📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 আনুগত্যের ওপর অবিচল থাকা

📄 আনুগত্যের ওপর অবিচল থাকা


দ্বাদশ অনুচ্ছেদ
আনুগত্যের ওপর অবিচল থাকা

আল্লাহর আনুগত্যের দ্বারা দৃঢ়তা অবলম্বন
৩১১. ইমাম যুহরি রহিমাহুল্লাহ বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ
“যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, তারপর অবিচল থাকে, তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় ফেরেশতা, তারপর বলে, তোমরা ভীত হোয়ো না, চিন্তিত হোয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তার জন্য আনন্দিত হও।”[৩৫২]
তারপর বললেন, “আল্লাহর কসম, তোমরা আল্লাহর জন্য তাঁর আনুগত্যের ওপর অবিচল থেকো। শেয়ালের মতো চাতুরি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ো না।”[৩৫৩]

আমৃত্যু আল্লাহর সঙ্গে কোনো-কিছু শরিক না করা
৩১২. সাঈদ ইবনু নিমরান রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, আবু বকর সিদ্দীক রদিয়াল্লাহ আনহু বলেছেন, “তাঁরা কখনোই আল্লাহ তাআলার সঙ্গে কোনো-কিছুকে শরিক করেননি।”[৩৫৪]

ভালো কাজের বিনিময়ে দুনিয়া ও আখিরাতে প্রতিদান
৩১৩. আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ الْمُؤْمِنَ حَسَنَتَهُ يُثَابُ عَلَيْهَا الرِّزْقَ فِي الدُّنْيَا، وَيُجْزَى بِهَا فِي الْآخِرَةِ
“আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দার প্রতি তার ভালো কাজের প্রতিদান দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জুলুম করেন না; ভালো কাজের বিনিময়ে দুনিয়াতে রিযক দান করেন এবং আখিরাতে পুরস্কার প্রদান করেন।”[৩৫৫]

একটি আয়াতের ব্যাখ্যা
৩১৪. আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ-কে আল্লাহ তাআলার এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি-
تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ
“তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় ফেরেশতা” অর্থাৎ, মৃত্যুর সময় ফেরেশতা নেমে আসেন;
أَلَّا تَخَافُوا
“তোমরা ভয় পেয়ো না।”, অর্থাৎ, তোমাদের সামনে যা রয়েছে তাকে ভয় পেয়ো না;
وَلَا تَحْزَنُوا
“এবং চিন্তিত হোয়ো না।”, অর্থাৎ, দুনিয়াতে তোমরা যে ভুলভ্রান্তি করেছ তার জন্য দুশ্চিন্তা কোরো না;
وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ
"তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তার জন্য আনন্দিত হও।”[৩৫৬],
অর্থাৎ, তাদেরকে তিনটি সুসংবাদ দেওয়া হবে: ১. মৃত্যুর সময়, ২. কবর থেকে পুনরুত্থিত করার সময় এবং ৩. যখন তারা ভয় পাবে তখন।
نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
“আমরাই তোমাদের বন্ধু দুনিয়া জীবনে ও আখিরাতে।”[৩৫৭], অর্থাৎ, তাঁরা তাদের সঙ্গে থাকবেন।”[৩৫৮]

কিয়ামাত-দিবসের সঙ্গী
৩১৫. আল্লাহ তাআলার বাণী,
نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
“আমরাই তোমাদের বন্ধু দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে।”[৩৫৯]
মানসুর ইবনু মু'তামার থেকে বর্ণিত, মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “তাদের সঙ্গী (ফেরেশতাগণ) কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং বলবেন, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করার আগ পর্যন্ত আমরা তোমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হব না।”[৩৬০]

কারও সততার দ্বারা তার সন্তান ও পরবর্তী বংশধর সৎ হয়
৩১৬. মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদির রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা বান্দার সততার দ্বারা তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদেরও সৎ বানান। আল্লাহ তাকে তার ঘরে নিরাপদ রাখেন এবং তার আশেপাশে যত ঘর আছে, সে যতদিন ওখানে থাকে, সেগুলোকেও নিরাপদ রাখেন।”[৩৬১]

