📘 মুনাফিকী > 📄 অঙ্গীকার করে ভঙ্গ করা এবং বাকবিতণ্ডাকালে বাজে কথা বলা

📄 অঙ্গীকার করে ভঙ্গ করা এবং বাকবিতণ্ডাকালে বাজে কথা বলা


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَرْبَعُ مَنْ كُنَّ فِيْهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا، وَمَنْ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ -
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, 'যার মধ্যে চারটি আচরণ থাকবে, সে নির্ভেজাল মুনাফিক বলে গণ্য হবে। আর যার মধ্যে সেগুলোর একটি আচরণ পাওয়া যাবে তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি চিহ্ন বিদ্যমান থাকবে, যে পর্যন্ত না সে তা পরিহার করে। যখন সে কথা বলে, তখন মিথ্যা বলে; যখন কোন চুক্তিবদ্ধ হয় তখন তা ভঙ্গ করে; যখন কোন প্রতিশ্রুতি দেয় তখন তা অমান্য করে এবং যখন বাক-বিতণ্ডা করে তখন বেহুদা বা বাজে কথা বলে' ।
ইমাম নববী (রহঃ) বলেছেন, একদল আলেম এই হাদীছকে মুশকিল বা দুর্বোধ্য অর্থবোধক হাদীছ হিসাবে গণ্য করেছেন। কেননা এই আচরণগুলো অনেক খাঁটি মুসলমানের মধ্যেও পাওয়া যায়। যার ঈমানের মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। ইউসুফ (আঃ)-এর ভাইদের মধ্যে উল্লিখিত আচরণের সবক'টি ছিল। অনুরূপ পূর্বসূরী অনেক আলেম ও বিদ্বানের মাঝে এগুলো আংশিক কিংবা পূর্ণ বিদ্যমান ছিল। তাই প্রশ্ন দেখা দেয়, একই ব্যক্তি একই সাথে কি করে মুমিন ও মুনাফিক হ'তে পারে। এজন্যই হাদীছটিকে তারা মুশকিল বা দুর্বোধ্য বলেছেন।
কিন্তু ইমাম নববী বলেন, আল্লাহ্রই সকল প্রশংসা, হাদীছটিতে আসলে কোন দুর্বোধ্যতা নেই। অবশ্য আলেমরা এর অর্থ নিয়ে নানা কথা বলেছেন। মহাক্বিক্ব আলেমগণ ও অধিকাংশ ব্যক্তির মত যা সঠিক ও শ্রেয় তা এই যে, এই আচরণগুলো মুনাফিকীর আচরণ। যে এসব আচরণের অধিকারী সে মুনাফিকতুল্য এবং তাদের চারিত্রিকগুণে বিভূষিত। কেননা মুনাফিকী মূলতঃ প্রকাশ্যে এক রকম এবং গোপনে অন্য রকম। এই অর্থ উক্ত আচরণগুলোর অধিকারীর মধ্যেও বিরাজমান। তার এ মুনাফিকী ঐ ব্যক্তির সাথে যার সাথে সে কথা বলেছে, প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমানত গচ্ছিত রেখেছে, বাক-বিতণ্ডা করেছে এবং চুক্তি করেছে। সে ইসলামের মধ্যে মুনাফিক নয়- যে কিনা বাইরে মুসলিম কিন্তু ভেতরে কাফের। নবী করীম (ছাঃ)ও এতদ্বারা তাকে জাহান্নামের নিম্নদেশে চিরকাল অবস্থানকারী মুনাফিক গণ্য করেননি।
রাসূল (ছাঃ)-এর উক্তি 'সে নির্ভেজাল মুনাফিক'-এর অর্থ এ আচরণগুলোর কারণে সে মুনাফিকদের সাথে কঠিন সাদৃশ্যপূর্ণ। জনৈক আলেম বলেছেন, কঠিনভাবে মুনাফিকের সাথে তুলনীয় সেই ব্যক্তি যার মধ্যে এসব আচরণ অতি মাত্রায় বিরাজিত। যার মধ্যে অল্প মাত্রায় রয়েছে সে মুনাফিক শ্রেণীভুক্ত নয়। এটিই হাদীছের গ্রহণীয় ও শ্রেয় অর্থ।

