📘 মুনাফিকী > 📄 জিহাদে অংশ না নিতে অনুমতি প্রার্থনা

📄 জিহাদে অংশ না নিতে অনুমতি প্রার্থনা


وَمِنْهُم مَّنْ يَقُوْلُ الْذَن لِّي وَلَا تَفْتِنِّي أَلا فِي الْفِتْنَةِ سَقَطُوا وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِيْطَةُ بِالْكَافِرِينَ 'আর তাদের মধ্যেকার কেউ বলে, আমাকে (যুদ্ধ থেকে) অব্যাহতি দিন এবং আমাকে ফিত্নায় ফেলবেন না। সাবধান! ওরা কিন্তু ফিত্নাতেই পড়ে গেছে। আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদের বেষ্টনকারী হবে' (তওবা ৯/৪৯)।
আল্লাহ তা'আলা এই আয়াতে তাঁর রাসূলকে উদ্দেশ্য করে কিছু মুনাফিকের স্বভাব তুলে ধরেছেন। তিনি বলছেন, হে রাসূল! কিছু মুনাফিক তোমাকে বলে, আমাকে বাড়ি বসে থাকার অনুমতি দিন। তোমার সাথে যুদ্ধে গিয়ে রোমের সুন্দরী কিশোরীদের ফিত্নায় পড়ে যাই কি-না তাতেই এ অনুমতি চাচ্ছি। আল্লাহ বলেন, এ ধরনের কথা বলে তো ওরা ফিৎনায় পড়েই রয়েছে।

টিকাঃ
৩৯. তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৪/১৬১।

📘 মুনাফিকী > 📄 জিহাদ থেকে পিছনে থাকার জন্য অজুহাত পেশ

📄 জিহাদ থেকে পিছনে থাকার জন্য অজুহাত পেশ


মুনাফিকরা কোন কারণ ছাড়াই যুদ্ধে অংশ নেয় না। এজন্য কৈফিয়তের সম্মুখীন হ'লে তাদের মিথ্যা অজুহাত পেশের অন্ত থাকে না। আল্লাহ তা'আলা সে কথা তুলে ধরেছেন,
يَعْتَذِرُوْنَ إِلَيْكُمْ إِذَا رَجَعْتُمْ إِلَيْهِمْ قُل لا تَعْتَذِرُوا لَن تُؤْمِنَ لَكُمْ قَدْ نَبَّأَنَا اللَّهُ مِنْ أَخْبَارِكُمْ وَسَيَرَى اللهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ ثُمَّ تُرَدُّوْنَ إِلَى عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُوْنَ -
'তারা তোমাদের নিকট এসে ওযর পেশ করবে যখন তোমরা তাদের কাছে ফিরে আসবে। তুমি বলে দাও, তোমরা ওযর পেশ করো না। আমরা কখনোই তোমাদের বিশ্বাস করব না। আল্লাহ তোমাদের খবর আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। আর এখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদের কাজকর্ম দেখবেন। অতঃপর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়ে অবগত মহান সত্তার কাছে। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জানিয়ে দিবেন' (তওবা ৯/৯৪)।
মুনাফিকদের বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীকে বলছেন যে, মুসলমানরা যখন তাবুক যুদ্ধ থেকে মদীনায় ফিরে আসবে তখন এই মুনাফিকরা কেন যুদ্ধে যেতে পারেনি সে সম্পর্কে নানা কৈফিয়ত পেশ করবে। তাই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে আল্লাহ তা'আলা পূর্বেই বলে দিচ্ছেন, তুমি তাদের বলবে, তোমাদের আর এসব কৈফিয়ত, অজুহাত পেশ করার দরকার নেই। আমরা তোমাদের বিশ্বাস করি না। তোমাদের খবরাদি আল্লাহ তা'আলা আগেই আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদের ক্রিয়াকলাপ অচিরেই দুনিয়াতে মানুষের সামনে তুলে ধরবেন। তারপর কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে দৃশ্য-অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত মহান আল্লাহ্র নিকট ফিরে যেতে হবে। সেখানে তিনি তোমাদের ভাল-মন্দ সকল কাজের খবর দিবেন এবং তদনুযায়ী প্রতিদান দিবেন।