সৎ বান্দাদের ঘর থাকে শয়তানমুক্ত
৩১৭. তালহা ইবনু মুসাররাফ বলেন, আমি খাইসামা ইবনু আবদির রহমান রহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি “আল্লাহ তাআলা সৎ বান্দার ওসিলায় ঘর থেকে শয়তানকে বিতাড়িত করেন।”[৩৬২]

পিতার সততার কারণে বালকেরা নিরাপদ
৩১৮. আল্লাহ তাআলার বাণী,
وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا
“এবং তাদের পিতা ছিল সৎ।”[৩৬৩]
সাঈদ ইবনু যুবাইর রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহ আনহুমা আল্লাহ তাআলার এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “ছেলে দুটিকে তাদের বাবার সততার কারণে নিরাপদ রাখা হয়েছে। কিন্তু তাদের নিজেদের কোনো সততার কোনো কথা বলা হয়নি।”[৩৬৪]

টিকাঃ
[৩৫২] সূরা হা-মিম আস-সাজদা : ৩০।
[৩৫৩] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত এবং এই সনদের রাবীগণ সিকাহ (বিশ্বস্ত)।
[৩৫৪] আবু জাফর তাবারি, জামিউল বায়ান, ২৪/৭৩, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩৫৫] মুসলিম, হাদীস নং ২৮০৮; আহমাদ, ৩/১২৫।
[৩৫৬] সূরা হা-মিম আস-সাজদা: ৩০।
[৩৫৭] সূরা হা-মিম আস-সাজদা : ৩১।
[৩৫৮] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[৩৫৯] সূরা হা-মিম আস-সাজদা : ৩১।
[৩৬০] এই হাদীসের সনদ দুর্বল।
[৩৬১] আহমাদ, ৪/২৮৬, ২৮৮; আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৩/১৪৮, সনদ সহীহ।
[৩৬২] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৪/১১৭, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৬৩] সূরা আল-কাহফ: ৮২।
[৩৬৪] আবূ দাউদ, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ৩৪৬, সনদ সহীহ, মাওকুফ।

📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 মুমিনের জন্য জমিনের আবেগ

📄 মুমিনের জন্য জমিনের আবেগ


ত্রয়োদশ অনুচ্ছেদ
মুমিনের জন্য জমিনের আবেগ

পাহাড় ও জমিন ভালো-মন্দ কথা শোনে
৩১৯. আউন ইবনু আবদিল্লাহ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “এক পাহাড় আরেক পাহাড়কে বলে, তোমার পাশ দিয়ে কি আজ আল্লাহর কোনো যিকরকারী গিয়েছে? ওই পাহাড় যদি জবাব দেয়, হ্যাঁ, গিয়েছে, তবে সে আনন্দিত হয়।” তারপর আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু তিলাওয়াত করলেন-
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا لَقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِذًا تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنشَقُ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا أَن دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا *
“তারা বলে, দয়াময় (আল্লাহ) সন্তান গ্রহণ করেছেন। তারা তো এমন-এক বিভৎস বিষয়ের অবতারণা করেছে, যাতে আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে, পৃথিবী খণ্ডবিখণ্ড হবে এবং পর্বতরাজি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে আপতিত হবে, কারণ তারা দয়াময়ের প্রতি সন্তান আরোপ করে।”[৩৬৫]
তারপর তিনি বললেন, “তুমি কি ভেবেছ যে এগুলো (আকাশ, পৃথিবী, পাহাড়) শুধু মিথ্যা কথাই শোনে, সত্য ও ভালো কথা শোনে না?”[৩৬৬] (অর্থাৎ, এগুলো মিথ্যা কথা যেমন শোনে, তেমনি সত্য ও ভালো কথাও শোনে।)

