📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 মুমিনের জন্য জমিনের আবেগ

📄 মুমিনের জন্য জমিনের আবেগ


ত্রয়োদশ অনুচ্ছেদ
মুমিনের জন্য জমিনের আবেগ

পাহাড় ও জমিন ভালো-মন্দ কথা শোনে
৩১৯. আউন ইবনু আবদিল্লাহ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “এক পাহাড় আরেক পাহাড়কে বলে, তোমার পাশ দিয়ে কি আজ আল্লাহর কোনো যিকরকারী গিয়েছে? ওই পাহাড় যদি জবাব দেয়, হ্যাঁ, গিয়েছে, তবে সে আনন্দিত হয়।” তারপর আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু তিলাওয়াত করলেন-
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا لَقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِذًا تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنشَقُ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا أَن دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا *
“তারা বলে, দয়াময় (আল্লাহ) সন্তান গ্রহণ করেছেন। তারা তো এমন-এক বিভৎস বিষয়ের অবতারণা করেছে, যাতে আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে, পৃথিবী খণ্ডবিখণ্ড হবে এবং পর্বতরাজি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে আপতিত হবে, কারণ তারা দয়াময়ের প্রতি সন্তান আরোপ করে।”[৩৬৫]
তারপর তিনি বললেন, “তুমি কি ভেবেছ যে এগুলো (আকাশ, পৃথিবী, পাহাড়) শুধু মিথ্যা কথাই শোনে, সত্য ও ভালো কথা শোনে না?”[৩৬৬] (অর্থাৎ, এগুলো মিথ্যা কথা যেমন শোনে, তেমনি সত্য ও ভালো কথাও শোনে।)

সাজদার ব্যাপারে জমিনের সাক্ষ্য
৩২০. সাওর ইবনু ইয়াযীদ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত হুযাইল গোত্রের একজন আযাদকৃত গোলাম বলেছেন, “বান্দা যে ভূখণ্ডে কপাল রেখে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশে সাজদা দেয়, কিয়ামাতের দিন ওই ভূখণ্ড তার সাজদার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে। শুধু তা-ই নয়, তার মৃত্যুর দিন সে ভূমি কান্নাও করবে।” তিনি বলেছেন, “একদল মানুষ কোনো স্থানে যাত্রাবিরতি করলে ওই স্থান হয় তাদের জন্য শান্তি ও বরকতের দুআ করে আর নয়তো অভিসম্পাত করে।”[৩৬৭] (যদি তারা নেক আমল করে তবে তাদের জন্য শান্তি ও বরকতের দুআ করে, আর যদি বদ আমল করে তা হলে তাদের অভিসম্পাত করে।)

মাটির কথোপকথন
৩২১. জাফর ইবনু যাইদ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, আনাস ইবনু মালিক রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “প্রতি সকালে ও প্রতি সন্ধ্যায় ভূখণ্ডগুলো পরস্পর ডাকাডাকি করে: অ্যাই প্রতিবেশী, তোমার ওপর কি আজ কোনো বান্দা আল্লাহ তাআলার উদ্দেশে সালাত পড়েছে? অথবা তোমার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় আল্লাহর যিকর করেছে?” কোনো ভূখণ্ড বলে, হ্যাঁ, কোনো ভূখণ্ড বলে, না। যদি কোনো ভূখণ্ড হ্যাঁ বলে, তবে প্রশ্নকারী ভূখণ্ড নিজের ওপর তাকে মর্যাদাবান মনে করে।”[৩৬৮]

সৎ বান্দার মৃত্যুতে জমিনের কান্না
৩২২. আলি ইবনু আবী তালিব রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “কোনো সৎ বান্দা মারা গেলে যে জমিনের ওপর সে সালাত পড়ত ওই জমিনটুকু তার জন্য কাঁদে। আসমান ও জমিনের যে পথ দিয়ে তার আমলনামা ওঠানো হতো, সে পথটিও কাঁদে।” তারপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ وَمَا كَانُوا مُنْظَرِينَ
“আকাশ এবং পৃথিবী কেউই তাদের জন্য কাঁদেনি এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হয়নি।”[৩৬৯]-[৩৭০]

আল্লাহর সঙ্গে শিরক করার ফলে জমিনের অনুর্বরতা
৩২৩. গালিব ইবনু আজরাদ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “মাসজিদে মিনায় বসে সিরিয়ার এক লোক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা পৃথিবী সৃষ্টি করলেন এবং পৃথিবীতে গাছপালা সৃষ্টি করলেন। তখন আদম-সন্তানেরা পৃথিবীর যে গাছের কাছেই যেত, তা থেকেই উপকৃত হতো। অথবা, ওই গাছে তাদের জন্য উপকারী বিষয় থাকত। পৃথিবী ও গাছপালার অবস্থাটা এমনই ছিল। কিন্তু একসময় আদম-সন্তানদের পাপাচারী লোকেরা ওই ভয়াবহ ও জঘন্য বাক্য উচ্চারণ করল, তারা বলল, 'আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।' যখন তারা এই কথা বলল, তখন থেকেই জমিন শুকিয়ে অনুর্বর হয়ে পড়ল এবং গাছপালা হয়ে গেল কাঁটাযুক্ত।”[৩৭১]

