।
৫০. আওনুল মা'বুদ ২/১৭৯।
📄 কুরুচিপূর্ণ বচন ও বাচালতা
আবু উমামা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, الْحَيَاءُ وَالْعِيُّ شُعْبَتَانِ مِنَ الْإِيْمَانِ وَالْبَدَاء وَالْبَيَانُ شُعْبَتَانِ مِنَ النِّفَاقِ ‘লাজুকতা ও স্বল্পভাষিতা ঈমানের দু'টি শাখা এবং কুরুচিপূর্ণ কথা ও বাচালতা মুনাফিকীর দু'টি শাখা'।
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) হাদীছটির শব্দের ব্যাখ্যায় বলেছেন, র্য। শব্দের অর্থ কম কথা বলা, স্বল্পভাষিতা বা মিতবাক হওয়া। الْبَدَاء অর্থ কুরুচিপূর্ণ বা অশ্লীল কথা বলা। আর اَلْبَيَانُ অর্থ বাচালতা। যেমন বক্তারা বক্তৃতাকালে বাগ্মিতা যাহির করার জন্য ব্যাপক কথা বলে, লোক বিশেষের তারা এমন উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে যা আল্লাহ পসন্দ করেন না।
ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, 'সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে মুসলিম সমাজে মুনাফিকদের অবস্থান অর্থ-কড়ির মাঝে জাল মুদ্রার মত। বহু মানুষ জাল মুদ্রা সম্পর্কে সচেতন নয় বিধায় তা তাদের মাঝে অনায়াসে চলতে থাকে। কিন্তু অভিজ্ঞ মুদ্রা পরখকারী তার মেকিত্ব ঠিকই ধরে ফেলতে পারে। কিন্তু এমন লোকের সংখ্যা সমাজে কম। দ্বীনের জন্য মুনাফিক শ্রেণীর লোক অপেক্ষা অধিক ক্ষতিকর আর কেউ নেই। দ্বীনকে তারা ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। এ কারণে আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদে তাদের ভূমিকা পরিষ্কার করে তুলে ধরেছেন; তাদের স্বভাব-চরিত্র ও অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাদের আলোচনা বার বার করেছেন। কেননা মুনাফিকদের কারণে উম্মাতের উপর কঠিন চাপ সৃষ্টি হয়; উম্মাতের মাঝে তাদের অস্তিত্ব মানেই ঘরের শত্রু হিসাবে বড় বিপদ ডেকে আনা। তাদের চেনার প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য, যাতে তাদের মত আচরণ মুমিনদের থেকে না হয় এবং তাদের প্রতি কান লাগিয়ে রাখা হয়। তারা যে আল্লাহ্র পথের কত পথিককে সরল রাস্তা থেকে বিভ্রান্ত করেছে তার ইয়ত্তা নেই। তারা তাদেরকে শয়তানের নিকৃষ্ট পথে নিয়ে গেছে। তারা তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তাদের উপর অনুগ্রহ করেছে। কিন্তু তাদের সে প্রতিশ্রুতি আসলে ধোঁকাবাজি এবং তাদের অনুগ্রহ শুধুই দুর্ভোগ ও ধ্বংস।
টিকাঃ
৫১. তিরমিযী হা/২০২৭; মিশকাত হা/৪৭৯৬, সনদ ছহীহ।
৫২. তরীকুল হিজরাতাইন, পৃঃ ৬০৩।
আবু উমামা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, الْحَيَاءُ وَالْعِيُّ شُعْبَتَانِ مِنَ الْإِيْمَانِ وَالْبَدَاء وَالْبَيَانُ شُعْبَتَانِ مِنَ النِّفَاقِ ‘লাজুকতা ও স্বল্পভাষিতা ঈমানের দু'টি শাখা এবং কুরুচিপূর্ণ কথা ও বাচালতা মুনাফিকীর দু'টি শাখা'।