সাজদার ব্যাপারে জমিনের সাক্ষ্য
৩২০. সাওর ইবনু ইয়াযীদ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত হুযাইল গোত্রের একজন আযাদকৃত গোলাম বলেছেন, “বান্দা যে ভূখণ্ডে কপাল রেখে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশে সাজদা দেয়, কিয়ামাতের দিন ওই ভূখণ্ড তার সাজদার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে। শুধু তা-ই নয়, তার মৃত্যুর দিন সে ভূমি কান্নাও করবে।” তিনি বলেছেন, “একদল মানুষ কোনো স্থানে যাত্রাবিরতি করলে ওই স্থান হয় তাদের জন্য শান্তি ও বরকতের দুআ করে আর নয়তো অভিসম্পাত করে।”[৩৬৭] (যদি তারা নেক আমল করে তবে তাদের জন্য শান্তি ও বরকতের দুআ করে, আর যদি বদ আমল করে তা হলে তাদের অভিসম্পাত করে।)

মাটির কথোপকথন
৩২১. জাফর ইবনু যাইদ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, আনাস ইবনু মালিক রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “প্রতি সকালে ও প্রতি সন্ধ্যায় ভূখণ্ডগুলো পরস্পর ডাকাডাকি করে: অ্যাই প্রতিবেশী, তোমার ওপর কি আজ কোনো বান্দা আল্লাহ তাআলার উদ্দেশে সালাত পড়েছে? অথবা তোমার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় আল্লাহর যিকর করেছে?” কোনো ভূখণ্ড বলে, হ্যাঁ, কোনো ভূখণ্ড বলে, না। যদি কোনো ভূখণ্ড হ্যাঁ বলে, তবে প্রশ্নকারী ভূখণ্ড নিজের ওপর তাকে মর্যাদাবান মনে করে।”[৩৬৮]

সৎ বান্দার মৃত্যুতে জমিনের কান্না
৩২২. আলি ইবনু আবী তালিব রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “কোনো সৎ বান্দা মারা গেলে যে জমিনের ওপর সে সালাত পড়ত ওই জমিনটুকু তার জন্য কাঁদে। আসমান ও জমিনের যে পথ দিয়ে তার আমলনামা ওঠানো হতো, সে পথটিও কাঁদে।” তারপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ وَمَا كَانُوا مُنْظَرِينَ
“আকাশ এবং পৃথিবী কেউই তাদের জন্য কাঁদেনি এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হয়নি।”[৩৬৯]-[৩৭০]

আল্লাহর সঙ্গে শিরক করার ফলে জমিনের অনুর্বরতা
৩২৩. গালিব ইবনু আজরাদ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “মাসজিদে মিনায় বসে সিরিয়ার এক লোক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা পৃথিবী সৃষ্টি করলেন এবং পৃথিবীতে গাছপালা সৃষ্টি করলেন। তখন আদম-সন্তানেরা পৃথিবীর যে গাছের কাছেই যেত, তা থেকেই উপকৃত হতো। অথবা, ওই গাছে তাদের জন্য উপকারী বিষয় থাকত। পৃথিবী ও গাছপালার অবস্থাটা এমনই ছিল। কিন্তু একসময় আদম-সন্তানদের পাপাচারী লোকেরা ওই ভয়াবহ ও জঘন্য বাক্য উচ্চারণ করল, তারা বলল, 'আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।' যখন তারা এই কথা বলল, তখন থেকেই জমিন শুকিয়ে অনুর্বর হয়ে পড়ল এবং গাছপালা হয়ে গেল কাঁটাযুক্ত।”[৩৭১]

জমিন চল্লিশ দিন কাঁদে
৩২৪. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “জমিন মুমিন বান্দার মৃত্যুতে চল্লিশ সকাল কাঁদে।”[৩৭২]

বান্দার যিকরে উদ্বেলিত জমিন
৩২৫. আনাস ইবনু মালিক রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যখন কোনো ভূখণ্ডে সালাতের দ্বারা আল্লাহকে স্মরণ করা হয় অথবা আল্লাহর যিকর করা হয়, তখন ওই ভূখণ্ড আশপাশের ভূখণ্ডের ওপর গৌরববোধ করে। আল্লাহর যিকরের দ্বারা জমিন তার সাত স্তর পর্যন্ত আনন্দে উদ্‌বেলিত হয়ে ওঠে। বান্দা সালাতে দাঁড়ালে ওই ভূখণ্ড তার জন্য সজ্জিত হয়।”[৩৭৩]