জমিন চল্লিশ দিন কাঁদে
৩২৪. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “জমিন মুমিন বান্দার মৃত্যুতে চল্লিশ সকাল কাঁদে।”[৩৭২]

বান্দার যিকরে উদ্বেলিত জমিন
৩২৫. আনাস ইবনু মালিক রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যখন কোনো ভূখণ্ডে সালাতের দ্বারা আল্লাহকে স্মরণ করা হয় অথবা আল্লাহর যিকর করা হয়, তখন ওই ভূখণ্ড আশপাশের ভূখণ্ডের ওপর গৌরববোধ করে। আল্লাহর যিকরের দ্বারা জমিন তার সাত স্তর পর্যন্ত আনন্দে উদ্‌বেলিত হয়ে ওঠে। বান্দা সালাতে দাঁড়ালে ওই ভূখণ্ড তার জন্য সজ্জিত হয়।”[৩৭৩]

বান্দার মৃত্যু, জমিনের কান্না
৩২৬. আওযাঈ থেকে বর্ণিত, আতা খুরাসানি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “বান্দা জমিনের যে অংশে আল্লাহর উদ্দেশে সাজদাবনত হয়, ওই ভূখণ্ড কিয়ামাতের দিন তার সাজদার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে। এমনকি সে যেদিন মারা যাবে, সেদিন ওই ভূখণ্ড কাঁদবেও।”[৩৭৪]

ফেরেশতাদের ইমামতি
৩২৭. সালমান ফারিসি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যখন কোনো ব্যক্তি নির্জন ভূমিতে থাকে এবং ওজু করে, ওজুর পানি না পেলে তায়াম্মুম করে, তারপর আযান দেয়, তারপর ইকামাত দিয়ে সালাত পড়ে, তা হলে সে- তার দৃষ্টি যতদূর যায় ততদূর পর্যন্ত—আল্লাহর সৈনিকদের (ফেরেশতাদের) একটি কাতারের ইমামতি করে।”[৩৭৫]

সালাতে বান্দার অনুকরণে ফেরেশতা
৩২৮. সালমান ফারিসি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আল্লাহর সৈনিকেরা (অর্থাৎ ফেরেশতারা) তার রুকূ করার সঙ্গে সঙ্গে রুকূ করে, তার সাজদা করার সঙ্গে সঙ্গে সাজদা করে এবং তার দুআর সঙ্গে সঙ্গে আমীন বলে।”[৩৭৬]

নির্জন ভূমিতে সালাত
৩২৯. কাসামা ইবনু যুহাইর রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মতের কেউ যদি নির্জন ভূমিতে থাকাবস্থায় সালাত কায়েম করে, তা হলে যতদূর মাটি দেখা যায় ততদূর পর্যন্ত ফেরেশতারা তার পেছনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়।”[৩৭৭]

দিগন্ত পর্যন্ত ফেরেশতাদের সালাত
৩৩০. কা'ব আহবার রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি সফর অবস্থায় আযান ও ইকামত দিয়ে সালাত পড়ে, তার পেছনে সুদূর দিগন্ত পর্যন্ত ফেরেশতারা সালাত পড়ে। আর যে ব্যক্তি আযান না দিয়ে শুধু ইকামত দেয়, তার সঙ্গে কেবল তার সঙ্গী দুই ফেরেশতা সালাত পড়ে।”[৩৭৮]

সালাত আদায়কারীর জন্য সজ্জিত জমিন
৩৩১. হারুন ইবনু রিয়াব রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, "নিশ্চয় জমিন সালাত আদায়কারীর জন্য সজ্জিত হয়। তোমাদের কেউ যেন সালাতের মধ্যে তা স্পর্শ না করে। যদি বাধ্য হয়ে স্পর্শ করতেই হয়, তবে একবারই। জমিনকে ওইভাবে রেখে দেওয়া তার জন্য এক শ উট মান্নত করা থেকেও উত্তম।”[৩৭৯]

টিকাঃ
[৩৬৫] সূরা মারইয়াম: ৮৮-৯১।
[৩৬৬] সূরা মারইয়াম: ৮৮-৯১। হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/৭৯, মাওকুফ।
[৩৬৭] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[৩৬৮] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩৬৯] সূরা দুখান: ২৯।
[৩৭০] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩৭১] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[৩৭২] ওয়াকিহ ইবনুল জাররাহ, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ৮৩, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩৭৩] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩৭৪] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৫/১৯৫, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৭৫] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ১/২০৪, ২০৫, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৭৬] হাদীসটির সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৭৭] হাদীসটির সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৭৮] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৬/৩২, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৭৯] হাদীসটির সনদ সহীহ, মাওকুফ ও মারফুরূপেও বর্ণিত। অর্থাৎ জমিন থেকে কোনো কঙ্কর বা পাথর না সরানোটাই তার জন্য উত্তম। কারণ, হাদীসে এসেছে যে ব্যক্তি নামাযে কঙ্কর স্পর্শ করল সে অহেতুক কাজ করল। (বিস্তারিত ফাতহুল বারি, ইবনু রজব হাম্বলি, অধ্যায়: আস-সালাত)-অনুবাদক।

📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 যুবকদের জন্য আল্লাহর ওয়াদা

