📄 ভূমিকা
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده والصلاة والسلام علي من لا نبي بعده، أما بعد :
সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিজগতের প্রভু মহান আল্লাহ্ জন্য। অনুগ্রহ ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ), তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর ছাহাবীগণের উপর ।
মুনাফিকী একটি মারাত্মক ব্যাধি। এ ব্যাধি মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে ঠেলে দেয়। এর ক্ষতিকর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। মানুষের মনকে কলুষিত করার যত রকম ব্যাধি আছে তন্মধ্যে মুনাফিকী অন্যতম বড় ব্যাধি। মানুষ স্বেচ্ছায় মুনাফিক হয়ে যায় না। বরং তার অজান্তেই এ ব্যাধিতে সে আক্রান্ত হয়। বিশেষতঃ আমলী (কর্মগত) নিফাকের বেলায় একথা খুবই প্রযোজ্য। এর মানে এই নয় যে, মানুষ এর মুকাবিলা না করে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে এবং নিজেকে এথেকে রক্ষা না করে যে এ বিষয়টাকে হেয় জ্ঞান করে তার ভুল ধরবে। কেননা মুনাফিকী মানুষের সব সৎ ও ভাল গুণ ছিনিয়ে নেয়। তাকে সৎ আমল সমূহ থেকে বঞ্চিত করে এবং উন্নত মূল্যবোধগুলো তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়। এক পর্যায়ে তাকে সমাজে পরিত্যক্ত ও পরাভূত মানুষে পরিণত করে। এজন্যই কুরআন মাজীদের একাধিক সূরায় মুনাফিকদের স্বরূপ উন্মোচিত করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের খারাপ বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
আমরা এই গ্রন্থে মুনাফিকীর পরিচয়, প্রকারভেদ, মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য এবং তা থেকে বাঁচার উপায় আলোচনা করব। এই গ্রন্থ প্রস্তুত ও প্রকাশের প্রতিটি পর্যায়ে যারা যারা অংশ নিয়েছেন, আমি তাদের প্রত্যেককে কৃতজ্ঞতা জানাই। আর আল্লাহ যেন অনুগ্রহ ও শান্তি বর্ষণ করেন আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উপর।
📄 শেষ কথা
উপরোক্ত আলোচনা থেকে মুনাফিকীর বিপদ সম্পর্কে ধারণা সুস্পষ্ট হয়েছে। আসলে মুনাফিকী একটি দুরারোগ্য এবং নিন্দনীয় স্বভাব। নবী করীম (ছাঃ) এহেন স্বভাবের অধিকারীকে বিশ্বাসঘাতক, আত্মসাৎকারী, মিথ্যুক ও পাপাচারী হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। কেননা মুনাফিক মনে যা লুকিয়ে রাখে, বাইরে তার উল্টোটা প্রকাশ করে। সে সত্য বলছে বলে দাবী করে অথচ সে জানে যে সে মিথ্যুক। সে দাবী করে আমানত রক্ষা করার, অথচ সে ভালই জানে যে সে আত্মসাৎকারী। সে আরও দাবী করে যে, সে অঙ্গীকার পালনে অত্যন্ত দৃঢ় অথচ সে অঙ্গীকার ভঙ্গকারী। সে তার প্রতিপক্ষকে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে, অথচ সে ভাল করেই জানে যে সে মারাত্মক অপরাধ করছে। সুতরাং তার স্বভাব-চরিত্রের পুরোটাই ধোঁকা ও প্রতারণার উপর দণ্ডায়মান। এমন যার অবস্থা তার বেলায় বড় মুনাফিক হয়ে যাওয়ার শংকা জাগে। কেননা নিফাকে আমালী বা আমলভিত্তিক মুনাফিকী যদিও ঐসব পাপের অন্তর্ভুক্ত যদ্দরুন বান্দা ঈমান থেকে খারিজ হয়ে যায় না, তবুও যখন তা বান্দার ওপর জেঁকে বসে এবং তার আচরণকে প্রতারণার জালে আটকে ফেলে তখন আল্লাহ তাকে বড় ও আসল মুনাফিকের খাতায় নাম তুলে দিতে পারেন। তার আমলের শাস্তি হিসাবেই তার অন্তর থেকে ঈমান খারিজ করে সেখানে মুনাফিকীর জায়গা তিনি করে দেন।
আমরা আল্লাহ্র নিকট দো'আ করি- তিনি যেন আমাদের অন্তরের দোষ-ত্রুটিকে সংশোধন করে দেন এবং প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল ফিৎনা-ফাসাদ থেকে আমাদের দূরে রাখেন। আর আল্লাহ তা'আলা রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উপর।
--০--
سبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت أستغفرك وأتوب إليك، اللهم اغفر لي ولوالدي وللمؤمنين يوم يقوم الحساب-
***