বান্দার মৃত্যু, জমিনের কান্না
৩২৬. আওযাঈ থেকে বর্ণিত, আতা খুরাসানি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “বান্দা জমিনের যে অংশে আল্লাহর উদ্দেশে সাজদাবনত হয়, ওই ভূখণ্ড কিয়ামাতের দিন তার সাজদার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে। এমনকি সে যেদিন মারা যাবে, সেদিন ওই ভূখণ্ড কাঁদবেও।”[৩৭৪]

ফেরেশতাদের ইমামতি
৩২৭. সালমান ফারিসি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যখন কোনো ব্যক্তি নির্জন ভূমিতে থাকে এবং ওজু করে, ওজুর পানি না পেলে তায়াম্মুম করে, তারপর আযান দেয়, তারপর ইকামাত দিয়ে সালাত পড়ে, তা হলে সে- তার দৃষ্টি যতদূর যায় ততদূর পর্যন্ত—আল্লাহর সৈনিকদের (ফেরেশতাদের) একটি কাতারের ইমামতি করে।”[৩৭৫]

সালাতে বান্দার অনুকরণে ফেরেশতা
৩২৮. সালমান ফারিসি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আল্লাহর সৈনিকেরা (অর্থাৎ ফেরেশতারা) তার রুকূ করার সঙ্গে সঙ্গে রুকূ করে, তার সাজদা করার সঙ্গে সঙ্গে সাজদা করে এবং তার দুআর সঙ্গে সঙ্গে আমীন বলে।”[৩৭৬]

নির্জন ভূমিতে সালাত
৩২৯. কাসামা ইবনু যুহাইর রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মতের কেউ যদি নির্জন ভূমিতে থাকাবস্থায় সালাত কায়েম করে, তা হলে যতদূর মাটি দেখা যায় ততদূর পর্যন্ত ফেরেশতারা তার পেছনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়।”[৩৭৭]

দিগন্ত পর্যন্ত ফেরেশতাদের সালাত
৩৩০. কা'ব আহবার রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি সফর অবস্থায় আযান ও ইকামত দিয়ে সালাত পড়ে, তার পেছনে সুদূর দিগন্ত পর্যন্ত ফেরেশতারা সালাত পড়ে। আর যে ব্যক্তি আযান না দিয়ে শুধু ইকামত দেয়, তার সঙ্গে কেবল তার সঙ্গী দুই ফেরেশতা সালাত পড়ে।”[৩৭৮]

সালাত আদায়কারীর জন্য সজ্জিত জমিন
৩৩১. হারুন ইবনু রিয়াব রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, "নিশ্চয় জমিন সালাত আদায়কারীর জন্য সজ্জিত হয়। তোমাদের কেউ যেন সালাতের মধ্যে তা স্পর্শ না করে। যদি বাধ্য হয়ে স্পর্শ করতেই হয়, তবে একবারই। জমিনকে ওইভাবে রেখে দেওয়া তার জন্য এক শ উট মান্নত করা থেকেও উত্তম।”[৩৭৯]

টিকাঃ
[৩৬৫] সূরা মারইয়াম: ৮৮-৯১।
[৩৬৬] সূরা মারইয়াম: ৮৮-৯১। হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/৭৯, মাওকুফ।
[৩৬৭] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[৩৬৮] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩৬৯] সূরা দুখান: ২৯।
[৩৭০] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩৭১] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[৩৭২] ওয়াকিহ ইবনুল জাররাহ, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ৮৩, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩৭৩] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩৭৪] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৫/১৯৫, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৭৫] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ১/২০৪, ২০৫, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৭৬] হাদীসটির সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৭৭] হাদীসটির সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৭৮] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৬/৩২, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৭৯] হাদীসটির সনদ সহীহ, মাওকুফ ও মারফুরূপেও বর্ণিত। অর্থাৎ জমিন থেকে কোনো কঙ্কর বা পাথর না সরানোটাই তার জন্য উত্তম। কারণ, হাদীসে এসেছে যে ব্যক্তি নামাযে কঙ্কর স্পর্শ করল সে অহেতুক কাজ করল। (বিস্তারিত ফাতহুল বারি, ইবনু রজব হাম্বলি, অধ্যায়: আস-সালাত)-অনুবাদক।

📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 যুবকদের জন্য আল্লাহর ওয়াদা