📄 যুবকদের জন্য আল্লাহর ওয়াদা


চতুর্দশ অনুচ্ছেদ
যুবকদের জন্য আল্লাহর ওয়াদা

সৎ যুবককে আল্লাহর স্বীকৃতি
৩৩২. ইয়াযীদ ইবনু মাইসারা রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “ওহে যুবক, তুমি তো আমার জন্য কুপ্রবৃত্তি পরিত্যাগ করেছ, আমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যৌবন বিলিয়ে দিয়েছ-তুমি আমার কাছে আমার একজন ফেরেশতার মতোই।”[৩৮০]

বাহাত্তর-জন সিদ্দীকের সমান প্রতিদান
৩৩৩. মুরিহ ইবনু মাসরুক রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যে যুবক দুনিয়ার স্বাদ-আহ্লাদ ও হাসি-তামাশা পরিত্যাগ করবে এবং তার যৌবনকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করবে-তবে যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম-আল্লাহ তাআলা তাকে বাহাত্তর-জন সিদ্দীকের সমপরিমাণ প্রতিদান দেবেন।”[৩৮১]

আল্লাহ মুমিন যুবকের কসম পূর্ণ করেন
৩৩৪. উকবা ইবনু আমির সুলামি রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, "যদি মুমিন যুবক আল্লাহ তাআলার নামে কসম খায় তবে আল্লাহ সেই কসম পূর্ণ করেন।”[৩৮২]

যুবকের জন্য আল্লাহর বিস্ময়বোধ
৩৩৫. উকবা ইবনু আমির জুহানি রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা ওই যুবকের জন্য বিস্মিত বোধ করেন, যার আমোদ-প্রমোদের প্রতি কোনো ঝোঁক নেই।”[৩৮৩]

মুমিন মুমিনের জন্য কাঠামোর মতো
৩৩৬. আবূ মূসা আশআরি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا وَأَدْخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَابِعَهُ بَعْضَهَا فِي بَعْضٍ
'মুমিন মুমিনের জন্য একটি কাঠামোর মতো, তারা পরস্পরকে দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ রাখে।' তারপর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এক হাতের আঙুলগুলোকে অপর হাতের আঙুলের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেখালেন।”[৩৮৪]

মূসা আলাইহিস সালাম-এর একটি ঘটনা
৩৩৭. আবদুল্লাহ ইবনু আবিল হুযাইল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আম্মার ইবনু ইয়াসির রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সঙ্গীদের কাছে এলেন। তাঁরা তখন তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাঁরা বললেন, হে আমাদের আমীর, আপনি তো আজ দেরি করে ফেলেছেন! তিনি বললেন, আজ তোমাদের একটি কাহিনি শোনাব। আগেকার জামানায় তোমাদের এক ভাই ছিলেন, তিনি হলেন মূসা আলাইহিস সালাম। তিনি একবার বললেন, “হে আমার প্রতিপালক, এই দুনিয়ায় আপনার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ কে তা আমাকে জানান।” আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞেস করলেন, “কেন?” তিনি বললেন, “আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য তাকে ভালোবাসতে চাই।” আল্লাহ বললেন, “জানাচ্ছি : দুনিয়ার এক প্রান্তে এক লোক ছিল, সে আমার ইবাদাত করত। দুনিয়ার অপর প্রান্তে তার এক ভাই তার কথা জানত; কিন্তু তাকে চিনত না। এই প্রান্তের বান্দাটির কোনো বিপদ হলে তা যেন অপর প্রান্তের বান্দাটির ওপরও আপতিত হতো। এ বান্দা কোনো দুঃখ পেলে সেই দুঃখ যেন ওকেও আক্রান্ত করত। ওই বান্দা এই বান্দাকে কেবল আমার জন্যই ভালোবাসত। দুনিয়াতে ওই বান্দাই হলো আমার সবচেয়ে প্রিয়।” তারপর মূসা আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন, “হে আমার প্রতিপালক, আপনি নিজেই মানুষ সৃষ্টি করেছেন, অথচ আপনি নিজেই তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন!” তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে ওহি প্রেরণ করলেন, “হে মূসা, তুমি ফসল ফলাও।” মূসা আলাইহিস সালাম ফসল রোপণ করলেন, ফসলে পানি দিলেন, দেখাশোনা করলেন, শেষে ফসল কেটে আনলেন এবং মাড়াই করলেন।” তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “হে মূসা, তোমার ফসলের কী অবস্থা?” তিনি বললেন, “ফসল তুলেছি।” আল্লাহ বললেন, “তার থেকে কিছু কি ফেলে দাওনি?” তিনি বললেন, "হ্যাঁ, যাতে কোনো উপকার নেই (যা চিটা) তা ফেলে দিয়েছি।” আল্লাহ বললেন, "একইভাবে আমি কেবল ওই ধরনের লোকদেরকেই জাহান্নামে প্রবেশ করাব, যাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।”[৩৮৫]