টিকাঃ
৪৪. মাদারিজুস সালিকীন ১/৩৪৯।
৪৫. বুখারী হা/৩৪; মুসলিম হা/৫৮।
৪৬. শারহ নববী মুসলিম ২/৪৬-৪৭।

📘 মুনাফিকী > 📄 ছালাতকে যথাসময় থেকে বিলম্বিত করা

📄 ছালাতকে যথাসময় থেকে বিলম্বিত করা


আলা ইবনু আব্দুর রহমান হ'তে বর্ণিত তিনি একবার যোহর ছালাত শেষ করে বছরা শহরে ছাহাবী আনাস ইবনু মালেক (রাঃ)-এর বাড়ীতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। তাঁর বাড়ীটা ছিল মসজিদের পাশে। তিনি বলেন, আমরা যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম তখন তিনি বললেন, তোমরা কি আছর ছালাত আদায় করেছ? আমরা বললাম, আমরা তো এই মাত্র যোহর ছালাত আদায় করে আসলাম। তিনি বললেন, তোমরা আছর ছালাত আদায় কর। আমরা তখন আছর ছালাত আদায় করলাম। আমাদের ফিরে আসার সময় তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি,
تِلْكَ صَلاةُ الْمُنَافِقِ يَجْلِسُ يَرْقُبُ الشَّمْسَ حَتَّى إِذَا كَانَتْ بَيْنَ قَرْنِي الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَ أَرْبَعًا لَا يَذْكُرُ اللَّهَ فِيهَا إِلَّا قَلِيْلاً
'যে বসে বসে সূর্য ডোবার প্রতীক্ষা করে, তারপর সূর্য যখন শয়তানের দুই শিঙের মাঝ বরাবর হয় অর্থাৎ একেবারে ডুবে যাবার উপক্রম হয় তখন চারটা ঠোকর মারে (অতি দ্রুত চার রাক'আত আছর পড়ে)। তাতে সে আল্লাহ তা'আলাকে নামমাত্র স্মরণ করে'।
ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, তারা ছালাতকে তার প্রথম ওয়াক্ত থেকে বিলম্বিত করে মরণাপন্ন ব্যক্তির দম বন্ধ হওয়ার উপক্রমের মুহূর্তে (একেবারে শেষ মুহূর্তে) আদায় করে। ফজর আদায় করে সূর্যোদয়ের মুহূর্তে এবং আছর আদায় করে সূর্যাস্তের সময়ে। কাক যেমন ঠোকর মারে তারাও তেমনি (সিজদার নামে) ঠোকর মারে। তা দৈহিকভাবে ছালাত হ'লেও আন্তরিকতাপূর্ণ ছালাত নয়। এ ছালাত আদায়কালে তারা শিয়ালের মত এদিক ওদিক তাকাতে থাকে। কেননা তাদের বিশ্বাস হয়, এভাবে ছালাত আদায়ের জন্য তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হ'তে পারে এবং কৈফিয়তের জন্য তলব করা হ'তে পারে।