📄 যুবকদের জন্য আল্লাহর ওয়াদা


চতুর্দশ অনুচ্ছেদ
যুবকদের জন্য আল্লাহর ওয়াদা

সৎ যুবককে আল্লাহর স্বীকৃতি
৩৩২. ইয়াযীদ ইবনু মাইসারা রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “ওহে যুবক, তুমি তো আমার জন্য কুপ্রবৃত্তি পরিত্যাগ করেছ, আমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যৌবন বিলিয়ে দিয়েছ-তুমি আমার কাছে আমার একজন ফেরেশতার মতোই।”[৩৮০]

বাহাত্তর-জন সিদ্দীকের সমান প্রতিদান
৩৩৩. মুরিহ ইবনু মাসরুক রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যে যুবক দুনিয়ার স্বাদ-আহ্লাদ ও হাসি-তামাশা পরিত্যাগ করবে এবং তার যৌবনকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করবে-তবে যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম-আল্লাহ তাআলা তাকে বাহাত্তর-জন সিদ্দীকের সমপরিমাণ প্রতিদান দেবেন।”[৩৮১]

আল্লাহ মুমিন যুবকের কসম পূর্ণ করেন
৩৩৪. উকবা ইবনু আমির সুলামি রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, "যদি মুমিন যুবক আল্লাহ তাআলার নামে কসম খায় তবে আল্লাহ সেই কসম পূর্ণ করেন।”[৩৮২]

যুবকের জন্য আল্লাহর বিস্ময়বোধ
৩৩৫. উকবা ইবনু আমির জুহানি রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা ওই যুবকের জন্য বিস্মিত বোধ করেন, যার আমোদ-প্রমোদের প্রতি কোনো ঝোঁক নেই।”[৩৮৩]

মুমিন মুমিনের জন্য কাঠামোর মতো
৩৩৬. আবূ মূসা আশআরি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا وَأَدْخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَابِعَهُ بَعْضَهَا فِي بَعْضٍ
'মুমিন মুমিনের জন্য একটি কাঠামোর মতো, তারা পরস্পরকে দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ রাখে।' তারপর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এক হাতের আঙুলগুলোকে অপর হাতের আঙুলের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেখালেন।”[৩৮৪]

মূসা আলাইহিস সালাম-এর একটি ঘটনা
৩৩৭. আবদুল্লাহ ইবনু আবিল হুযাইল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আম্মার ইবনু ইয়াসির রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সঙ্গীদের কাছে এলেন। তাঁরা তখন তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাঁরা বললেন, হে আমাদের আমীর, আপনি তো আজ দেরি করে ফেলেছেন! তিনি বললেন, আজ তোমাদের একটি কাহিনি শোনাব। আগেকার জামানায় তোমাদের এক ভাই ছিলেন, তিনি হলেন মূসা আলাইহিস সালাম। তিনি একবার বললেন, “হে আমার প্রতিপালক, এই দুনিয়ায় আপনার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ কে তা আমাকে জানান।” আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞেস করলেন, “কেন?” তিনি বললেন, “আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য তাকে ভালোবাসতে চাই।” আল্লাহ বললেন, “জানাচ্ছি : দুনিয়ার এক প্রান্তে এক লোক ছিল, সে আমার ইবাদাত করত। দুনিয়ার অপর প্রান্তে তার এক ভাই তার কথা জানত; কিন্তু তাকে চিনত না। এই প্রান্তের বান্দাটির কোনো বিপদ হলে তা যেন অপর প্রান্তের বান্দাটির ওপরও আপতিত হতো। এ বান্দা কোনো দুঃখ পেলে সেই দুঃখ যেন ওকেও আক্রান্ত করত। ওই বান্দা এই বান্দাকে কেবল আমার জন্যই ভালোবাসত। দুনিয়াতে ওই বান্দাই হলো আমার সবচেয়ে প্রিয়।” তারপর মূসা আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন, “হে আমার প্রতিপালক, আপনি নিজেই মানুষ সৃষ্টি করেছেন, অথচ আপনি নিজেই তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন!” তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে ওহি প্রেরণ করলেন, “হে মূসা, তুমি ফসল ফলাও।” মূসা আলাইহিস সালাম ফসল রোপণ করলেন, ফসলে পানি দিলেন, দেখাশোনা করলেন, শেষে ফসল কেটে আনলেন এবং মাড়াই করলেন।” তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “হে মূসা, তোমার ফসলের কী অবস্থা?” তিনি বললেন, “ফসল তুলেছি।” আল্লাহ বললেন, “তার থেকে কিছু কি ফেলে দাওনি?” তিনি বললেন, "হ্যাঁ, যাতে কোনো উপকার নেই (যা চিটা) তা ফেলে দিয়েছি।” আল্লাহ বললেন, "একইভাবে আমি কেবল ওই ধরনের লোকদেরকেই জাহান্নামে প্রবেশ করাব, যাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।”[৩৮৫]