তিনটি বিষয় পারস্পরিক ভালোবাসা অটুট রাখে
৩৩৮. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, উমর ইবনুল খাত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “কিছু বিষয় তোমার ভাইয়ের প্রতি তোমার ভালোবাসাকে পবিত্র ও সতেজ রাখে। তার মধ্যে তিনটি হলো: দেখা হওয়ামাত্র তাকে সালাম দেওয়া; তার প্রিয় নাম ধরে তাকে ডাকা এবং মজলিসে তার জন্য জায়গা করে দেওয়া।”[৩৮৬]

টিকাঃ
[৩৮০] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৫/২৩৭, ইয়াযীদ পর্যন্ত হাদীসটির সনদ সহীহ।
[৩৮১] মুরিহ ইবনু মাসরুক থেকে বর্ণিত আসার।
[৩৮২] সনদ হাসান, মাওকুফ।
[৩৮৩] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/২৭০, দুর্বল সনদে মাওকুফরূপে এবং হাসান সনদে মারফুরূপেও বর্ণিত হয়েছে।
[৩৮৪] বুখারি, হাদীস নং ১৩৬৫, ২৩১৪, ৫৬৮০, ৫৬৮১, ৭০৩৮; মুসলিম, হাদীস নং ৬৭৫০।
[৩৮৫] সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৮৬] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত এবং দুর্বল সনদের সঙ্গে মারফুরূপেও বর্ণিত হয়েছে।

📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 মুমিন হবে চলার সাথী

📄 মুমিন হবে চলার সাথী


তৃতীয় অধ্যায়
প্রথম অনুচ্ছেদ
মুমিন হবে চলার সাথি

আল্লাহর জন্য মানুষকে ভালোবাসা
৩৩৯. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, "আল্লাহ তাআলার জন্য ভালোবাসো, আল্লাহ তাআলার জন্য অপছন্দ করো, আল্লাহর তাআলার জন্য শত্রুতা পোষণ করো, আল্লাহ তাআলরা জন্য বন্ধুত্ব করো। কারণ এগুলো ছাড়া আল্লাহ তাআলার বন্ধুত্ব অর্জন করা যাবে না। এগুলো না করে যত সালাত ও রোজাই রাখা হোক না কেন, ঈমানের স্বাদ পাবে না। কিন্তু বর্তমান সময়ে পার্থিব কারণে মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এ ধরনের বন্ধুত্বকারীরা কিয়ামাতের দিন এর জন্য কোনো প্রতিদান পাবে না।”[৩৮৭]

মানুষকে তার তাকওয়ার সমপরিমাণ ভালোবাসা
৩৪০. সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, একজন আনসারি সাহাবি বলেছেন, “মানুষকে তাদের তাকওয়ার সমপরিমাণ ভালোবাসো। জেনে রেখো, দুনিয়াবিমুখতা অর্জন করতে না পারলে কুরআন তিলাওয়াত কখনও ইখলাসপূর্ণ হবে না। আল্লাহর আনুগত্যের সময় পরিপূর্ণ বিনীত হও। পাপাচারের সময় প্রচণ্ড কঠোর হও (তা যেন তোমাকে স্পর্শ করতে না পারে)। যেসব কারণে তুমি মৃত ব্যক্তিদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হও সেসব কারণে জীবিত ব্যক্তিদের প্রতিও ঈর্ষান্বিত হও।"[৩৮৮]

আল্লাহর যিকরকারীদের সঙ্গে ওঠাবসার নির্দেশ
৩৪১. মালিক ইবনু মিগওয়াল রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিমাস সালাম বললেন, “হে আমার সাথিগণ, পাপাচারীদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করার দ্বারা আল্লাহ তাআলরা কাছে প্রিয় হও। যে-সকল বিষয় তোমাদেরকে পাপাচারীদের থেকে দূরে রাখে সে-সকল (ভালো) কাজ দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করো। তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট থেকে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করো।" তাঁরা বললেন, হে রূহুল্লাহ, তা হলে কাদের সঙ্গে ওঠাবসা করব? তিনি বললেন, "যাদের দেখলে আল্লাহ তাআলার কথা স্মরণ হয়, যাদের কথা তোমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করে, যাদের আমল তোমাদেরকে আখিরাতের প্রতি আগ্রহী করে তোলে, তোমরা তাদের সাথে ওঠাবসা করো।”[৩৮৯]

দুনিয়ার আলোচনার বদলে আল্লাহর যিকর
৩৪২. আবু উমর মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাস বলেন, গিফার গোত্রের লোকেরা দুনিয়াবি আলোচনায় ব্যস্ত ছিল। তখন তাদের একজন ব্যক্তি তাদের উদ্দেশে বললেন, “তোমরা আল্লাহ তাআলার যিকর দ্বারা দুনিয়াবি আলোচনা থেকে বিরত হও।”[৩৯০]

আল্লাহর যিকরকারীদের মর্যাদা
৩৪৩. আউন ইবনু আবদিল্লাহ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যাওয়া লোকদের ওপর লড়াইকারীর মর্যাদা যেমন, উদাসীনদের ভিড়ে আল্লাহকে স্মরণকারীর মর্যাদা তেমনই।”[৩৯১]