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) হাদীছটির শব্দের ব্যাখ্যায় বলেছেন, র্য। শব্দের অর্থ কম কথা বলা, স্বল্পভাষিতা বা মিতবাক হওয়া। الْبَدَاء অর্থ কুরুচিপূর্ণ বা অশ্লীল কথা বলা। আর اَلْبَيَانُ অর্থ বাচালতা। যেমন বক্তারা বক্তৃতাকালে বাগ্মিতা যাহির করার জন্য ব্যাপক কথা বলে, লোক বিশেষের তারা এমন উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে যা আল্লাহ পসন্দ করেন না।
ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, 'সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে মুসলিম সমাজে মুনাফিকদের অবস্থান অর্থ-কড়ির মাঝে জাল মুদ্রার মত। বহু মানুষ জাল মুদ্রা সম্পর্কে সচেতন নয় বিধায় তা তাদের মাঝে অনায়াসে চলতে থাকে। কিন্তু অভিজ্ঞ মুদ্রা পরখকারী তার মেকিত্ব ঠিকই ধরে ফেলতে পারে। কিন্তু এমন লোকের সংখ্যা সমাজে কম। দ্বীনের জন্য মুনাফিক শ্রেণীর লোক অপেক্ষা অধিক ক্ষতিকর আর কেউ নেই। দ্বীনকে তারা ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। এ কারণে আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদে তাদের ভূমিকা পরিষ্কার করে তুলে ধরেছেন; তাদের স্বভাব-চরিত্র ও অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাদের আলোচনা বার বার করেছেন। কেননা মুনাফিকদের কারণে উম্মাতের উপর কঠিন চাপ সৃষ্টি হয়; উম্মাতের মাঝে তাদের অস্তিত্ব মানেই ঘরের শত্রু হিসাবে বড় বিপদ ডেকে আনা। তাদের চেনার প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য, যাতে তাদের মত আচরণ মুমিনদের থেকে না হয় এবং তাদের প্রতি কান লাগিয়ে রাখা হয়। তারা যে আল্লাহ্র পথের কত পথিককে সরল রাস্তা থেকে বিভ্রান্ত করেছে তার ইয়ত্তা নেই। তারা তাদেরকে শয়তানের নিকৃষ্ট পথে নিয়ে গেছে। তারা তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তাদের উপর অনুগ্রহ করেছে। কিন্তু তাদের সে প্রতিশ্রুতি আসলে ধোঁকাবাজি এবং তাদের অনুগ্রহ শুধুই দুর্ভোগ ও ধ্বংস।
টিকাঃ
৫১. তিরমিযী হা/২০২৭; মিশকাত হা/৪৭৯৬, সনদ ছহীহ।
৫২. তরীকুল হিজরাতাইন, পৃঃ ৬০৩।
📄 গান শোনা
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেছেন, الْغِنَاءُ يُنْبِتُ النِّفَاقَ فِي الْقَلْبِ ‘গান অন্তরে মুনাফিকী উৎপন্ন করে'। ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেন, তার কারণ, মুনাফিকীর মূল কথা : মানুষের বাইরের দিক হবে ভেতর দিক থেকে আলাদা। আর গায়ক দু'টি হুকুমের মাঝে অবস্থানকারী। হয় সে গান গাওয়ায় নির্লজ্জ হবে, সে ক্ষেত্রে সে হবে ফাসিক বা পাপাচারী; নয় সে গানের মাধ্যমে ইবাদত-বন্দেগী যাহির করবে, সেক্ষেত্রে সে হবে মুনাফিক। কারণ গানের মধ্যে সে উপর উপর আল্লাহ্র প্রতি ভালবাসা ও আখেরাতের প্রতি টান ফুটিয়ে তুললেও তার মনটা কামনার আগুনে টগবগ করে ফোটে; যে গানের কথা ও সুর এবং বাদ্য-বাজনা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট অপ্রিয়, তাই তার নিকট প্রিয় লাগে এবং গানের বিষয়বস্তুর প্রতি সে ঝুঁকে পড়ে। তার অন্তর এগুলোতে ভরপুর হয়ে যায়; তাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর প্রিয় জিনিসগুলোর প্রতি ভালবাসা এবং অপ্রিয় জিনিসগুলোর প্রতি ঘৃণার জন্য একটু জায়গাও খালি থাকে না। আর এটাই তো নিরেট মুনাফিকী ।