তিনটি বিষয় পারস্পরিক ভালোবাসা অটুট রাখে
৩৩৮. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, উমর ইবনুল খাত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “কিছু বিষয় তোমার ভাইয়ের প্রতি তোমার ভালোবাসাকে পবিত্র ও সতেজ রাখে। তার মধ্যে তিনটি হলো: দেখা হওয়ামাত্র তাকে সালাম দেওয়া; তার প্রিয় নাম ধরে তাকে ডাকা এবং মজলিসে তার জন্য জায়গা করে দেওয়া।”[৩৮৬]

টিকাঃ
[৩৮০] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৫/২৩৭, ইয়াযীদ পর্যন্ত হাদীসটির সনদ সহীহ।
[৩৮১] মুরিহ ইবনু মাসরুক থেকে বর্ণিত আসার।
[৩৮২] সনদ হাসান, মাওকুফ।
[৩৮৩] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/২৭০, দুর্বল সনদে মাওকুফরূপে এবং হাসান সনদে মারফুরূপেও বর্ণিত হয়েছে।
[৩৮৪] বুখারি, হাদীস নং ১৩৬৫, ২৩১৪, ৫৬৮০, ৫৬৮১, ৭০৩৮; মুসলিম, হাদীস নং ৬৭৫০।
[৩৮৫] সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৮৬] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত এবং দুর্বল সনদের সঙ্গে মারফুরূপেও বর্ণিত হয়েছে।

📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 মুমিন হবে চলার সাথী

📄 মুমিন হবে চলার সাথী


তৃতীয় অধ্যায়
প্রথম অনুচ্ছেদ
মুমিন হবে চলার সাথি

আল্লাহর জন্য মানুষকে ভালোবাসা
৩৩৯. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, "আল্লাহ তাআলার জন্য ভালোবাসো, আল্লাহ তাআলার জন্য অপছন্দ করো, আল্লাহর তাআলার জন্য শত্রুতা পোষণ করো, আল্লাহ তাআলরা জন্য বন্ধুত্ব করো। কারণ এগুলো ছাড়া আল্লাহ তাআলার বন্ধুত্ব অর্জন করা যাবে না। এগুলো না করে যত সালাত ও রোজাই রাখা হোক না কেন, ঈমানের স্বাদ পাবে না। কিন্তু বর্তমান সময়ে পার্থিব কারণে মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এ ধরনের বন্ধুত্বকারীরা কিয়ামাতের দিন এর জন্য কোনো প্রতিদান পাবে না।”[৩৮৭]

মানুষকে তার তাকওয়ার সমপরিমাণ ভালোবাসা
৩৪০. সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, একজন আনসারি সাহাবি বলেছেন, “মানুষকে তাদের তাকওয়ার সমপরিমাণ ভালোবাসো। জেনে রেখো, দুনিয়াবিমুখতা অর্জন করতে না পারলে কুরআন তিলাওয়াত কখনও ইখলাসপূর্ণ হবে না। আল্লাহর আনুগত্যের সময় পরিপূর্ণ বিনীত হও। পাপাচারের সময় প্রচণ্ড কঠোর হও (তা যেন তোমাকে স্পর্শ করতে না পারে)। যেসব কারণে তুমি মৃত ব্যক্তিদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হও সেসব কারণে জীবিত ব্যক্তিদের প্রতিও ঈর্ষান্বিত হও।"[৩৮৮]