অসৎ সঙ্গীর চেয়ে একাকী থাকা উত্তম
৩৪৪. আবু মূসা আশআরি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “একাকী থাকার চেয়ে সৎসঙ্গী উত্তম এবং অসৎ সঙ্গীর চেয়ে একাকী থাকা উত্তম। সৎসঙ্গী হলো আতরের মালিকের মতো; সে যদি তোমাকে আতর নাও দেয় তবু তার ঘ্রাণ পাবে। আর অসৎ সঙ্গী হলো কামারের মতো; সে যদি তোমাকে পোড়াতে নাও চায় তবু তার গন্ধ (আগুনের স্ফুলিঙ্গ) গায়ে লাগবে। অন্তরকে 'কলব' বলা হয় তার পরিবর্তনের কারণে। অন্তর হলো মরুভূমিতে পাখির একটি পালকের মতো, বাতাস যখন-তখন পালকটিকে উড়িয়ে নিয়ে গাছের সঙ্গে লাগিয়ে দেয়, তাকে উলট-পালট করে দেয়।”[৩৯২]

সঙ্গীদেরকে গাফেল না বানানোর প্রার্থনা
৩৪৫. আবূ মুলাইকাহ রহিমাহুল্লাহ ও অন্যরা বলেছেন, লুকমান আলাইহিস সালাম বলতেন, “হে আল্লাহ, তুমি আমার সঙ্গীদেরকে এমন গাফেল বানিয়ো না: যখন আমি তোমাকে স্মরণ করি তারা আমাকে সাহায্য করবে না, যখন আমি তোমাকে ভুলে যাব তারা আমাকে তোমার কথা স্মরণ করিয়ে দেবে না, যখন আমি তাদের কোনো নির্দেশ দেব তারা আমার কথা শুনবে না এবং যখন আমি চুপ থাকব তখন তারা আমাকে কষ্ট দেবে।”[৩৯৩]

অসৎ পরিবারে অসৎ মানুষ
৩৪৬. উবাইদ ইবনু উমাইর রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি জেনেছি যে, নবি দাউদ আলাইহিস সালাম বলতেন, “হে আল্লাহ, তুমি আমাকে অসৎ পরিবার দিয়ো না, তা হলে আমিও অসৎ হয়ে পড়ব।”[৩৯৪]

মানুষে-মানুষে শত্রুতা
৩৪৭. আবদুল্লাহ ইবনু আমর রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমাদের সময়ে একজন আরেকজনের সাথে দেখা করলে মনে হতো যেন আপন ভাইয়ের সাথে দেখা করছে। কিন্তু আজ তোমরা একজন আরেকজনের সাথে দেখা হলে এমন ভাব করো, মনে হয় যেন একজন অপরজনের শত্রু।”[৩৯৫]

পারস্পরিক বন্ধন ছিন্ন করা গর্হিত কাজ
৩৪৮. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “(মানুষ) ইদানীং আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে, পারস্পরিক বন্ধন ছিন্ন করছে। অথচ আল্লাহ তাআলা পরস্পরের অন্তরের মধ্যে হৃদ্যতা সৃষ্টি করেছেন। মানুষদের হৃদয়ের মাঝে নৈকট্য সৃষ্টি হলে কোনো-কিছুই সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। তারপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করেন-
وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَلَّفَ بَيْنَهُمْ إِنَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
“এবং তিনি তাদের পরস্পরের হৃদয়ের মধ্যে প্রীতি সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীর যাবতীয় সম্পদ ব্যয় করলেও তুমি তাদের অন্তরে হৃদ্যতা সৃষ্টি করতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্যে প্রীতি সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।”[৩৯৬]

আল্লাহ তাআলার জন্যই ভালোবাসা
৩৪৯. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “(সাহাবিগণ) আল্লাহ তাআলার জন্যই পরস্পরকে ভালোবাসতেন।”[৩৯৭]

মুমিন ছাড়া অন্য-কারও সাহচর্যে না থাকার নির্দেশ
৩৫০. আবূ সাঈদ খুদরি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন-
لَا تُصَاحِبْ إِلَّا مُؤْمِنًا، وَلَا يَأْكُلْ طَعَامَكَ إِلَّا تَقِيُّ
“মুমিন ছাড়া অন্য-কারও সাহচর্যে থেকো না এবং মুত্তাকি ছাড়া কেউ যেন তোমার খাবার না খায়।”[৩৯৮]

অজুহাতের সঙ্গে মিশ্রিত মিথ্যাচার
৩৫১. আবদুল্লাহ ইবনু আউন মুযানি বলেন, আমি এবং শুআইব অজুহাত পেশ করলাম ইবরাহীম নাখঈ রহিমাহুল্লাহ-এর কাছে। তিনি এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যিনি বলেছেন, “অজুহাত পেশ করা ছাড়াই আমি তোমার অজুহাত গ্রহণ করলাম। কারণ, অজুহাতের সঙ্গে মিথ্যাচারের মিশ্রণ থাকে।”[*৯৯] (আমি চাই না যে, তোমরা মিথ্যাচারের আশ্রয় নাও।)

আল্লাহর জন্য ভালোবেসে আপ্যায়ন
৩৫২. দাহহাক রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
أَضِفُ بِطَعَامِكَ مَنْ تُحِبُّ فِي اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
"এমন ব্যক্তিকে আপ্যায়ন করাও যাকে তুমি আল্লাহ তাআলার জন্য ভালোবাসো।"[৪০০]