টিকাঃ
৪০. ঐ, ৪/২০১।

📘 মুনাফিকী > 📄 মানুষের দৃষ্টির আড়াল হওয়ার চেষ্টা

📄 মানুষের দৃষ্টির আড়াল হওয়ার চেষ্টা


আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَسْتَخْفُوْنَ مِنَ النَّاسِ وَلاَ يَسْتَخْفُوْنَ مِنَ اللهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَى مِنَ الْقَوْلِ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا يَعْمَلُوْنَ مُحِيطًا -
'এরা মানুষের কাছ থেকে নিজেদের কর্ম গোপন রাখতে চায়। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার কাছ থেকে তারা কিছুই গোপন করতে পারবে না। তারা যখন রাতের অন্ধকারে এমন সব বিষয়ে সলাপরামর্শ করে যা তিনি পসন্দ করেন না, তখনও তিনি তাদের সাথেই থাকেন। এরা যা কিছু করে তা সম্পূর্ণই আল্লাহ তা'আলার জ্ঞানের আওতাধীন' (নিসা ৪/১০৮)।
এ আয়াতে মুনাফিকদের উক্ত আচরণের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তাদের মন্দ কাজগুলো যাতে মানুষের দৃষ্টিতে ধরা না পড়ে, সেজন্য তারা তা লুকিয়ে করে। যার ফলে মানুষ তাদের প্রতিবাদ করতে পারে না। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার কাছে তো তারা তা খোলামেলাই করছে। কেননা তিনি তাদের সব গোপন কথা জানেন এবং তাদের মনের অবস্থা সম্পর্কেও তিনি সুবিদিত। এজন্যই তিনি তাদের ধমক ও ভীতি প্রদর্শন স্বরূপ বলেছেন, রাতের আঁধারে যখন তারা গোপনে সলাপরামর্শ করে যা আল্লাহ্র নিকট পসন্দনীয় নয়, সে সময়েও আল্লাহ তাদের সাথে থাকেন। তাদের সব কাজই আল্লাহ্ আয়ত্তের মধ্যে রয়েছে।

টিকাঃ
৪১. ঐ, ২/৪০৭।

📘 মুনাফিকী > 📄 মুমিনদের ক্ষয়ক্ষতিতে উল্লসিত হওয়া

📄 মুমিনদের ক্ষয়ক্ষতিতে উল্লসিত হওয়া


মুমিনদের যে কোন ক্ষয়ক্ষতিতে উল্লসিত হওয়া মুনাফিকদের খুবই নীচ স্বভাব। তারা মুমিনদের শত্রু ভাবে বলেই এমনটা হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَتَّخِذُواْ بِطَانَةً مِّنْ دُوْنِكُمْ لَا يَأْلُونَكُمْ خَبَالاً وَدُّوا مَا عَنِتُمْ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ قَدْ بَيَّنَا لَكُمُ الْآيَاتِ إِنْ كُنتُمْ تَعْقِلُوْنَ - هَا أَنْتُمْ أُوْلاء تُحِبُّونَهُمْ وَلاَ يُحِبُّونَكُمْ وَتُؤْمِنُوْنَ بِالْكِتَابِ كُلِّهِ وَإِذَا لَقُوْكُمْ قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا عَضُوْا عَلَيْكُمُ الْأَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِ قُلْ مُوْتُوْا بِغَيْظِكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ - إِن تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِنْ تُصِبْكُمْ سَيِّئَةً يَفْرَحُوْا بِهَا وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُوْنَ مُحِيطٌ -
'হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা তোমাদের ব্যতীত অন্যদের অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না। যারা তোমাদের ক্ষতি করতে আদৌ ত্রুটি করবে না। তারা চায় তোমরা কষ্টে পতিত হও। বিদ্বেষ তাদের যবান দিয়েই বেরিয়ে আসে। আর তাদের বুকের মধ্যে যা লুকিয়ে আছে, তা আরও মারাত্মক। আমরা তোমাদের জন্য আয়াত সমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করলাম, যদি তোমরা বুঝ। দেখ, তোমরা ওদের ভালবাস। কিন্তু ওরা তোমাদের ভালবাসে না। অথচ তোমরা আল্লাহ্র সকল কিতাবে বিশ্বাস রাখো। (কিন্তু ওরা কুরআনে বিশ্বাস করে না)। যখন ওরা তোমাদের সাথে মিশে, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আর যখন পৃথক হয়, তখন তোমাদের উপর রাগে আঙ্গুল কামড়ায়। তুমি বল! তোমরা তোমাদের ক্রোধে জ্বলে-পুড়ে মরো। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের অন্তরের কথা সম্যক অবগত। তোমাদের কোন কল্যাণ স্পর্শ করলে তারা নাখোশ হয়। আর তোমাদের কোন অমঙ্গল হলে তারা খুশী হয়। কিন্তু যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর ও আল্লাহভীরু হও, তাহলে ওদের চক্রান্ত তোমাদের কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয়ই তারা যা কিছু করে, সবই আল্লাহ্ আয়ত্তাধীনে রয়েছে' (আলে ইমরান ৩/১১৮-১২০)
এসব আয়াতে আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। মুমিনরা যেন তাদের গোপন বিষয়াদি কখনই মুনাফিকদের অবহিত না করে। কেননা মুনাফিকরা তাদের শক্তি-সামর্থ্য মুমিনদের ক্ষতিতে ব্যয় করতে সামান্যতম অবহেলাও করবে না। তারা যথাসাধ্য মুমিনদের বিরোধিতা করবে এবং তাদের ক্ষতিসাধন করবে। তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের জাল বুনতে তারা যথাশক্তি প্রয়োগ করবে। মুমিনরা যাতে চরম সংকটে পড়ে, তাদের উপর মুছীবতের পাহাড় চেপে বসে মুনাফিকরা সেটাই কামনা করে।

টিকাঃ
৪২. তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ২/১০৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00