আল্লাহর যিকরকারীদের সঙ্গে ওঠাবসার নির্দেশ
৩৪১. মালিক ইবনু মিগওয়াল রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিমাস সালাম বললেন, “হে আমার সাথিগণ, পাপাচারীদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করার দ্বারা আল্লাহ তাআলরা কাছে প্রিয় হও। যে-সকল বিষয় তোমাদেরকে পাপাচারীদের থেকে দূরে রাখে সে-সকল (ভালো) কাজ দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করো। তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট থেকে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করো।" তাঁরা বললেন, হে রূহুল্লাহ, তা হলে কাদের সঙ্গে ওঠাবসা করব? তিনি বললেন, "যাদের দেখলে আল্লাহ তাআলার কথা স্মরণ হয়, যাদের কথা তোমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করে, যাদের আমল তোমাদেরকে আখিরাতের প্রতি আগ্রহী করে তোলে, তোমরা তাদের সাথে ওঠাবসা করো।”[৩৮৯]

দুনিয়ার আলোচনার বদলে আল্লাহর যিকর
৩৪২. আবু উমর মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাস বলেন, গিফার গোত্রের লোকেরা দুনিয়াবি আলোচনায় ব্যস্ত ছিল। তখন তাদের একজন ব্যক্তি তাদের উদ্দেশে বললেন, “তোমরা আল্লাহ তাআলার যিকর দ্বারা দুনিয়াবি আলোচনা থেকে বিরত হও।”[৩৯০]

আল্লাহর যিকরকারীদের মর্যাদা
৩৪৩. আউন ইবনু আবদিল্লাহ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যাওয়া লোকদের ওপর লড়াইকারীর মর্যাদা যেমন, উদাসীনদের ভিড়ে আল্লাহকে স্মরণকারীর মর্যাদা তেমনই।”[৩৯১]

অসৎ সঙ্গীর চেয়ে একাকী থাকা উত্তম
৩৪৪. আবু মূসা আশআরি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “একাকী থাকার চেয়ে সৎসঙ্গী উত্তম এবং অসৎ সঙ্গীর চেয়ে একাকী থাকা উত্তম। সৎসঙ্গী হলো আতরের মালিকের মতো; সে যদি তোমাকে আতর নাও দেয় তবু তার ঘ্রাণ পাবে। আর অসৎ সঙ্গী হলো কামারের মতো; সে যদি তোমাকে পোড়াতে নাও চায় তবু তার গন্ধ (আগুনের স্ফুলিঙ্গ) গায়ে লাগবে। অন্তরকে 'কলব' বলা হয় তার পরিবর্তনের কারণে। অন্তর হলো মরুভূমিতে পাখির একটি পালকের মতো, বাতাস যখন-তখন পালকটিকে উড়িয়ে নিয়ে গাছের সঙ্গে লাগিয়ে দেয়, তাকে উলট-পালট করে দেয়।”[৩৯২]

সঙ্গীদেরকে গাফেল না বানানোর প্রার্থনা
৩৪৫. আবূ মুলাইকাহ রহিমাহুল্লাহ ও অন্যরা বলেছেন, লুকমান আলাইহিস সালাম বলতেন, “হে আল্লাহ, তুমি আমার সঙ্গীদেরকে এমন গাফেল বানিয়ো না: যখন আমি তোমাকে স্মরণ করি তারা আমাকে সাহায্য করবে না, যখন আমি তোমাকে ভুলে যাব তারা আমাকে তোমার কথা স্মরণ করিয়ে দেবে না, যখন আমি তাদের কোনো নির্দেশ দেব তারা আমার কথা শুনবে না এবং যখন আমি চুপ থাকব তখন তারা আমাকে কষ্ট দেবে।”[৩৯৩]

অসৎ পরিবারে অসৎ মানুষ
৩৪৬. উবাইদ ইবনু উমাইর রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি জেনেছি যে, নবি দাউদ আলাইহিস সালাম বলতেন, “হে আল্লাহ, তুমি আমাকে অসৎ পরিবার দিয়ো না, তা হলে আমিও অসৎ হয়ে পড়ব।”[৩৯৪]