টিকাঃ
[৩৮৭] ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-ইখওয়ান, ২২, এর সমার্থবোধক হাদীস শক্তিশালী সনদের সঙ্গে মারফুরূপে বর্ণিত হয়েছে।
[৩৮৮] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৫১১, মাওকুফ।
[৩৮৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ৫৪।
[৩৯০] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[৩৯১] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৪২৮, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৯২] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ১/১৬৪, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩৯৩] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/২০৮, হাদীসটির সনদ ইবনু আবী মুলাইকা পর্যন্ত সহীহ।
[৩৯৪] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ৭১। উবাদই ইবনু উমাইর পর্যন্ত সনদ সহীহ।
[৩৯৫] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩৯৬] বুখারি, আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং ২৬২, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৯৭] ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-ইখওয়ান, হাদীস নং ১৪, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৯৮] বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ, ১৩/৬৮-৬৯, সনদ হাসান।
[*৯৯] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৪/২২৪, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৪০০] হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণিত এবং এর সনদ দুর্বল।

📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 জবানকে সংযত রাখা

📄 জবানকে সংযত রাখা


দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
জবানকে সংযত রাখা

আল্লাহকে ভয় করে কথা বলা
৩৫৩. উমর ইবনু যর রহিমাহুমুল্লাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى عِنْدَ لِسَانِ كُلِّ قَابِلٍ فَاتَّقَى اللَّهَ امْرُؤٌ عَلِمَ مَا يَقُولُ
“নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক বক্তার জিহ্বার প্রতি দৃষ্টি রাখেন। তাই প্রত্যেকেই যেন আল্লাহকে ভয় করে চলে। কারণ, সে যা বলে আল্লাহ তাআলা তা সবই জানেন।”[৪০১]

ভালো কথা বলা অথবা চুপ থাকা
৩৫৪. আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، فَلَا يُؤْذِ جَارَهُ، مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ
“আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের প্রতি যে বিশ্বাস স্থাপন করেছে সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের প্রতি যে বিশ্বাস স্থাপন করেছে সে যেন তার অতিথিকে সম্মান করে। আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের প্রতি যে বিশ্বাস স্থাপন করেছে সে যেন ভালো কথা বলে, অথবা চুপ থাকে।"[৪০২]

জিহ্বা ধরে অনুশোচনা
৩৫৫. যাইদ ইবনু আসলাম তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, আবূ বকর রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর জিহ্বা টেনে ধরে বলেছেন, "এটাই আমার সর্বনাশ করেছে।”[৪০৩]

জিহ্বার প্রতি বান্দার ক্রোধ
৩৫৬. সাঈদ ইবনু ইয়াস জুরাইরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা-কে দেখলাম তিনি ঘরের খুঁটি ও দরজার মাঝখানে তাঁর জিহ্বার ডগা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। আর বলছেন, "আফসোস তোমার জন্য, সত্য ও ভালো কথা বলো, তা হলে লাভবান হবে। অথবা মিথ্যা ও খারাপ কথা বলা থেকে বিরত থাকো, তা হলে নিরাপদ থাকবে।” তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, "হে ইবনু আব্বাস, কী ব্যাপার? আপনি জিহ্বা ধরে আছেন যে?” তিনি বললেন, "আমি জানতে পেরেছি যে, কিয়ামাতের দিন বান্দা তার দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্রুদ্ধ হবে তার জিহ্বার ওপর।”[৪০৪]

খেলতে যেতে অনুমতি না দেওয়া
৩৫৭. বকর ইবনু মাঈয থেকে বর্ণিত, রবী' ইবনু খুসাইম রহিমাহুল্লাহ-এর কাছে তাঁর মেয়ে এসে বলল, “আব্বু, খেলতে যাই?” তিনি কোনো জবাব দিলেন না। মেয়েটি বারবার একই কথা বলতে লাগল। তাঁর কোনো কোনো সঙ্গী বললেন, অনুমতি দিয়ে দিন না! খেলতে চলে যাক। তখন তিনি বললেন, “ওকে খেলতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া আমার ওপর এখন ফরয না।”[৪০৫]

কল্যাণকর কথা বলা অথবা চুপ থাকা
৩৫৮. আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، فَلَا يُؤْذِ جَارَهُ، مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ও বিচার-দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ও বিচার-দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ও বিচার-দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন কল্যাণকর কথা বলে, অথবা চুপ থাকে।”[৪০৬]

সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যের কারণ জিহ্বা
৩৫৯. আদি ইবনু হাতিম রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “মানুষের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য তার দুই চোয়ালের মাঝখানে রয়েছে। আর সেটা হলো তার জিহ্বা।”[৪০৭]

কবিতা লিখে রাখা অপছন্দ করা
৩৬০. আবুদ দুহা বলেন, মাসরুক রহিমাহুল্লাহ-কে একটি কবিতার লাইন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি ব্যাপারটি অপছন্দ করলেন। তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “আমার পাণ্ডুলিপিতে কবিতা লেখা থাকুক, এমনটা আমার পছন্দ নয়।”[৪০৮]