মুনাফিকীর অন্যান্য চিহ্নের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ্ যিকির বা স্মরণ কম করা, ছালাতের প্রতি আলসেমি এবং তাড়াহুড়া করে ছালাত আদায় করা। ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ গানে আসক্ত ব্যক্তিকে আপনি দেখবেন এসব রোগে আক্রান্ত। তাছাড়াও মুনাফিকী মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। আর গান চূড়ান্ত মিথ্যা কথা। কেননা গান খারাপ ও কদর্য জিনিসকে সুন্দর ও সুশোভিত করে দেখায় এবং তা করতে আদেশ দেয়। অন্যদিকে সুন্দরকে কুৎসিত আকারে তুলে ধরে এবং তা থেকে বিরত থাকতে বলে। এটাও সরাসরি মুনাফিকী। তাছাড়াও মুনাফিকী হ'ল ধোঁকাবাজি, চক্রান্ত ও প্রতারণার নাম। আর গানের ভিত্তিও এগুলো।
টিকাঃ
৫৩. শু'আবুল ঈমান হা/৫০৯৮, সনদ মওকূফ ছহীহ, আলোচনা দ্রঃ যঈফাহ হা/২৪৩০।
৫৪. ইবনুল কাইয়িম, ইগাছাতুল লাহফান ১/২৫০।
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেছেন, الْغِنَاءُ يُنْبِتُ النِّفَاقَ فِي الْقَلْبِ ‘গান অন্তরে মুনাফিকী উৎপন্ন করে'। ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেন, তার কারণ, মুনাফিকীর মূল কথা : মানুষের বাইরের দিক হবে ভেতর দিক থেকে আলাদা। আর গায়ক দু'টি হুকুমের মাঝে অবস্থানকারী। হয় সে গান গাওয়ায় নির্লজ্জ হবে, সে ক্ষেত্রে সে হবে ফাসিক বা পাপাচারী; নয় সে গানের মাধ্যমে ইবাদত-বন্দেগী যাহির করবে, সেক্ষেত্রে সে হবে মুনাফিক। কারণ গানের মধ্যে সে উপর উপর আল্লাহ্র প্রতি ভালবাসা ও আখেরাতের প্রতি টান ফুটিয়ে তুললেও তার মনটা কামনার আগুনে টগবগ করে ফোটে; যে গানের কথা ও সুর এবং বাদ্য-বাজনা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট অপ্রিয়, তাই তার নিকট প্রিয় লাগে এবং গানের বিষয়বস্তুর প্রতি সে ঝুঁকে পড়ে। তার অন্তর এগুলোতে ভরপুর হয়ে যায়; তাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর প্রিয় জিনিসগুলোর প্রতি ভালবাসা এবং অপ্রিয় জিনিসগুলোর প্রতি ঘৃণার জন্য একটু জায়গাও খালি থাকে না। আর এটাই তো নিরেট মুনাফিকী ।
মুনাফিকীর অন্যান্য চিহ্নের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ্ যিকির বা স্মরণ কম করা, ছালাতের প্রতি আলসেমি এবং তাড়াহুড়া করে ছালাত আদায় করা। ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ গানে আসক্ত ব্যক্তিকে আপনি দেখবেন এসব রোগে আক্রান্ত। তাছাড়াও মুনাফিকী মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। আর গান চূড়ান্ত মিথ্যা কথা। কেননা গান খারাপ ও কদর্য জিনিসকে সুন্দর ও সুশোভিত করে দেখায় এবং তা করতে আদেশ দেয়। অন্যদিকে সুন্দরকে কুৎসিত আকারে তুলে ধরে এবং তা থেকে বিরত থাকতে বলে। এটাও সরাসরি মুনাফিকী। তাছাড়াও মুনাফিকী হ'ল ধোঁকাবাজি, চক্রান্ত ও প্রতারণার নাম। আর গানের ভিত্তিও এগুলো।
টিকাঃ
৫৩. শু'আবুল ঈমান হা/৫০৯৮, সনদ মওকূফ ছহীহ, আলোচনা দ্রঃ যঈফাহ হা/২৪৩০।
৫৪. ইবনুল কাইয়িম, ইগাছাতুল লাহফান ১/২৫০।