টিকাঃ
৪৭. মুসলিম হা/৬২২।
৪৮. মাদারিজুস সালিকীন ১/৩৫৪।

📘 মুনাফিকী > 📄 ছালাতের জামা'আতে শরীক না হওয়া

📄 ছালাতের জামা'আতে শরীক না হওয়া


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللَّهَ غَدًا مُسْلِمًا فَلْيُحَافِظُ عَلَى هَؤُلَاءِ الصَّلَوَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّ اللَّهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم سُنَنَ الْهُدَى وَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى وَلَوْ أَنَّكُمْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا الْمُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ وَمَا مِنْ رَجُلٍ يَتَطَهَّرُ فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ ثُمَّ يَعْمِدُ إِلَى مَسْجِدٍ مِنْ هَذِهِ الْمَسَاجِدِ إِلَّا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ خَطْوَةٍ يَخْطُوهَا حَسَنَةً وَيَرْفَعُهُ بِهَا دَرَجَةً وَيَحُطُّ عَنْهُ بِهَا سَيِّئَةً وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلَّا مُنَافِقٌ مَعْلُومُ النِّفَاقِ وَلَقَدْ كَانَ الرَّجُلُ يُؤْتَى بِهِ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفْ
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, ক্বিয়ামতের ময়দানে যে ব্যক্তি মুসলিম হিসাবে আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হ'তে চায়, সে যেন এই ছালাতগুলো যেখানে আযান দেওয়া হয় সেখানে (মসজিদে) গিয়ে যথারীতি আদায় করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীর জন্য হেদায়াত বা পথনির্দেশমূলক অনেক বিধান দিয়েছেন। এই ছালাতগুলো ঐ হেদায়াতমূলক বিধানের অন্তর্ভুক্ত। তোমাদের ছালাতগুলো যদি তোমরা ঘরে আদায় কর, যেমন করে এই পশ্চাৎপদ ব্যক্তি তার বাড়ীতে ছালাত আদায় করে, তাহ'লে তোমরা তোমাদের নবী করীম (ছাঃ)-এর সুন্নাত (আদর্শ) ছেড়ে দিবে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত ছেড়ে দাও, তাহ'লে তোমরা বিপথগামী হয়ে যাবে। কোন ব্যক্তি যখন খুব ভালমত পাক-পবিত্র হয়, তারপর এই মসজিদগুলোর কোন একটি মসজিদে গমনের সংকল্প করে, তার প্রতি পদক্ষেপের জন্য একটি নেকী লেখা হয়, একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং একটি পাপ মুছে দেওয়া হয়। নিশ্চয়ই আমি আমাদের মধ্যে দেখেছি যার মুনাফিকী সুবিদিত এমন লোক ছাড়া ছালাতের জামা'আত থেকে কেউ পশ্চাৎপদ থাকত না। এমনকি হাঁটতে পারে না এমন লোককেও দু'জনের কাঁধে ভর দিয়ে (মসজিদে এনে) লাইনের মাঝে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হ'ত।
আল্লামা শুমুন্নী (السُّمَّى) বলেছেন, এখানে মুনাফিক বলতে যে মুখে ইসলাম যাহির করে কিন্তু মনে তা গোপন রাখে সে নয়। নচেৎ জামা'আতে ছালাত আদায় ফরয হয়ে দাঁড়ায়। কেননা যে অন্তরে কুফর লুকিয়ে রাখে সে তো কাফেরই। এতে ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর কথার শেষাংশ প্রথমাংশের বিপরীত হয়ে দাঁড়াবে। কেননা জামা'আতে ছালাত আদায়কে তিনি সুন্নাত বলেছেন।

টিকাঃ
৪৯. মুসলিম হা/৬৫৪; মিশকাত হা/১০৭২।
৫০. আওনুল মা'বুদ ২/১৭৯।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللَّهَ غَدًا مُسْلِمًا فَلْيُحَافِظُ عَلَى هَؤُلَاءِ الصَّلَوَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّ اللَّهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم سُنَنَ الْهُدَى وَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى وَلَوْ أَنَّكُمْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا الْمُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ وَمَا مِنْ رَجُلٍ يَتَطَهَّرُ فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ ثُمَّ يَعْمِدُ إِلَى مَسْجِدٍ مِنْ هَذِهِ الْمَسَاجِدِ إِلَّا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ خَطْوَةٍ يَخْطُوهَا حَسَنَةً وَيَرْفَعُهُ بِهَا دَرَجَةً وَيَحُطُّ عَنْهُ بِهَا سَيِّئَةً وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلَّا مُنَافِقٌ مَعْلُومُ النِّفَاقِ وَلَقَدْ كَانَ الرَّجُلُ يُؤْتَى بِهِ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفْ
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, ক্বিয়ামতের ময়দানে যে ব্যক্তি মুসলিম হিসাবে আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হ'তে চায়, সে যেন এই ছালাতগুলো যেখানে আযান দেওয়া হয় সেখানে (মসজিদে) গিয়ে যথারীতি আদায় করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীর জন্য হেদায়াত বা পথনির্দেশমূলক অনেক বিধান দিয়েছেন। এই ছালাতগুলো ঐ হেদায়াতমূলক বিধানের অন্তর্ভুক্ত। তোমাদের ছালাতগুলো যদি তোমরা ঘরে আদায় কর, যেমন করে এই পশ্চাৎপদ ব্যক্তি তার বাড়ীতে ছালাত আদায় করে, তাহ'লে তোমরা তোমাদের নবী করীম (ছাঃ)-এর সুন্নাত (আদর্শ) ছেড়ে দিবে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত ছেড়ে দাও, তাহ'লে তোমরা বিপথগামী হয়ে যাবে। কোন ব্যক্তি যখন খুব ভালমত পাক-পবিত্র হয়, তারপর এই মসজিদগুলোর কোন একটি মসজিদে গমনের সংকল্প করে, তার প্রতি পদক্ষেপের জন্য একটি নেকী লেখা হয়, একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং একটি পাপ মুছে দেওয়া হয়। নিশ্চয়ই আমি আমাদের মধ্যে দেখেছি যার মুনাফিকী সুবিদিত এমন লোক ছাড়া ছালাতের জামা'আত থেকে কেউ পশ্চাৎপদ থাকত না। এমনকি হাঁটতে পারে না এমন লোককেও দু'জনের কাঁধে ভর দিয়ে (মসজিদে এনে) লাইনের মাঝে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হ'ত।
আল্লামা শুমুন্নী (السُّمَّى) বলেছেন, এখানে মুনাফিক বলতে যে মুখে ইসলাম যাহির করে কিন্তু মনে তা গোপন রাখে সে নয়। নচেৎ জামা'আতে ছালাত আদায় ফরয হয়ে দাঁড়ায়। কেননা যে অন্তরে কুফর লুকিয়ে রাখে সে তো কাফেরই। এতে ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর কথার শেষাংশ প্রথমাংশের বিপরীত হয়ে দাঁড়াবে। কেননা জামা'আতে ছালাত আদায়কে তিনি সুন্নাত বলেছেন।