বাচ্চাদের সাথেও মিথ্যে কথা না বলা
৩৬১. আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “কেউ যদি তার বাচ্চাকে এভাবে লোভ দেখিয়ে ডাকে, “আসো, তোমাকে একটা মজার জিনিস দেব।” তারপর না দেয়, তা হলে তার নামে একটি মিথ্যাচার লেখা হয়।”[৪০৯]

অহেতুক কথাবার্তা থেকে সতর্কতা
৩৬২. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “অহেতুক কথা বোলো না, খবরদার। যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু বলাই যথেষ্ট।”[৪১০]

উদ্দেশ্য-সাধনের নিকৃষ্ট পন্থা
৩৬৩. আবূ কিলাবা রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, আবূ মাসউদ আনসারি রদিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞেস করা হলো, “মানুষের ধারণাভিত্তিক দাবির ব্যাপারে আপনি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে কী বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, রাসূল বলেছেন,
بِئْسَ مَطِيَّةُ الرَّجُلِ
"তা মানুষের উদ্দেশ্যসাধনের নিকৃষ্ট পন্থা।”[৪১১]

বেশি কথায় বেশি পাপ
৩৬৪. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “কিয়ামাতের দিন ওইসব লোকের পাপ সবচেয়ে বেশি হবে, যারা অহেতুক কথাবার্তায় নিজেদেরকে ডুবিয়ে রাখে।”[৪১২]

যা শোনে তা-ই বলা মিথ্যাচারী হওয়ার জন্য যথেষ্ট
৩৬৫. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “কারও মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট, সে যা শোনে তা-ই অন্যদের কাছে বলে বেড়ায়।”[৪১৩]

যে চুপ থাকে সে বেঁচে যায়
৩৬৬. খালিদ ইবনু আবী ইমরান রহিমাহুল্লাহ বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেকক্ষণ তাঁর জিহ্বা ধরে রাখলেন। তারপর ছেড়ে দিয়ে বললেন,
أَتَخَوَّفُ عَلَيْكُمْ هَذَا، رَحِمَ اللَّهُ عَبْدًا قَالَ خَيْرًا وَغَنِمَ، أَوْ سَكَتْ عَنْ سُوءٍ فَسَلِمَ
“এটা নিয়ে তোমাদের জন্য দুশ্চিন্তা হয়। আল্লাহ তাআলা ওই বান্দার প্রতি রহম করেছেন যে ভালো কথা বলেছে ও লাভবান হয়েছে অথবা খারাপ কথা না বলে চুপ থেকেছে, ফলে বেঁচে গেছে।”[৪১৪]

কথার মাধ্যমে কাউকে কষ্ট দিয়ে ফেললে করণীয়
৩৬৭. সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ বলেন, “উমর ইবনু আবদিল আযীয রহিমাহুল্লাহ-এর কাছে একদল লোক এসে তাদের জন্য সুপারিশ করতে অনুরোধ জানাল। তাঁর সঙ্গে যে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে সে কথাও উল্লেখ করল। উমর ইবনু আবদিল আযীয কেবল বললেন, হুঁ। তারপর তারা তাদের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করল। তখন তিনি বললেন, 'দেখা যাক।' এই কথা শুনে তারা যেন মনে কষ্ট পেয়ে চলে গেল। পরে তিনি তাদের প্রয়োজন মিটিয়ে দিলেন।"[৪১৫]

দ্বীন খুইয়ে ঘরে ফেরা
৩৬৮. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “কেউ কেউ দ্বীনকে সাথে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়, তারপর এর পুরোটাই হারিয়ে ঘরে ফেরে। সে এমন লোকের কাছে যায়, যে তার জন্য বা তার নিজের জন্য কোনো উপকার করার বা কোনো ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না। তারই উদ্দেশে সে (কসম খেয়ে) বলে, "আপনি তো এটা পারেন, ওটা পারেন।” কিন্তু ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে, তার প্রয়োজনের কিছুই পূরণ করতে পারে না। এভাবে সে নিজের ওপর আল্লাহ তাআলাকে অসন্তুষ্ট করে।”[৪১৬] (ফলে সে তার দ্বীন খুইয়ে ফেলে।)

কথাকে কাজেরই অংশ মনে করা
৩৬৯. উমর ইবনু আবদিল আযীয রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “কথাকে যে কাজের অংশ মনে করে, তার কথা কমে যায়।”[৪১৭]

জিহ্বাকে অধিকাংশ সময় বন্দি করে রাখা দরকার
৩৭০. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যে জিনিসটাকে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে কারাবন্দি করে রাখা দরকার, তা হলো জিহ্বা।”[৪১৮]

চুপ থাকলে মুক্তি মেলে
৩৭১. আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস রদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ صَمَتَ نَجًا
“যে চুপ থাকে, সে মুক্তি পায়।”[৪১৯]

নিরাপত্তার দুআ
৩৭২. সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমরা হাদীস থেকে জেনেছি যে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দুআর একটি অংশ ছিল এরকম-
اللَّهُمَّ سَلَّمْ سَلَّمْ
“হে আল্লাহ, নিরাপদ রাখুন, নিরাপদ রাখুন।”[৪২০]

