📄 ব্যাধিগ্রস্ত মন
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন- فِي قُلُوْبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ اللهُ مَرَضاً وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ ‘মনের মধ্যে রয়েছে মারাত্মক ব্যাধি। অতঃপর (প্রতারণার কারণে) আল্লাহ তা'আলা এদের ব্যাধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের মিথ্যাবাদিতার কারণে তাদের জন্য রয়েছে পীড়াদায়ক শাস্তি' (বাক্বারাহ ২/১০)।
ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, 'দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আর খেয়াল-খুশির ব্যাধিগুলো তাদের মনে জেঁকে বসায় তা নষ্ট হয়ে গেছে। আর ভাল ইচ্ছাগুলোর উপর মন্দ ইচ্ছাগুলো জয়যুক্ত হওয়ায় তাদের মন-মানসিকতা কলুষিত হয়ে গেছে। আর তাদের এহেন নষ্ট অবস্থা তাদেরকে ধ্বংসের কিনারে নিক্ষেপ করেছে। ফলে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরাও তাদের অন্তরের ব্যাধির চিকিৎসা করতে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। সেজন্যই আল্লাহ বলেছেন, তাদের মন ব্যাধিগ্রস্ত। ফলে আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন'।
টিকাঃ
১৪. মাদারিজুস সালিকীন ১/৩৪৯।
📄 খেয়াল-খুশির প্রলোভন
আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেছেন, إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَحْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ ‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় কর তবে তোমরা অন্য পুরুষের সাথে কথা বলার সময় নম্র কণ্ঠে কথা বলো না। এমন করলে যাদের মনে ব্যাধি আছে তারা তোমাদের প্রতি প্রলুব্ধ হবে' (আহযাব ৩৩/৩২)। যাদের ঈমান দুর্বল তারা নারীদের (কোমল কথা শ্রবণ করে) তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাদের ঈমানী দুর্বলতা ইসলামের প্রতি সন্দেহবশতঃ হ'লে তো তারা মুনাফিক। আর এজন্যই মুনাফিকরা আল্লাহ্ বিধি-বিধানকে লঘু মনে করে। আবার অশ্লীল কাজের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানোর জন্যও তাদের ঈমান দুর্বল হ'তে পারে।
টিকাঃ
১৫. ইবনু জারীর তাবারী, জামি'উল বায়ান ২০/২৫৮।
📄 অহংকার প্রদর্শন
মুনাফিকরা অহংকারী হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন, وَإِذَا قِيْلَ لَهُمْ تَعَالَوْا يَسْتَغْفِرْ لَكُمْ رَسُوْلُ الله لَوَّوْا رُؤُوسَهُمْ وَرَأَيْتَهُمْ يَصُدُّوْنَ وَهُم مُّسْتَكْبِرُونَ 'এদের (মুনাফিকদের) যখন বলা হয় তোমরা (আল্লাহ্র রাসূলের কাছে) এসো তাহ'লে আল্লাহ্র রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, তখন এরা অবজ্ঞাভরে মাথা ঘুরিয়ে নেয় এবং তুমি (এও) দেখতে পাবে, তারা অহংকারের সাথে তোমাকে এড়িয়ে চলে' (মুনাফিকূন ৬৩/৫)।
মুনাফিকদের উপর আল্লাহ্র অভিশাপ নাযিল হোক। তাদেরকে যখন ডেকে বলা হয়, তোমরা আল্লাহ্র রাসূলের নিকট এসো, তিনি তোমাদের জন্য আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। তখন অহংকারবশতঃ তারা সে কথা মোটেও গ্রাহ্য করে না; বরং সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে মাথা দুলিয়ে চলে যায়। এজন্যই আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাসূলকে বলেছেন, অহংকারবশে ওদের তুমি মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখবে। পরে আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতিফল কী দাঁড়াবে তা উল্লেখ করে বলেছেন, سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَن يَغْفِرَ اللهُ لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ 'তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর কিংবা না কর উভয়ই তাদের জন্য সমান। কারণ আল্লাহ তা'আলা কখনই তাদের ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তা'আলা কোন ফাসিক জাতিকে হেদায়াত দান করেন না' (মুনাফিকূন ৬৩/০৬)।
টিকাঃ
১৬. তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৪/৪৭৩।
📄 আল্লাহ্র আয়াত সমূহের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ
মুনাফিকরা আল্লাহ্র আয়াত তথা কথা ও বিধিবিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। তাদের এ আচরণের জন্য আল্লাহ তা'আলা বলেন, يَحْذَرُ الْمُنَافِقُوْنَ أَنْ تُنَزَّلَ عَلَيْهِمْ سُورَةٌ تُنَبِّئُهُمْ بِمَا فِي قُلُوبِهِمْ قُلِ اسْتَهْزِئُوا إِنَّ اللَّهَ مُخْرِجٌ مَّا تَحْذَرُوْنَ
'মুনাফিকরা (সদাই) এ আশংকায় থাকে যে, তাদের বিপক্ষে এমন কোন সূরা অবতীর্ণ হয় কি-না যাতে তাদের মনের কথা ফাঁস হয়ে পড়ে। তুমি বল, তোমরা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে থাক। তোমরা যার ভয় করছ, আল্লাহ তা ঠিকই প্রকাশ করে দিবেন' (তওবা ৯/৬৪)।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগের মুনাফিকদের মনে সব সময় এই আশঙ্কা বিরাজ করত যে, কুরআনের কোন সূরা নাযিল হয়ে মুমিনদের নিকট তাদের মনের সকল দুরভিসন্ধি ও জারিজুরি ফাঁস করে দেয় কি-না? কেউ কেউ বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাসূলের উপর এ আয়াত নাযিলের কারণ হ'ল, মুনাফিকরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপর দোষারোপ করত এবং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও মুসলমানদের কাজের সমালোচনা করত। যখন তারা এসব করত তখন বলত, সম্ভবতঃ আল্লাহ আমাদের গোপন কথা ফাঁস করে দিবেন না। ফলে আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীকে বললেন, ওদের তুমি ধমকের সুরে ও শাস্তির ভয় দেখিয়ে বল, ঠিক আছে তোমরা ঠাট্টা-বিদ্রূপ চালিয়ে যাও। তোমরা যার ভয় করছ, আল্লাহ তা ঠিকই প্রকাশ করে দিবেন।
টিকাঃ
১৭. জামি'উল বায়ান ১৪/৩৩১।