টিকাঃ
৪৯. মুসলিম হা/৬৫৪; মিশকাত হা/১০৭২।
৫০. আওনুল মা'বুদ ২/১৭৯।

📘 মুনাফিকী > 📄 কুরুচিপূর্ণ বচন ও বাচালতা

📄 কুরুচিপূর্ণ বচন ও বাচালতা


আবু উমামা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, الْحَيَاءُ وَالْعِيُّ شُعْبَتَانِ مِنَ الْإِيْمَانِ وَالْبَدَاء وَالْبَيَانُ شُعْبَتَانِ مِنَ النِّفَاقِ ‘লাজুকতা ও স্বল্পভাষিতা ঈমানের দু'টি শাখা এবং কুরুচিপূর্ণ কথা ও বাচালতা মুনাফিকীর দু'টি শাখা'।
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) হাদীছটির শব্দের ব্যাখ্যায় বলেছেন, র্য। শব্দের অর্থ কম কথা বলা, স্বল্পভাষিতা বা মিতবাক হওয়া। الْبَدَاء অর্থ কুরুচিপূর্ণ বা অশ্লীল কথা বলা। আর اَلْبَيَانُ অর্থ বাচালতা। যেমন বক্তারা বক্তৃতাকালে বাগ্মিতা যাহির করার জন্য ব্যাপক কথা বলে, লোক বিশেষের তারা এমন উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে যা আল্লাহ পসন্দ করেন না।
ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, 'সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে মুসলিম সমাজে মুনাফিকদের অবস্থান অর্থ-কড়ির মাঝে জাল মুদ্রার মত। বহু মানুষ জাল মুদ্রা সম্পর্কে সচেতন নয় বিধায় তা তাদের মাঝে অনায়াসে চলতে থাকে। কিন্তু অভিজ্ঞ মুদ্রা পরখকারী তার মেকিত্ব ঠিকই ধরে ফেলতে পারে। কিন্তু এমন লোকের সংখ্যা সমাজে কম। দ্বীনের জন্য মুনাফিক শ্রেণীর লোক অপেক্ষা অধিক ক্ষতিকর আর কেউ নেই। দ্বীনকে তারা ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। এ কারণে আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদে তাদের ভূমিকা পরিষ্কার করে তুলে ধরেছেন; তাদের স্বভাব-চরিত্র ও অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাদের আলোচনা বার বার করেছেন। কেননা মুনাফিকদের কারণে উম্মাতের উপর কঠিন চাপ সৃষ্টি হয়; উম্মাতের মাঝে তাদের অস্তিত্ব মানেই ঘরের শত্রু হিসাবে বড় বিপদ ডেকে আনা। তাদের চেনার প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য, যাতে তাদের মত আচরণ মুমিনদের থেকে না হয় এবং তাদের প্রতি কান লাগিয়ে রাখা হয়। তারা যে আল্লাহ্র পথের কত পথিককে সরল রাস্তা থেকে বিভ্রান্ত করেছে তার ইয়ত্তা নেই। তারা তাদেরকে শয়তানের নিকৃষ্ট পথে নিয়ে গেছে। তারা তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তাদের উপর অনুগ্রহ করেছে। কিন্তু তাদের সে প্রতিশ্রুতি আসলে ধোঁকাবাজি এবং তাদের অনুগ্রহ শুধুই দুর্ভোগ ও ধ্বংস।