মুমিনের হৃদয় কোমল
৩৭৩. মাকহুল ইবনু আবী মুসলিম রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
الْمُؤْمِنُونَ هَيِّنُونَ لَيِّنُونَ، كَالْجَمَلِ الْأَنِفِ الَّذِي إِنْ قِيدَ انْقَادَ، وَإِذَا أُنِيخَ عَلَى صَخْرَةٍ اسْتَنَاخَ
“মুমিনরা হলো সহজ-সরল ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী; শান্তশিষ্ট উটের মতো, যখন তাকে সামনে চালানো হয়, সে চলে। যখন তাকে পাথুরে ভূমির ওপর বসানো হয়, সে বসে।”[৪২১]

আল্লাহর বড়োত্ব ও মহিমা প্রকাশের কিছু পন্থা
৩৭৪. আবূ মূসা আশআরি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مِنْ إِجْلَالِ اللَّهِ إِكْرَامُ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ، وَحَامِلِ الْقُرْآنِ غَيْرِ الْغَالِي فِيهِ، وَلَا الْجَافِي عَنْهُ، وَذِي السُّلْطَانِ الْمُقْسِطِ
“আল্লাহ তাআলার বড়োত্ব ও মহিমা প্রকাশের কিছু উপায় হলো বৃদ্ধ মুসলমানকে সম্মান করা; কুরআনের যে বাহক কুরআনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে না এবং একে পরিত্যাগ করে না, তাকে সম্মান করা এবং ন্যায়পরায়ণ শাসককে শ্রদ্ধা করা।”[৪২২]

মূর্খ লোকের অন্তর থাকে তার জিভের ডগায়
৩৭৫. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “পূর্বসূরিরা বলতেন, বুদ্ধিমান ব্যক্তির জিহ্বা থাকে তার অন্তরের পেছেন। যখন সে কথা বলতে চায়, ভেবেচিন্তে বলে। কথায় (উপকার) থাকলে তা ব্যক্ত করে, (অপকার) থাকলে চুপ থাকে। আর মূর্খ ব্যক্তির অন্তর থাকে তার জিভের ডগায়। মুখে যা আসে তা-ই বলে ফেলে, একটুও ভাবনা-চিন্তা করে না।”[৪২৩]
আবুল আশহাব বলেন, পূর্বসূরিরা বলতেন, “জিহ্বাকে যে সংযত রাখতে পারে না, তার দ্বীনের বুঝ নেই।”

টিকাঃ
[৪০১] বায়হাকি, শুআবুল ঈমান, ৯/২৮৭, হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণিত।
[৪০২] বুখারি, ৫৬৭২, ৩১৫৩; মুসলিম, ১৮২, ৪৬১০।
[৪০৩] মালিক, আল-মুওয়াত্তা, ২/৯৮৮, হাদীস নং ১৭৮৮, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৪০৪] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ১৮৯, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৪০৫] হান্নাদ ইবনুস সারি, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ১১২৮, সনদ হাসান, মাওকুফ।
[৪০৬] এই হাদীসের সনদ দুর্বল। তবে অনুরূপ হাদীস সহীহ সনদের সঙ্গে ইতঃপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
[৪০৭] হাদীসটি দুর্বল সনদের সঙ্গে মাওকুফরূপে বর্ণিত। তবে ভিন্ন সনদে মারফুরূপেও বর্ণিত হয়েছে। সেই সনদের রাবীগণ সবাই সহীহ হাদীসের রাবী।
[৪০৮] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত এবং এই সনদের রাবীগণ সিকাহ (বিশ্বস্ত)।
[৪০৯] দারিমি, সুনান, ২/২৯৯; হাকিম, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৪১০] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত এবং এই সনদের রাবীগণ সিকাহ (বিশ্বস্ত)।
[৪১১] বুখারি, আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং ৭৬২, সনদ সহীহ। আলবানি, আস-সিলসিলাতুস সহীহা, হাদীস নং ৮৬৬।
[৪১২] হাদীসটির সনদ দুর্বল।
[৪১৩] মুসলিম, ৭, ৯,১০, ১১; আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ১৬২, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৪১৪] হাকিম, আল-মুসতাদরাক, ৪/২৮৬, ২৮৭, হাদীসটি মুরসাল বা মু'দালরূপে বর্ণিত। হাদীসটি বুখারি ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ, যদিও তাঁরা তা সংকলন করেননি। ইমাম যাহাবি তাঁকে সমর্থন করেছেন।
[৪১৫] সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ সরাসরি উমর ইবনু আবদিল আযীয রহিমাহুল্লাহ থেকে হাদীস শোনেননি।
[৪১৬] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৮/১১৮, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৪১৭] ইবনু আবী আসিম, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ৬১, দঈফ।
[৪১৮] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ১৬২, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৪১৯] তিরমিযি, সুনান, হাদীস নং ২৫০১, সনদ হাসান। আলবানি, আস-সিলসিলাতুস সহীহা, ৫৩৬।
[৪২০] অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।
[৪২১] ইবনু মাজাহ, সুনান, হাদীস নং ৪৩, মুরসালরূপে বর্ণিত; তবে সহীহ সনদের সঙ্গে মুত্তাসিলরূপেও বর্ণিত হয়েছে।
[৪২২] আবূ দাউদ, সুনান, হাদীস নং ৪৮৪৩, হাদীসটি হাসান।
[৪২৩] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৪/৩৮, ৩৯; সনদ সহীহ, মাওকুফ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00