মানুষে-মানুষে শত্রুতা
৩৪৭. আবদুল্লাহ ইবনু আমর রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমাদের সময়ে একজন আরেকজনের সাথে দেখা করলে মনে হতো যেন আপন ভাইয়ের সাথে দেখা করছে। কিন্তু আজ তোমরা একজন আরেকজনের সাথে দেখা হলে এমন ভাব করো, মনে হয় যেন একজন অপরজনের শত্রু।”[৩৯৫]

পারস্পরিক বন্ধন ছিন্ন করা গর্হিত কাজ
৩৪৮. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “(মানুষ) ইদানীং আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে, পারস্পরিক বন্ধন ছিন্ন করছে। অথচ আল্লাহ তাআলা পরস্পরের অন্তরের মধ্যে হৃদ্যতা সৃষ্টি করেছেন। মানুষদের হৃদয়ের মাঝে নৈকট্য সৃষ্টি হলে কোনো-কিছুই সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। তারপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করেন-
وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَلَّفَ بَيْنَهُمْ إِنَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
“এবং তিনি তাদের পরস্পরের হৃদয়ের মধ্যে প্রীতি সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীর যাবতীয় সম্পদ ব্যয় করলেও তুমি তাদের অন্তরে হৃদ্যতা সৃষ্টি করতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্যে প্রীতি সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।”[৩৯৬]

আল্লাহ তাআলার জন্যই ভালোবাসা
৩৪৯. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “(সাহাবিগণ) আল্লাহ তাআলার জন্যই পরস্পরকে ভালোবাসতেন।”[৩৯৭]

মুমিন ছাড়া অন্য-কারও সাহচর্যে না থাকার নির্দেশ
৩৫০. আবূ সাঈদ খুদরি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন-
لَا تُصَاحِبْ إِلَّا مُؤْمِنًا، وَلَا يَأْكُلْ طَعَامَكَ إِلَّا تَقِيُّ
“মুমিন ছাড়া অন্য-কারও সাহচর্যে থেকো না এবং মুত্তাকি ছাড়া কেউ যেন তোমার খাবার না খায়।”[৩৯৮]

অজুহাতের সঙ্গে মিশ্রিত মিথ্যাচার
৩৫১. আবদুল্লাহ ইবনু আউন মুযানি বলেন, আমি এবং শুআইব অজুহাত পেশ করলাম ইবরাহীম নাখঈ রহিমাহুল্লাহ-এর কাছে। তিনি এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যিনি বলেছেন, “অজুহাত পেশ করা ছাড়াই আমি তোমার অজুহাত গ্রহণ করলাম। কারণ, অজুহাতের সঙ্গে মিথ্যাচারের মিশ্রণ থাকে।”[*৯৯] (আমি চাই না যে, তোমরা মিথ্যাচারের আশ্রয় নাও।)

আল্লাহর জন্য ভালোবেসে আপ্যায়ন
৩৫২. দাহহাক রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
أَضِفُ بِطَعَامِكَ مَنْ تُحِبُّ فِي اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
"এমন ব্যক্তিকে আপ্যায়ন করাও যাকে তুমি আল্লাহ তাআলার জন্য ভালোবাসো।"[৪০০]

টিকাঃ
[৩৮৭] ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-ইখওয়ান, ২২, এর সমার্থবোধক হাদীস শক্তিশালী সনদের সঙ্গে মারফুরূপে বর্ণিত হয়েছে।
[৩৮৮] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৫১১, মাওকুফ।
[৩৮৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ৫৪।
[৩৯০] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[৩৯১] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৪২৮, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৯২] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ১/১৬৪, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩৯৩] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/২০৮, হাদীসটির সনদ ইবনু আবী মুলাইকা পর্যন্ত সহীহ।
[৩৯৪] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ৭১। উবাদই ইবনু উমাইর পর্যন্ত সনদ সহীহ।
[৩৯৫] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩৯৬] বুখারি, আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং ২৬২, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৯৭] ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-ইখওয়ান, হাদীস নং ১৪, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩৯৮] বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ, ১৩/৬৮-৬৯, সনদ হাসান।
[*৯৯] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৪/২২৪, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৪০০] হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণিত এবং এর সনদ দুর্বল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00