টিকাঃ
৫১. তিরমিযী হা/২০২৭; মিশকাত হা/৪৭৯৬, সনদ ছহীহ।
৫২. তরীকুল হিজরাতাইন, পৃঃ ৬০৩।

আবু উমামা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, الْحَيَاءُ وَالْعِيُّ شُعْبَتَانِ مِنَ الْإِيْمَانِ وَالْبَدَاء وَالْبَيَانُ شُعْبَتَانِ مِنَ النِّفَاقِ ‘লাজুকতা ও স্বল্পভাষিতা ঈমানের দু'টি শাখা এবং কুরুচিপূর্ণ কথা ও বাচালতা মুনাফিকীর দু'টি শাখা'।
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) হাদীছটির শব্দের ব্যাখ্যায় বলেছেন, র্য। শব্দের অর্থ কম কথা বলা, স্বল্পভাষিতা বা মিতবাক হওয়া। الْبَدَاء অর্থ কুরুচিপূর্ণ বা অশ্লীল কথা বলা। আর اَلْبَيَانُ অর্থ বাচালতা। যেমন বক্তারা বক্তৃতাকালে বাগ্মিতা যাহির করার জন্য ব্যাপক কথা বলে, লোক বিশেষের তারা এমন উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে যা আল্লাহ পসন্দ করেন না।
ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, 'সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে মুসলিম সমাজে মুনাফিকদের অবস্থান অর্থ-কড়ির মাঝে জাল মুদ্রার মত। বহু মানুষ জাল মুদ্রা সম্পর্কে সচেতন নয় বিধায় তা তাদের মাঝে অনায়াসে চলতে থাকে। কিন্তু অভিজ্ঞ মুদ্রা পরখকারী তার মেকিত্ব ঠিকই ধরে ফেলতে পারে। কিন্তু এমন লোকের সংখ্যা সমাজে কম। দ্বীনের জন্য মুনাফিক শ্রেণীর লোক অপেক্ষা অধিক ক্ষতিকর আর কেউ নেই। দ্বীনকে তারা ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। এ কারণে আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদে তাদের ভূমিকা পরিষ্কার করে তুলে ধরেছেন; তাদের স্বভাব-চরিত্র ও অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাদের আলোচনা বার বার করেছেন। কেননা মুনাফিকদের কারণে উম্মাতের উপর কঠিন চাপ সৃষ্টি হয়; উম্মাতের মাঝে তাদের অস্তিত্ব মানেই ঘরের শত্রু হিসাবে বড় বিপদ ডেকে আনা। তাদের চেনার প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য, যাতে তাদের মত আচরণ মুমিনদের থেকে না হয় এবং তাদের প্রতি কান লাগিয়ে রাখা হয়। তারা যে আল্লাহ্র পথের কত পথিককে সরল রাস্তা থেকে বিভ্রান্ত করেছে তার ইয়ত্তা নেই। তারা তাদেরকে শয়তানের নিকৃষ্ট পথে নিয়ে গেছে। তারা তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তাদের উপর অনুগ্রহ করেছে। কিন্তু তাদের সে প্রতিশ্রুতি আসলে ধোঁকাবাজি এবং তাদের অনুগ্রহ শুধুই দুর্ভোগ ও ধ্বংস।

টিকাঃ
৫১. তিরমিযী হা/২০২৭; মিশকাত হা/৪৭৯৬, সনদ ছহীহ।
৫২. তরীকুল হিজরাতাইন, পৃঃ ৬০৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00